সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৮ম পর্ব)
, ৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) আইন ও জিহাদ
মুনাফিক সরদার উবাই বিন সুলূল তার ৩০০ সহচর নিয়ে পলায়ন:
হযরত ইবনে ইসহাক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
حَتّى إذَا كَانُوا بِالشّوْطِ بَيْنَ الْمَدِينَةِ وَأُحُدٍ ، انْخَزَلَ عَنْهُ أُبَيّ بْنُ سَلُولَ بِثُلُثِ النّاسِ وَقَالَ أَطَاعَهُمْ وَعَصَانِي.
অর্থ: “যখন মুসলিম বাহিনী উনারা পবিত্র মদীনা শরীফ ও সম্মানিত উহুদের মধ্যবর্তী শাওত্ব নামক স্থানে পৌঁছলেন, তখন মুনাফিক সরদার উবাই বিন সুলূল সে এক-তৃতীয়াংশ লোক নিয়ে পবিত্র মদীনা শরীফে প্রত্যাবর্তন করলো এবং সে রটাতে লাগলো যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের কথা মুবারক শুনলেন কিন্তু আমাদের কথা শুনলেন না।” নাউযুবিল্লাহ!
এই কাট্টা মুনাফিক ও মুরতাদ সে মানুষকে ওয়াসওয়াসা দিতে লাগলো, হে লোক সকল! আমার বুঝে আসছে না, এখানে নিজের পরাজয় টেনে নিয়ে আসার অর্থ কি? নাউযুবিল্লাহ! মোটকথা সে মুনাফিক হওয়ার কারণে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পুতঃপবিত্র শান মুবারক নিয়ে এলোমেলো কথা বলতে থাকলো। নাউযুবিল্লাহ! তার দলের যে সব মুনাফিক তথা যাদের অন্তরে কপটতা, চূ-চেরা ও সংশয় ছিলো তাদেরকে নিয়ে সে মুসলমানদের দল থেকে পলায়ন করলো। নাউযুবিল্লাহ! (সীরাতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি, তারীখে উমাম ওয়াল মুলুক, জাওয়ামিউল কালাম)
অর্থাৎ যাদের অন্তরে নিফাকী রয়েছে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শান-মান নিয়ে চূ-চেরা করা তাদের মজ্জাগত অভ্যাস। নাউযুবিল্লাহ! আর উবাই বিন সুলূল ছিলো তৎকালীন সমস্ত মুনাফিকদের নেতা। তার উপর অনন্তকালব্যাপী মহান আল্লাহ পাক উনার লা’নত, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার লা’নত এবং সমস্ত মাখলুকাতের পক্ষ থেকে লা’নত।
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
وَلَقَدْ ذَرَأْنَا لِجَهَنَّمَ كَثِيرًا مِّنَ الْجِنِّ وَالْإِنسِ ۖ لَهُمْ قُلُوبٌ لَّا يَفْقَهُونَ بِهَا وَلَهُمْ أَعْيُنٌ لَّا يُبْصِرُونَ بِهَا وَلَهُمْ آذَانٌ لَّا يَسْمَعُونَ بِهَا ۚ أُولَـٰئِكَ كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ ۚ أُولَـٰئِكَ هُمُ الْغَافِلُونَ.
অর্থ: “আর আমি অনেক জ্বীন মানবকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি। তাদের অন্তর আছে তার দ্বারা উপলব্ধি করে না, তাদের চোখ আছে তার দ্বারা দেখে না এবং তাদের কান আছে তার দ্বারা শোনে না, তারা পশুর ন্যায়; বরং তার চেয়েও নিকৃষ্টতর। তারাই হলো গাফিল।” (পবিত্র সূরা আ’রাফ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ: ১৭৯)
অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি মানুষ ও জ্বীন জাতিকে সৃষ্টি করেছেন মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদেশ নির্দেশ মুবারক পালনের মাধ্যমে উনাদের মতে মত পথে পথ হওয়ার জন্য। সর্বোপরি উনাদের রেজামন্দী ও সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করা। কিন্তু যারা জাহান্নামী তারা মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদেশ নির্দেশ মুবারক অস্বীকার করে থাকে এবং উনাদের অবমাননা করে থাকে। নাউযুবিল্লাহ! আর এই সমস্ত লোকেরাই হলো জাহান্নামী।
আর মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জানেন কে জাহান্নামী। এরপরও বলা হয়েছে যারা জাহান্নামী তাদের অন্তর আছে কিন্তু তা দ্বারা উপলব্ধি করবে না, তাদের চক্ষু আছে কিন্তু তার দ্বারা দেখবে না এবং তাদের কান আছে কিন্তু তা দ্বারা শ্রবণ করবে না। তারাই পশুর মতো বা পশু অপেক্ষা অধম। অর্থাৎ যারা মুনাফিক তথা জাহান্নামী হবে তাদের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। তাদের জ্ঞান-বুদ্ধি আহরণের সকল সূত্র রুদ্ধ। তাদের অন্তর আছে বটে কিন্তু তারা তার দ্বারা বুঝতে অসমর্থ। তাদের চোখও রয়েছে কিন্তু সে চোখ দিয়ে হক বিষয়গুলো দেখতে অপারগ। তারা শ্রবণও করে কিন্তু আল্লাহ পাক উনার এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের আহবান মুবারক শুনতে অক্ষম। নাউযুবিল্লাহ!
যারা মুনাফিক তারা পশুর মতো। তারা কেবল আহার, বিহার ও কর্মসর্বস্ব জীবন যাপনে অভ্যস্ত। পশু অপেক্ষাও তারা নিকৃষ্ট। কারণ পশুরা উপকার ও ক্ষতির প্রভেদ বোঝে। বেঁচে থাকতে চেষ্টা করে, ক্ষতিকর বিষয় থেকে। কিন্তু মুনাফিকরা জাহান্নামের পথে চলছে এ কথা বুঝতে পেরেও নির্বিকার। তারা তাদের আপন সন্তানের থেকেও বেশি চিনে থাকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এবং উনার পুতঃপবিত্র আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে। কিন্তু তারা অস্বীকার করে জুলুম ও অহমিকার কারণে। মুনাফিকরা বোধহীন, প্রকৃত দৃষ্টি ও শ্রুতিহীন। আর তারাই প্রকৃত অর্থে গাফিল বা উদাসীন। সৃষ্টিকুলের কেউই মুনাফিকদের মতো গাফিল বা উদাসীন নয়। (তাফসীরে মাযহারী)
-আল্লামা সাইয়্যিদ শা’বীব আহমদ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
খরচ করার ব্যাপারে মহান আল্লাহ পাক উনার ফায়সালা
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৯)
২৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৮)
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৮)
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা উম্মাহর মাঝে শ্রেষ্ঠতম মর্যাদায় আসীন
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৭ম পর্ব)
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সকল কাফিররাই মুসলমানদের প্রকাশ্য শত্রু
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৭)
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র ফাতহে মক্কা অর্থাৎ পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয় দিবস
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৭)
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৬ষ্ঠ পর্ব)
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৬)
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












