স্থাপত্য-নিদর্শন
দিল্লীর কুতুব মিনার গড়ে উঠেছিলো যে ঐতিহাসিক মসজিদকে ঘিরে
, ০৮ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ০৬ আউওয়াল, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৫ জুন, ২০২৫ খ্রি:, ২৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) স্থাপত্য নিদর্শন
দিল্লিকেন্দ্রিক মুসলিম শাসনের গোড়াপত্তন ন্যায়পরায়ন তুর্কি শাসক সুলতান কুতুবুদ্দিন আইবেক এর নেতৃত্বে। প্রথম মুসলিম সুলতান বিজয়স্মারক হিসেবে দিল্লিতে গড়ে তোলেন মুসলমানদের অন্যতম স্থাপত্য নিদর্শন কুওয়াতুল ইসলাম মসজিদ।
অনেকেই দিল্লীর ঐতিহাসিক কুতুব মিনার সম্পর্কে জানেন। কিন্তু যে মসজিদকে কেন্দ্র করে কুতুব মিনার গড়ে উঠেছিলো সেকথা অনেকেরই অজানা। ঐতিহাসিক কুওয়াতুল ইসলাম মসজিদের আজানের ধ্বনিই দূর-বহুদুরে পৌঁছাতে ইট-পাথরের গাঁথুনিতে তৈরি হয় বিশ্বের সর্বোচ্চ মিনার। এবং উপমহাদেশের বিশিষ্ট সুফী সাধক কুতুবুল আফতাব খাজা সাইয়্যিদ মুহম্মদ কুতুবউদ্দিন বখতিয়ার কাকী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নাম মুবারকের সাথে মিল রেখে এই মিনারের নামকরণ হয় কুতুব মিনার।
১২০৬ খৃ: সুলতান কুতুবুদ্দিন আইবেক দিল্লি সালতানাত প্রতিষ্ঠা করেন ও তিনি ভারতীয় স্থাপত্যকে মধ্য এশীয় স্থাপত্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। দিল্লির কুতুব মিনার ও স্থাপনাগুলোর নির্মাণকাজ ১১৯৯ খৃ: সুলতান মুইজউদ্দীন মুহম্মদ ঘুরি রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার শাসনামলে শুরু হয়েছিলো। এরপর এই মসজিদের নির্মাণকাজ চলে কুতুবুদ্দিন আইবেকসহ অন্যান্য সুলতানদের আমলে।
কুওয়াতুল ইসলাম মসজিদ সুনিপুণ কৌশলে নির্মিত একটি আয়তাকার দ্বীনি স্থাপনা। এখানে চিরায়ত মুসলিম রীতিতে পূর্ব প্রান্তের প্রবেশদ্বার হয়ে গম্বুজের ভেতর দিয়ে পশ্চিম প্রান্তে ইবাদতের মূল স্থান মসজিদে পৌঁছাতে হয়। তিন পাশে বারান্দা, সারি সারি স্তম্ভের ওপর সমতল ছাদ। মুসলিম স্থাপত্যশৈলীতে একে লিয়ন বলা হয়। কুতুবুদ্দিন আইবেকের সময়ে শুরু হওয়া এ মসজিদটি সুলতান শামসুদ্দিন আল-তামাস (ইলতুতমিশ), আলাউদ্দিন খিলজি প্রমুখের কালানুক্রমিক প্রয়াসে পূর্ণতা ও বিশালত্বে সম্প্রসারিত হতে থাকে।
কুওয়াতুল ইসলাম মসজিদের নির্মাণশৈলীতে আরব-তুর্কি ও ভারতীয় রীতির বিস্ময়কর সমন্বয় ঘটেছে। এ সংমিশ্রণ বিজীত ও বিজয়ীর সহাবস্থানের অনন্য দৃষ্টান্ত। মসজিদের উচ্চতা, সৌন্দর্য, বিশালত্ব প্রকাশে স্থাপত্য নিদর্শনের এক অন্যরকম বৈশিষ্ট ফুটে উঠেছে। হয়েছে ইসলামী ঐতিহ্যে, নান্দনিকতার সঙ্গে ও ছন্দবৈচিত্রের মুনশিয়ানায়। মসজিদের স্তম্ভ ও দেয়ালে নানা দিক ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ফুল, লতাপাতা, ঘণ্টা-চক্র, চতুর্ভুজ নকশা ইত্যাদির প্রাণবন্ত অলংকরণে। মসজিদের খিলান, মাখসুরাহ ইত্যাদিতেও রয়েছে আরব-তুর্কি রীতি বিন্যাসের স্পষ্টতার প্রমাণ। মসজিদের কেন্দ্রীয় খিলানের উচ্চতা ১৩.৫ মিটার এবং এর স্প্যান ৬.৬ মিটার। স্থানীয় স্থপতিরা আর্কুয়েট (arcuate) প্রথার সঙ্গে পরিচিত না-থাকার ফলে এই খিলানগুলো নির্মাণে ভারত প্রচলিত ট্রাবিয়েট(trabeate) রীতির প্রয়োগ করেন। আছে ইবাদতের অনুপ্রেরণামূলক পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার আয়াত শরীফের বক্ররেখাঙ্কিত আরবী ক্যালিগ্রাফি।
উপমহাদেশে মুসলিম স্থাপত্যের প্রথম নিদর্শন কুওয়াতুল ইসলাম মসজিদের প্রধান ইমাম ছিলেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বংশধর সুফী সাধক সাইয়্যিদ জামিন রহমতুল্লাহি আলাইহি। উনার পূর্বের নাম ছিলেন মুহম্মদ আলী। তিনি চিশতিয়া তরীকার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি সুলতান সিকান্দর লোদির শাসনামলে তৎকালীন তুর্কিস্তান থেকে দিল্লি আগমন করেন।
-মুহম্মদ নাঈম।
চত্রি: ঐতহিাসকি কুওয়াতুল-ইসলাম মসজদি প্রাঙ্গন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (৪র্থ পর্ব)
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (৩য় পর্ব)
০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান”
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (১ম পর্ব)
২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইস্তাম্বুলে হযরত আবু আইয়ূব আল আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মসজিদ (৩)
১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইস্তাম্বুলে হযরত আবু আইয়ূব আল আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মসজিদ (২)
১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইস্তাম্বুলে হযরত আবু আইয়ূব আল আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মসজিদ (১)
০৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খেজুরের পাতায় লিখা পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ
২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মোঘল আমলের ইদ্রাকপুর দুর্গ
২১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের উজ্জ্বল সাক্ষী সাতৈর শাহী মসজিদ (১)
০৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
অস্থায়ী হাসপাতাল নির্মাণে মুসলমানদের অবদান
২৩ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মালয়েশিয়ার ঐতিহাসিক মসজিদ “মসজিদ নেগারা”
১৬ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












