মন্তব্য কলাম
৫ কারণে দেশ ছাড়ছেন শিক্ষার্থীরা পাশাপাশি বিদেশে পড়াশোনার নামে অর্থও দেদারছে পাচার হচ্ছে। বিদেশ থেকে উচ্চতর ডিগ্রী এনে দেশের জন্য যারা কাজ করতে চান তাদের জন্য নেই কোনো সুযোগ ও পৃষ্ঠপোষকতা। মেধার মূল্যায়নের অভাব, সুযোগ সুবিধার অসমতা এবং সরকারের অবহেলাপূর্ণ আচরণ বরদাশতের বাইরে। এর আশু পরিবর্তন প্রয়োজন।
, ০৩ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৭ খমীছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৬ অক্টোবর, ২০২৫ খ্রি:, ১০ কার্তিক, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) মন্তব্য কলাম
ইউনেসকোর সর্বশেষ ‘গ্লোবাল ফ্লো অব টারশিয়ারি লেভেল স্টুডেন্টস’ শীর্ষক প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে ৫৫টি দেশে পড়াশোনার জন্য গেছে ৫২ হাজার ৭৯৯ শিক্ষার্থী। ২০২২ সালে এই সংখ্যা ছিল ৪৯ হাজার ১৫১ আর ২০২১ সালে ৪৪ হাজার ৩৩৮ জন। এ সংখ্যা ২০১৩ সালে ছিল ২৪ হাজার ১১২ জন।
তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০১৩ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ ১০ বছরের ব্যবধানে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়া শিক্ষার্থী বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এ সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। অ্যাডমিশন অ্যান্ড ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট কনসালট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইউনেসকোর যে পরিসংখ্যান, তার চেয়ে বেশিসংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গেছেন।
রাজধানীতে আইইএলটিএস ও জিআরই কোচিং করায় এমন প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভিড় বাড়া দেখেই বোঝা যায়, শিক্ষার্থীদের বিদেশে যাওয়ার আগ্রহ কতটা। বর্তমানে অনলাইনেও বাড়ছে ইংরেজি শেখা ও আইইএলটিএস, টোয়েফল, জিআরই এবং বিভিন্ন দেশের ভাষা শেখার আগ্রহ।
শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘দেশের অনিরাপদ পরিবেশ খুবই ভাবাচ্ছে। তাই বিদেশে পড়তে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ’
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশ করা বিগত ৯ অর্থবছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দেশে উচ্চশিক্ষা বাবদ ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠানো টাকার পরিমাণ প্রতিবছর বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশিদের বিদেশে শিক্ষার ব্যয় ছিল ৬৬ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ। বাংলাদেশি মুদ্রায় ব্যয় করা এই অর্থের পরিমাণ ৮ হাজার ৭৬ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে)। একইভাবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৫৩ কোটি ৩২ লাখ, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫২ কোটি ৮ লাখ, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৪১ কোটি ৪৫ লাখ, ২০২০-২১ অর্থবছরে ২৪ কোটি ৩১ লাখ, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২১ কোটি ৮০ লাখ, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৯ কোটি ৬১ লাখ, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১৭ কোটি ৭ লাখ এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১৫ কোটি ৪ লাখ ডলার বৈধ চ্যানেলে নিয়ে গেছে শিক্ষার্থীরা।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা সাধারণত ভর্তি ফি, এক সেমিস্টারের টিউশন ফি এবং বাসস্থান ও অন্যান্য ফি ইত্যাদি দিয়ে বিদেশে পড়তে চলে যান। এ টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে দুটি পথ-একটি ব্যাংকিং চ্যানেল, অন্যটি অবৈধ পথ হুন্ডি।
একাধিক স্টুডেন্ট কাউন্সেলিং ফার্মের কর্ণধার এবং একাধিক ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈধ পথে বা ব্যাংকের মাধ্যমে যত টাকা যায়, তার চার-পাঁচ গুণ টাকা অবৈধ পথে যায়। এ ছাড়া উচ্চশিক্ষার অর্থ পাঠানোর নামে অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে। গত ১০ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয় সাবেক সরকারের একজন তার সন্তানের টিউশন ফি হিসেবে এক সেমিস্টারেই ৪০০-৫০০ কোটি টাকা পাঠিয়েছে।
দেশে মানসম্মত শিক্ষার ঘাটতি আছে। রয়েছে কর্মসংস্থানের অভাব, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা। এতে তরুণদের বড় অংশের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে উন্নত ভবিষ্যতের আশায় বিদেশমুখী হচ্ছেন তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থীরা। জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থার (ইউনেসকো) তথ্য বলছে, উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক দশকে দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিগত ৯ অর্থবছরে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে বৈধ চ্যানেলে দেশ থেকে বেরিয়ে গেছে প্রায় ৩১১ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩০ হাজার ২৭৭ কোটি টাকা (হিসাবটি গত ৯টি অর্থবছরের ডলারের দর অনুযায়ী)।
শিক্ষার্থীদের দেশ ছাড়ার প্রবণতা বাড়ার কারণ জানতে বিদেশে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থী, বিদেশে পড়তে যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবক, শিক্ষকসহ সবার সাথে কথা বলে জানা গেছে। তারা মোটাদাগে পাঁচটি কারণের কথাই বলেছেন। কারণগুলো হলো মানসম্মত উচ্চশিক্ষার অভাব, কর্মসংস্থানের ঘাটতি ও বেকারত্ব বৃদ্ধি, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, উন্নত ভবিষ্যতের হাতছানি এবং নিরাপদ ও আধুনিক জীবনযাত্রার আকাক্সক্ষা। এর সঙ্গে একমত শিক্ষাবিদেরাও। তারা বলছেন, দেশে উচ্চশিক্ষার মান ও গবেষণার সুযোগ এবং কর্মসংস্থান না বাড়লে এই প্রবণতা আরও বাড়বে।
উচ্চশিক্ষা লাভ করতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা সেখানেই গবেষণা এবং ভবিষ্যৎ আবাস গড়ে তুলছে। প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর উচ্চশিক্ষা লাভের স্বপ্ন থাকে। পিইসি, জেএসসি, এসএসসি শেষ করে উচ্চমাধ্যমিক পড়তে যাওয়ার সময়ই তার চোখে থাকে আরো বড় কোনো স্বপ্ন। ভবিষ্যতের সুন্দর কোনো স্বপ্ন তাদের চোখের সামনে দোল খায়। সেই সঙ্গে কোন পথে গেলে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে তার পরিকল্পনা করে। উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে ভালো কোনো চাকরি করার চেষ্টা তার ভেতর লালিত হয়। সেই উচ্চশিক্ষা নেওয়ার কাজটি যদি দেশের অভ্যন্তরেই অধিকাংশ শিক্ষার্থী করতে পারতো তাহলে তা দেশের জন্য যেমন ভালো হতো একই রকমভাবে সেই সংশ্লিষ্ট ছাত্র-ছাত্রীর জন্যও ভালো হতো।
দেশে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার জন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বহুসংখ্যক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছে। সরকার সেখানে বিপুলসংখ্যক বিনিয়োগ করছে। কিন্তু বিদেশে পড়ালেখা এবং গবেষণা কার্যক্রম শেষে অনেকেই আর ফিরছেন না। ফলে দেশ তাদের মেধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
দেশে বর্তমানে প্রায় ৩০ শতাংশ কর্মক্ষম তরুণ সমাজ রয়েছে। উন্নয়নকে টেকসই করতে যাদের মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে, তারা এ তরুণ সমাজ। তারুণ্য শক্তিকে কাজে লাগানোর এক উৎকৃষ্ট সময় পার করছে দেশ। অনেক দেশ যোগ্য লোকের অভাবে অর্থনীতির ভিত ধরে রাখতে পারছে না।
প্রতিটি উন্নত দেশই কোনো এক প্রজন্মের মেধা, ত্যাগ, কঠোর পরিশ্রম ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশকে উন্নত কাতারে নিয়েছে। তরুণদের মেধা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে না পারলে দেশের উন্নয়ন টেকসই হবে না, প্রযুক্তিতে পরনির্ভরশীলতা ঘুচবে না, ভালো নেতৃত্ব আসবে না।
এতক্ষণ যা বলা হলো, আমরা সবাই তা জানি ও বিশ্বাসও করি বটে। তাহলে আমরা দিন দিন দেখতে পাচ্ছি, মেধাবী তরুণেরা দলে দলে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ শেষে আর দেশে ফিরছে না। এমনকি অনেকে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া সম্পদও একসময় বিক্রি করে তাদের নতুন ঠিকানায় নিয়ে যাচ্ছে। এই মেধাবী প্রকৌশলী, চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী বানাতে জনগণের ঘাম ঝরানো করের কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা লগ্নির জবাবদিহি থাকা দরকার। তাদের ধরে রাখার বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (এমআইটি) শিক্ষকতা করার সুবাদে যারা এখানে পড়েছেন কিংবা যারা হার্ভার্ডে পড়ছেন এবং যারা পড়ে গিয়েছেন, তাদের কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, তাদের সবার দেশে সম্মানজনক চাকরি থাকা সত্ত্বেও দেশে থাকতে চাচ্ছেন না। আবার অনেকে ভালো চাকরি, সুযোগ-সুবিধা, নিরাপত্তা ও সঠিক মূল্যায়নের অভাবে দেশে যেতে অপারগতা প্রকাশ করছেন। এ কথা অনস্বীকার্য, ১০ বছর আগে দেশ থেকে যে পরিমাণ মেধাবী বিদেশে স্থায়ী হয়েছেন, তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি মেধাবী আজ দেশ ছাড়ছেন, কিন্তু ফিরে আসার সংখ্যা খুবই কম। এ ব্যাপারে তথ্য-উপাত্তের মাধ্যমে সঠিক সংখ্যাটি বের করে তার কারণগুলো নিরূপণ করা উচিত বলে অভিজ্ঞমহল মনে করেন।
একটি হতে পারে, দিনে দিনে দেশে সুযোগ-সুবিধা কমে যাচ্ছে অথবা মেধাবী তরুণদের মনমানসিকতার আমূল পরিবর্তন হচ্ছে অবাধ সুযোগের কারণে। এখনই বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান কিংবা রাজনীতিতে মেধাবী লোকদের সংকট দেখা দিয়েছে, তাহলে ভবিষ্যতে আমরা কেমন বাংলাদেশ দেখতে চাচ্ছি? একটি স্মার্ট, নিরাপদ, জ্ঞানভিত্তিক, সমতা ও সাম্যপূর্ণ দেশ কি আমরা মেধাবী তরুণদের কাছে দিয়ে যেতে চাই না?
আগে দেখা গেছে, অনেকেই অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ ও হার্ভার্ড ইত্যাদিতে পড়ে, এমনকি সেখান থেকে শিক্ষকতা ছেড়েও দেশে গিয়েছেন। অনেকে হয়েছেন বিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা, ব্যাংকের গভর্নর, মন্ত্রী, উপদেষ্টা। এখন আমরা কি বলতে পারবো কয়েকজন চৌকস তরুণ মেধাবীর নাম, যারা এমআইটি, অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ কিংবা হার্ভার্ডে পড়ে দেশে ফিরে শিক্ষা, গবেষণা কিংবা উদ্যোক্তা হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং দেশে স্থায়ী হতে বদ্ধপরিকর? যা দেখা যাচ্ছে তাতে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করলে হতাশ হতে হয়।
তরুণ মেধাবীরা, যারা দেশে থাকতে চাচ্ছেন না, তাদের সঙ্গে কথা বলে যে কারণগুলো জানা গেলো, তার মধ্যে অন্যতম হলো- বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কাজ চালিয়ে যাওয়ার মতো পিএইচডি ও পোস্ট ডক্টরাল পর্যায়ে ভালো ফেলোশিপসহ মানসম্মত শিক্ষার্থী না পাওয়া এবং গবেষণার অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না থাকার কারণে তারা গবেষণায় পিছিয়ে পড়েন।
এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, জিডিপির আকারে গবেষণা ও উন্নয়নে ব্যয় বাংলাদেশে শূন্য, ভারতে প্রায় ১%, চীনে ২.৫%, যুক্তরাষ্ট্রে ৩.৫%।
দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বার্ষিক মোট বাজেটের ১%-এর নিচে গবেষণায় ব্যয় হয়।
প্রথমত, যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের সুযোগ, যথাযথ মূল্যায়ন, যানজট, বায়ুদূষণ ও সামাজিক নিরাপত্তার প্রভূত অভাবের কারণে মেধাবীরা দেশে থাকতে চান না।
দ্বিতীয়ত, সাধারণত মেধাবীদের মধ্যে অনেকের স্বামী-স্ত্রী উভয়েই চাকরি করেন। তাদের সন্তানদের জন্য দেশে স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ ডে-কেয়ার সেন্টার নেই। আবার থাকলেও পর্যাপ্ত সময় পর্যন্ত তাদের সন্তানদের ডে-কেয়ারে রাখার ব্যবস্থা নেই। তারা দাদা-দাদি, নানা-নানি কিংবা কাজের লোকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠুক, তারা তা চান না।
এসব সমস্যার সমাধান আমরা প্রতিবেশী দেশের দিকে তাকালেই দেখতে পাই।
এক. বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ট্যালেন্ট ফেলোশিপের অনুরূপে দেশে চালু করা। এর মাধ্যমে প্রতিভাবানদের উচ্চ বেতন প্রদান, পিএইচডি ও পোস্ট ডক্টরাল পর্যায়ে গবেষণা করার জন্য উন্নতমানের ফেলোশিপ দেওয়া। শর্ত থাকবে, বছরে নির্দিষ্টসংখ্যক পেটেন্ট, উন্নতমানের প্রবন্ধ প্রকাশ করতে হবে এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যৌথভাবে গবেষণা করতে হবে। পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের জন্য ভারত ও চীনের মতো বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে দেশে এনে গবেষণামূলক কাজের অবাধ সুযোগ তৈরি করে দেওয়া।
সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি কোম্পানি, এনজিও কিংবা ব্যক্তিপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রায়োগিক গবেষণা করার জন্য পর্যাপ্ত অনুদান প্রদানে এগিয়ে আসা। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে হার্ভার্ড ও এমআইটিতে বর্তমানে অনুদানের পরিমাণ হচ্ছে যথাক্রমে ৪০ ও ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
দুই. সর্বোপরি মেধাবীরা একটি নির্ঝঞ্ঝাট জীবন চান। যেখানে থাকবে না বাড়ি-গাড়ি করতে ঝামেলা, দখলদারি আর প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বিশেষ প্রটোকল ও সামাজিক মর্যাদার বিশেষ রকমসকম।
তিন. শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপত্তামূলক দক্ষ পেশাদারি জনবল দিয়ে ডে-কেয়ার সেন্টার সকাল আটটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত চালু রাখার ব্যবস্থা।
তাহলেই মেধা অপচয় থেকে মেধা ধরে রাখা কিছুটা সম্ভব হবে। তা না হলে দেশ একদিন মেধাশূন্য হয়ে উদ্ভাবনী, জ্ঞানভিত্তিক ও টেকসই উন্নত দেশ নির্মাণে পিছিয়ে থাকবে।
প্রসঙ্গত আমরা মনে করি, এসব বিষয় সব মহলেই জোরদার আলোচনা দরকার। সভা-সমাবেশ করা দরকার। মিডিয়ার এগিয়ে আসা দরকার। রাজপথে এসব দাবী উচ্চারিত হওয়া প্রয়োজন। খোদ মন্ত্রী পরিষদে উচ্চারিত-আলোচিত হওয়া প্রয়োজন এবং তাদেরও সক্রিয় ও স্বতঃর্ফূর্তভাবে নজর দেয়া প্রয়োজন। সরকারী ও বেসরকারী মহল এ বিষয়ে যুগপৎভাবে কাজ করুক- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
মূলত, এসব অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ আসে পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ অনন্তকালব্যাপী পালন উনার ইলম ও জজবা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত তথা মুবারক ফয়েয-তাওয়াজ্জুহ।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
শুধু একটি মৃত্যুর খবর, নাকি একটি সমাজের ভবিষ্যৎ?
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সস্তা জনপ্রিয়তার বিপরীতে সস্তা জনরোষের পথেই কী হাটতে চায় সরকার? মাত্র ১০/১৫ হাজার কোটি টাকার জন্য ওয়াদা খেলাফ করে বিদ্যুতের দাম আবার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির আগুনে আরো ঘি ঢালছে সরকার। জনভোগান্তির জুলুম থেকে সরে আসতে হবে সরকারকে।
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (৮)
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
১৯৯০ সালে কাঁচা চামড়া রফতানীর নিষিদ্ধ করণের প্রেক্ষাপট বর্তমানে নেই। এ মুহুর্তে কাঁচা চামড়া রফতানীর অনুমোদন বর্তমান সংকটকে অনেকটাই কমাতে পারে।
০৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কুরবানী আসে-যায় মৌসুমী কসাইরা অরক্ষা আর অবহেলাতেই থেকে যায়। তাদের অনেকে আহত হয়, পঙ্গু হয়, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়- মৌসুমী কসাইদের প্রশিক্ষণ ও পৃষ্টপোষকতার পাশাপাশি ঈদুল আদ্বহায় বিশেষ স্বাস্থসেবা চালু করা দরকার।
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
‘দ্যা গ্রেট রিসেট’ ও নমরুদী মশার প্রতিশোধের এক চরম ইহুদী-নাসারায়ী নীলনকশা!
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বিদ্যুতের বিল বার বার বাড়ানো শোষক জমিদারি কায়দায় চক্র বৃদ্ধি হারে খাজনার চাবুক মারা অথচ বিদ্যুতে শুধু চুরি নয়, সব দিক থেকে সাগর চুরি হচ্ছে। সে চুরির ক্ষত পোষাতে জনগণের উপর খাজনা বৃদ্ধি করে চোরদের উৎসাহ ও প্রনোদনা এবং নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে।
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সে যুগেও হুসাইন আহমদকে ইহুদীদের দালাল, হিন্দুদের কংগ্রেসের পা চাটা- গোলাম প্রচারণা করা হলেও থানভী গংরা তা বুঝতে পারলো কৈ? আজকে পশ্চিমবঙ্গে হাজার হাজার মসজিদ ভাঙ্গা ও লাখ লাখ মুসলমানদের বাড়ী-ঘর ধ্বংস, হিন্দুত্ববাদ গ্রহণে বাধ্য করার মত মহা জুলুমের মূলে হোসেন আহমদের সর্ব ভারতীয় জাতীয়বাদ।
২৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
আকাশের অতন্দ্র প্রহরী: বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ও আবহাওয়া রাডার অবকাঠামোর মহাপরিকল্পনা কেন জরুরি? (১ম পর্ব)
২৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর ২০২৫) ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসীম উদ্দিনের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
২২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
কিন্তু গতকাল গুগল, ফেইসবুকে অসংখ্য আইডি থেকে প্রচারিত- ‘তারেক রমমান নারিকেল দ্বীপ (সেন্টমার্টিন দ্বীপ) আমেরিকাকে দিয়ে দিয়েছেন নারিকেল দ্বীপ এখন মার্কিন ঘাটি হবে’- ইত্যকার প্রচারণা দেশবাসীকে হতভম্ব করছে। সর্বপোরি সরকারের দলীয় বা প্রশাসনের তরফ থেকে এটাকে গুজব না বলায়- হতাশা চরম আকার ধারণ করেছে।
২২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বর্বর আম্রিকা আর সন্ত্রাসী ইসরাইলের সাথে সু-সম্পর্ক বজায় রাখছে সংযুক্ত আরব আমিরাত কিন্তু মুসলিম দেশ ইয়েমেন থেকে শুরু করে সোমালিয়া-লিবিয়া হতে সুদানে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ চালিয়ে রাখছে আরব-আমিরাত ভয়াবহ মানবেতর সংকটে সুদান, সহিংসতা-রোগ-দুর্ভিক্ষে দিশাহারা মানুষ সুদানের রক্তপাত বন্ধে মুসলিম বিশ্বকে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসতে হবে এক্ষুনি
২১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












