পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মাঝে অবস্থানকালীন সময় সম্মানিত জিহাদ ও অভিযানসমূহ (২)
, ০৯ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ২৪ সামিন, ১৩৯১ শামসী সন , ২২ জানুয়ারি, ২০২৪ খ্রি:, ০৭ মাঘ, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) আইন ও জিহাদ
غَزْوَةٌ গাযওয়াহ, سَرِيَةٌ সারিয়াহ, جَيْشٌ জাইশ ও بَعْثٌ বা’ছ ইত্যাদি।
এগুলোর মধ্যে غَزْوَةٌ গাযওয়াহ এখানে আলোচ্য বিষয়।
সারিয়ার سَرِيَة সংজ্ঞা:
যে সমস্ত জিহাদে আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ করেননি সে সমস্ত জিহাদকে সারিয়া বলে।
غَزْوَةٌ গাযওয়াহ উনার সংজ্ঞা:
“নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে সমস্ত বড় জিহাদে অংশগ্রহণ করে জিহাদ পরিচালনা করেছেন সে সমস্ত জিহাদকে ‘গাযওয়াহ’ বলা হয়।”
সমস্ত গাযওয়াহতেই মুসলমানগণ বিজয় লাভ করেছিলেন। সেগুলো হচ্ছে-
১৩. غزوة بدر الاخرى গাযওয়াতু বদরিল উখরা: এ গাযওয়াহ উনাকে ‘গাযওয়াহতু বদরিল মাওয়াদ’ও বলা হয়। ৪র্থ হিজরী উনার শা’বান মাসে সংঘটিত হয়।
১৪. غزوة دومة الجندل গাযওয়াতু দূমাতিল জানদাল: ৪র্থ হিজরী উনার শেষের দিকে, আবার কারো মতে, ৫ম হিজরী উনার মাহে রবীউল আউওয়াল শরীফ মাসে এ জিহাদ সংঘটিত হয়।
১৫. غزوة بنى المصطلق গাযওয়াতু বনিল্ মুছতালিক: এ গাযওয়াহ উনাকে “গাযওয়াতুল মুরাইসী, গাযওয়াতু মাহারিব ও গাযওয়াহতুল আয়াজীব’ও বলা হয়।
১৬. غزوة الخندق গাযওয়াতুল্ খন্দক: যাকে ‘গাযওয়াতুল আহযাব’ও বলা হয়। ৫ম হিজরীতে এ জিহাদ সংঘটিত হয়।
১৭. غزوة بنى قريظة গাযওয়াহতু বনী কুরাইযাহ: মদীনা শরীফ উনার ইহুদীদের সাথে এ যুদ্ধ হয়েছিল।
১৮. غزوة بنى لحيان গাযওয়াহ বনী লিহ্ইয়ান: এটি হুযাইল গোত্রের একটি ক্ববীলাহ। বনী কুরাইযাহ উনার ৬ মাস পর এ জিহাদ সংঘটিত হয়।
১৯. غزوة ذى قرد গাযওআতু যী ক্বারাদ: এ জিহাদকে ‘গাযওয়াতুল গাবাহ’ও বলা হয়। ‘বনী লিহ্ইয়ান জিহাদের কয়েকদিন পর এ জিহাদ সংঘটিত হয়।
২০. غزوة الحديبية গাযওয়াহতুল হুদাইবিয়াহ: ৬ষ্ঠ হিজরীতে যিলহজ্জ মাসে সংঘটিত হয়।
২১. غزوة خيبر গাযওয়াহতু খাইবার: জমহুর উলামায়ে কিরামের মতে, ৭ম হিজরীর মুর্হরম মাসের শুরুর দিকে এ জিহাদ হয়। কারো মতে, ৬ষ্ঠ হিজরীতে। আবার কারো মতে, ৫ম হিজরীতে খন্দক যুদ্ধের পর খাইবার জিহাদ হয়।
২২. غزوة وادى القرى গাযওয়াতু ওয়াদিল কুরা: এ জিহাদও ইহুদীদের বিরুদ্ধে সংঘটিত হয়। খাইবার থেকে ফিরার পর পরই এ জিহাদ হয়।
২৩. غزوة عمرة القاضى গাযওয়াতু উমরাতিল ক্বাদ্বা: এ গাযওয়াহ উনাকে “উমরাতুল ক্বাদ্বিয়াহ, উমরাতুছ ছুল্হ, উমরাতুল ক্বছাছ”ও বলা হয়। ৭ম হিজরী উনার যিলক্বদ মাসে এ জিহাদ সংঘটিত হয়।
২৪. غزوة فتح مكة গাযওয়াতু ফাতহি মক্কাহ: যা ৮ম হিজরীতে সংঘটিত হয়।
২৫. غزوة حنين গাযওয়াতু হুসাইন।
২৬.غزوة الطائف গাযওয়াতুত ত্বায়িফ।
২৭. غزوة تبوك গাযওয়াতু তাবূক।
উল্লেখিত ২৭টি গাযওয়াহ উনার মধ্যে ৯টি মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সরাসরি পরিচালনা করেছেন। সে ৯টি গাযওয়াহ হচ্ছে: ১. বদর ২. উহুদ ৩. আহযাব বা খন্দক ৪. বনী কুরাইযাহ ৫. বনী মুছ্তালিক ৬. খাইবার ৭. ফাতহি মক্কাহ ৮. হুনাইন ৯. তাবুক (ফতহুল বারী, উমদাতুল ক্বারী, হাশিয়ায়ে বুখারী ২য় খ- ৫৬৩ পৃষ্ঠা) (সমাপ্ত)
-আল্লামা সাইয়্যিদ শাবীব আহমদ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৮)
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৭)
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৭)
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়:(১৫তম পর্ব)
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৬)
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৬)
২০ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৪তম পর্ব)
১৯ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৫)
১৮ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৫)
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৩তম পর্ব)
১২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৪)
১১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১২তম পর্ব)
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












