মন্তব্য কলাম
"" পত্রিকা পর্যালোচনা"" সপ্তাহে ৩ দিন সংহতি সমাবেশ করতে বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান হামাসের ১ আগস্ট ২০২৫, আল জাজিরা
, ১১ ছফর শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৭ ছালিছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৬ আগস্ট, ২০২৫ খ্রি:, ২৩ শ্রাবণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) মন্তব্য কলাম
সপ্তাহে ৩ দিন সংহতি সমাবেশ করতে বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। গত জুমুয়াবার (১ আগস্ট) কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সূত্রটি জানিয়েছে, অবরুদ্ধ গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসন ও কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহের জুমুয়া, শনি ও রোববারে সংহতি সমাবেশ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে হামাস।
সংগঠনটি আরো বলেন, আমাদের সম্প্রদায় এখনো গাজায় জাতিগত নিধনের শিকার। সেখানে শত্রুবাহিনী ক্ষুধাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। এর মাধ্যমে তারা আমাদের দৃঢ়তাকে চ্যালেঞ্জ করতে চাচ্ছে।
হামাস জানিয়েছে, ইসরাইল যদি গাজায় ত্রাণ পৌঁছাতে কোনো বাধা না দেয় এবং গাজায় দুর্ভিক্ষের অবসান ঘটায়, তাহলে আমরা যেকোনো সময় আলোচনায় বসার জন্য প্রস্তুত।
এ সময় গাজার দুর্ভিক্ষ ও অনাহার অবস্থা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে গেছে বলেও জানায় সংগঠনটি।
প্রতিরোধ সংগঠনটি জানায়, ইসরাইল যদি গাজায় অনাহার অবস্থা চালিয়ে যেতে থাকে, তাহলে তাদের সাথে আলোচনার টেবিলে বসা অনর্থক। দুই মিলিয়নের বেশি ফিলিস্তিনির জীবনকে হুমকির মুখে রেখে আলোচনার টেবিলে বসা যায় না।
এ সময় তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়সহ সকল পক্ষকে ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধ এবং দুর্ভিক্ষের নিঃশর্ত অবসানে অবিলম্বের কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানায়।
কিন্তু গভীর পরিতাপের বিষয়- ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ তো দূরের কথা; গাজাবাসীর সহমর্মিতামূলক পদক্ষেপও কোন মুসলিম দেশ নিচ্ছে না।
এমনকি প্রতিদিন, প্রতি ঘন্টায় গাজাবাসীর করুণ আর্তনাদের যে খবর গণমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে তাতেও মুসলমানদের অন্তরে করুণার উদ্রেক হচ্ছে না।
অথচ মুসলমান নাচ-গান, সিনেমা, খেলা নিয়ে উন্মাদ। মুসলমানের অন্তরে যেন মোহর পড়ে গেছে। নচেৎ এত মর্মস্পর্শী খবর প্রকাশের পরও মুসলমান কি করে
নিষ্ক্রিয় থাকতে পারে?
নিশ্চুপ থাকতে পারে?
নিরব থাকতে পারে?
নিথর থাকতে পারে?
গাজায় প্রবেশের পর লুট হচ্ছে ত্রাণের ট্রাক
১ আগস্ট ২০২৫, আনাদোলু এজেন্সি
গত মাসের শেষ দিকে ইসরাইল ১০৪টি ত্রাণবাহী ট্রাক গাজার ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে। তবে সেগুলোর বেশিরভাগই লুটপাটের শিকার হয়েছে। গাজা সরকারের মিডিয়া অফিসের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তাদের দাবি,
ইসরাইলই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। তারা ইচ্ছাকৃতভাবেই এটি করছে। ইসরাইলের এ কৌশল গাজায় কাঠামোবদ্ধভাবে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা ও ক্ষুধানীতিরই অংশ। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
তারা অভিযোগ করে, ইসরাইলের মূল উদ্দেশ্য হলো- মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ধ্বংস করে দেওয়া এবং বেসামরিক জনগণের কাছে ত্রাণ না পৌঁছাতে দেওয়া। বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, গাজায় স্বাস্থ্য, খাদ্য ও সেবা খাতের ন্যূনতম চাহিদা পূরণে প্রতিদিন কমপক্ষে ৬০০টি ত্রাণ ও জ্বালানিবাহী ট্রাক প্রয়োজন।
বিশ্বজুড়ে যা দুর্ঘটনা, গাজায় তা নিয়মিত ঘটছে!
২৬ জুলাই ২০২৫, আল জাজিরা
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যেসব ঘটনা ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে পরিচিত, গাজায় সেগুলো ঘটছে প্রতিদিন, ঘন ঘন এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে। বিমান হামলায় পরিবারের সব সদস্য একসঙ্গে নিহত হওয়া, স্কুলে বোমা পড়া, হাসপাতালের রোগী ও চিকিৎসক একসাথে মারা যাওয়া, শিশুদের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া- এসব পৃথিবীর অন্য যেকোনো জায়গায় বড়সড় মানবিক বিপর্যয় বলে ধরা হয়। অথচ গাজায় এসব এখন নিত্যদিনের চিত্র।
একটি রাষ্ট্র কিংবা সমাজে যদি হঠাৎ একটি বাড়ি ধসে পড়ে এবং তাতে ১০-১৫ জন নিহত হয়, সেটি জাতীয় বা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দুর্ঘটনা হিসেবে উঠে আসে। সবার সহানুভূতি জাগে, উদ্ধারকাজ শুরু হয়, তদন্ত কমিটি গঠিত হয়।
কিন্তু গাজায় প্রতিদিন শত শত মানুষ মরছে- কেউ ধ্বংস হওয়া বাড়ির নিচে, কেউ হাসপাতাল লক্ষ্য করে চালানো হামলায়, কেউবা খাবারের লাইনে দাঁড়িয়ে গুলি খেয়ে। এসব মৃত্যু এখন যেন একেবারে সাধারণ হয়ে গেছে। মানবতা চোখ বুঁজে ফেলেছে। বিশ্বের অনেক বড় দেশ আর মানবাধিকারের মুখপাত্ররাও মুখে কুলুপ এঁটেছে।
পৃথিবীর অন্যত্র যেসব ঘটনা ‘খবর’ হয়, গাজায় সেসব ঘটে ‘নিয়মিত’। আর তাই বিশ্ব গণমাধ্যমও অনেক সময় সেগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখায় না। যেন গাজার মানুষের জীবন তুচ্ছ, তাদের মৃত্যু একেবারে অভ্যস্ত হয়ে গেছে সবাই। একদিনে ৪০-৫০ জন শিশু মারা গেলে তা হয়তো এক লাইন খবর হয়, অথচ অন্যত্র এমন হলে রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হতো।
এই অবস্থা শুধু দুঃখজনক নয়, এটা সভ্যতার ব্যর্থতা। যে বিশ্ব মানবাধিকার আর ন্যায়বিচারের কথা বলে, সে বিশ্ব গাজার মানুষদের ন্যূনতম সুরক্ষা দিতে পারছে না। তারা শুধু অস্ত্রের শব্দে ভয়ে কাঁপছে না, ক্ষুধার জ্বালায়ও ছটফট করছে। পানি, বিদ্যুৎ, ওষুধ- সব কিছু প্রায় বন্ধ। চিকিৎসকরা হাতে পঁচে যাওয়া রোগীর পা কেটে ফেলে দিচ্ছেন, কারণ ওষুধ নেই। একসময় যে রোগে মানুষ সহজেই বেঁচে যেত, এখন গাজায় তা নিশ্চিত মৃত্যু।
এই দুর্দশা যদি অন্য কোথাও হতো, তাহলে সেটিকে আমরা ‘বিপর্যয়’ বলতাম। কিন্তু গাজায় এই বিপর্যয় এখন যেন ‘চলমান বাস্তবতা’। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বারবার উদ্বেগ জানায়, কিছু ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করে বিবৃতি দেয়, তারপর আবার চুপচাপ হয়ে যায়।
গাজা আজ মানবতার চূড়ান্ত পরীক্ষা। এই পৃথিবীতে যারা নিজেদের মানুষ বলে দাবি করে, যারা সভ্যতার, সহমর্মিতার, ও ন্যায়ের কথা বলে, তাদের উচিত চোখ মেলে গাজার দিকে তাকানো। কারণ সেখানে যা ঘটছে, তা আর দুর্ঘটনা নয়- তা মার্কিন-ইসরায়েল পরিচালিত এক পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞ।
যেখানে প্রতিটি দিন শুরু হয় একটাই প্রশ্ন দিয়ে-আজ কি খাবার জুটবে?
অনলাইন ডেস্ক, প্রকাশিত: ১৫:৩৭, ২ আগস্ট ২০২৫
গাজা উপত্যকার এক তাবুতে প্রতিদিন ঘুম ভাঙে আবির ও ফাদি সোভ দম্পতির। ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই তারা ভাবেন-আজ কীভাবে খাবার জোগাড় করবেন নিজেদের ও ছোট ছয় সন্তানের জন্য?
তাদের হাতে মাত্র তিনটি উপায়: হয়তো কোনো দাতব্য রান্নাঘর খোলা থাকবে; হয়তো ভিড় ঠেলে সাহায্যের ট্রাক থেকে কিছু আটা পাওয়া যাবে; না হলে শেষ ভরসা-ভিক্ষা। তিনটিতেই ব্যর্থ হলে, সেদিন আর কিছু খাওয়া হয় না। এখন এমনটাই হচ্ছে প্রায় প্রতিদিন।
গাজা শহরের পাশের একটি শরণার্থী ক্যাম্পে বাস করে সোভ পরিবার, যারা বহুবার স্থানচ্যুত হয়েছে। তাদের মতো হাজারো পরিবার আজ ক্ষুধা, গরম আর অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়ছে।
২২ মাস ধরে চলা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মানবিক সহায়তায় বিধিনিষেধ, অবরোধ এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে গাজায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতে, বর্তমানে “সবচেয়ে খারাপ দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি” সেখানে বাস্তবে ঘটছে।
ইসরায়েল মার্চে প্রায় আড়াই মাস খাদ্য ও সাহায্য বন্ধ রেখেছিল, হামাসের কাছে জিম্মিদের মুক্তির দাবিতে। মে মাসে সহায়তা কিছুটা চালু হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুব কম।
মিষ্টি পানির অভাবে আবির প্রতিদিন সাগর থেকে পানি আনেন। তাতে সন্তানদের গোসল করান ধাতব বেসিনে দাঁড় করিয়ে। লবণজলে ৯ মাস বয়সী হালার চোখ জ্বলে, কাঁদে-বাকিরা মুখ বুজে সহ্য করে।
আগের দিনের কিছু না থাকলে আবির বের হন ভিক্ষা করতে। কখনও কেউ এক বাটি পাতলা ডাল দেন, কখনও কিছুই মেলে না। ভাগ্য ভালো হলে ডাল গুঁড়া করে পানিতে মিশিয়ে ছোট সন্তানদের খাওয়ান।
ফাদি সকাল থেকে অপেক্ষা করেন কাছের রান্নাঘরে, কিন্তু বেশিরভাগ সময় খালি হাতে ফিরতে হয়। একসময় তিনি ট্রাক থেকে খাবার সংগ্রহে যেতেন, কিন্তু সম্প্রতি সেখানে গুলি লেগে তার পায়ে আঘাত হয়। এখন আর যেতে পারেন না।
বড় তিন সন্তান- ইউসুফ, মোহাম্মদ ও মালাক-জেরিকেন নিয়ে বের হয় মিষ্টি পানি আনতে। ভারে কাঁধে, পিঠে বা মাটিতে টেনে আনে তারা সেই বোঝা।
আবির বা তার ছেলে ইউসুফ সাহায্যের ট্রাকের আশায় যান জিকিম এলাকায়। ভিড়ে পিছিয়ে পড়েন, তবে কেউ কেউ দয়া করে কিছু আটা দিয়ে দেন। এইভাবে অল্প যা মেলে, তা দিয়েই দিন চলে।
দুপুরে গরমে শিশুদের ঘুমিয়ে রাখতে চান তারা-তাতে কম শক্তি ক্ষয় হয়, কম খিদে পায়।
বিকেলে ছেলেমেয়েরা ঘুরে বেড়ায় ধ্বংসস্তূপ আর আবর্জনায়-খুঁজে ফেরে কাঠ, কাগজ বা যেকোনো কিছু যা দিয়ে আগুন জ্বালানো যায়। পুরোনো এক পাত্র খুঁজে পেয়েছিল একদিন-এটাই এখন তাদের রান্নার হাঁড়ি।
সব মিলিয়ে, যদি খাবার, পানি ও জ্বালানি তিনটিই মেলে, তবে পাতলা ডালের ঝোল রান্না হয়। না হলে না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে সবাই।
“আমি খুবই ক্লান্ত। আর পারছি না। যদি যুদ্ধ এভাবে চলতেই থাকে, নিজেকে শেষ করে দেওয়ার কথাও ভাবছি,” বলেন আবির।
এই পরিবারটির জীবন যেন গোটা গাজার প্রতিচ্ছবি। যেখানে প্রতিটি দিন শুরু হয় একটাই প্রশ্ন দিয়ে-আজ কি খাবার জুটবে?
খাবারের খোঁজে ৫ ঘন্টার পথ পাড়ি: চোখে গুলি ফিলিস্তিনি কিশোর
আল জাজিরা, ০৪ আগস্ট ২০২৫
গাজায় যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল সমর্থিত বিতর্কিত জিএইচএফ ত্রাণ শিবিরের কাছে চোখে গুলি লেগেছে ১৫ বছরের এক কিশোরের। ইসরাইলি বাহিনী তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তার বাম চোখে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। খবর আল জাজিরার।
১৫ বছর বয়সী কিশোর আবদুল রহমান আবু জাজার তার পরিবারের জন্য খাবারে সন্ধানে বের হয়েছিল। তার বাঁ চোখে গুলি করে ইসরাইলি সেনারা। ঘটনাটি ঘটেছে ফিলিস্তিনের গাজা নগরীতে।
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে জাজার জানায়, ‘গুলি লাগার পরেও ইসরাইলি সেনারা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকেন। তখন সে ভেবেছিল এই বুঝি শেষ। মৃত্যু সন্নিকটে। ’
জাজার বলেন, আমার পরিবারের জন্য খাওয়ার মতো কিছু না থাকায় রাত প্রায় দুইটার দিকে প্রথমবারের মতো ওই ত্রাণ কেন্দ্রে যাই। অনেক ভিড়ের মধ্যে গাজা নগরীর আল-মুনতাজাহ পার্কের ওই কেন্দ্রে পৌঁছাতে তার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সময় লেগেছিল।
ওই কিশোর আরো জানায়, ‘আমরা দৌড়াচ্ছিলাম, ঠিক তখনই তারা আমাদের দিকে গুলি চালাতে শুরু করে। আমি আরো তিনজনের সাথে ছিলাম; তাদের মধ্যে তিনজন আহত হয়। আমরা দৌড়াতে শুরু করার সাথে সাথেই তারা গুলি চালাতে শুরু করে।
জাজার আরো জানায়, ‘গুলি লাগার পর আমার শরীরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার মতো কিছু অনুভব করলাম। আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়লাম।
প্রতি ২০ মিনিটে এক শিশুর মৃত্যু: গাজায় নরক বাস্তবতায় কাঁদছে ইউনিসেফ
২০২৫-০৫-৩১, সকালের আলো
ইসরায়েলি হামলায় মৃত্যু যেন গাজার শিশুদের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘের শিশু অধিকার সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, গাজার ভূখ-ে এখন গড়ে প্রতি ২০ মিনিটে একটি শিশুর প্রাণ যাচ্ছে ইসরায়েলি হামলায়। শুক্রবার (৩০ মে) এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তারা জানায়, চলমান যুদ্ধে ৫০ হাজারের বেশি শিশু হতাহত হয়েছে।
শুধু বোমা নয়, খাবারের আশায় লাইনে দাঁড়িয়েও নিরাপদ নয় গাজার শিশু ও বয়স্করা। শুক্রবার একটি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে জনতার ভিড়ে গুলিবর্ষণ করে ইসরায়েলি সেনারা। এতে আহত হন অন্তত ২০ জন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গুলির সময় কেউ হাতে ছিল না অস্ত্র, ছিল শুধু শূন্য থলে আর অনাহারের ক্লান্ত চোখ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মার্কিন-সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশনের ত্রাণকেন্দ্রে যাওয়ার সময় জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়- বরং গাজার বাস্তবতা প্রতিদিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, শুধুমাত্র শুক্রবারের ইসরায়েলি অভিযানে ২৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, গাজার পরিস্থিতি এখন আর শুধু যুদ্ধ নয়, এটি একটি মানবিক বিপর্যয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো পরিস্থিতিকে ‘নজিরবিহীন নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে বর্ণনা করছে।
গাজায় ‘পরিকল্পিতভাবে অনাহারে রাখার নিষ্ঠুর কৌশল’ বন্ধে বিশ্ব বিবেককে জাগাতে হামাসের আহ্বান
২৯ জুন ২০২৫, জনকন্ঠ
ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের অবরোধে বিপর্যস্ত গাজা উপত্যকায় ভয়াবহ খাদ্যসংকটের মধ্যে এবার ‘পরিকল্পিতভাবে অনাহারে রাখার নিষ্ঠুর কৌশল’ এর বিরুদ্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। এক আবেগঘন বিবৃতিতে সংগঠনটি গাজার শিশু ও সাধারণ মানুষের প্রতি চালানো মানবতাবিরোধী নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
হামাস বলেছে, মার্চ মাসের শুরু থেকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকার গাজায় এমন এক অবরোধ আরোপ করেছে, যা পরিকল্পিতভাবে মানুষের খাবার ও ওষুধের পথ বন্ধ করে দিয়েছে। নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ আখ্যা দিয়ে হামাস বলেছে, যিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, তার নেতৃত্বেই গাজার লাখো মানুষের জীবনের সঙ্গে এমন নিষ্ঠুর খেলা চলছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গাজার শিশুদের ওপর চালানো এই ‘নৃশংস অপরাধ’ যেখানে অনাহারে মৃত্যু, নির্বিচারে বোমা হামলা এবং গণহত্যা নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে তা শুধু মানবিক নীতিমালার নয়, বরং গোটা সভ্যতার বিবেকের বিরুদ্ধে লঙ্ঘন।
হামাসের ভাষায়, ইসরায়েল এসব ভয়ংকর অপরাধ করছে জেনে-বুঝেই, কারণ তারা বিশ্বাস করে, কোনো আন্তর্জাতিক জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হবে না।
এই অবস্থায় হামাস বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, এখন নীরব থাকার সময় নয়। গাজার শিশুদের কান্না, মায়েদের শোক আর অনাহারে জর্জর মানুষের অসহায়তা বিশ্বকে আর উপেক্ষা করা চলবে না। এই ‘চলমান অনাহারের অপরাধ’ রুখতে অবিলম্বে মানবিক, কূটনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
গাজায় চলমান মানবিক সংকটের বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘসহ বহু আন্তর্জাতিক সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করলেও বাস্তবে পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন ঘটেনি। হামাসের এই বিবৃতি সেই চাপ আরও বাড়ালো, যার মাধ্যমে বিশ্বকে আরেকবার চোখ মেলাতে বাধ্য করা হলো গাজার অসহায় বাস্তবতার দিকে। (ইনশাল্লাহ চলবে)
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালিউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা: ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১০)
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (৯)
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম মিয়াজাকি, পুষ্টিগুণেও ভরপুর
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
“বাংলাদেশের ওষুধ রফতানি হচ্ছে ১৪০টির বেশি দেশে”- গত পরশু (৮ই জুন) এই বিবৃতি দেয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী কী ভেবে দেখবেন মার্কিনীদের সাথে করা গোলামী চুক্তিতে তার এই উচ্ছাস পুরোটাই গভীর এবং চরম-পরম উৎকণ্ঠায় পর্যবসিত হয়েছে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের জন্যও মহা ধ্বংস প্রক্রিয়া বাংলাদেশের ৫১ কোটি নাগরিকের নিরাপত্তা নির্মূলীকরণ প্রক্রিয়া। মহা আত্মঘাতী, সর্বনাশী, দেশের সার্বভৌমত্ব বিক্রিকারী এ চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে (১ম পর্ব)
১১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
শুধু একটি মৃত্যুর খবর, নাকি একটি সমাজের ভবিষ্যৎ?
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সস্তা জনপ্রিয়তার বিপরীতে সস্তা জনরোষের পথেই কী হাটতে চায় সরকার? মাত্র ১০/১৫ হাজার কোটি টাকার জন্য ওয়াদা খেলাফ করে বিদ্যুতের দাম আবার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির আগুনে আরো ঘি ঢালছে সরকার। জনভোগান্তির জুলুম থেকে সরে আসতে হবে সরকারকে।
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (৮)
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
১৯৯০ সালে কাঁচা চামড়া রফতানীর নিষিদ্ধ করণের প্রেক্ষাপট বর্তমানে নেই। এ মুহুর্তে কাঁচা চামড়া রফতানীর অনুমোদন বর্তমান সংকটকে অনেকটাই কমাতে পারে।
০৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কুরবানী আসে-যায় মৌসুমী কসাইরা অরক্ষা আর অবহেলাতেই থেকে যায়। তাদের অনেকে আহত হয়, পঙ্গু হয়, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়- মৌসুমী কসাইদের প্রশিক্ষণ ও পৃষ্টপোষকতার পাশাপাশি ঈদুল আদ্বহায় বিশেষ স্বাস্থসেবা চালু করা দরকার।
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
‘দ্যা গ্রেট রিসেট’ ও নমরুদী মশার প্রতিশোধের এক চরম ইহুদী-নাসারায়ী নীলনকশা!
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বিদ্যুতের বিল বার বার বাড়ানো শোষক জমিদারি কায়দায় চক্র বৃদ্ধি হারে খাজনার চাবুক মারা অথচ বিদ্যুতে শুধু চুরি নয়, সব দিক থেকে সাগর চুরি হচ্ছে। সে চুরির ক্ষত পোষাতে জনগণের উপর খাজনা বৃদ্ধি করে চোরদের উৎসাহ ও প্রনোদনা এবং নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে।
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সে যুগেও হুসাইন আহমদকে ইহুদীদের দালাল, হিন্দুদের কংগ্রেসের পা চাটা- গোলাম প্রচারণা করা হলেও থানভী গংরা তা বুঝতে পারলো কৈ? আজকে পশ্চিমবঙ্গে হাজার হাজার মসজিদ ভাঙ্গা ও লাখ লাখ মুসলমানদের বাড়ী-ঘর ধ্বংস, হিন্দুত্ববাদ গ্রহণে বাধ্য করার মত মহা জুলুমের মূলে হোসেন আহমদের সর্ব ভারতীয় জাতীয়বাদ।
২৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












