মন্তব্য কলাম
সুলতানুন নাছীর হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার বদ দোয়ার কারণে ইরানের একটি ২০ হাজার ডলারের শাহেদ-১৩৬ ড্রোন প্রতিরোধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের ১০০ মিলিয়ন ডলার খরচ হচ্ছে। যা যুক্তরাষ্ট্রকে কঠিন অর্থনৈতিক শিক্ষার মুখোমুখি করেছে।
, ০৫ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৫ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৫ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ১১ চৈত্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) মন্তব্য কলাম
ফলে ইরান যুদ্ধে কার্যত কৌশলের দিক দিয়ে ইরান এগিয়ে রয়েছে।
ইরানের রণকৌশল মূলত বহুমুখী এবং আধুনিক 'প্রতিরক্ষামূলক' (Defensive) কৌশলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
যা সরাসরি যুদ্ধের চেয়ে শত্রুকে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষয় ও চাপের মুখে রাখাকে বেশি গুরুত্ব দেয়।
ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়ে এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আঘাত করে কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে কঠিন শিক্ষা দিচ্ছে।
পেট্রো-ডলারের আধিপত্য ক্ষুন্ন হলে ভূ-রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যও ক্ষুন্ন হবে। আর ইরান ঠিক এই জায়গাটির গুরুত্ব ভেবেই তাদের যুদ্ধ কৌশল গ্রহণ করেছে।
মার্কিন হেজিমনি বা একাধিপত্যের যুগ অতি করুণভাবে শেষ হয়ে যাচ্ছে।
ইরান খুব ভালো করেই জানে যুক্তরাষ্ট্রকে তথাকথিত সামরিক যুদ্ধে হারাতে কৌশলের দরকার। তাই ইরান যুদ্ধ কৌশল হিশেবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে ধ্বসিয়ে দেবার চেষ্টা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করে বেশ আটশাট বেধেই ইরান যুদ্ধ শুরু করেছে। মার্কিন পেট্রো-ডলারের আধিপত্য ধ্বসিয়ে দিতে পারলেই ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত পরাজিত হবে। এটা ইরান প্রজ্ঞার সাথে উপলব্ধি করতে পেরেছে।
ইরান গবেষণা করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শক্তি অর্থনীতিকে ধ্বসিয়ে দেবার চেষ্টা করছে। কার্যত ইরান এবার মার্কিন ডলারের বিরুদ্ধে বা পেট্রো-ডলারকে ধ্বসিয়ে দেবার কৌশল নিয়েই যুদ্ধ করছে।
১৯৭৪ সালের ৮ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে পেট্রো-ডলার ব্যবস্থা চালু হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি আরবের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক ও সামরিক চুক্তির মাধ্যমে এই ব্যবস্থার সূচনা হয়েছিল।
পেট্রো-ডলার ব্যবস্থার মূল বিষয়সমূহ:
ঐতিহাসিক চুক্তি: ১৯৭৩ সালের তেল সংকটের পর নিক্সন এবং কিসিঞ্জার সৌদি রাজপরিবারের সাথে এই চুক্তি করেন।
প্রধান শর্ত: চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সৌদি আরব তাদের উৎপাদিত জ্বালানি তেল কেবলমাত্র মার্কিন ডলারে বিক্রি করতে সম্মত হয়। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে উন্নত সামরিক সরঞ্জাম প্রদান এবং রাজপরিবারের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়।
ওপেক (ঙচঊঈ): পরবর্তীতে সৌদি আরবের প্রভাবে ওপেকভুক্ত অন্যান্য আরব রাষ্ট্র এবং তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোও ডলারে তেল বিক্রি শুরু করে, যা পেট্রো-ডলার ব্যবস্থাকে বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠিত করে।
ডলারের আধিপত্য: সৌদি আরব এবং পরবর্তীতে অন্যান্য ওপেক (OPEC) সদস্য দেশগুলোও ডলারে তেল বিক্রি শুরু করায় বিশ্ববাজারে ডলারের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। যা মার্কিন ডলারকে বিশ্বের প্রধান 'রিজার্ভ কারেন্সি' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
বর্তমান অবস্থা: দীর্ঘ ৫০ বছর পর ২০২৪ সালের জুন মাসে এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে এবং সৌদি আরব বর্তমানে চুক্তিটি নবায়ন না করে অন্যান্য মুদ্রায় তেল বিক্রির পথ উন্মুক্ত করেছে।
পেট্রো-ডলার ব্যবস্থার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। ১৯৭৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে এই চুক্তির মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থব্যবস্থায় এক নতুন যুগের সূচনা হয়। পেট্রো-ডলারের প্রধান প্রভাবগুলো হলো:
তেল বিশ্বের সবচেয়ে বেশি কেনাবেচা হওয়া পণ্য হওয়ায় এটি ডলারে কেনা বাধ্যতামূলক করার ফলে সারা বিশ্বে ডলারের একচ্ছত্র চাহিদা তৈরি হয়। এর ফলে মার্কিন ডলার বিশ্বের প্রধান রিজার্ভ কারেন্সি বা সংরক্ষিত মুদ্রা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
কম খরচে মার্কিন ঋণের যোগান (Petrodollar Recycling):
তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো তেল বিক্রি করে যে বিপুল পরিমাণ ডলার আয় করে, তা তারা পুনরায় মার্কিন ট্রেজারি বন্ড এবং বিভিন্ন আর্থিক খাতে বিনিয়োগ করে। এই প্রক্রিয়াকে 'পেট্রোডলার রিসাইক্লিং' বলা হয়। যা যুক্তরাষ্ট্রকে কম সুদে বড় ধরনের বাজেট ঘাটতি মেটাতে সাহায্য করে।
তেল বাণিজ্যের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচুর পরিমাণে ডলারের সরবরাহ থাকে, যা বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজতর করে।
ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে অন্যান্য দেশের মুদ্রার স্থিতিশীলতাও এই ব্যবস্থার ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
ভূ-রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ:
জ্বালানি বাণিজ্য ও ডলারের আধিপত্যের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক তৈরি হয়। বিশ্ব অর্থনীতিতে ডলারের একক প্রভাব থাকায় যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা (Sanctions) দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার পায়। পেট্রো-ডলারের এই সুযোগ নিয়েই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা (Sanctions) দেবার সুযোগ নেয়।
বর্তমান প্রেক্ষাপট ও পরিবর্তনের ইঙ্গিত:
## ২০২৪ সালে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের সেই ৫০ বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় এখন সৌদি আরব চাইলে ইউয়ান বা ইউরোর মতো অন্যান্য মুদ্রাতেও তেল বিক্রি করতে পারে।
## চীন, রাশিয়া এবং ব্রিকস (BRICS) ভুক্ত দেশগুলো ধীরে ধীরে ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর চেষ্টা করছে (De-dollari“ation), যা দীর্ঘমেয়াদে ডলারের একক আধিপত্যের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে গেছে।
## মাল্টি-পোলার তেল বাজার: সৌদি আরব ও অন্যান্য তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এখন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে নিজস্ব মুদ্রা ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে। এটি বিশ্ববাজারে ডলারের কৃত্রিম চাহিদা কমিয়ে দিচ্ছে।
## ডলারের অবস্থান: যদিও ডলার রাতারাতি গুরুত্ব হারাবে না। তবে পেট্রো-ডলার ব্যবস্থার এই শিথিলতা ডলারের বৈশ্বিক রিজার্ভ কারেন্সি হিসেবে একক আধিপত্যকে দুর্বল করে তুলছে।
## ব্রিকস (BRICS) মুদ্রার প্রভাব;
ব্রিকস জোট (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং নতুন যুক্ত হওয়া দেশসমূহ) একটি বিকল্প আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।
## বিকল্প পেমেন্ট সিস্টেম: ব্রিকস দেশগুলো 'ইজওঈঝ চধু' নামক একটি ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম তৈরির কাজ করছে। যা ২০২৫-২০২৬ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর লক্ষ্য রয়েছে। এটি সুইফট (SWIFT) সিস্টেমের ওপর নির্ভরতা কমাবে।
## নতুন মুদ্রার সম্ভাবনা: বর্তমানে একটি সাধারণ ব্রিকস মুদ্রা বা 'টঘওঞ' চালুর আলোচনা চলছে। যা সোনা (৪০%) এবং সদস্য দেশগুলোর মুদ্রার (৬০%) ঝুড়ি দ্বারা সমর্থিত হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের দিকে এ বিষয়ে বড় কোনো ঘোষণা আসতে পারে।
## ডি-ডলারাইজেশন (উব- dollari“ation): ব্রিকস দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃবাণিজ্যের প্রায় ৯০% এখন স্থানীয় মুদ্রায় সম্পন্ন হচ্ছে। এটি মার্কিন ডলারের ওপর বৈশ্বিক নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনছে।
## মার্কিন প্রতিক্রিয়া: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ট্রাম্প ইতোমধ্যে ব্রিকস দেশগুলোকে সতর্ক করেছে যে, ডলারের বিকল্প মুদ্রা চালুর চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর ১০০% শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।
পেট্রো-ডলারের আধিপত্য ক্ষুন্ন হলে ভূ-রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যও ক্ষুন্ন হবে। আর ইরান ঠিক এই জায়গাটির গুরুত্ব ভেবেই তাদের যুদ্ধ কৌশল গ্রহণ করেছে।
ইরানের রণকৌশল মূলত একটি বহুমুখী এবং আধুনিক 'প্রতিরক্ষামূলক' (Defensive) কৌশলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। যা সরাসরি যুদ্ধের চেয়ে শত্রুকে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষয় ও চাপের মুখে রাখাকে বেশি গুরুত্ব দেয়।
২০২৪ এবং ২০২৫ সালের সাম্প্রতিক সংঘাত ও কৌশলগত পরিবর্তনের আলোকে ইরানের প্রধান রণকৌশলগুলো এরকম:
## মোজাইক ডিফেন্স (Mosaic Defense): এটি ইরানের একটি বিকেন্দ্রীকৃত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে সামরিক কমান্ডকে বিভিন্ন অঞ্চলে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। যাতে প্রধান কমান্ড সেন্টার ধ্বংস হলেও স্থানীয় ইউনিটগুলো স্বাধীনভাবে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারে।
## অপ্রতিসম যুদ্ধ (Asymmetric Warfare): শক্তিশালী শত্রুর বিরুদ্ধে ইরান সরাসরি বড় সম্মুখ যুদ্ধের বদলে গেরিলা পদ্ধতি অনুসরণ করে। এর মধ্যে রয়েছে:
## স্পিডবোট ও নেভাল গেরিলা: পারস্য উপসাগরে বিশাল রণতরীর বদলে শত শত ছোট ও দ্রুতগামী স্পিডবোট ব্যবহার করে 'হিট অ্যান্ড রান' আক্রমণ চালানো।
## ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র: কম খরচের 'শাহেদ-১৩৬' ড্রোনের মাধ্যমে শত্রুর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যস্ত রাখা এবং বড় মাত্রায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা (যেমন: অপারেশন ট্রু প্রমিজ ওওও) চালানো।
## প্রক্সি নেটওয়ার্ক বা রেজিস্ট্যান্স অ্যাক্সিস (Axis of Resistance): লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুথি এবং ইরাক-সিরিয়ার বিভিন্ন মিলিশিয়া বাহিনীকে ব্যবহার করে ইরান নিজের ভূখ-ের বাইরে থেকেই শত্রুর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।
## হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ: বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০-৩০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের কৌশল হিসেবে ইরান এই আন্তর্জাতিক পানিপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। যা ইতোমধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করেছে।
## ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধ (War of Attrition): ইরান মনে করে তারা দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে শত্রু দেশের তুলনায় বেশি ক্ষয়ক্ষতি সহ্য করার সক্ষমতা রাখে। তাদের লক্ষ্য হলো যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করে শত্রুকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে ক্লান্ত করে তোলা।
## সাইবার যুদ্ধ ও প্রোপাগান্ডা: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে ভুয়া যুদ্ধের ভিডিও বা তথ্য ছড়িয়ে শত্রুপক্ষের মনোবল ভেঙে দেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় সাইবার হামলা চালানো ইরানের বর্তমান কৌশলের অংশ।
## ইরানের অস্ত্র ভান্ডার ও পরিসর: যুদ্ধের আগে ইরানের কাছে ৩,০০০-এর বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল বলে ধারণা করা হয়। এদের পাল্লা মূলত ৩০০ থেকে ২,৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত। যা দিয়ে ইরান অনায়াসেই ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানতে সক্ষম।
### প্রধান ক্ষেপণাস্ত্রসমূহ:
সেজিল (Sejjil): ২,৫০০ কিমি পাল্লার কঠিন জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র।
খোররামশাহর (Khorramshahr): ২,০০০ কিমি পাল্লার এবং ১,৫০০ কেজি ওজন বহনে সক্ষম।
ফাত্তাহ (Fattah-1 & 2): ইরানের দাবি অনুযায়ী এগুলো হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা শব্দের চেয়ে ১৩ গুণ দ্রুত চলতে পারে।
## ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ: ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির একটি গোপন রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের কাছে প্রায় ৪৪১ কেজি ৬০% সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ছিল। এই পরিমাণ ইউরেনিয়ামকে ৯০% এ উন্নীত করতে পারলে তা দিয়ে প্রায় ১০টি পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব।
## প্রধান কেন্দ্রসমূহ: নাতাঞ্জ (Nataû), ফোরডো (Fordo) এবং ইসফাহান (Esfahan) ইরানের প্রধান পারমাণবিক কেন্দ্র।
## ইরানের ভূ-গর্ভস্থ মিসাইল সিটি:
ইরান তৈরি করেছে এক বিস্তৃত ভূগর্ভস্থ ‘মিসাইল সিটি’। এছাড়া ইরানের মরুভূমির বালুর নিচে লুকিয়ে রেখেছে মিসাইল সাইলো! এই মিসাইলগুলো মাটির গভীরে এমন নিখুঁতভাবে লুকিয়ে রাখা যে, আধুনিক কোনো স্যাটেলাইট বা রাডার দিয়েও এগুলো শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব।
ইরানের বিশাল মরুভূমির সমতল ভূমির নিচে এই সাইলোগুলো এমনভাবে বসানো যে কোনো দৃশ্যমান লঞ্চার বা ট্রাক বাইরে থাকে না। ফলে শত্রুপক্ষ জানতেই পারে না আক্রমণ কোথা থেকে আসবে।
যখন প্রয়োজন হয়, তখন সরাসরি মাটি ভেদ করে এই শক্তিশালী মিসাইলগুলো ধেয়ে আসে। ইরানের এই প্রযুক্তি মূলত ‘ক্যামোফ্লেজ লঞ্চিং’, যা পুরো যুদ্ধক্ষেত্রের হিসাবই পাল্টে দিতে পারে।
## সাম্প্রতিক হামলা ও ক্ষয়ক্ষতি: ২০২৫ সালের জুন এবং ২০২৬ সালের মার্চ মাসে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সক্ষমতা প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে বলে দাবি করা হলেও ইরানের ভেতরে আসল খবর কেউ জানে না।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে আনুষ্ঠানিক টোল আদায় শুরু করেছে ইরান। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ইতোমধ্যে একটি জ্বালানিবাহী ট্যাঙ্কার থেকে ২০ লাখ ডলার আদায় করেছে।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় অংশ পরিবাহিত হয়।
সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই জ্বালানি করিডোর বন্ধ করে দিয়ে বিশ্ববাজারে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে ইরান। এটি বন্ধ করে যুদ্ধের নাটাইয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তেহরান। এবার এই পানিপথ ব্যবহারে টোল নিচ্ছে আইআরজিসি।
হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন ভেটিং বা যাচাইকরণ প্রক্রিয়া চালুর ঘোষণা দিয়েছে আইআরজিসি। এর আওতায় জাহাজগুলোকে আগাম নিবন্ধন করতে হবে এবং নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে।
তবে চীন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ভারতসহ বেশ কয়েকটি বন্ধুপ্রতীম দেশ বিনাবাধায় যাতায়াত সুবিধা পাবে জানিয়েছে ইরান।
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে রাশিয়া তেল বিক্রি শুরু করে চীনের মুদ্রা ইউয়ানের মাধ্যমে। এবার ইরানও চীনের মুদ্রায় তেল বিক্রি শুরু করেছে। পেট্রো-ডলারের আধিপত্য ক্ষুন্ন করতে ইরানের ডলারের পরিবর্তে ইউয়ানে তেল বিক্রি করছে। যা মার্কিন ডলারের আধিপত্য ক্ষুন্ন করছে। কারণ বিশ্ববাজারে এখন সবচেয়ে বড় তেলের ক্রেতা এখন চীন।
চীন বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১১ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ক্রয় করে। পশ্চিমা বিশ্ব থেকে তেলের প্রধান বাজার এখন চীন, ভারত ও পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে শিফট হয়েছে।
ফলে মার্কিন ডলারের পরিবর্তে তেলের বাজার যদি স্থানীয় মুদ্রায় বা দ্বিপাক্ষিক মুদ্রায় নির্ধারিত হয়, তাহলে পেট্রো-ডলারের আধিপত্যতে রাতারাতি ধ্বস নামবে।
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন বিভিন্ন দেশের ওপর বিশেষ করে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা (Esfahan) দিয়ে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করেছিল। এবার ইরান যুত্তরাষ্ট্রের সেই কৌশলকে ধ্বসিয়ে দিতেই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভিতকে নাড়িয়ে দেবার যে কৌশল নিয়েছে, তা ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠিন সমস্যার মুখে ফেলবে।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়ে এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আঘাত করে কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে কঠিন শিক্ষা দিচ্ছে।
ইরানের একটি ২০ হাজার ডলারের শাহেদ-১৩৬ ড্রোন প্রতিরোধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের ১০০ মিলিয়ন ডলার খরচ হচ্ছে। যা যুক্তরাষ্ট্রকে কঠিন অর্থনৈতিক শিক্ষার মুখোমুখি করেছে। ফলে ইরান যুদ্ধে কার্যত কৌশলের দিক দিয়ে ইরান এগিয়ে রয়েছে।
চীনের সংবাদ মাধ্যম সিজিটিএন বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে উপস্থিত হতে ওয়াশিংটনের ইউরোপীয় শরিকদের পক্ষ থেকে মার্কিন সরকারের আহ্বানকে প্রত্যাখ্যান করায় বিষয়টি পশ্চিমা নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভিত্তিগুলো নড়বড়ে হয়ে পড়ার লক্ষণ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের ফলে বিশ্বের ওপর ওয়াশিংটনের কর্তৃত্বের অবসান ঘটবে। এ প্রসঙ্গে সিজিটিএন বলেছে, ইরানের মোকাবেলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অক্ষমতা এবং হরমুজ প্রণালীতে উপস্থিত হতে মার্কিন মিত্রদের অসম্মতি কেবল ন্যাটো জোটের মধ্যে বিভাজনকেই যে গভীরতর করেছে তা নয় পাশ্চাত্যের নিরাপত্তার ভিত্তিগুলোকেও নড়বড়ে করেছে।
ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর সামুদ্রিক পরিবহনে অচলাবস্থা দেখা দেয়ার বিষয়টি তুলে ধরে সিজিটিএন লিখেছে, হরমুজ প্রণালি মূলত বিশ্ব-অর্থনীতির গলা বন্ধ করে দিয়েছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় এই প্রণালি খুলতে সক্ষম নয়।
ব্রিটিশ বিশ্লেষক ক্লার্কও বলেছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে বিজয়ের ব্যাপারে ট্রাম্পের দাবি বাস্তব নয় এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া সহজ কাজ নয় এবং ওয়াশিংটন তা করতে সক্ষমও হবে না।
এদিকে বেলজিয়ামের অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, মার্কিন হেজিমনি বা একাধিপত্যের যুগ শেষ হওয়ার খুব কাছাকাছি পর্যায়ে পৌঁছেছে।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সন্ত্রাসী আম্রিকা যুদ্ধের নামে বাঁচতে চায়। ভূয়া অস্ত্র বেঁচে টাকা লুট করতে চায় ভূয়া আম্রিকানরা মনে করে আম্রিকা যুদ্ধে সেরা অথচ মেক্সিকো, স্পেন, জার্মানসহ কয়েকটি কাফের রাষ্ট্র ছাড়া কানাডা ভিয়েতনামসহ অনেক কাফের রাষ্ট্রের কাছেও তারা শোচনীয়ভাবে হেরেছে
২৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ইহুদী-খ্রিষ্টান-হিন্দুরা কোন মুসলিম দেশ ধ্বংস ও দখল করার আগে সে দেশে তাদের অপসংস্কৃতি চাপিয়ে দেয়। চলচ্চিত্র নামক বিধ্বর্মীদের জাহান্নামী সংস্কৃতির ফাঁদে মুসলিম উম্মাহ।
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ : জ্বালানিসংকট সামলাতে প্রয়োজন দক্ষ ব্যবস্থাপনা আমদানিনির্ভর জ্বালানিনীতির আত্মঘাতী সিদ্ধান্তে স্বাধীনতার পর থেকেই হাঁটছে বাংলাদেশ গভীর জ্বালানি সংকটের দিকে এগোচ্ছে দেশ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান ও উৎপাদনের বিকল্প নেই
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ : জ্বালানিসংকট সামলাতে প্রয়োজন দক্ষ ব্যবস্থাপনা আমদানিনির্ভর জ্বালানিনীতির আত্মঘাতী সিদ্ধান্তে স্বাধীনতার পর থেকেই হাঁটছে বাংলাদেশ গভীর জ্বালানি সংকটের দিকে এগোচ্ছে দেশ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান ও উৎপাদনের বিকল্প নেই
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
“বিশ্বের সব মুসলমান একটি দেহের ন্যায়”- এ হাদীছ শরীফের শিক্ষা মুসলমানেরা নেয়নি। কিন্তু কাফিররা এ হাদীছ শরীফের ফায়দা নিয়ে এত শক্তিশালী।
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
আপনারা যুক্তরাষ্ট্রের দম্ভকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেবেন: ইরানের জনগণকে উদ্দেশ্য করে ইয়েমেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সবেমাত্র আগ্রাসী ইসরায়েলকে শাস্তি দেয়া শুরু করেছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র নয়, ইরানই ঠিক করবে যুদ্ধ কখন শেষ হবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করেছে: খামেনি ২ সপ্তাহের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে পরাজিত করেছে ইরান
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বহুমুখী সমস্যায় পতিত দেশের আগর-আতর শিল্প পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে আতর শিল্পে নেই আধুনিক প্রযুক্তির সন্নিবেশ সঙ্কট ও সমস্যা সমাধান করে আগর-আতর শিল্প থেকে ইনশাআল্লাহ রফতানি হতে পারে ৩৫ হাজার কোটি টাকা।
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
অন্তর্বর্তী সরকারের আঠারো মাসে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট বলছে, ২০২৬ সালের প্রথম দেড় মাসে, অর্থাৎ ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৪৫ দিনে সরকার ৩৬টি অধ্যাদেশ জারি করে।
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুশরিক ভারতের প্রতি লা’নত ওদের জনসংখ্যা দিন দিন নিম্নমুখী পক্ষান্তরে ৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলমানের দেশ বাংলাদেশে খোদায়ী রহমত। (সুবহানাল্লাহ) বাংলাদেশে জনসংখ্যার এখন ৬৫ ভাগই কর্মক্ষম এবং জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার উর্ধ্বগামী বাংলাদেশ ভোগ করছে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের নিয়ামত। সুবহানাল্লাহ!
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আফ্রিকার দৈত্য মুসলিম প্রধান দেশ- ‘নাইজেরিয়ায়’ আছে- ‘অফুরন্ত তেলের উৎস’ আছে- সবচেয়ে দামী খনিজ ‘লিথিয়াম’, ‘উচ্চ মানের লৌহ আকরিক’ সহ দুর্লভ সব খনিজ। বিশ্ব লুটেরা, হায়েনা, আমেরিকার- লোলুপ দৃষ্টি এখন ‘নাইজেরিয়ার’ উপর খ্রিস্টান নিধন চলছে এই মিথ্যা অজুহাতে- নাইজেরিয়া আক্রমনের ঘোষণা দিয়েছে, বিশ্ব ডাকাত সর্দার- ট্রাম্প।
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সুলতানুন নাছীর হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার বদ দোয়ার কারণে আমেরিকা এখন চরমভাবে ক্ষতবিক্ষত, বিপর্যস্ত, ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং মৃত আমেরিকা শুধু দাফন করা বাকি কিন্তু ভোগবাদে মক্ত চরম চরিত্রহীণ, পশ্বাধম আমেরিকাবাসী টালমাটাল হওয়ার কারণেই এখনো তা উপলব্ধি করতে পারছে না
০৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সুলতানুন নাছীর হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার বদ দোয়ার কারণে আমেরিকা এখন চরমভাবে ক্ষতবিক্ষত, বিপর্যস্ত, ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং মৃত আমেরিকা শুধু দাফন করা বাকি কিন্তু ভোগবাদে মক্ত চরম চরিত্রহীণ, পশ্বাধম আমেরিকাবাসী তালমাতাল হওয়ার কারণেই এখনো তা উপলব্ধি করতে পারছে না
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












