সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৭ম পর্ব)
, ২০ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১০ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ১০ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ২৫ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) আইন ও জিহাদ
তারপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে একত্রিত হওয়ার নির্দেশ মুবারক প্রদান করলেন। এতে করে পবিত্র মদীনা শরীফের বাইরে গিয়ে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সকলেই খুশি প্রকাশ করলেন।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র আছর নামায বাদ সম্মানিত হুজরা শরীফে প্রবেশ করলেন। হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম ও হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনারাও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে হাযির হলেন। উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুল হুদা তথা সম্মানিত মাথা মুবারকে গাগড়ী মুবারক বেঁধে দিলেন, সম্মানিত বর্ম মুবারক পরিধান করালেন এবং প্রয়োজনীয় অস্ত্র-শস্ত্র খিদমত মুবারকে পেশ করে তা সাথে নিয়ে নিলেন।
হুজরা শরীফ উনার বাইরে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা কাতারবন্দী হয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তাশরীফ মুবারকের অপেক্ষায় ছিলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অস্ত্র-সজ্জায় সজ্জিত হয়ে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সম্মুখে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করলেন। তারপর কাফির মুশরিকদের উপযুক্ত শিক্ষা দেয়ার লক্ষ্যে পবিত্র মদীনা শরীফ থেকে বের হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন।
তখন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট আর্জি জানালেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি ইচ্ছা করলে পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মধ্যে অবস্থান করতে পারেন অথবা আপনি মদীনা শরীফ উনার বাইরে গিয়ে সম্মানিত জিহাদ করতে পারেন। তবে আপনি যেভাবে আমাদেরকে নির্দেশ দিবেন সেভাবেই আপনার আদেশ মুবারক আমরা পালন করতে প্রস্তুত। উনারা আরো বললেন, সর্ববিষয় মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা সবচেয়ে বেশি ভালো জানেন।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র হুজরা মুবারক থেকে বাইরে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করে ইরশাদ মুবারক করলেন-
مَا يَنْبَغِي لِنَبِيّ إذَا لَبِسَ لَأْمَتَهُ أَنْ يَضَعَهَا حَتّى يُقَاتِلَ.
অর্থ: “কোন নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের পক্ষে শোভনীয় নয় একবার লৌহবর্ম মুবারক পরিধান করার পর জিহাদ মুবারক না করে তা খুলে ফেলা।” সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি, দালায়িলুন নুবুওওয়াহ, ফতহুল বারী, বদরুল মুনীর, জামিউল আহাদীছ, আল জামিউছ ছগীর, খাছায়িছুল কুবরা, সীরাতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি)
অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে পবিত্র উহুদ প্রান্তরে গিয়ে জিহাদ করার নির্দেশ মুবারক দান করেন। মোটকথা হলো, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ওহী মুবারক নাযিল উনার মাধ্যমে পবিত্র মদীনা শরীফ থেকে সম্মানিত উহুদ প্রান্তরে গিয়ে জিহাদ করার বিষয়টি ফায়সালা মুবারক করলেন। সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ১০০০ জনের একটি দল সঙ্গে নিয়ে পবিত্র মদীনা শরীফ থেকে বেরিয়ে পড়লেন। কিন্তু পথিমধ্যে মুনাফিক সরদার উবাই বিন সুলূল সে বিভিন্ন রকম চূ-চেরা ও অজুহাত দেখিয়ে তার ৩০০ অনুচর নিয়ে পিছন দিকে পলায়ন করে। নাউযুবিল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বাকি ৭০০জন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে নিয়ে উহুদ প্রান্তরের দিকে রওয়ানা দেন। সুবহানাল্লাহ!
ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, এই সম্মানিত জিহাদ মুবারকে গমনের সময় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ইবনে উম্মে মাকতুম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে মসজিদুন নববী শরীফ উনার পবিত্র নামায আদায়ের জন্য নির্দেশ মুবারক দান করেন। সুবহানাল্লাহ! (সীরাতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া)
-আল্লামা সাইয়্যিদ শা’বীব আহমদ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১২)
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১২)
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১২)
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়:
২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১১)
২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১০ম পর্ব)
১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১০)
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১১)
০৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৯ম পর্ব)
০৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৯)
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১০)
০১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
খরচ করার ব্যাপারে মহান আল্লাহ পাক উনার ফায়সালা
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












