ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২)
, ০২ শাবান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৪ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ০৮ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) আইন ও জিহাদ
সম্মানিত ওহী মুবারক উনার মাধ্যমে এবং অভিজ্ঞ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সাথে নিয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র মদীনা শরীফ উনার উত্তর মুখে উহুদের দিকে দীর্ঘ পরিখা খনন করেন এবং তার পিছনে ৩,০০০ সুদক্ষ সৈন্য মোতায়েন করেন। এর কারণ ছিলো এই যে, তিনদিকে পাহাড় ও খেজুর বাগিচা বেষ্টিত পবিত্র মদীনা শরীফ নগরী প্রাকৃতিকভাবে সুরক্ষিত দুর্গের মত ছিলো। কেবল উত্তর দিকেই মাত্র খোলা ছিলো। যেদিক দিয়ে শত্রুদের হামলার আশঙ্কা ছিলো। এখানে পরিখা খনন করা হয়। যার দৈর্ঘ্য ছিলো ৫০০০ হাত, প্রস্থ ৯ হাত ও গভীরতা ৭ থেকে ১০ হাত। প্রতি ১০ জনকে ৪০ হাত করে খননের দায়িত্ব দেওয়া হয়’। (সীরাহ ছহীহাহ ২/৪২০-২১)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি শহরের অভ্যন্তর ভাগের সালা‘ (سَلْع) পাহাড়কে পিছনে রেখে উনার সেনাবাহিনীকে খন্দকমুখী করে সন্নিবেশ করেন এবং নারী ও শিশুদেরকে বনু হারেছার ফারে‘ (فَارِع) দুর্গে রেখে দেন। যা ছিলো মুসলমানদের সবচেয়ে মজবুত দুর্গ’। (সীরাহ ছহীহাহ ২/৪২৫)
মুসলিম বাহিনী তীর-ধনুক নিয়ে সদাপ্রস্তুত থাকেন, যাতে করে শত্রুরা পরিখা টপকে বা ভরাট করে কোনভাবেই পবিত্র মদীনা শরীফে ঢুকতে না পারে। মুসলিম বাহিনীর এই নতুন কৌশল দেখে কুরাইশরা হতচকিত হয়ে যায়। ফলে তারা যুদ্ধ করতে না পেরে যেমন ভিতরে ভিতরে ফুঁসতে থাকে, তেমনি রসদ ফুরিয়ে যাওয়ার ভয়ে আতঙ্কিত হতে থাকে। মাঝে-মধ্যে পরিখা অতিক্রমের চেষ্টা করতে গিয়ে তাদের ১০ জন নিহত হয়।
অমনিভাবে তাদের তীরের আঘাতে মুসলমানদের পক্ষে ৬ জন শহীদ হন। উক্ত ৬ জন হলেন, আউস গোত্রের বনু আব্দিল আশহাল থেকে গোত্রের আমির হযরত সা‘দ বিন মু‘আয রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত আনাস বিন আউস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত আব্দুল্লাহ বিন সাহল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। খাযরাজ গোত্রের বনু জুশাম থেকে হযরত তুফায়েল বিন নু‘মান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত ছা‘লাবাহ বিন গানমাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। বনু নাজ্জার থেকে হযরত কা‘ব বিন যায়েদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। যিনি একটি অজ্ঞাত তীরের মাধ্যমে শহীদ হন। (ইবনু হিশাম ২/২৫২-৫৩)
উনাদের মধ্যে আহত হযরত সা‘দ বিন মু‘আয রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বনু কুরায়জা জিহাদের শেষে বিছাল শরীফ গ্রহণ করেন। (সিরাতে ইবনু হিশাম ২/২২৭)
অতঃপর মহান আল্লাহ পাক উনার সাহায্য নেমে আসে। একদিন রাতে হঠাৎ প্রচন্ড ঝঞ্ঝাবায়ু এসে কাফেরদের সবকিছু লন্ডভন্ড করে দেয়। অতঃপর তারা ময়দান ছেড়ে পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا نِعْمَةَ اللهِ عَلَيْكُمْ إِذْ جَاءَتْكُمْ جُنُودٌ فَأَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ رِيحًا وَجُنُودًا لَمْ تَرَوْهَا وَكَانَ اللهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرًا
‘হে ঈমানদারগণ! আপনাদের উপর মহান আল্লাহ পাক উনার অনুগ্রহকে স্মরণ করুন, যখন আপদের নিকট এসেছিলো সেনাদলসমূহ। অতঃপর আমরা তাদের উপরে প্রেরণ করলাম তীব্র ঝঞ্ঝাবায়ু এবং এমন সেনাবাহিনী যাদেরকে আপনারা দেখেননি। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনারা যা করেন তা দেখেন’ (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ ০৯)
এভাবে হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে পাঠিয়ে মহান আল্লাহ পাক তিনি সরাসরি সাহায্য করেছেন হিজরতকালে যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও আফদ্বালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম উনারা দু’জনে যখন ছওর পর্বতের গুহায় অবস্থান মুবারক করেছিলেন’।
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
إِلَّا تَنْصُرُوهُ فَقَدْ نَصَرَهُ اللَّهُ إِذْ أَخْرَجَهُ الَّذِينَ كَفَرُوا ثَانِيَ اثْنَيْنِ إِذْ هُمَا فِي الْغَارِ إِذْ يَقُولُ لِصَاحِبِهِ لَا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا فَأَنْزَلَ اللَّهُ سَكِينَتَهُ عَلَيْهِ وَأَيَّدَهُ بِجُنُودٍ لَمْ تَرَوْهَا وَجَعَلَ كَلِمَةَ الَّذِينَ كَفَرُوا السُّفْلَى وَكَلِمَةُ اللَّهِ هِيَ الْعُلْيَا وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ
যদি তোমরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারক, গোলামী মুবারকে আনজাম না দাও তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনিই উনাকে সাহায্য করবেন যেমন তিনি উনাকে সাহায্য করেছিলেন সেই সময়ে যখন কাফিরদের বিরোধিতার কারনে সম্মানিত ওহী মুবারক প্রাপ্ত হয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশে হিজরত মুবারক করেন, তখন দু’জনের মধ্যে একজন ছিলেন (আফদ্বালুন নাস বাদাল আম্বিয়া, হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি), যে সময় উনারা উভয়ে গুহার মধ্যে অবস্থান মুবারক করেছিলেন, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার খাদিম উনাকে (হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম উনাকে) বলেছিলেন, আপনি চিন্তা করবেন না, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সঙ্গে রয়েছেন। অতঃপর মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি স্বীয় রহমত, বরকত সাকীনা মুবারক নাযিল করলেন এবং উনাকে শক্তিশালী করলেন এমন সেনাদল দ্বারা যাদেরকে তোমরা দেখতে পাওনি এবং মহান আল্লাহ পাক তিনি কাফিরদের বাক্য নীচু করে দিলেন, আর উনার কালাম মুবারক সমুচ্চ রইলো, আর মহান আল্লাহ পাক তিনি হচ্ছেন মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রজ্ঞাময়। (পবিত্র সূরা তওবা শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ ৪০)
-আল্লামা¬ মুহম্মদ নাজমুল হুদা ফরাজী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৭)
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৬ষ্ঠ পর্ব)
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৬)
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মুহব্বত ঈমান, আর উনাদের সমালোচনা করা লা’নতগ্রস্ত হওয়ার কারণ
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৬)
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
দ্বীন ইসলাম ব্যতিত অন্য কোন তন্ত্র-মন্ত্র নিয়মনীতি শরীয়তসম্মত নয়
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৫ম পর্ব)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৫)
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৫)
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৪র্থ পর্ব)
১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৪)
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৪)
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












