থাই পেয়ারা:
বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের এক সফল বিপ্লব
, ১৬ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৩ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ০২ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ১৮ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পাঁচ মিশালী
বাংলাদেশে ফল উৎপাদনের ক্ষেত্রে গত দুই দশকে যে নীরব বিপ্লব ঘটেছে, তার অন্যতম উজ্জ্বল উদাহরণ থাই পেয়ারা। একসময় পেয়ারা ছিলো মৌসুমি ফল। বর্ষা ও শরৎকাল ছাড়া বাজারে এর উপস্থিতি খুব একটা দেখা যেতো না। কিন্তু আধুনিক চাষাবাদ, উন্নত জাতের ব্যবহার ও কৃষকের উদ্ভাবনী দক্ষতার কারণে আজ থাই পেয়ারা সারা বছর উৎপাদন হচ্ছে। ফলে এটি শুধু একটি জনপ্রিয় ফল নয়, বরং গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য লাভজনক কৃষি উদ্যোগে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশ বর্তমানে পেয়ারা উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। কৃষি পরিসংখ্যান বলছে, ২০১২-১৩ অর্থবছরে দেশে ৩০ হাজার ৬২৫ হেক্টর জমিতে প্রায় ৩ লাখ ১৪ হাজার টন পেয়ারা উৎপাদিত হয়েছিলো। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সেই উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬৪ হাজার টনের বেশি। দেশে প্রতিবছর প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার পেয়ারা উৎপাদন হয়। উৎপাদন বৃদ্ধির এ ধারা প্রমাণ করে, দেশের কৃষকরা নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে আগ্রহী এবং ফলভিত্তিক কৃষির সম্ভাবনা ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে।
থাই পেয়ারার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এটি আর প্রকৃতির নির্দিষ্ট মৌসুমের ওপর নির্ভরশীল নয়। কৃষক পরিকল্পনা করে ঠিক করতে পারেন, বছরের কোন সময়ে তিনি ফল বাজারজাত করবেন। বাজারে যখন ফলের সরবরাহ কম থাকে, তখন থাই পেয়ারা উৎপাদন করে বেশি দাম পাওয়া সম্ভব হয়। এ কারণেই নাটোর, পাবনা, দিনাজপুর, রাজশাহী, বরিশাল, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বাণিজ্যিকভাবে থাই পেয়ারার চাষ দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে।
বর্তমানে দেশের বড় শহরগুলোতে ফলের দোকানে বিদেশি আপেল, কমলা, মাল্টা ও নাশপাতির পাশে সমান গুরুত্ব নিয়ে জায়গা করে নিয়েছে থাই পেয়ারা। ভোক্তারাও পুষ্টিগুণ ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যের কারণে এ ফলের প্রতি ঝুঁকছেন। এতে একদিকে বৈদেশিক ফলের ওপর নির্ভরতা কমছে, অন্যদিকে স্থানীয় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।
থাই পেয়ারার উৎপাদন বৃদ্ধি বিদেশ থেকে ফল আমদানি কমাতেও ভূমিকা রাখছে। দেশে পেয়ারা উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় বছরে আপেলের আমদানি কমেছে প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন।
পেয়ারার জনপ্রিয়তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ এর পুষ্টিগুণ। প্রতি ১০০ গ্রাম পেয়ারায় প্রায় ২১০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকে, যা অনেক ক্ষেত্রে কমলা ও আপেলের চেয়েও বেশি। এ ছাড়া ক্যালসিয়াম, আয়রন ও প্রয়োজনীয় কার্বোহাইড্রেটও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রয়েছে।
পুষ্টিবিদরা দীর্ঘদিন ধরে শিশু, কিশোর ও প্রাপ্তবয়স্কদের খাদ্যতালিকায় নিয়মিত পেয়ারা রাখার পরামর্শ দিয়ে আসছেন। দেশে অপুষ্টি মোকাবিলায়ও পেয়ারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পেয়ারা এখন কেবল একটি ফলই নয়; এটি বাংলাদেশের কৃষি উদ্যোক্তাদের জন্য সম্ভাবনার নতুন নাম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি বানানোর নতুন পরিকল্পনা জানালো নাসা
০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
এআই চশমা পরে পরীক্ষায় নকল বাড়ছে, কীভাবে কাজ করে এটি?
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রচুর গরমে সুস্থ থাকতে যেসব বিষয় সতর্ক থাকা উচিত
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অটোরিকশার অর্থনীতি: কেন এই বাহনের এত বিপুল চাহিদা?
৩০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হাতের লেখা কেন বর্তমান যুগেও গুরুত্বপূর্ণ
৩০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বাংলা কিউআর কী, কেন ব্যবহার বাধ্যতামূলক?
২৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
দেশি ফল ডেউয়ার রয়েছে অসাধারণ স্বাস্থ্য উপকারিতা
২৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পাকা ও মিষ্টি কাঁঠাল চেনার ৫ কৌশল
২৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
এক কলা গাছে ১৬টি মোচা!
২৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
লটকন খাওয়ার আগে যে বিষয়গুলো জানা দরকার
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যেসব ফল খেলে রক্ত বাড়ে (২)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যেসব ফল খেলে রক্ত বাড়ে (১)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












