স্থাপত্য-নিদর্শন
বয়নশিল্প নিদর্শনে মুসলমানগণ (৬)
, ০৩ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৭ খমীছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৬ অক্টোবর, ২০২৫ খ্রি:, ১০ কার্তিক, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) স্থাপত্য নিদর্শন
সাফাবী যুগের কম্বল ও গালিচা:
মধ্যস্থিত ডিজাইনসহ চারটি সমক্ষেত্রের কম্বল বা গালিচা বৃহদাকার বা ক্ষুদ্রাকার হোক প্রধানত কোনো ঘরের মেঝেতে বিছিয়ে রাখার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিলো। এটির প্রান্ত-সীমা অনেকটা মজবুত ও প্রশস্ত এবং ক্ষেত্রের সাথে সমতা রেখে ডিজাইন ও রংয়ের সামঞ্জস্য বিধান করা হয়েছিল। ক্ষেত্রের সাথে সঙ্গতি রেখে কেন্দ্রে ডিম্বাকৃতি মেডেল বা পদক সংস্থাপিত হয়েছিলো এবং কোনো কোনো সময় সেটির ওপরে ও নিচে ক্ষুদ্রাকায় বিন্দু যুক্ত করা হয়েছে। আবার সুসম রংয়ের প্রয়োগের ফলে পা-ুলিপি চিত্রিতকরণের সাথে তার যথেষ্ট সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। যখন এসব দিকসদৃশ কম্বল বা গালিচা দ্বীনি কাজের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয় তখন তার প্রধান ক্ষেত্র পুষ্পস্ক্রোল দ্বারা পরিবৃত করা হয় এবং তা ভাজ কম্বল বা গালিচা হতে ব্যতিক্রম বলে অনুমিত হয়। আবার এই জাতীয় লৌকিক কম্বল ও গালিচায় প্রত্যক্ষ করা যায় এমন ক্ষেত্র অলঙ্করণ যাতে প্রদর্শিত হয় কোনোরূপ পারস্পারিক বন্ধন ছাড়া প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং এসবের মধ্যে সমতাবিধানের প্রচেষ্টা অনুপস্থিত। ষষ্ঠদশ শতাব্দীর শেষপাদে সম্ভবত হিরাতে একটি নতুন টাইপের কম্বল ও গালিচার উদ্ভব ঘটে। এই প্রকারের তন্তুবস্ত্রে কোনো প্রতিকৃতি থাকে না, বরং তার রক্তিম আভার অবয়বটি প্যামেট-পুষ্প ও মেঘমালা দ্বারা পরিবৃত থাকে এবং ভাজ (াধংব) বা পাত্র-কম্বল থেকে তাতে কিছুটা ব্যতিক্রম লক্ষ করা যায়। আর এগুলোর প্রান্ত সবসময় সবুজ অথবা নীল রংয়ে চিত্রিত। এসব হিরাত গালিচা ও কম্বল পর্তুগালে বিশেষভাবে সমাদৃত এবং অধিক সংখ্যায় সেখানে এগুলো সংরক্ষিত আছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, দু’একটি ব্যতিক্রম ছাড়া পারস্যের বিভিন্ন উৎপাদন কারখানায় গালিচা ও কম্বল রেশম ও কু উপকরণের প্রয়োগে তৈরি হয়ে নান্দনিকতায় মোহনীয় হয়ে ওঠে। উন্নত প্রযুক্তির এই ঐতিহ্য নিয়ে কম্বল ও গালিচা বয়নশিল্প ভারত উপমহাদেশে প্রবেশ করে সমসাময়িক কালপর্বে। (সমাপ্ত)
-মুহম্মদ নাইম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (৪র্থ পর্ব)
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (৩য় পর্ব)
০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান”
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (১ম পর্ব)
২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইস্তাম্বুলে হযরত আবু আইয়ূব আল আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মসজিদ (৩)
১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইস্তাম্বুলে হযরত আবু আইয়ূব আল আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মসজিদ (২)
১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইস্তাম্বুলে হযরত আবু আইয়ূব আল আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মসজিদ (১)
০৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খেজুরের পাতায় লিখা পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ
২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মোঘল আমলের ইদ্রাকপুর দুর্গ
২১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের উজ্জ্বল সাক্ষী সাতৈর শাহী মসজিদ (১)
০৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
অস্থায়ী হাসপাতাল নির্মাণে মুসলমানদের অবদান
২৩ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মালয়েশিয়ার ঐতিহাসিক মসজিদ “মসজিদ নেগারা”
১৬ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












