প্রতারণার ফাঁদে নাগরিক জীবন। সরকারের নজরদারী নেই। রকমফের প্রতারণা বন্ধে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ঈদে বিলাদতে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদর্শ মুবারক বিস্তারের বিকল্প নেই।
, ০২ শাবান শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ১৫ তাসি’, ১৩৯১ শামসী সন , ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রি:, ২৯ মাঘ, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) মন্তব্য কলাম
ফুটপাত থেকে শুরু করে অফিস-আদালতের নানা পর্যায়েই চলে নিত্যনতুন প্রতারণা। ঘরে বসে ফেরিওয়ালাদের জিনিসপত্র কিনতে গিয়ে ওজনে ঠকতে হয়, সাহায্যের নামে টাউট-বাটপারদের হাতে তুলে দিতে হয় নগদ টাকার চাঁদা। গন্তব্যে যেতে সিএনজি, অটোরিকশা ও ট্যাক্সিক্যাবের মিটার জালিয়াতির কবলে পড়ে ‘অতিরিক্ত ভাড়া’ পরিশোধের পরও গুনতে হয় ২০-২৫-৫০ টাকার বাড়তি বখশিশ।
রাস্তা, বাজার, কর্মস্থলসহ সর্বত্রই আরো কত রকমের ফাঁদ, মওকায় যে লোকজনের পকেট খালি হয় তার ইয়ত্তা নেই। জীবনযাত্রার সব ক্ষেত্রেই প্রতারণার অক্টোপাসে বন্দি হয়ে পড়ছে, পদে পদে ওঁৎ পেতে থাকছে নানামুখী বিপদ। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন রকমের অন্তত ২০০ প্রতারক সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে এবং তাদের কাছে প্রতিদিন সহস্রাধিক লোক প্রতারণার শিকার হয়। ডিএমপিভুক্ত থানাগুলোর লিপিবদ্ধ মামলা-জিডি ও পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতারণার খবরা-খবরের সূত্র ধরে এ পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে।
জ্ঞান-বিজ্ঞানে উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে ‘প্রতারণাও’ ইদানীং ডিজিটাল রূপ পেতে শুরু করেছে। এখন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড যেমন জালিয়াতি করে অন্যের অ্যাকাউন্ট খালি করা হচ্ছে, তেমনি গলাকাটা পাসপোর্ট তৈরি, বিদেশী ভুয়া ওয়ার্কপারমিট ও নিয়োগপত্র প্রস্তুত করলেও সহজে তা জাল প্রমাণের উপায় থাকে না। জাল টাকার ছড়াছড়ি আছে বাজার জুড়ে। মোবাইলফোনে লাখ লাখ টাকা লটারি পাওয়ার প্রলোভনযুক্ত মেসেজ বানিয়েও প্রতারণা করা হচ্ছে অহরহ।
প্রসূতি মায়ের সন্তান প্রসব থেকে শুরু করে শিক্ষা, চিকিৎসা, চাকরি, বিয়ে এমনকি মৃত্যুর পর লাশ দাফন পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই প্রতারণার একচ্ছত্র দাপট রয়েছে।
বিভিন্ন পয়েন্টে আলাদা আলাদা চক্র প্রতারণার জাল বিছিয়ে নানা পদ্ধতিতে মানুষ ঠকিয়ে যাচ্ছে। নগরীর ফুটপাতে নাক-কান-গলা রোগসহ দুরারোগ্য সব ব্যাধি থেকে মুক্তির সেøাগান নিয়ে ভুয়া চিকিৎসকরা বসছে নানা ওষুধের পসরা সাজিয়ে।
গভীর রাতে জিনের বাদশাহ সেজে মোবাইলফোনে কল দিয়ে কথা বলা হয়, বলে দেয়া হয় অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ। মোটা অঙ্কের সেলামি দাবি করে বলে দেয়া হয় জিনের বাদশাহকে খুশি করলে আপনার বাড়িতেই মাটির নিচে থাকা গুপ্তধনের সন্ধান দেবে জিন বাবা।
চাহিদা মতো সেলামি আর গুপ্তধন উঠানোর খরচ হাতিয়ে নিয়েই নিরুদ্দেশ হয়ে যায় কথিত জিনের বাদশাহ। রোগ-ব্যাধি নিরাময়ে যে কোনো হাসপাতালের উদ্দেশ্যে গেলেই দালাল চক্রের বেহাল উৎপাত চোখে পড়ে। অ্যাম্বুলেন্স বা অন্য কোনো যানবাহন থেকে রোগী নামানো, রেজিস্টার খাতায় নিবন্ধন, কোন ডাক্তার রোগীর চিকিৎসা করবে এসব কিছুই নিয়ন্ত্রণ করে হাসপাতাল গেটের দালালরা। দালাল চক্রের উৎপাত আছে কোর্ট-কাচারি, বিআরটিএ অফিস, বাস টার্মিনাল, সাব রেজিস্ট্রি অফিস, যে কোনো থানার গেটে, পাসপোর্ট দফতরসহ নাগরিক সেবা প্রদানকারী প্রায় প্রতিটি পয়েন্টে। প্রতারণামূলক লটারির দৌরাত্ম্য ইদানীং কিছুটা কমলেও বেড়ে গেছে চাকরি দেয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নেয়ার ফন্দিফিকির। রাস্তাঘাটের যেখানে সেখানে দেখা যায় পার্টটাইম চাকরির বিজ্ঞাপন।
এগুলো বেশির ভাগই প্রতারকদের পাতা ফাঁদ, পা দিলেই বিপদ। সংঘবদ্ধ একটি চক্র খাদ্য অধিদফতর, রেল বিভাগ, সেনাবাহিনী, ভূমি জরিপ অধিদফতরসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থায় চাকরি দেয়ার নামে একযোগে হাজার হাজার তরুণ-যুবককে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে।
ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেয়ার লোভ দেখিয়ে সর্বস¦ান্ত করা হয়েছে অনেককে। বেকার যুবক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী থেকে শুরু করে সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তাও রয়েছে এ তালিকায়। তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হয় ৪ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত, কানাডার ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেয়ার নামে অভিনব পদ্ধতিতে টাকা নেয়া হয়। পরে রাতের আঁধারে গুটিয়ে নিয়ে সিন্ডিকেট সদস্যরা পালিয়ে যায়।
জমি কেনার পর দেখা যায়- জমির ভুয়া মালিক সেজে যে বিক্রি করেছে, সে শুধুই একজন নিয়োজিত দালাল মাত্র। জমির বায়নানামার স্ট্যাম্প থেকে দলিলপত্র পর্যন্ত সবই হয়েছে জাল।
রোগ যেটাই হোক একগাদা অপ্রয়োজনীয় টেস্ট আর বেশি পরিমাণ ওষুধ ধরিয়ে দিচ্ছে ডাক্তার। বিপদে পড়ে অ্যাডভোকেটের কাছে গেলে কোর্ট চত্বরেই প্রতারক চক্রের কবলে পড়েন অসংখ্য ভুক্তভোগী। এমন অগণিত প্রতারণায় বন্দি গোটা দেশ। যেন পদে পদে ওঁৎ পেতে থাকে বিপদ।
প্রসঙ্গত আমরা মনে করি যে, শুধু আইনের বল প্রয়োগেই এ প্রতারণা প্রবণতা রোধ করা যাবে না। কারণ মানুষের তৈরি আইনের গোলকধাঁধায় মানুষ সহজেই পার পেয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে অত্যাবশ্যকীয় হলো- খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি অনুগত হওয়া ও উনার ভয় লালন করা এবং এ সম্পর্কিত মূল্যবোধ ও চেতনা জাগ্রত করা।
মূলত, আজকের যুগে ধর্মব্যবসায়ী তথা উলামায়ে সূদের প্রাদুর্ভাব থাকায় এহেন সম্মানিত দ্বীন ইসলামী চেতনা কারো মাঝে নেই বললেই চলে। বরং উলামায়ে ‘সূ’রাও যেভাবে অসততায় আর দুর্নীতিতে লিপ্ত হয়েছে তা দেখেই প্রতারণাকারী ও দুর্নীতিবাজরা আরো সাহসী ও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তার পরিণতিতেই সারাদেশব্যাপী এত প্রতারণা আর দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে।
তাই এ থেকে রক্ষা পেতে হলে তথা প্রতারণা থেকে মুক্তি পেতে হলে অত্যাবশ্যকীয়ভাবে দেশের সরকারসহ দেশের জনগণকে হাক্বীকীভাবে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে প্রবেশ করতে হবে। আর দেশের সরকার-জনগণ তখনই হাক্বীকীভাবে দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে প্রবেশ করতে পারবে যখন দেশের সর্বত্র মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ তথা মহাসম্মানিত ঈদে বিলাদতে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদর্শ, অনুভূতি, সর্বোচ্চ প্রতিপালন নিশ্চিত হবে। কারণ একমাত্র নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বত মুবারকই পারে দেশ থেকে প্রতারণা নামক ঘৃণ্য অপসংস্কৃতিটি দূর করতে।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সুদী মহাজন ও বড় চোর, সমকামীমনা, ১৬৮ মামলার আসামী, দেশ বিক্রিকারী মার্কিন চুক্তিকারী, ক্ষমতার মসনদে বসে অর্থ লুটকারী, অন্যায় সুবিধা গ্রহণকারী, পাহাড় সম অপরাধ মব-সন্ত্রাসের জনক কুখ্যাত ইউনুসের প্রতি ভীষণ বীতশ্রদ্ধ।
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সুদী মহাজন ও বড় চোর, সমকামীমনা, ১৬৮ মামলার আসামী, দেশ বিক্রিকারী মার্কিন চুক্তিকারী, ক্ষমতার মসনদে বসে অর্থ লুটকারী, অন্যায় সুবিধা গ্রহণকারী, পাহাড় সম অপরাধ মব-সন্ত্রাসের জনক কুখ্যাত ইউনুসের প্রতি ভীষণ বীতশ্রদ্ধ। এই কুলাঙ্গার আবারো ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে, রাষ্টের শীর্ষ পদে তথা প্রেসিডেন্ট পদে আলোচনায় আসে কি করে? নেপথ্যে কি মার্কিন দূত গর? অথচ “ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়”- বিএনপির শ্লোগান
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাংলাদেশের সামরিক কৌশল বাড়ানো উচিত
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিএনপির নেতা কর্মী বর্তমান উপদেষ্টা মন্ত্রীরা-এমপিরাও, সুদী মহাজন ও বড় চোর, সমকামীমনা, ১২৬ মামলার আসামী, দেশ বিক্রিকারী মার্কিন চুক্তিকারী, ক্ষমতার মসনদে বসে অর্থ লুটকারী, অন্যায় সুবিধা গ্রহণকারী, পাহাড় সম অপরাধ মব-সন্ত্রাসের জনক কুখ্যাত ইউনুসের প্রতি ভীষণ বীতশ্রদ্ধ।
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
এই কুলাঙ্গার আবারো ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে, রাষ্টের শীর্ষ পদে তথা প্রেসিডেন্ট পদে আলোচনায় আসে কি করে? নেপথ্যে কি মার্কিন দূত গর? অথচ “ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়”- বিএনপির শ্লোগান
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আম্রিকা, চীন, ভারত, রাশিয়া সবার নজর বাংলাদেশের দিকে।
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নতুন নতুন উন্নয়ন প্রকল্পের অজুহাতে চলছে শোষণ প্রকল্প।
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর দ্বীনদার ব্যক্তির জন্য দ্বীন ইসলামই সবচেয়ে বড়
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইহুদীরাই আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট বানায়, নামায় তথা আমেরিকা চালায়।
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
‘ছবি’ ও ‘বেপর্দা’- বর্তমানে সমস্ত পাপ কাজের মূল উৎস
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
তেল আমদানিতে আমাদের যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়, এতে আমাদের রিজার্ভে চাপ পড়ে। সমস্যা কৃষকের সক্ষমতায় নয়, বরং নীতিগত অগ্রাধিকার ও বিনিয়োগের ঘাটতিতে।
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে ভারতীয় খপ্পরে বাংলাদেশ!
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












