ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৯)
, ০৫ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৫ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৫ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ১১ চৈত্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) আইন ও জিহাদ
জিহাদের মূল চিত্র:
রাতের বেলায়ও আক্রমণকারী কাফিররা পরিখা অতিক্রমের জন্য কয়েক দফা চেষ্টা চালিয়েছিলো। কিন্তু এসকল চেষ্টা ব্যর্থ হয়। মুসলমানগণ পরিখার অপর পাশ থেকে তীর নিক্ষেপ করে তাদের বাধা প্রদান করেন। পরিখার পুরো দৈর্ঘ্য বরাবর পদাতিকদের মোতায়েন করা সম্ভব ছিলো কিন্তু সম্মুখ যুদ্ধে মুসলমানদের সুবিধাজনক অবস্থানের কারণে তারা সে পদক্ষেপ নেয়নি। পরিখা খননের সময় তোলা মাটি দিয়ে তৈরি বাধের পেছনের সুরক্ষিত অবস্থান থেকে মুসলমানগণ তীর ও পাথর ছুড়ে আক্রমণ করার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। ফলে কোন প্রকার আক্রমণ হলে ব্যাপক হতাহতের সম্ভাবনা ছিলো। লড়াই মূলত উভয় পক্ষের তীর নিক্ষেপের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলো। তাতে মুসলমানদের মধ্যে ছয়জন শাহাদাত বরণ করেন এবং আক্রমণকারীদের মধ্যে দশজন মারা যায়। তাছাড়াও দু’একজন তলোয়ারের আঘাতেও মারা যায়।
জোটের পক্ষ থেকে কয়েকটি সমসাময়িক আক্রমণের চেষ্টা চালানো হয়। তার মধ্যে ছিলো বনু কুরাইজার ইহুদীদেরকে দক্ষিণ দিক থেকে আক্রমণের জন্য উদ্বুদ্ধ করা। জোটের পক্ষ থেকে বহিষ্কৃত বনু নাদির গোত্রের হুয়াই ইবনে আখতাব পবিত্র মদীনা শরীফ ফিরে গিয়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদের সহায়তা চায়। হুয়াই ইবনে আখতাব বনু কুরাইজার এলাকায় যাওয়ার পর কুরাইজা নেতা কাব ইবনে আসাদ দরজা বন্ধ করে দেয়। হুয়াই বলে যে সে খেতে চায় মনে করে কাব দরজা বন্ধ করেছে। সে কথা শুনে কাব বিব্রত বোধ করে তাকে ভেতরে আসতে দেয়। বনু কুরাইজা প্রথমে নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করেছিলো। এবং মদীনা সনদে তারা সম্মতি দিয়েছিলো বলে জোটে যোগদানের ব্যাপারে সহজে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি।
হুয়াই জানায় যে, অন্যান্য গোত্রগুলি মুসলমানরা নিশ্চিহ্ন না হওয়া পর্যন্ত ফিরে যাবে না এমন অঙ্গীকার করেছে। নাউযুবিল্লাহ! কাব ইবনে আসাদ প্রথমে তার প্রস্তাবে রাজি হয়নি। কিন্তু আক্রমণকারীদের সংখ্যা ও শক্তির কারণে বনু কুরাইজা নিজের মত বদলায় এবং জোটে যোগ দেয়। যার ফলে মুসলমানদের সাথে বনু কুরাইজার চুক্তি ভঙ্গ হয়ে যায়। নিশ্চয়তা হিসেবে হুয়াই অঙ্গীকার করে যে, কুরাইশ এবং গাফতানরা যদি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শহীদ না করে ফিরে যায়। নাউযুবিল্লাহ! তবে সে বনূ কুরাইজার দুর্গে প্রবেশ করবে এবং কুরাইজার ভাগ্যে যাই ঘটুক না কেন সে নিজেও সেই পরিণতি বরণ করবে। কুরাইজার এই চুক্তিভঙ্গের কথা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জানতে পারেন। তাদের এরূপ কর্মকা-ের ফলে তিনি চিন্তিত হন। মদীনা সনদ অনুযায়ী বনু কুরাইজার ইহুদীরা মুসলমানদের মিত্র ছিলো তাই তাদের এলাকার দিকে মুসলমানরা কোনো প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেননি।
বনূ কুরাইজার অধিকারে থাকা অস্ত্রের মধ্যে ছিলো ১৫০০ তলোয়ার, ২০০০ বর্শা, ৩০০ বর্ম এবং ৫০০ ঢাল। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রকৃত খবর সংগ্রহের জন্য প্রখ্যাত ছাহাবী হযরত সা’দ বিন মুয়াজ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত সা’দ বিন উবাদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত খাওয়াত বিন জুবায়ের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদেরকে প্রেরণ করেন। তিনি উনাদের বলে দেন, বনূ কুরাইজা যদি মিত্রতা বহাল রাখে তবে তা যেন প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয় যাতে মুসলমান মুজাহিদের মনোবল বজায় থাকে। কিন্তু মনোবল হ্রাসের আশঙ্কা থাকায় সম্ভাব্য চুক্তি লঙ্ঘনের সংবাদ ইঙ্গিতে উনাকে জানানোর নির্দেশ দেন।
প্রেরিত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা দেখতে পান যে, বনু কুরাইজা চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। কুরাইজার লোকেরা শত্রুতা প্রদর্শন করে বলে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে তাদের কোনো চুক্তি হয়নি। নাউযুবিল্লাহ! খন্দকের জিহাদের পূর্বে আজাল ও কারাহর লোকেরা বিশ্বাসঘাতকতা করে কিছু মুসলমানকে শহীদ করেছিলো। চুক্তি লঙ্ঘনের খবর ইঙ্গিতে জানানোর নির্দেশ ছিলো বলে প্রতিনিধিরা সেই ঘটনাকে রূপক হিসেবে ধরে নেন এবং বনু কুরাইজার বিশ্বাসঘাতকতার কথা জানানোর জন্য বলেন আজাল ও কারাহ।
বনূ কুরাইজার চুক্তি ভঙ্গ এবং মুসলমানদের
নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ:
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বনু কুরাইজার বিশ্বাসঘাতকতার কথা গোপন রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বনু কুরাইজার দিক থেকে পবিত্র মদীনা শরীফ উনার উপর আক্রমণ আসবে দ্রুত এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নেন। প্রথমে নারী ও শিশুদের রক্ষার জন্য শহরের ভেতরের দিকে ১০০ জন মুজাহিদ প্রেরণ করা হয়। তারপর আরো ৩০০ জন অশ্বারোহী প্রেরণ করা হয়। তিনি বনু গাতফানদের দুই নেতা উয়াইনা বিন হিসন এবং হারিস বিন আউফের কাছে বার্তা পাঠান। যে, তারা পিছু হটলে পবিত্র মদীনা শরীফে উৎপন্ন খেজুরের এক তৃতীয়াংশ তাদের দেওয়া হবে এই শর্তে সন্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়। তারা এই শর্তে সন্ধিতে রাজি হয়।
-আল্লামা মুহম্মদ নাজমুল হুদা ফরাজী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৮)
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৭)
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৭)
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়:(১৫তম পর্ব)
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৬)
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৬)
২০ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৪তম পর্ব)
১৯ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৫)
১৮ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৫)
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৩তম পর্ব)
১২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৪)
১১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১২তম পর্ব)
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












