মন্তব্য কলাম
জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বাল্যবিয়ে বন্ধ করা কাফিরদের ষড়যন্ত্র
, ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) মন্তব্য কলাম
বাংলাদেশে বাল্যবিয়ে নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। বরং এটি দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক, আইনগত এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে একটি আলোচিত বিষয়। সাম্প্রতিক সময়ে “লুবাবা”নামের এক কিশোরীর বাল্যবিবাহ এবং তার প্রেক্ষিতে তার মা-বাবার শাস্তির দাবি আবারও এই আলোচনাকে সামনে নিয়ে এসেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো-এই ইস্যুেক আমরা কি শুধুই সামাজিক বা আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে দেখবো, নাকি এর পেছনের বৃহত্তর আন্তর্জাতিক আগ্রাসী নীতি ও মুসলিমবিরোধী কাফিরদের ষড়যন্ত্রের দিকটিও বিবেচনা করবো?
বাস্তবতা হলো, বাল্যবিয়ে বিরোধী যে আইন ও প্রচারণা বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তার একটি বড় অংশই আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রভাব ও অর্থায়নের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে United Nations Population Fund দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে অর্থায়ন করে আসছিল। এই অর্থায়নের বড় উৎস ছিলUnited States, যারা তাদের নিজস্ব কৌশলগত কূট-স্বার্থের অংশ হিসেবেই এসব তহবিল পরিচালনা করত।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটেছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ইউএনএফপিএ-তে তাদের অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বাংলাদেশে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে যুক্ত অনেক এনজিও ও প্রতিষ্ঠান অর্থসংকটে পড়ে। ফলে বাল্যবিয়ে বন্ধে তাদের আগের মতো সক্রিয় ভূমিকা রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানেই প্রশ্ন জাগে-যদি এই কার্যক্রম সত্যিই মানবকল্যাণমূলক হতো, তবে অর্থায়ন বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন তা শ্লথ হয়ে যায়?
এখানেই আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিষয়টি সামনে আসে। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কোনো নিরপেক্ষ বা মানবিক ইস্যু নয়; বরং এটি অনেক সময় পরাশক্তি রাষ্ট্রগুলোর আগ্রাসী নীতির অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। বিশেষ করে ইহুদী ধর্মাবলম্বী হেনরি কিসিঞ্জার-এর প্রণীত ১৯৭৪ সালের নীতি, যা ঘধঃরড়হধষ ঝবপঁৎরঃু ঝঃঁফু গবসড়ৎধহফঁস ২০০ নামে পরিচিত, সেখানে বিশে^র কিছু উন্নয়নশীল দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেই তালিকায় বাংলাদেশও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এই নীতির আলোকে বলা যায়, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ শুধু একটি সামাজিক কর্মসূচি নয়; বরং এটি একটি ভূরাজনৈতিক আগ্রাসী কৌশল, যার মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জনশক্তিকে সীমিত রাখার চেষ্টা করা হয়। একদিকে সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে (হার্ড পাওয়ার) মানুষ হত্যা করে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, অন্যদিকে অর্থায়ন ও জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির মাধ্যমে (সফট পাওয়ার) জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ।
বাল্যবিয়ে বন্ধের প্রচারণাকেও এই বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা যায়। কারণ, বাল্যবিয়ে হ্রাস পেলে জন্মহার কমে, আর জন্মহার কমলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারও কমে যায়। ফলে এটি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের একটি কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হয়।
সর্বোপরি, মুসলিম পারিবারিক আইনে বিয়ের কোন বয়স নির্ধরিত হয়নি। কেউ কম বয়সে বিয়ে করতে পারে, কেউ বেশি বয়সেও পারে। পবিত্র হাদীস শরীফ অনুসারে, বাল্যবিয়ে সুন্নতী একটি আমল। কিন্তু কাফিররা সেটা ভঙ্গ করে বিয়ের জন্য বয়স নির্ধারিত করে দেয়, যা শরীয়ত অনুসারে কুফরী। আর তারা মুসলমানদের দিয়ে সেই কুফরী কাজটি করায়। নাউযুবিল্লাহ।
বাংলাদেশের জনসংখ্যার শতকরা ৯৮% মানুষ মুসলমান। এই দেশে পবিত্র দ্বীন ইসলামবিরোধী কোন আইন থাকতে পারে না। তাই বিয়ের বয়স নির্ধারিত করে তৈরী করা, “বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন”টি দ্রুত বাতিল করা দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের দাবী।
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে সঠিক বুঝ ও হক্বের উপর অবিচল থাকার তাওফিক দান করুন। আমীন।
-মুহম্মদ আমীমুল ইসলাম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ন্যাটোর ধারা ৫ এ বলা হয়েছে- যদি ন্যাটোভুক্ত কোনো সদস্য দেশের উপর সশস্ত্র হামলা হয়, তবে সকল সদস্য দেশ এটিকে নিজেদের উপর হামলা হিসেবে গণ্য করবে এবং আক্রান্ত দেশকে সাহায্য করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে, যার মধ্যে সশস্ত্র শক্তি প্রয়োগও অন্তর্ভুক্ত। অথচ শক্তিশালী মুসলিম দেশগুলো ন্যাটোর বিপরীতে মহা অধিকতর সামরিক জোট কঠিন করে কাফির বিশ্বে নিজেদের শক্তিমত্তা সর্ম্পকে জানান দেয়না। নাউযুবিল্লাহ! প্রসঙ্গত অধিকাংশ মুসলিম শাসকগুলো প্রবৃত্তির দাস সাম্রাজ্যবাদীদের ক্রীড়ানক। কিছু মুসলিম শাসক মুসলিম বিশ্বের সামরিক জোটের কথা বলা শুরু করেছে। তবে এটি আন্তরিক বা জোরদার নয়। এবং সব মুসলিম শাসকেরও বক্তব্য নয়।
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অবাধে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ সন্ত্রাসীগোষ্ঠী সর্বহারা পার্টির তাত্ত্বিকদের বই
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
২৫ মার্কিন কোম্পানী, ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর বিশাল বড় অনুলিপি এরা বাংলাদেশের গোটা অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ আম্রিকায় অর্থ পাচার, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে। বিশাল মূলধন ও আধুনিক প্রযুক্তি এবং বাংলাদেশ সরকারের দেয়া অতি সুবিধার কারণে এরা বাংলাদেশের শিল্পপতিদের তথা ব্যবসায়ীদের ধ্বসিয়ে দিবে।
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ভূয়া অস্ত্র বেঁচে টাকা লুট করতে চায় ভূয়া আম্রিকানরা মনে করে আম্রিকা যুদ্ধে সেরা অথচ মেক্সিকো, স্পেন, জার্মানসহ কয়েকটি কাফের রাষ্ট্র ছাড়া কানাডা ভিয়েতনামসহ অনেক কাফের রাষ্ট্রের কাছেও তারা শোচনীয়ভাবে হেরেছে
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক বছরের পর বছর চালু রেখে এক সময় বিয়ে না করলে দন্ডবিধির ৩৭৫ ধারায় ধর্ষক হয় পুরুষ।
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চারপাশে এখন চাপ আর চাপ এসব চাপকে- জনগণের নিজের মনে করতে হবে।
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
২০২৬ থেকে ২০৩৯ সাল পর্যন্ত ১৩ বছর মেয়াদে প্রতি বছর ছয়টি করে কার্গো এলএনজি আমদানি কথা চলছে। যা প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে বা কম মূল্যে নির্ধারণ হয়নি। এবং এমন শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে যা দেশের স্বার্থবিরোধী।
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বাংলাদেশের ৫০ হাজার একরের বেশি জমি ভারতের দখলে। উদ্ধারে নেই সরকারের সক্রিয়তা।
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
১৯৪৭ সালের বেনিয়া বৃটিশদের দেশবিভক্তির দোহাই দিয়ে এখন পার্বত্য চট্টগ্রামকে ভারতের ভূখন্ড দাবী করছে উপজাতি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা।
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মার্কিন দূত যে বাংলাদেশকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে গেলো, সরকারকে হুমকী-ধামকি দিলো তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রতিরোধ হলো কৈ? সরকারী দল, বিরোধী দল, তথাকথিত সব ইসলামিক দল থেকে সব সুশীল, চিন্তাশীল, বিশ্লেষক তথা সব মহল কেউই কিন্তু প্রতিবাদ করলো না
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সুদী মহাজন ও বড় চোর, সমকামীমনা, ১৬৮ মামলার আসামী, দেশ বিক্রিকারী মার্কিন চুক্তিকারী, ক্ষমতার মসনদে বসে অর্থ লুটকারী, অন্যায় সুবিধা গ্রহণকারী, পাহাড় সম অপরাধ মব-সন্ত্রাসের জনক কুখ্যাত ইউনুসের প্রতি ভীষণ বীতশ্রদ্ধ।
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সুদী মহাজন ও বড় চোর, সমকামীমনা, ১৬৮ মামলার আসামী, দেশ বিক্রিকারী মার্কিন চুক্তিকারী, ক্ষমতার মসনদে বসে অর্থ লুটকারী, অন্যায় সুবিধা গ্রহণকারী, পাহাড় সম অপরাধ মব-সন্ত্রাসের জনক কুখ্যাত ইউনুসের প্রতি ভীষণ বীতশ্রদ্ধ। এই কুলাঙ্গার আবারো ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে, রাষ্টের শীর্ষ পদে তথা প্রেসিডেন্ট পদে আলোচনায় আসে কি করে? নেপথ্যে কি মার্কিন দূত গর? অথচ “ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়”- বিএনপির শ্লোগান
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












