গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৮)
, ২৬ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৬ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৬ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ২ চৈত্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) আইন ও জিহাদ
সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে প্রেরণ:
অন্যদিকে হযরত সাঈদ বিন আছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উঠে এসে ‘মারহাবা’ বলে উনাকে খোশ আমদেদ জানালেন। অতঃপর তিনি নিজ ঘোড়ার উপর জিন চাপিয়ে তাতে আরোহণ করলেন এবং সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে সঙ্গে বসিয়ে নিয়ে পবিত্র মক্কা শরীফে নিজ বাসস্থানে নিয়ে গেলেন। সেখানে গিয়ে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে নেতৃস্থানীয় কুরাইশদের নিকট নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বার্তা মুবারক শোনালেন। বার্তা মুবারক পৌঁছানোর মাধ্যমে যখন তিনি আরোপিত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি লাভ করলেন তখন কুরাইশরা প্রস্তাব করলো যে, তিনি যেন মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র ঘর মুবারক তাওয়াফ করেন। কিন্তু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তাওয়াফ মুবারকের পূর্বে তাওয়াফ করা সমীচীন মনে না করায় তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।
সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার শাহাদাতের গুজব এবং
বাইয়াতে রিদ্বওয়ান:
সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি উনার নিজ দায়িত্ব মুবারক সম্পূর্ণ করলেন কিন্তু কুরাইশগণ উনাকে তাদের জিম্মায় রাখলো। সম্ভবত উদ্ভূত পরিস্থিতির ব্যাপারে সঠিক কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে না পারার কারণেই এবং কিছুটা বিলম্বে হলেও সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে তারা তাদের সিদ্ধান্ত সঠিক রেখেছিলো। যেহেতু ব্যাপারটি ছিলো তাদের জন্য অত্যন্ত বিতর্কমূলক এবং এ ব্যাপারে তাদের আরও শলা-পরামর্শের প্রয়োজন ছিলো সেহেতু তারা সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার প্রত্যাবর্তন বিলম্বিত করতে চেয়েছিলো।
কিন্তু সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার প্রত্যাবর্তনে অস্বাভাবিক বিলম্ব হওয়ার কারণে মুসলমানদের মধ্যে একটি গুজব ছড়িয়ে পড়লো যে, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদ করা হয়েছে।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন এ সংবাদ অবগত হলেন তখন ঘোষণা দিলেন যে-
لاَ نَبْرَحُ حَتّٰى نُنَاجِزَ الْقَوْمَ
জিহাদের মাধ্যমে যতক্ষণ একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হচ্ছে ততক্ষণ আমরা এ জায়গা পরিত্যাগ করবো না। অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে অঙ্গীকারাবদ্ধ হওয়ার আহবান জানালেন। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের একটি অংশ অঙ্গীকারাবদ্ধ হলেন যে, উনারা জিহাদের ক্ষেত্র থেকে পিছু হটবেন না। অন্য এক দল শহীদ হওয়ার জন্য অঙ্গীকারাবদ্ধ হলেন, অর্থাৎ মৃত্যুবরণ করতে হলেও উনারা যুদ্ধক্ষেত্র পরিত্যাগ করবেন না। সর্বপ্রথম বাইয়াত মুবারক গ্রহণ করলেন (অঙ্গীকারাবদ্ধ হলেন) হযরত আবূ সেনান আসাদী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। হযরত সালাম বিন আকওয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি তিন দফা অঙ্গীকার করলেন। প্রথমে, মধ্যে ও শেষে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বয়ং নিজ নূরুল মাগফিরাত মুবারক (সম্মানিত হাত মুবারক) ধরে বললেন- هٰذِهِ يَدُ عُثْمَانَ ‘এ হচ্ছে সাইয়্যিদুনা হযরত উছমান আলাইহিস সালাম উনার হাত মুবারক।’ ইতোমধ্যে যখন বাইয়াত গ্রহণ পর্ব সম্পন্ন হয়ে গেলো তখন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি প্রত্যাবর্তন করলেন এবং তিনিও অঙ্গীকারাবদ্ধ হলেন। এ বাইয়াত মুবারক পর্বে মাত্র একজন অংশগ্রহণ করেনি। সে ছিলো মুনাফিক। তার নাম ছিলো জুদ বিন ক্বায়েস।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এ সম্মানিত বাইয়াত মুবারক গ্রহণ করেছিলেন একটি বৃক্ষের তলদেশে। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি হাত উত্তোলিত অবস্থায় রেখেছিলেন এবং হযরত মা’কাল বিন ইয়াসার রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বৃক্ষের কতগুলো শাখা ধরে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপর থেকে সরিয়ে রেখেছিলেন। এ সম্মানিত অঙ্গীকার বা বাইয়াতের নাম মুবারক হচ্ছে বাইয়াতে রিদ্বওয়ান। এ বাইয়াত সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
لَقَدْ رَضِيَ اللهُ عَنِ الْمُؤْمِنِيْنَ إِذْ يُبَايِعُوْنَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ
অর্থ: মহান আল্লাহ পাক তিনি মু’মিন উনাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন যখন উনারা (হুদাইবিয়ায়) গাছের তলে আপনার নিকট বাইয়াত মুবারক গ্রহণ করেছেন।’ (পবিত্র সূরা ফাতহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ: ১৮)
সন্ধিচুক্তি এবং সন্ধির শর্তসমূহ:
কুরাইশগণ পরিস্থিতির গুরুত্ব উপলব্ধি করলো এবং অনতিবিলম্বে হযরত সুহাইল বিন ‘আমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে সন্ধিচুক্তির ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের উদ্দেশ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে প্রেরণ করলো। (চলবে)
-মুহম্মদ নাজমুল হুদা ফরাজী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৮)
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা উম্মাহর মাঝে শ্রেষ্ঠতম মর্যাদায় আসীন
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৭ম পর্ব)
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সকল কাফিররাই মুসলমানদের প্রকাশ্য শত্রু
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৭)
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র ফাতহে মক্কা অর্থাৎ পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয় দিবস
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৭)
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৬ষ্ঠ পর্ব)
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৬)
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মুহব্বত ঈমান, আর উনাদের সমালোচনা করা লা’নতগ্রস্ত হওয়ার কারণ
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৬)
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
দ্বীন ইসলাম ব্যতিত অন্য কোন তন্ত্র-মন্ত্র নিয়মনীতি শরীয়তসম্মত নয়
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












