মন্তব্য কলাম
কৃষিপণ্য রপ্তানির অপূর্ব সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হচ্ছে বাংলাদেশ। অথচ বাংলাদেশের চেয়ে আয়তনে ছোট দেশ নেদারল্যান্ডসের কৃষিপণ্যের রপ্তানি ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। দেশে কৃষি বিপণন আইন, ২০১৮-তে রপ্তানিকারকদের লাইসেন্স ও মান নিয়ন্ত্রণের কথা বলা থাকলেও, মাঠ পর্যায়ে ‘ট্রেসিবিলিটি’ বা পণ্যের উৎস শনাক্তকরণের ব্যবস্থা এখনো প্রাচীন পর্যায়ে।
, ০৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) মন্তব্য কলাম
আস্থার সংকটে ডুবছে হাজার কোটি টাকার রপ্তানি
টেস্টের রেজাল্ট ‘পাস’, তবুও বন্দরে পণ্য ‘ফেল’
কৃষিপণ্য রপ্তানিতে বড় বাধা হয়ে উঠেছে ‘ফিট ফর হিউম্যান কনসাম্পশন’ সার্টিফিকেট।
দেশে একটি আন্তর্জাতিকমানের ল্যাব প্রতিষ্ঠা করে এ জাতীয় সার্টিফিকেট দেয়া সম্ভব হলে
রপ্তানি বহু গুণ বেড়ে প্রতি বছর ৫০ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় সম্ভব ইনশাআল্লাহ।
বিশ্বব্যাপী প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের বড় চাহিদা রয়েছে, সে জায়গায় বাংলাদেশের পর্যাপ্ত ভূমিকা রাখাতে পারছে না। বিশ্বব্যাংকের একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চার ট্রিলিয়ন ডলারের এগ্রিকালচারের এক্সপোর্ট বৈশ্বিক বাজার রয়েছে। আর এ বাজারের প্রায় ৪০ শতাংশ দখলে রেখেছে ইউরোপের দেশগুলো।
যদিও বাংলাদেশের চেয়ে আয়তনে ছোট দেশ নেদারল্যান্ডসের কৃষিপণ্যের রপ্তানি ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যেও থাইল্যান্ড কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে অনেক এগিয়ে। খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প দেশটির তৃতীয় বৃহৎ শিল্প খাত। দেশটির মোট জিডিপির শতকরা ২৩ শতাংশ আসে এ খাত থেকে। প্রতি বছর কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানি করে থাইল্যান্ড ৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে।
সার্বিক সহায়তা পেলে বাংলাদেশের এ খাতকেও নেদারল্যান্ডস কিংবা থাইল্যান্ডের মতো উল্লেযোগ্য জায়গায় নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন রপ্তানিকারকরা।
কিন্তু বাংলাদেশে কৃষিপণ্যের মাত্র ১ শতাংশ প্রক্রিয়াজাত হচ্ছে। অন্যদিকে ভিয়েতনামে ৫ শতাংশ, চীনে ৩৮, ফিলিপাইনে ৩১, আমেরিকায় ৭০, থাইল্যান্ডে ৮১ ও মালয়েশিয়ায় ৮৪ শতাংশ কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত হয়।
বিডার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬৩ ধরনের মৌলিক কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যসহ প্রায় ৭শ ধরনের কৃষিপণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ। দেশে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত প্রায় এক হাজার প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রপ্তানির সঙ্গে জড়িত প্রায় ২৫০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বড় ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান ২০টি। এ খাতে কর্মসংস্থান প্রায় পাঁচ লাখ।
কিন্তু রপ্তানির প্রায় ৬০ শতাংশের গন্তব্য বিশ্বের মাত্র পাঁচটি দেশে। পাশাপাশি মোট রপ্তানির অর্ধেকই পাঁচ ধরনের পণ্য। ফলে বাংলাদেশি খাদ্যপণ্য রপ্তানির নতুন নতুন গন্তব্য সৃষ্টি ও পণ্য বহুমুখীকরণে দুর্বলতা রয়েছে।
অথচ বিশ্বব্যাপী চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ থেকে খাদ্য রপ্তানির ব্যাপক সম্ভাবনা ও সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশে কৃষি খাতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। কৃষকবান্ধব নীতি প্রণয়ন, গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ফলে দানাদার খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার তথ্যমতে, বৃহৎ এবং ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য খাদ্যনিরাপত্তা অর্জনের পর, বাংলাদেশ ক্রমবর্ধমানভাবে পুষ্টিনিরাপত্তা এবং খাদ্য রফতানির দিকে গুরুত্ব প্রদান করছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পরের লক্ষ্যই হচ্ছে কৃষিকে আধুনিকায়ন করে রূপান্তর ও লাভজনক করা।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ‘রোড ম্যাপ অন ফুড’-এ একটি উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। রাশিয়ার বাজারে আমাদের আলু রপ্তানি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ‘ব্রাউন রট’ রোগের অজুহাতে। অথচ আমাদের ল্যাবগুলো তখন নিশ্চিত করতে পারেনি যে আমাদের আলু রোগমুক্ত। একইভাবে, চিংড়ি রপ্তানির সময় ইউরোপীয় ইউনিয়ন যখন অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতির অভিযোগ তোলে, তখনো আমরা দ্রুত ও সঠিক পাল্টা প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হই। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এখন আর ট্যারিফ বা শুল্ক দিয়ে বাণিজ্য আটকানো হয় না, এখন আটকানো হয় স্যানিটারি ও ফাইটো-স্যানিটারি মেজারস দিয়ে। আমাদের ল্যাবগুলো যদি সেই মানদ- পূরণ করতে না পারে, তবে এটি আমাদের রপ্তানির জন্য বড় হুমকি।’
এমনকি গোশত বা দুগ্ধজাত পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ‘বিএসই’ বা ‘ম্যাড কাউ ডিজিজ’ মুক্ত সনদ চাওয়া হয়। আমাদের দেশে এই রোগ নেই, কিন্তু তা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করে সনদ দেওয়ার মতো একক কোনো কর্তৃপক্ষ বা স্বীকৃত ল্যাব আমাদের নেই। ফলে বিলিয়ন ডলারের হালাল গোশতের বাজার আমাদের চোখের সামনে দিয়ে হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে।
থাইল্যান্ড বা শ্রীলঙ্কার মতো দেশে খাদ্য ও ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি শক্তিশালী ‘ফুড এন্ড ড্রাগ অথরিটি’ থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে এই দায়িত্ব ছড়িয়ে আছে অনেকগুলো সংস্থার হাতে-বিএসটিআই, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মৎস্য অধিদপ্তর ইত্যাদি।
‘রোড ম্যাপ অন ফুড’-এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এই সমন্বহীনতা আমাদের পিছিয়ে দিচ্ছে। একজন রপ্তানিকারককে তার পণ্যের মানের সনদ নিতে ছুটতে হয় তিন-চারটি ভিন্ন দপ্তরে। এতে সময় নষ্ট হয়, খরচ বাড়ে এবং শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানদ- পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এফবিসিসিআই-এর সাবেক সভাপতি বলেন, ‘বিশ্বের অন্য দেশে একটি উইন্ডো থেকেই সব ক্লিয়ারেন্স পাওয়া যায়। আর আমাদের এখানে বিএসটিআই, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, আর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রে দৌড়াতে দৌড়াতেই উদ্যোক্তার জান শেষ। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতা না কমলে রপ্তানি বাড়বে না।’
“বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার সনদ নিতে হয়রানি আর অতিরিক্ত ফি আমাদের উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। সরকারের উচিত সব সনদ এক জায়গা থেকে দেওয়ার ব্যবস্থা করা”।
দ্বিগুণ খরচের বোঝা
যেহেতু আমাদের দেশের ল্যাব রিপোর্টের ওপর বিদেশের ক্রেতারা ভরসা পান না, তাই রপ্তানিকারকদের অনেক সময় বাধ্য হয়ে পণ্যটি সিঙ্গাপুর বা ব্যাংককে পাঠিয়ে টেস্ট করাতে হয়। এতে একেকটি টেস্টের জন্য হাজার হাজার ডলার খরচ হয়।
অথবা, পণ্য গন্তব্যে পৌঁছানোর পর ক্রেতা নিজ খরচে টেস্ট করান এবং সেই খরচ পণ্যের দাম থেকে কেটে রাখেন। এই ‘ডাবল টেস্টিং’ বা দ্বিগুণ পরীক্ষার খড়গ আমাদের পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে ভারত বা ভিয়েতনামের সাথে আমরা আর পেরে উঠছি না। সিপিডির গবেষক বলেছেন, “আমরা এখনো মূলধারার বাজার, বিশেষত উন্নত বিশ্বের দরজা পুরোপুরি খুলতে পারিনি। আন্তর্জাতিক মান ও সার্টিফিকেশনের অভাবেই এটা হচ্ছে”।
ট্রেসিং: বিশ্বাসের আরেক নাম
একটি দৃশ্য কল্পনা করা যায়। চট্টগ্রামের একটি কারখানা থেকে এক কন্টেইনার সুগন্ধি চাল বা ফলের জুস পাঠানো হলো ইউরোপের কোনো দেশে। দেশের ল্যাবে পরীক্ষা করে বলা হলো-সব ঠিক আছে, মান শতভাগ খাঁটি। কিন্তু পণ্যটি যখন বিদেশের বন্দরে পৌঁছাল, তখন সেখানকার কাস্টমস অফিসার বললেন, “তোমাদের এই কাগজের কোনো দাম নেই। আমাদের ল্যাবে আবার টেস্ট হবে।”
ফলাফল? দিনের পর দিন পণ্য আটকে থাকল পোর্টে, ডেমারেজ গুনতে হলো আমদানিকারককে, আর শেষমেশ হয়তো সামান্য অজুহাতে পুরো চালানটিই ফেরত পাঠানো হলো। এই গল্পটি কাল্পনিক নয়, এটিই এখন বাংলাদেশি কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানিকারকদের নিত্যদিনের হাহাকার। বাংলাদেশ ফ্রুটস, ভেজিটেবলস অ্যান্ড অ্যালাইড প্রডাক্টস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ইউরোপের বায়াররা আমাদের সার্টিফিকেটে ভরসা পায় না। তারা বলে, তোমাদের দেশের ল্যাবের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নেই। ফলে আমাদের পণ্য নিয়ে তারা দ্বিতীয়বার টেস্ট করায়, যা আমাদের জন্য লজ্জার এবং খরচের।’
আধুনিক ক্রেতা জানতে চায়, তার প্লেটের খাবারটি কোথা থেকে এসেছে। পিকেএসএফ-এর সংশ্লিষ্টরা ‘ট্রেসিং’ বা শেকড় সন্ধানের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমাদের জমিতে অনেক সময় কীটনাশকের উপস্থিতি পাওয়া যায়। ট্রেসিং করা গেলে বোঝা যেত কোন কৃষকের ভুলে এটা হয়েছে এবং তা সংশোধন করা যেত”।
আমাদের দেশে কৃষি বিপণন আইন, ২০১৮-তে রপ্তানিকারকদের লাইসেন্স ও মান নিয়ন্ত্রণের কথা বলা থাকলেও, মাঠ পর্যায়ে ‘ট্রেসিবিলিটি’ বা পণ্যের উৎস শনাক্তকরণের ব্যবস্থা এখনো প্রাচীন পর্যায়ে। ফলে যখনই কোনো চালানে সমস্যা ধরা পড়ে, তখন পুরো দেশের পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা চলে আসে, কারণ নির্দিষ্ট অপরাধীকে বা ত্রুটিপূর্ণ উৎসকে আলাদা করা যায় না। অভিজ্ঞমহল বলেন, ‘মাঠ থেকে পণ্য সংগ্রহের কোনো ডিজিটাল ডাটাবেজ আমাদের নেই। ফলে যখনই বিদেশের পোর্টে কোনো কনটেইনারে সমস্যা ধরা পড়ে, আমরা বলতে পারি না এটা কোন কৃষকের পণ্য। এই অস্বচ্ছতাই আমাদের বড় দুর্বলতা।’
উত্তরণের পথ: সনদের সার্বভৌমত্ব অর্জন
আমাদের রপ্তানি আয় ১ বিলিয়ন ডলারের বৃত্তে আটকে থাকার অন্যতম কারণ এই আস্থার সংকট। এখান থেকে বের হতে হলে আমাদের ল্যাবরেটরিগুলোকে শুধু দালান-কোঠা হিসেবে দেখলে হবে না, এগুলোকে বাণিজ্যের ‘পাসপোর্ট অফিস’ হিসেবে দেখতে হবে।
সরকারকে বুঝতে হবে, একটি অ্যাক্রেডিটেড ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা মানে শুধু বিজ্ঞান চর্চা নয়, এটি সরাসরি বিলিয়ন ডলারের বাজার খোলার চাবি। ভারতের ‘এনএবিএল’ অ্যাক্রেডিটেশন যেমন বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত, আমাদের ‘বিএবি’-এর স্বীকৃতিকেও সেই পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সিনিয়র সহ সভাপতি বলেন, বিশ্ববাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডটি এখন একটি অদৃশ্য কাঁচের দেয়ালে আটকে আছে। সেই দেয়ালটি অবিশ্বাসের। আমাদের কৃষক ঘাম ঝরিয়ে ফসল ফলাচ্ছে, উদ্যোক্তারা ঝুঁকি নিয়ে বিনিয়োগ করছে, কিন্তু দিন শেষে একটি কাগজ- একটি আন্তর্জাতিক মানের সনদের অভাবে সব পরিশ্রম ম্লান হয়ে যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত আগামীর কৃষি বাণিজ্য হবে সনদের বাণিজ্য। যার ল্যাব যত শক্তিশালী, যার সনদের গ্রহণযোগ্যতা যত বেশি, সেই দেশই হবে বাজারের রাজা। ২০৪১ সালে ২৫ বিলিয়ন ডলারের স্বপ্ন দেখতে হলে আগে আমাদের এই আস্থার সংকট কাটাতে হবে। নতুবা আমাদের সম্ভাবনাময় কৃষি পণ্যগুলো বিশ্ববাজারের দোরগোড়া থেকে বারবার ফিরে আসবে, আর আমরা শুধু আফসোসই করে যাব।
কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের মধ্যে বেশি রপ্তানি হয় রুটি, বিস্কুট ও চানাচুর জাতীয় শুকনা খাবার, ভোজ্যতেল ও সমজাতীয় পণ্য, ফলের রস, বিভিন্ন ধরনের মসলা, পানীয় এবং জ্যাম-জেলির মতো বিভিন্ন সুগার কনফেকশনারি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বিস্কুট, রুটি জাতীয় শুকনা খাবার রপ্তানি করে চলতি অর্থবছরের পাঁচ মাসে দেশীয় কোম্পানিগুলো ৮ কোটি ৮৬ লাখ ডলার আয় করেছে। বাংলাদেশের কৃষি পণ্য রপ্তানির প্রধান গন্তব্য হলো-ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চল। তবে এসব দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশি ও অন্যান্য দক্ষিণ এশীয় প্রবাসীরা হচ্ছেন মূল ভোক্তা। বর্তমানে বিশে^র ১৪৫টি দেশে বাংলাদেশের প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রপ্তানি হচ্ছে।
কৃষিপণ্য রপ্তানিতে বড় বাধা হয়ে উঠেছে ‘ফিট ফর হিউম্যান কনসাম্পশন’ সার্টিফিকেট। দেশে একটি আন্তর্জাতিকমানের ল্যাব প্রতিষ্ঠা করে এ জাতীয় সার্টিফিকেট দেয়া সম্ভব হলে রপ্তানি বহু গুণ বেড়ে প্রতি বছর ৫০ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় হতে পারে বলে। কিন্তু এ ধরনের সার্টিফিকেট দেয়ার মতো কোন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে নেই। আমদানি-রপ্তানি পণ্য বৈচিত্র্যকরণে কৃষিপণ্যের রয়েছে অপার সম্ভাবনা। বিদেশে বাংলাদেশি কৃষিপণ্যের রয়েছে প্রচুর চাহিদাও। কিন্তু রপ্তানিতে প্রধান বাধা হিসেবে কাজ করছে ‘ফিট ফর হিউম্যান কনসাম্পশন’ সার্টিফিকেট। দেশে একটি আন্তর্জাতিকমানের ল্যাব প্রতিষ্ঠা করে এ জাতীয় সার্টিফিকেট দেয়া সম্ভব হলে রপ্তানি ১০ গুণ বেড়ে প্রতি বছর ১৩ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় হতে পারে।
কিন্তু এ ধরনের সার্টিফিকেট দেয়ার মতো কোনো প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে নেই। মান নিশ্চিত করে সার্টিফিকেট ইস্যু করার মতো কোন এক্রিডিটেড ল্যাবও দেশে নেই। সঠিকভাবে মান নির্ধারণ ছাড়া রপ্তানির কারণে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ভারি ধাতুর উপস্থিতি পেয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পান, রাশিয়া আলু, চীন কাঁকড়া ও কুচিয়া এবং খাদ্যে শূকরের হাঁড় ও মুরগির বিষ্ঠার উপস্থিতির কারণে সৌদি আরব মিঠা পানির মাছ আমদানি বন্ধ রেখেছে। বাংলাদেশে কৃষিপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে সনদ দেয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মাছ রপ্তানিতে মৎস্য অধিদপ্তর, গোশত ও পশুজাত পণ্য রপ্তানিতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। মধ্যপ্রাচ্যে পণ্য রপ্তানিতে হালাল সার্টিফিকেট ইস্যু করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও উৎপাদন পর্যায়ে ১৮১টি পণ্যের বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী সনদ দেয় বিএসটিআই। এসব প্রতিষ্ঠানের কারো ক্রেতা রাষ্ট্রগুলোর নির্ধারিত প্যারামিটার অনুযায়ী ‘ফিট ফর হিউম্যান কনসাম্পশন’ সার্টিফিকেট ইস্যুর সক্ষমতা নেই। এ অবস্থায় রপ্তানির বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি দেশে কৃষিপণ্যের অপচয় রোধ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন এক্রিডিটেড ল্যাব স্থাপনসহ মান নির্ধারণী বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি একক ‘হেলথ সার্টিফিকেশন অথরিটি’ প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন। এ জাতীয় সার্টিফিকেট দেয়া সম্ভব হলে কৃষিজাত ও খাদ্যপণ্য রপ্তানি বহু গুণ বেড়ে প্রতি বছর ৫০ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব।
বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ডের পণ্য আন্তর্জাতিক খ্যাতি পাওয়ায় এর বাজার বিস্তৃতির উজ্জ্বল সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং নতুন বাজার সৃষ্টির প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। সময়োপযোগী, কার্যকর, বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ একান্ত প্রয়োজন এজন্য। সরকারি দপ্তরসমূহে হয়রানি আমলতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা এবং জটিলতা অনেক সময় রপ্তানিমুখী শিল্পখাতগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ ধরনের হয়রানি, দীর্ঘসূত্রতা, প্রশাসনিক জটিলতা দূরীকরণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। কৃষিপণ্য রপ্তানিতে বিদ্যমান বাধা দূর করতে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে উদ্যোগী হতে হবে।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ সম্পোর্কোন্নয়ন কেন শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তিতে? অনন্য উচ্চতায় উঠা এ সম্পর্ক কেন ইসলামী মূল্যবোধ ও মুসলিম ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে উজ্জীবিত হবে না? (১ম পর্ব)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন ও কৌশলগত স্বনির্ভরতা: বাংলাদেশের ৫০ লক্ষ পদাতিক বাহিনীর জন্য ৩য় প্রজন্মের এটিজিএম রোডম্যাপ (পর্ব ৭)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বিশ্বে তৈরী পোশাক রফতানীতে প্রথম বাংলাদেশ কেনো তুলা আমদানীতেও প্রথম? নামে তুলা উন্নয়ন বোর্ড থাকলেও স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত তুলা চাষে কোনো উন্নয়নই নেই অপার সম্ভাবনা থাকলেও দেশে তুলা উৎপাদনে সরকারী কোনো তৎপরতা নেই অথচ ১৬৫০ থেকে ১৭৫০-এই ১০০ বছরে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোই বাংলা থেকেই ৩ লাখ গজ থেকে ৩ কোটি গজ কাপড় রপ্তানি করেছে। এই বিপুল উৎপাদনে এই বাংলাদেশই কীভাবে তুলার যোগান দিল?
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বিশ্বে তৈরী পোশাক রফতানীতে প্রথম বাংলাদেশ কেনো তুলা আমদানীতেও প্রথম? নামে তুলা উন্নয়ন বোর্ড থাকলেও স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত তুলা চাষে কোনো উন্নয়নই নেই অপার সম্ভাবনা থাকলেও দেশে তুলা উৎপাদনে সরকারী কোনো তৎপরতা নেই
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
দেশের ৪ কোটি মানুষ না খেয়ে থাকে। অথচ বছরে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার শস্য নষ্ট হয় খাদ্য অপচয় রোধ করতে ‘নিশ্চয়ই অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই’- পবিত্র কুরআন শরীফ উনার এই নির্দেশ সমাজের সর্বাত্মক প্রতিফলন ব্যতীত কোনো বিকল্প নেই।
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
অলস জমিদারের কায়দায় বসে বসে তালুক বিক্রী করে খাওয়ার মতই জ্যামিতিক হারে ঋণ বাড়িয়ে চলছে সরকার ২০২৮-২৯ অর্থবছর ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩৩ লাখ ৭৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকায়। দুর্নীতি বন্ধের পাশাপাশি উৎপাদন বাড়ানো রফতানী বৃদ্ধি ও বহুর্মুখীকরণ করার উদ্যম নেই সরকারের দেশ জাতিকে করে যাচ্ছে সুদী মহাজনদের কাছে জিম্মি ও বিক্রী।
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১৩)
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ঋণ নির্ভর বাজেট প্রণয়ন না করে রফতানী বহুর্মুখীকরণের দ্বারা সমৃদ্ধ বাজেট প্রণয়ন খুব সহজেই সম্ভব। কাঁঠাল উৎপাদনে বাংলাদেশ প্রথম হলেও রফতানীতে তলানীতে। কাঁঠাল রফতানী করেও বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় সম্ভব।
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় ৫০ লক্ষ সেনাবাহিনীর অপ্রতিরোধ্যকরণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির বিবরণ (পর্ব ৬)
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় ৫০ লক্ষ সেনাবাহিনীর অপ্রতিরোধ্যকরণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির বিবরণ (পর্ব- ৫)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
“বাংলাদেশের ওষুধ রফতানি হচ্ছে ১৪০টির বেশি দেশে”- গত পরশু (৮ই জুন) এই বিবৃতি দেয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী কী ভেবে দেখবেন মার্কিনীদের সাথে করা গোলামী চুক্তিতে তার এই উচ্ছাস পুরোটাই গভীর এবং চরম-পরম উৎকণ্ঠায় পর্যবসিত হয়েছে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের জন্যও মহা ধ্বংস প্রক্রিয়া বাংলাদেশের ৫১ কোটি নাগরিকের নিরাপত্তা নির্মূলীকরণ প্রক্রিয়া। মহা আত্মঘাতী, সর্বনাশী, দেশের সার্বভৌমত্ব বিক্রিকারী এ চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে (২য় পর্ব)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বাংলাদেশের মহাকাশ প্রতিরক্ষা কৌশল: ৫০ লক্ষাধিক বহরের সমন্বিত বাহিনীর জন্য কৃত্রিম উপগ্রহ প্রযুক্তির রূপরেখা (পর্ব-৪)
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












