ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৮)
, ২১ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১১ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ১১ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ২৬ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) আইন ও জিহাদ
জিহাদ চলাকালীন সময়ে সংঘটিত মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মুজিযাহ শরীফ:
এতে অবশিষ্ট তৃতীয়াংশ পড়ে গেলো। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বের হয়ে আসলেন, এবং উনার মহাপবিত্র চাদরখানা নিয়ে বসে পড়লেন। হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, ‘ইয়া সাইয়্যিদুল মুরসালীন ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! ঐ সত্তার শপথ! যিনি আপনাকে সত্য দ্বীন সহকারে প্রেরণ করেছেন। আপনি যখন আঘাত করছিলেন, আমি আপনার প্রতি লক্ষ্য করছিলাম, দেখলাম আপনি যখনই তাতে আঘাত করছিলেন, আর তা হতে বিদ্যুৎ চমকিত হচ্ছিলো।’
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, ‘হে সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! আমিও তা দেখেছি।’ তিনি বললেন, ‘আমি যখন প্রথমবার আঘাত করেছিলাম, তখন কিসরার শহরসমূহ এবং এর চর্তুúার্শ্বস্থ স্থানসমূহ এবং আরো বহু শহর আমার সামনে প্রকাশিত হলো। আমি তা স্বচক্ষে দর্শন করেছি।’ উপস্থিত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা আরজু করলেন, ‘ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট দোয়া করুন, তিনি যেন আমাদের এ সকল শহরের বিজয় দান করেন এবং তাদের আবাসস্থলকে আমাদের গনীমত করে দেন, আর আমাদের হাতে তাদের দেশ ধ্বংস করে দেন।’ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এর জন্য দোয়া করলেন।
অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, ‘এরপর আমি যখন পাথরটিতে দ্বিতীয়বার আঘাত করলাম। তাতে রোম শাসকের শহরসমূহ এবং এর পার্শ্বস্থ স্থানসমূহ দেখানো হলো। আমি তা স্বচক্ষে দর্শন করলাম।’ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বললেন, ‘ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট দোয়া করুন, তিনি যেন আমাদের এ সকল শহরের বিজয় দান করেন আর তাদের বাড়ী-ঘর আমরা গনীমতরূপে প্রাপ্ত হই এবং তাদের বাড়ী-ঘর আমাদের হাতে ধ্বংস হয়। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এর জন্যও দোয়া করলেন।
অতঃপর তিনি বললেন, এরপর আমি তৃতীয়বার আঘাত করলাম, আমাকে হাবশার শহরসমূহ এবং এর আশে পাশের গ্রামসমূহ দেখানো হলো। আমি তা স্বচক্ষে দেখলাম। এ সময় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, তোমরা হাবশীদের সাথে জিহাদ করো না, যতক্ষণ না তারা তুর্কীদের নিয়ে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে। আর তোমরা তুর্কীদের সাথেও জিহাদ করো না, যতক্ষণ না তারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে। (নাসায়ী শরীফ-৩১৭৯, ছহীহাহ-৭৭২, জামে আস ছগীর-৩৩৮৪)
জিহাদের মূল চিত্র:
৬ষ্ঠ হিজরীর পবিত্র সাইয়্যিদুশ শুহুর, পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাসে পবিত্র মদীনা শরীফ অবরোধ শুরু হয় এবং তা প্রায় ১ মাস স্থায়ী থাকে। পবিত্র মক্কা শরীফ থেকে আগত কুরাইশ বাহিনী পবিত্র মদীনা শরীফ উনার নিকটে রুমা নামক স্থানের জুরফ এবং জাগাবার মধ্যবর্তী মাজমাউল আসয়াল নামক স্থানে এবং নজদ থেকে আগত গাতফান ও অন্যান্য বাহিনী উহুদ পর্বতের পূর্বে জানাবে নাকমায় শিবির স্থাপন করে। আরবীয় যুদ্ধকৌশলে পরিখা খনন প্রচলিত ছিলো না তাই মুসলমানদের খননকৃত পরিখার কারণে জোটবাহিনী অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়ে। পরিখা পার হওয়ার কোনো ব্যবস্থা তাদের ছিলো না। তারা অশ্বারোহীদের সহায়তায় বাধা কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। দুই বাহিনী পরিখার দুই পাশে এসে সমবেত হয়।
আক্রমণকারীরা পার হওয়ার জন্য দুর্বল স্থানের সন্ধান করছিলো। দিনের পর দিন দুই বাহিনী পরস্পরকে লক্ষ্য করে তীর নিক্ষেপ করে চলছিলো। সেই অচলাবস্থায় কুরাইশ সেনারা অধৈর্য্য হয়ে পড়ে। আমর ইবনে আবদে উদ, ইকরিমা ইবনে আবি জাহল এবং জারার বিন খত্তাবসহ আক্রমণকারীদের একটি দল ঘোড়ায় চড়ে একটি সংকীর্ণ স্থান দিয়ে পরিখা পার হতে সক্ষম হয়। তারপর আমিরুল মু’মিনীন, হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি ও অন্য কয়েকজন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সেখানে অবস্থান নিয়ে তাদের গতিরোধ করেন। আমর মল্লযুদ্ধের জন্য মুসলমানদেরকে আহ্বান জানালে ইমামুল আউওয়াল, হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি লড়াইয়ের জন্য এগিয়ে যান। মল্লযুদ্ধে আমর নিহত হওয়ার পর আতঙ্কিত হয়ে বাকিরা পিছু হটতে বাধ্য হয়।
-আল্লামা মুহম্মদ নাজমুল হুদা ফরাজী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা উম্মাহর মাঝে শ্রেষ্ঠতম মর্যাদায় আসীন
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৭ম পর্ব)
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সকল কাফিররাই মুসলমানদের প্রকাশ্য শত্রু
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৭)
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র ফাতহে মক্কা অর্থাৎ পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয় দিবস
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৭)
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৬ষ্ঠ পর্ব)
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৬)
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মুহব্বত ঈমান, আর উনাদের সমালোচনা করা লা’নতগ্রস্ত হওয়ার কারণ
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৬)
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
দ্বীন ইসলাম ব্যতিত অন্য কোন তন্ত্র-মন্ত্র নিয়মনীতি শরীয়তসম্মত নয়
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৫ম পর্ব)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












