মন্তব্য কলাম
৫ কারণে দেশ ছাড়ছেন শিক্ষার্থীরা পাশাপাশি বিদেশে পড়াশোনার নামে অর্থও দেদারছে পাচার হচ্ছে। বিদেশ থেকে উচ্চতর ডিগ্রী এনে দেশের জন্য যারা কাজ করতে চান তাদের জন্য নেই কোনো সুযোগ ও পৃষ্ঠপোষকতা। মেধার মূল্যায়নের অভাব, সুযোগ সুবিধার অসমতা এবং সরকারের অবহেলাপূর্ণ আচরণ বরদাশতের বাইরে। এর আশু পরিবর্তন প্রয়োজন।
, ০৩ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৭ খমীছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৬ অক্টোবর, ২০২৫ খ্রি:, ১০ কার্তিক, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) মন্তব্য কলাম
ইউনেসকোর সর্বশেষ ‘গ্লোবাল ফ্লো অব টারশিয়ারি লেভেল স্টুডেন্টস’ শীর্ষক প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে ৫৫টি দেশে পড়াশোনার জন্য গেছে ৫২ হাজার ৭৯৯ শিক্ষার্থী। ২০২২ সালে এই সংখ্যা ছিল ৪৯ হাজার ১৫১ আর ২০২১ সালে ৪৪ হাজার ৩৩৮ জন। এ সংখ্যা ২০১৩ সালে ছিল ২৪ হাজার ১১২ জন।
তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০১৩ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ ১০ বছরের ব্যবধানে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়া শিক্ষার্থী বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এ সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। অ্যাডমিশন অ্যান্ড ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট কনসালট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইউনেসকোর যে পরিসংখ্যান, তার চেয়ে বেশিসংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গেছেন।
রাজধানীতে আইইএলটিএস ও জিআরই কোচিং করায় এমন প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভিড় বাড়া দেখেই বোঝা যায়, শিক্ষার্থীদের বিদেশে যাওয়ার আগ্রহ কতটা। বর্তমানে অনলাইনেও বাড়ছে ইংরেজি শেখা ও আইইএলটিএস, টোয়েফল, জিআরই এবং বিভিন্ন দেশের ভাষা শেখার আগ্রহ।
শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘দেশের অনিরাপদ পরিবেশ খুবই ভাবাচ্ছে। তাই বিদেশে পড়তে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ’
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশ করা বিগত ৯ অর্থবছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দেশে উচ্চশিক্ষা বাবদ ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠানো টাকার পরিমাণ প্রতিবছর বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশিদের বিদেশে শিক্ষার ব্যয় ছিল ৬৬ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ। বাংলাদেশি মুদ্রায় ব্যয় করা এই অর্থের পরিমাণ ৮ হাজার ৭৬ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে)। একইভাবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৫৩ কোটি ৩২ লাখ, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫২ কোটি ৮ লাখ, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৪১ কোটি ৪৫ লাখ, ২০২০-২১ অর্থবছরে ২৪ কোটি ৩১ লাখ, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২১ কোটি ৮০ লাখ, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৯ কোটি ৬১ লাখ, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১৭ কোটি ৭ লাখ এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১৫ কোটি ৪ লাখ ডলার বৈধ চ্যানেলে নিয়ে গেছে শিক্ষার্থীরা।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা সাধারণত ভর্তি ফি, এক সেমিস্টারের টিউশন ফি এবং বাসস্থান ও অন্যান্য ফি ইত্যাদি দিয়ে বিদেশে পড়তে চলে যান। এ টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে দুটি পথ-একটি ব্যাংকিং চ্যানেল, অন্যটি অবৈধ পথ হুন্ডি।
একাধিক স্টুডেন্ট কাউন্সেলিং ফার্মের কর্ণধার এবং একাধিক ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈধ পথে বা ব্যাংকের মাধ্যমে যত টাকা যায়, তার চার-পাঁচ গুণ টাকা অবৈধ পথে যায়। এ ছাড়া উচ্চশিক্ষার অর্থ পাঠানোর নামে অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে। গত ১০ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয় সাবেক সরকারের একজন তার সন্তানের টিউশন ফি হিসেবে এক সেমিস্টারেই ৪০০-৫০০ কোটি টাকা পাঠিয়েছে।
দেশে মানসম্মত শিক্ষার ঘাটতি আছে। রয়েছে কর্মসংস্থানের অভাব, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা। এতে তরুণদের বড় অংশের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে উন্নত ভবিষ্যতের আশায় বিদেশমুখী হচ্ছেন তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থীরা। জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থার (ইউনেসকো) তথ্য বলছে, উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক দশকে দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিগত ৯ অর্থবছরে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে বৈধ চ্যানেলে দেশ থেকে বেরিয়ে গেছে প্রায় ৩১১ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩০ হাজার ২৭৭ কোটি টাকা (হিসাবটি গত ৯টি অর্থবছরের ডলারের দর অনুযায়ী)।
শিক্ষার্থীদের দেশ ছাড়ার প্রবণতা বাড়ার কারণ জানতে বিদেশে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থী, বিদেশে পড়তে যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবক, শিক্ষকসহ সবার সাথে কথা বলে জানা গেছে। তারা মোটাদাগে পাঁচটি কারণের কথাই বলেছেন। কারণগুলো হলো মানসম্মত উচ্চশিক্ষার অভাব, কর্মসংস্থানের ঘাটতি ও বেকারত্ব বৃদ্ধি, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, উন্নত ভবিষ্যতের হাতছানি এবং নিরাপদ ও আধুনিক জীবনযাত্রার আকাক্সক্ষা। এর সঙ্গে একমত শিক্ষাবিদেরাও। তারা বলছেন, দেশে উচ্চশিক্ষার মান ও গবেষণার সুযোগ এবং কর্মসংস্থান না বাড়লে এই প্রবণতা আরও বাড়বে।
উচ্চশিক্ষা লাভ করতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা সেখানেই গবেষণা এবং ভবিষ্যৎ আবাস গড়ে তুলছে। প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর উচ্চশিক্ষা লাভের স্বপ্ন থাকে। পিইসি, জেএসসি, এসএসসি শেষ করে উচ্চমাধ্যমিক পড়তে যাওয়ার সময়ই তার চোখে থাকে আরো বড় কোনো স্বপ্ন। ভবিষ্যতের সুন্দর কোনো স্বপ্ন তাদের চোখের সামনে দোল খায়। সেই সঙ্গে কোন পথে গেলে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে তার পরিকল্পনা করে। উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে ভালো কোনো চাকরি করার চেষ্টা তার ভেতর লালিত হয়। সেই উচ্চশিক্ষা নেওয়ার কাজটি যদি দেশের অভ্যন্তরেই অধিকাংশ শিক্ষার্থী করতে পারতো তাহলে তা দেশের জন্য যেমন ভালো হতো একই রকমভাবে সেই সংশ্লিষ্ট ছাত্র-ছাত্রীর জন্যও ভালো হতো।
দেশে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার জন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বহুসংখ্যক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছে। সরকার সেখানে বিপুলসংখ্যক বিনিয়োগ করছে। কিন্তু বিদেশে পড়ালেখা এবং গবেষণা কার্যক্রম শেষে অনেকেই আর ফিরছেন না। ফলে দেশ তাদের মেধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
দেশে বর্তমানে প্রায় ৩০ শতাংশ কর্মক্ষম তরুণ সমাজ রয়েছে। উন্নয়নকে টেকসই করতে যাদের মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে, তারা এ তরুণ সমাজ। তারুণ্য শক্তিকে কাজে লাগানোর এক উৎকৃষ্ট সময় পার করছে দেশ। অনেক দেশ যোগ্য লোকের অভাবে অর্থনীতির ভিত ধরে রাখতে পারছে না।
প্রতিটি উন্নত দেশই কোনো এক প্রজন্মের মেধা, ত্যাগ, কঠোর পরিশ্রম ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশকে উন্নত কাতারে নিয়েছে। তরুণদের মেধা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে না পারলে দেশের উন্নয়ন টেকসই হবে না, প্রযুক্তিতে পরনির্ভরশীলতা ঘুচবে না, ভালো নেতৃত্ব আসবে না।
এতক্ষণ যা বলা হলো, আমরা সবাই তা জানি ও বিশ্বাসও করি বটে। তাহলে আমরা দিন দিন দেখতে পাচ্ছি, মেধাবী তরুণেরা দলে দলে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ শেষে আর দেশে ফিরছে না। এমনকি অনেকে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া সম্পদও একসময় বিক্রি করে তাদের নতুন ঠিকানায় নিয়ে যাচ্ছে। এই মেধাবী প্রকৌশলী, চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী বানাতে জনগণের ঘাম ঝরানো করের কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা লগ্নির জবাবদিহি থাকা দরকার। তাদের ধরে রাখার বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (এমআইটি) শিক্ষকতা করার সুবাদে যারা এখানে পড়েছেন কিংবা যারা হার্ভার্ডে পড়ছেন এবং যারা পড়ে গিয়েছেন, তাদের কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, তাদের সবার দেশে সম্মানজনক চাকরি থাকা সত্ত্বেও দেশে থাকতে চাচ্ছেন না। আবার অনেকে ভালো চাকরি, সুযোগ-সুবিধা, নিরাপত্তা ও সঠিক মূল্যায়নের অভাবে দেশে যেতে অপারগতা প্রকাশ করছেন। এ কথা অনস্বীকার্য, ১০ বছর আগে দেশ থেকে যে পরিমাণ মেধাবী বিদেশে স্থায়ী হয়েছেন, তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি মেধাবী আজ দেশ ছাড়ছেন, কিন্তু ফিরে আসার সংখ্যা খুবই কম। এ ব্যাপারে তথ্য-উপাত্তের মাধ্যমে সঠিক সংখ্যাটি বের করে তার কারণগুলো নিরূপণ করা উচিত বলে অভিজ্ঞমহল মনে করেন।
একটি হতে পারে, দিনে দিনে দেশে সুযোগ-সুবিধা কমে যাচ্ছে অথবা মেধাবী তরুণদের মনমানসিকতার আমূল পরিবর্তন হচ্ছে অবাধ সুযোগের কারণে। এখনই বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান কিংবা রাজনীতিতে মেধাবী লোকদের সংকট দেখা দিয়েছে, তাহলে ভবিষ্যতে আমরা কেমন বাংলাদেশ দেখতে চাচ্ছি? একটি স্মার্ট, নিরাপদ, জ্ঞানভিত্তিক, সমতা ও সাম্যপূর্ণ দেশ কি আমরা মেধাবী তরুণদের কাছে দিয়ে যেতে চাই না?
আগে দেখা গেছে, অনেকেই অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ ও হার্ভার্ড ইত্যাদিতে পড়ে, এমনকি সেখান থেকে শিক্ষকতা ছেড়েও দেশে গিয়েছেন। অনেকে হয়েছেন বিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা, ব্যাংকের গভর্নর, মন্ত্রী, উপদেষ্টা। এখন আমরা কি বলতে পারবো কয়েকজন চৌকস তরুণ মেধাবীর নাম, যারা এমআইটি, অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ কিংবা হার্ভার্ডে পড়ে দেশে ফিরে শিক্ষা, গবেষণা কিংবা উদ্যোক্তা হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং দেশে স্থায়ী হতে বদ্ধপরিকর? যা দেখা যাচ্ছে তাতে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করলে হতাশ হতে হয়।
তরুণ মেধাবীরা, যারা দেশে থাকতে চাচ্ছেন না, তাদের সঙ্গে কথা বলে যে কারণগুলো জানা গেলো, তার মধ্যে অন্যতম হলো- বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কাজ চালিয়ে যাওয়ার মতো পিএইচডি ও পোস্ট ডক্টরাল পর্যায়ে ভালো ফেলোশিপসহ মানসম্মত শিক্ষার্থী না পাওয়া এবং গবেষণার অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না থাকার কারণে তারা গবেষণায় পিছিয়ে পড়েন।
এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, জিডিপির আকারে গবেষণা ও উন্নয়নে ব্যয় বাংলাদেশে শূন্য, ভারতে প্রায় ১%, চীনে ২.৫%, যুক্তরাষ্ট্রে ৩.৫%।
দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বার্ষিক মোট বাজেটের ১%-এর নিচে গবেষণায় ব্যয় হয়।
প্রথমত, যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের সুযোগ, যথাযথ মূল্যায়ন, যানজট, বায়ুদূষণ ও সামাজিক নিরাপত্তার প্রভূত অভাবের কারণে মেধাবীরা দেশে থাকতে চান না।
দ্বিতীয়ত, সাধারণত মেধাবীদের মধ্যে অনেকের স্বামী-স্ত্রী উভয়েই চাকরি করেন। তাদের সন্তানদের জন্য দেশে স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ ডে-কেয়ার সেন্টার নেই। আবার থাকলেও পর্যাপ্ত সময় পর্যন্ত তাদের সন্তানদের ডে-কেয়ারে রাখার ব্যবস্থা নেই। তারা দাদা-দাদি, নানা-নানি কিংবা কাজের লোকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠুক, তারা তা চান না।
এসব সমস্যার সমাধান আমরা প্রতিবেশী দেশের দিকে তাকালেই দেখতে পাই।
এক. বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ট্যালেন্ট ফেলোশিপের অনুরূপে দেশে চালু করা। এর মাধ্যমে প্রতিভাবানদের উচ্চ বেতন প্রদান, পিএইচডি ও পোস্ট ডক্টরাল পর্যায়ে গবেষণা করার জন্য উন্নতমানের ফেলোশিপ দেওয়া। শর্ত থাকবে, বছরে নির্দিষ্টসংখ্যক পেটেন্ট, উন্নতমানের প্রবন্ধ প্রকাশ করতে হবে এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যৌথভাবে গবেষণা করতে হবে। পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের জন্য ভারত ও চীনের মতো বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে দেশে এনে গবেষণামূলক কাজের অবাধ সুযোগ তৈরি করে দেওয়া।
সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি কোম্পানি, এনজিও কিংবা ব্যক্তিপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রায়োগিক গবেষণা করার জন্য পর্যাপ্ত অনুদান প্রদানে এগিয়ে আসা। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে হার্ভার্ড ও এমআইটিতে বর্তমানে অনুদানের পরিমাণ হচ্ছে যথাক্রমে ৪০ ও ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
দুই. সর্বোপরি মেধাবীরা একটি নির্ঝঞ্ঝাট জীবন চান। যেখানে থাকবে না বাড়ি-গাড়ি করতে ঝামেলা, দখলদারি আর প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বিশেষ প্রটোকল ও সামাজিক মর্যাদার বিশেষ রকমসকম।
তিন. শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপত্তামূলক দক্ষ পেশাদারি জনবল দিয়ে ডে-কেয়ার সেন্টার সকাল আটটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত চালু রাখার ব্যবস্থা।
তাহলেই মেধা অপচয় থেকে মেধা ধরে রাখা কিছুটা সম্ভব হবে। তা না হলে দেশ একদিন মেধাশূন্য হয়ে উদ্ভাবনী, জ্ঞানভিত্তিক ও টেকসই উন্নত দেশ নির্মাণে পিছিয়ে থাকবে।
প্রসঙ্গত আমরা মনে করি, এসব বিষয় সব মহলেই জোরদার আলোচনা দরকার। সভা-সমাবেশ করা দরকার। মিডিয়ার এগিয়ে আসা দরকার। রাজপথে এসব দাবী উচ্চারিত হওয়া প্রয়োজন। খোদ মন্ত্রী পরিষদে উচ্চারিত-আলোচিত হওয়া প্রয়োজন এবং তাদেরও সক্রিয় ও স্বতঃর্ফূর্তভাবে নজর দেয়া প্রয়োজন। সরকারী ও বেসরকারী মহল এ বিষয়ে যুগপৎভাবে কাজ করুক- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
মূলত, এসব অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ আসে পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ অনন্তকালব্যাপী পালন উনার ইলম ও জজবা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত তথা মুবারক ফয়েয-তাওয়াজ্জুহ।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বাংলাদেশকে সুদী ইউনুস কতটা ঘৃণা করে এবং বাংলাদেশের চূড়ান্ত ক্ষতি ও সার্বভৌমত্ব বিক্রী কত বেশী পছন্দ করে; তার সাক্ষাত প্রমাণ আমেরিকার সাথে তার সরকারের বাণিজ্য চুক্তি
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বিশ্লেষকদের অভিমত: এলএনজি আমদানিতে বিপর্যস্ত হবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। দেশে উৎপাদিত গ্যাসের চেয়ে ২৪ গুণ বেশি দামে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। এলএনজির ভর্তুকি পোষাতে বার বার গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হচ্ছে। জ্বালানি খাতে আর কত শোষিত হবে দেশের জনগণ?
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র যাকাত সঠিকভাবে আদায় না করায় দেশবাসী আক্রান্ত হচ্ছে অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, খরা, বন্যাসহ নানা দুর্যোগে। সঠিকভাবে পবিত্র যাকাত আদায় এবং সঠিক জায়গায় পৌঁছানোই এসব দুর্যোগ থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায়।
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বছরে অর্থনৈতিক অপচয় ৩০ হাজার কোটি টাকা, রোগাক্রান্ত হচ্ছে যুবসমাজ, ধানী জমিতে চাষ হচ্ছে তামাক। অন্য পদক্ষেপের পাশাপাশি ইসলামী মূল্যবোধের আলোকেই সরকারকে তামাক নিয়ন্ত্রণ সক্রিয় ও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে ইনশাআল্লাহ।
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি এবং উনার অনবদ্য তাজদীদ ‘আত-তাক্বউইমুশ শামসী’ সম্পর্কে জানা ও পালন করা এবং শুকরিয়া আদায় করা মুসলমানদের জন্য ফরয। মুসলমান আর কতকাল গাফিল ও জাহিল থাকবে?
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বাংলাদেশকে সুদী ইউনুস কতটা ঘৃণা করে এবং বাংলাদেশের চূড়ান্ত ক্ষতি ও সার্বভৌমত্ব বিক্রী কত বেশী পছন্দ করে; তার সাক্ষাত প্রমাণ আমেরিকার সাথে তার সরকারের বাণিজ্য চুক্তি এই তথাকথিত বাণিজ্যচুক্তির মাধ্যমে কার্যত বাংলাদেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য, এমনকি পররাষ্ট্রনীতির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিরঙ্কুশ আধিপত্য প্রতিষ্ঠার আয়োজন করা হয়েছে।
২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কথিত স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা রোযার উপর গবেষনা করে রোযার মাহাত্ম স্বীকার করে তথাকথিত নোবেল পুরষ্কার পায়! কিন্তু মুসলমান দ্বীন ইসলাম উনার আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় লজ্জাকরভাবে ব্যার্থ হয়। কথিত বিজ্ঞান ও কথিত স্বাস্থ্যবিজ্ঞানী এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে রোযার উপকারিতা অপরিসীম।
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
কথিত স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা রোযার উপর গবেষনা করে রোযার মাহাত্ম স্বীকার করে তথাকথিত নোবেল পুরষ্কার পায়! কিন্তু মুসলমান দ্বীন ইসলাম উনার আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় লজ্জাকরভাবে ব্যার্থ হয়। কথিত বিজ্ঞান ও কথিত স্বাস্থ্যবিজ্ঞানী এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে রোযার উপকারিতা অপরিসীম। (পর্ব-১)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
দেশে কয়েক বছরে ধনী-গরীব বৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করেছে পুঁজিবাদী অর্থ ব্যবস্থায় জাতীয় সম্পদ কুক্ষিগত হচ্ছে গুটিকয়েক ব্যক্তির হাতে ধনী গরীব বৈষম্য দূরীকরণে যাকাত ব্যবস্থাই একমাত্র সমাধান মার্কিন অধ্যাপকের গবেষণা- “বছরে এক লাখ কোটি টাকা যাকাত আদায় সম্ভব” এ বক্তব্য সঠিক নয় বরং দৈনিক আল ইহসান শরীফের গবেষণা অনুযায়ী বছরে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা যাকাত আদায় সম্ভব ইনশাআল্লাহ
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইফতারীসহ বিভিন্ন খাদ্য ও পানীয়কে লোভনীয় করতে মেশানো হয় বিভিন্ন আকর্ষণীয় রং। সাধারণ মানুষ রংবিহীন বিশুদ্ধ খাবারের পরিবর্তে রংযুক্ত ভেজাল ও ক্ষতিকর খাদ্য ও পানীয় ক্রয় করতেই বেশি উৎসাহী। এতে করে তারা আর্থিকভাবে এবং স্বাস্থ্যগতভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে কোনো কৃত্রিমতা নেই।
২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইফতারীসহ বিভিন্ন খাদ্য ও পানীয়কে লোভনীয় করতে মেশানো হয় বিভিন্ন আকর্ষণীয় রং। সাধারণ মানুষ রংবিহীন বিশুদ্ধ খাবারের পরিবর্তে রংযুক্ত ভেজাল ও ক্ষতিকর খাদ্য ও পানীয় ক্রয় করতেই বেশি উৎসাহী। এতে করে তারা আর্থিকভাবে এবং স্বাস্থ্যগতভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে কোনো কৃত্রিমতা নেই। এই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার আমল থাকলে সাধারণ মুসলমান এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতো না।
২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
এক সন্তান নীতি থেকে সরে এলো চীন। বিধর্মী দেশগুলোতে অধিক সন্তান গ্রহণে দেয়া হচ্ছে পুরস্কার। বিপরীতে ইহুদীবাদীদের ভ্রান্ত ম্যালথাসবাদের প্রসার হচ্ছে মুসলিম দেশগুলোতে; বিশেষ করে বাংলাদেশে। বাংলাদেশ সরকারকে এই আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র থেকে বের হওয়ার পাশাপাশি জনগনকেও সচেতন হতে হবে।
১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












