মন্তব্য কলাম
অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অজ্ঞতা, অদক্ষতা এবং দায়িত্বহীনতার কারণেই এলপিজি সংকট। যা সহসাই কাটছে না। ভোগাবে রমজানেও।
এ সংকট শুধু জ্বালানী নিরাপত্তাহীনতাই নয় বরং গোটা দেশ ও জাতির চরম সংকটের কঠিন সংকেত। শুধু গৃহভিত্তিক এল.সি. গ্যাসই নয় বন্ধ হচ্ছে এলপিজি অটোগ্যাস ষ্টেশনও। এসব বিদেশী এজেন্ডা বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা উল্লেখ করে পর্যবেক্ষক মহল সবাইকে সজাগ হতে বলেছেন ইনশাআল্লাহ
, ২১ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৩ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ২৭ পৌষ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) মন্তব্য কলাম
দেশের বাজারে সাড়ে ৫ কোটি সিলিন্ডার থাকলেও বর্তমানে রিফিল হচ্ছে মাত্র ১ কোটি ২৫ লাখের মতো। সমিতির দেয়া হিসাব অনুযায়ী অন্তত ৪ কোটি ২৫ লাখ সিলিন্ডার অব্যবহৃত পড়ে আছে। এ খালি সিলিন্ডারের বড় অংশ সেসব অপারেটরের যারা আর এলপিজি আমদানি করছে না।
এলপিজি অপারেটরস অব বাংলাদেশ (লোয়াব) বলছে, দেশের বাজারে ২৮টি কোম্পানি এলপিজি ব্যবসা করে। এর মধ্যে ২৩টি কোম্পানির আমদানির অনুমোদন আছে। যদিও এখন মূলত পাঁচটি কোম্পানি এলপিজি আমদানি করছে। অন্যগুলোর আমদানি কার্যক্রম প্রায় বন্ধ। কোনো কোনো কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধের পথে। আবার অনেক কোম্পানি ব্যাংক ঋণের কিস্তি শোধেও হিমশিম খাচ্ছে। এমন পরিস্থিতি বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরিতে বড় প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে সক্রিয় কিছু কোম্পানি আমদানি বাড়াতে চেয়ে বারবার আবেদন করেও দীর্ঘদিন সরকারের অনুমতি পায়নি।
এলপিজি নিয়ে গত ২০ বছরেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। ২৭টা অপারেটরের মধ্যে মাত্র পাঁচটি গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে। বাজারে গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে, সেটি কতটুকু আছে তা পরিস্থিতিই বলে দিচ্ছে।
সাধারণভাবে কখনো কম কখনো বেশি ঘাটতি নিয়েই দেশ চলেছে। এবারের মতো সংকটময় পরিস্থিতির উদ্ভব কালেভদ্রেই হয়ে থাকে। সেই পরিস্থিতি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, জ্বালানি নিরাপত্তার দিক দিয়ে আমাদের অবস্থান কতটা নাজুক ও ভঙ্গুর।
বর্তমানে আমাদের দেশের প্রধান তিনটি বাণিজ্যিক জ্বালানি পণ্যের অন্যতম হচ্ছে এলপি গ্যাস। অন্য দুটি হলো জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস। এর মধ্যে প্রাকৃতিক গ্যাসের একাংশই কেবল দেশের নিজস্ব ক্ষেত্র থেকে পাওয়া যায়। অবশ্য তার পরিমাণও প্রায় দশককাল ধরে অব্যাহতভাবে কমে আসছে। ২০১৮ সাল থেকে প্রাকৃতিক গ্যাসও আমদানি করা হচ্ছে তরলীকৃত (এলএনজি) আকারে।
এছাড়া দেশের সবেধন নীলমণি পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারিতে বছরে ১২ থেকে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে এলপি গ্যাসের যেটুকু কাঁচামাল (প্রোপেন ও বিউটেন) পাওয়া যায়, তা দিয়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এলপিজি প্ল্যান্টে সামান্য পরিমাণে এলপি গ্যাস তৈরি হয়, যা বর্তমান চাহিদার ১ শতাংশের বেশি নয়। আর ৯৯ শতাংশ প্রোপেন-বিউটেনই আমদানি করা হয়। এগুলো আমদানি ও বোতলজাতসহ বাজারজাত করে ২৯টি বেসরকারি কোম্পানি। আর জ্বালানি তেল চাহিদার শতভাগই আমদানি করা হয়। এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে আমাদের মতো বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতিতে থাকা একটি দেশের জ্বালানি খাতের ক্রমবর্ধমান আমদানিনির্ভরতা আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতার সবচেয়ে বড় কারণ। কিন্তু দীর্ঘকাল ধরে আমাদের দেশের নিজস্ব জ্বালানি সম্পদ প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লার আহরণ বাড়ানোর কাজটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে উপেক্ষিতই রয়ে গেছে।
একটি গ্যাস কোম্পানী আমদানি সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য দুই বছর আগে মন্ত্রণালয়ে অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিল। এর মধ্যে বগুড়া প্লান্টের জন্য ৬০ হাজার টন এবং মোংলা প্লান্টের জন্য ৯০ হাজার টন চাওয়া হয়েছিল। এতদিন তা অনুমোদন দেয়া হয়নি। যদিও সৃষ্ট সংকটের কারণে এখন ঝুলে থাকা এ প্রস্তাব অনুমোদনের আশ্বাস দেয়া হয়েছে।
যদি এ অনুমোদন আরো আগে থেকে দেয়া হতো তাহলে হয়তো এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না।’
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি বিভাগ গত বুধ-বৃহস্পতিবার কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে, যা অনেক বিলম্বিত।
মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি বিভাগ এবং বিইআরসি এই যে পদক্ষেপ এবং উদ্যোগগুলো নিয়েছে, এগুলোর মধ্যেই এলপি গ্যাসের বর্তমান সংকটজনক পরিস্থিতি সৃষ্টির কারণ লুকিয়ে আছে। যেমন উদ্যোগগুলোর মধ্যে প্রথমেই আছে দ্রুত আমদানি বাড়ানোর ব্যবস্থা নেওয়া। তার মানে হলো আমদানি কম করা হয়েছিল। এর কারণ, আমদানিকারকদের চাহিদা অনুযায়ী এবং প্রয়োজনমতো এলসি খোলায় সরকারের সহযোগিতা না থাকা।
মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় উদ্যোগ ট্যাক্স-ভ্যাট কমানোর জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে চিঠি দেওয়া। জ্বালানি খাত হলো সরকারের ট্যাক্স-ভ্যাট আহরণের এক সোনার খনি।
সরকারি টাকায় যে তেল-গ্যাস কিনে আনা হয় তার ওপরই সরকার আমদানি শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর, অগ্রিম আয়কর প্রভৃতি নামে ঘাটে ঘাটে ট্যাক্স-ভ্যাট আরোপ করে উচ্চ হারে রাজস্ব আহরণ করে।
তাতে রাজস্ব বিভাগের ভালো পারফরম্যান্স দেখানো গেলেও তলায় তেমন কিছুই পড়ে না।
শুধু হিসাবের খাতা মোটা হয়। আর হয় জনগণের ভোগান্তি। কারণ, সরকারের আরোপ করা সব ট্যাক্স-ভ্যাট জোগান দিতে হয় তাদেরই।
তারপরও যদি চাহিদামতো জ্বালানির সরবরাহ পাওয়া যেত! কিন্তু সেটা হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধিজনিত সংকটের সময় অনেক দেশই ট্যাক্স-ভ্যাট-শুল্ক কমিয়ে জনগণকে যতটুকু সম্ভব সাশ্রয়ী দামে জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেয়।
যারা দক্ষতার সঙ্গে এগুলো করে তারা বিষয়গুলো আগেভাগেই ভেবে রাখে। জনগণকে সংকটের মধ্যে ফেলার পর ভাবনাচিন্তা শুরু করা আমাদের জ্বালানি খাতের অন্তর্বর্তী সরকারের চরম অব্যবস্থাপনা, দায়িত্বহীনতা তথা অদক্ষতারই প্রমাণ।
প্রধান উপদেষ্টার একজন অতি উচ্চ পদাধিকারী এসডিজিবিষয়ক বিশেষ সহকারী রয়েছে। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রায়ই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে যে গ্যাপ পড়ে আসছে, তা আমাদের জ্বালানি খাতকে খাদের কিনারে নিয়ে যাওয়ার বড় কারণ। বর্তমান সংকটও আমাদের সেই সংকেতই দিয়ে যাচ্ছে।
দেশের চলমান এলপিজি-সংকট এখন আর শুধু একটি ব্যবসায়িক বা বাণিজ্যিক সমস্যা নয়। এটি সরাসরি সারা দেশের পরিবহনব্যবস্থা, ভোক্তাস্বার্থ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বর্তমানে এলপিজি অটোগ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে দেশের প্রায় সব এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেড় লাখের বেশি এলপিজিচালিত যানবাহনের ওপর।
গাড়ির মালিক ও চালকেরা জ্বালানি না পেয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে ঘুরেও গ্যাস পাচ্ছে না।
এটি সরবরাহ করা হচ্ছে না। প্রতি মাসে এ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে অনুরোধ করে তারা। এ সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে পরিবেশবান্ধব, সাশ্রয়ী এবং বিকল্প জ্বালানি হিসেবে গড়ে ওঠা এলপিজি অটোগ্যাসশিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে বলে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন মালিকেরা চরম ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে রয়েছে। দীর্ঘদিন স্টেশন বন্ধ থাকায় কর্মচারীদের বেতন, ব্যাংকঋণের কিস্তি এবং দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয় বহন করা তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
এর সমাধান চাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট সবাই। অন্যথায় রান্নার আগুনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্ষোভের আগুনও যে জ্বলে উঠবে, অভিজ্ঞমহল তাই মনে করছেন।
কারণ সচেতন দেশবাসী তীব্র ক্ষুব্ধতার সাথে খেয়াল করছেন বিদেশীদের স্বার্থে অন্তর্বর্তী সরকার অবিশ্বাস্য দ্রুততার স্বার্থে কাজ করে। ভীষণ গোপনে কাজ করে।
দ্রুত বন্দরগুলো দিয়ে দেয়।
কিন্তু দেশ জনতার স্বার্থ বিষয়ক কাজগুলোতে থাকে বড়ই নিস্ক্রিয়।
এসব কী তাহলে ইহুদী নীল নকশা বাস্তবায়নের পূর্বাভাস?
সচেতন দ্বীনদার মুসলমান সমাজ এসব আশঙ্কাই প্রকাশ করছেন।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুসলিম যোদ্ধাদের মস্তক ছিন্ন করে বাক্স বন্দী করে "যুদ্ধের ট্রফি" হিসেবে নিয়ে যেতো প্যারিসে (৩)
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তবে কি সাবেক সরকারের অসমাপ্ত ষড়যন্ত্রের সমাপনীর পথেই হাটতে চাইছে বর্তমান সরকার?
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলিম যোদ্ধাদের মস্তক ছিন্ন করে বাক্স বন্দী করে “যুদ্ধের ট্রফি” হিসেবে নিয়ে যেতো প্যারিসে (২)
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রাণী সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব জানে না, অধিদপ্তরের ট্রেড পরিচালক জানে না- অথচ ভারত সরকারী-বেসরকারীভাবে জানে- ভারতের পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়-
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুসলিম যোদ্ধাদের মস্তক ছিন্ন করে বাক্স বন্দী করে “যুদ্ধের ট্রফি” হিসেবে নিয়ে যেতো প্যারিসে (১)
০৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
দুই শক্তির পথচলা এক। গুঞ্জন চলছে আমেরিাকা জামাতকে ক্ষমতায় এনে বাংলাদেশকে লিবিয়া, সিরিয়া, ইরাকের মত করতে চায়
০৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রতিরক্ষা স্বনির্ভরতা ও বহুমাত্রিক সার্ভে প্রযুক্তি: তুরস্ক, ইরান এবং পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের কারিগরি সহযোগিতার রোডম্যাপ (পর্ব-১১)
০৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
কৃষি শিল্পায়ন যথাযথভাবে করলে দেশবাসীকে কর মুক্ত এবং মূল্যস্ফীতি মুক্ত বাজেট তথা শায়েস্তাখাঁর আমলের মত সস্তা দ্রব্য মূল্যের বাজেট এমনিতেই উপহার দেয়া যাবে ইনশাআল্লাহ
০৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বঙ্গপোসাগরের শুধু টুনা মাছ বিক্রি করে বছরে ১৫ হাজার কোটি টাকা আয় সম্ভব।
০৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ভারতকে বুঝতে হবে তাদের সে দিন শেষ
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
প্রয়োজন শরয়ী সর্বোচ্চ শাস্তি
০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে প্রায় দশ হাজার কোটি টাকা।
০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












