গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৭)
, ১৯ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৯ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৯ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ২৪ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) আইন ও জিহাদ
কুরাইশগণের মধ্যস্ততাকারী প্রেরণ:
এরপর উরওয়া নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সম্পর্ক সৌকর্যের ক্ষেত্রে আন্তরিকতার দৃশ্য প্রত্যক্ষ করতে থাকে। অতঃপর স্বগোত্রীয় লোকজনদের নিকট ফিরে এসে বলে, ‘হে গোত্রীয় ভ্রাতৃবর্গ! মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আমি কায়সার ও কিসরা এবং নাজ্জাসীদের শাসকের দরবারে গিয়েছি, আমি কোন শাসককে দেখিনি যে, তার অনুসারী বা সঙ্গী সাথীগণ সেই শাসককে এতটুকু সম্মান প্রদর্শন করছে, যতটুকু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উনার অনুসারী উনারা যত বেশী সম্মান করেন।’
সে আরো বলে, ‘মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেখানে উনার মহাসম্মানিত নূরুল বারাকাত মুবারক (থুথু মুবারক) বর্ষণ করেছেন তখন যে কেউ উহা হাতে নিয়ে আপন মুখমন্ডলে কিংবা শরীরে মেখে নেন। যখনই তিনি কোন কাজের নির্দেশ মুবারক প্রদান করেন, তখনই তা বাস্তবায়নের জন্য সকলের মধ্যেই তৎপরতা শুরু হয়ে যায়। যখন তিনি মহাসম্মানিত নূরুল খুশূ’ মুবারক (ওযূ মুবারক) করেন তখন মনে হচ্ছে যেন উনার ব্যবহৃত পানি মুবারকের জন্য লোকেরা যুদ্ধ শুরু করে দিবেন। যখন তিনি কোন কথা মুবারক বলেন তখন সকলের কণ্ঠস্বর নীচু হয়ে যায়। উনার সম্মানার্থে ছাহাবী উনারা কখনই উনার প্রতি পূর্ণভাবে দৃষ্টিপাত করেন না।’
‘নিশ্চয়ই যতটুকু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যে এমন গুণাবলী মুবারকের সমাবেশ ঘটেছে যার ফলে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা উনাকে এতটা মুহব্বত এবং তা’যীম তাকরীম মুবারক করছেন। তিনি তোমাদের জন্য একটি উত্তম প্রস্তাব দিয়েছেন। তোমাদের উচিত তা গ্রহণ করে নেয়া।’
এদিকে যখন কুরাইশদের যুদ্ধবাজ ও যুদ্ধোন্মাদ যুবকগণ দেখলো, তাদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিগণ সন্ধির পক্ষপাতি, তখন তারা নেতৃস্থানীয়দের এড়িয়ে স্বতন্ত্রভাবে একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলো, রাত্রির অন্ধকারে বেরিয়ে গিয়ে তারা মুসলমানদের তাবুগুলোতে প্রবেশ করবে এবং এমনভাবে ফেতনা সৃষ্টি করবে যাতে নিজে থেকেই যুদ্ধের আগুন জ্বলে উঠে।
অতঃপর তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ সম্পাদনের লক্ষ্যে রাতের আঁধারে ৭০ কিংবা ৮০ জন যুবক তানঈম পর্বতে অবতরণ করে মুসলমানদের তাবুগুলোতে প্রবেশ করার চেষ্টা করে। কিন্তু মুসলমানদের তাবু দেখাশুনাকারী মুজাহিদগণের প্রধান হযরত মুহম্মদ বিন মাসলামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি তাদের সকলকে বন্দী করেন। কিন্তু সন্ধিচুক্তির খাতিরে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সকলকে ক্ষমা করে মুক্ত করে দেন। সে সম্পর্কেই মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে তখন আয়াত শরীফ নাযিল হয়-
وَهُوَ الَّذِيْ كَفَّ أَيْدِيَهُمْ عَنْكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ عَنْهُم بِبَطْنِ مَكَّةَ مِن بَعْدِ أَنْ أَظْفَرَكُمْ عَلَيْهِمْ.
অর্থ: ‘তিনি সেই সত্তা মুবারক যিনি তোমাদের উপর হতে তাদের হাতকে নিবৃত্ত করলেন পবিত্র মক্কা শরীফ প্রান্তরে এবং তোমাদের হাতকে তাদের হতে। এর পূর্বেই তিনি তাদেরকে তোমাদের আয়ত্বে এনে দিয়েছিলেন।’ (পবিত্র সূরা ফাতহ শরীফ: আয়াত শরীফ ২৪)
সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে প্রেরণ:
এরপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত নূরুল ইনাবাত মুবারক অর্থাৎ চিন্তিত শান মুবারক প্রকাশ করে বললেন, ‘এ সময় কুরাইশদের নিকট এমন একজন দূত প্রেরণ করা প্রয়োজন যিনি বর্তমান সফরের উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্য সম্পর্কে জোরালোভাবে বক্তব্য উপস্থাপন করতে সক্ষম হবেন।’ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে কুরাইশদের নিকট গমনের নির্দেশ দিলেন এবং বললেন, ‘আপনি গিয়ে তাদেরকে বলে দিন, যুদ্ধ করার জন্য আমরা আসিনি। আমরা এসেছি উমরা পালনের জন্য। তাছাড়া তাদের নিকট সম্মানিত ইসলাম উনার দাওয়াত পেশ করবেন।
অধিকন্তু, তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে এ নির্দেশ মুবারক দিলেন, ‘আপনি পবিত্র মক্কা শরীফে ঈমানদার পুরুষ ও মহিলাগণের নিকট গিয়ে অদূর ভবিষ্যতে মুসলমানদের পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়ের শুভ সংবাদ শুনিয়ে দিবেন এবং এ কথাও বলে দিবেন যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি স্বীয় দ্বীন ইসলাম উনাকে শীঘ্রই পবিত্র মক্কা শরীফে প্রকাশিত ও প্রতিষ্ঠিত করবেন। কাজেই, মহান আল্লাহ পাক উনার দ্বীন ইসলামে বিশ্বাস স্থাপনের জন্য কাউকে আত্মগোপন করে থাকার প্রয়োজন হবে না।’
সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বার্তা মুবারক নিয়ে পবিত্র মক্কা শরীফে রওয়ানা করলেন। বালদাহ নামক স্থানে কুরাইশদের নিকট দিয়ে যখন তিনি পথ চলছিলেন তখন তারা জিজ্ঞেস করলো, কি উদ্দেশ্যে কোথায় এ গমন? তিনি বললেন, ‘একটি বার্তা মুবারকসহ মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে এ স্থানে প্রেরণ করেছেন।’
তারা বললো, ‘আমরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কথা মুবারক শুনেছি, আপনি নিজ কাজে চলে যান।’ (চলবে)
-মুহম্মদ নাজমুল হুদা ফরাজী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সকল কাফিররাই মুসলমানদের প্রকাশ্য শত্রু
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র ফাতহে মক্কা অর্থাৎ পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয় দিবস
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৭)
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৬ষ্ঠ পর্ব)
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৬)
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মুহব্বত ঈমান, আর উনাদের সমালোচনা করা লা’নতগ্রস্ত হওয়ার কারণ
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৬)
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
দ্বীন ইসলাম ব্যতিত অন্য কোন তন্ত্র-মন্ত্র নিয়মনীতি শরীয়তসম্মত নয়
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৫ম পর্ব)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৫)
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৫)
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৪র্থ পর্ব)
১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












