জীবনী মুবারক
১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৪)
বিলাদত শরীফ: ১২০১ হিজরী বিছাল শরীফ: ১২৪৬ হিজরী বয়স মুবারক: ৪৫ বছর
, ১১ ছফর শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৭ ছালিছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৬ আগস্ট, ২০২৫ খ্রি:, ২৩ শ্রাবণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) আইন ও জিহাদ
কামালতে নুবুওওয়াতের মাকাম হাছিল:
“ছিরাতুল মুস্তাকিম” ১৪৯-১৫২ পৃষ্ঠা, “তাওয়ারিখে আজিবা” ১০/১১ পৃষ্ঠায়, “কারামতে আহমদী” ২৩ পৃষ্ঠা হতে জানা যায়, আফদ্বালুল আউলিয়া, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কামালতে নবুওওয়াত তবকার ওলী ছিলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনারা উনাকে স্বপ্নে দীদার মুবারক দিলেন। তিনি স্বপ্নে দেখেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তিনটি খোরমা/খেজুর মহাসম্মানিত নূরুল মাগফিরাত মুবারকে (হাত মুবারক) নিয়ে হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মুখে দিচ্ছেন। জাগ্রত হওয়ার পর উক্ত স্বপ্ন তিনি নিজের মধ্যে স্থায়ী পেলেন।
এরপর একবার আরো তিনি স্বপ্নে দেখেন- সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুর রবি’য়াহ যাহরা আলাইহাস সালাম উনারা স্বপ্নে উনাকে গোসল করিয়ে নিজের সন্তানের মত মূল্যবান নতুন কাপড় পরিধান করালেন। এই স্বপ্নের পর হতে কামালতে নুবুওওয়াতের নিছবত উনার মধ্যে সম্পূর্ণভাবে বিকশিত হতে লাগলো। সুবহানাল্লাহ!
তিনি ইলমে লাদুন্নী প্রাপ্ত মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ ওলী ছিলেন:
যে সমস্ত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ হতে খাছভাবে ইলমে লাদুন্নী প্রাপ্ত হয়েছেন; হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিও উনাদের মধ্যে একজন। উনার ইলমে লাদুন্নীর শক্তি ও ক্ষমতা এত বেশী ছিলো যে, এ সম্পর্কে “তাওয়ারিখে আজীবা” কিতাবের ৪০-৪১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, তিনি জাগ্রত অবস্থায়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দীদার মুবারক লাভ করতে পারতেন এবং কাশ্ফের শক্তি বলে হযরত ইমামে আ’যম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথে সাক্ষাত করতেন। এতে সম্মানিত শরীয়তের জটিল মাসয়ালা অবগত হওয়া উনার নিকট সহজ ছিলো। সুবহানাল্লাহ!
“তাওয়ারিখে আজীবা” কিতাবের ৩৬ পৃষ্ঠায় আরো বর্ণিত আছে, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যখন সিরাজুল উম্মত, হযরত মাওলানা শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট জাহেরী ইলিমের তা’লীম নিচ্ছিলেন, একদিন দেখতে পেলেন কিতাবের কালো অক্ষর উনার নিকট থেকে উধাও হয়ে যাচ্ছে। তিনি সাদা পৃষ্ঠা ব্যতীত আর কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না। এই অবস্থা তিনি উনার সম্মানিত শায়েখ উনাকে বিষয়টি জানালেন। তিনি বললেন, শুধুমাত্র কিতাব পড়ার বেলায়ই কি এরূপ হয়ে থাকে? জবাবে হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন হ্যাঁ, শুধু কিতাব পড়ার সময়ই এরূপ হয়ে থাকে। এটা শুনে সম্মানিত শায়েখ তিনি উনাকে বললেন, আপনি কিতাব রেখে দিন। মহান আল্লাহ পাক আপনাকে অন্য কাজের জন্য পয়দা করেছেন। বিনা মধ্যস্থতায় আপনি মহান আল্লাহ পাক উনার থেকে ইলিম ও হিকমত লাভ করবেন। সুবহানাল্লাহ!
“কারামতে আহমদী” কিতাবে উল্লেখ আছে যে, হযরত শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার মুরীদানদেরকে বলতেন, এখন হতে যা কিছু হবে তা হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাধ্যমে হবে। লোকেরা হযরত শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট মুরীদ হতে এলে তিনি হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট পাঠিয়ে দিতেন।
এক বর্ণনায় রয়েছে, হযরত শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমার নিকট ১৫ বছরে যা হাছিল হবে; হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট ১৫ দিনে তা হাছিল হবে। সুবহানাল্লাহ!
“সাওয়ানেহ আহমদী” কিতাবে বর্ণিত আছে, হযরত শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমার নিকট ১২ বৎসরে যা না হবে; রঈসুল আউলিয়া, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট ১২ দিনে তা হবে। সুবহানাল্লাহ!
এমনকি হযরত শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি জগত বিখ্যাত আলিম মুফতী, মুফাস্সির, মুহাদ্দিস ও রঈসুল আউলিয়া হওয়া সত্ত্বেও নিজের মুরীদ ও খলীফা হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট বাইয়াত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এ কথাটি “বিজ্ঞাপন রদ” কিতাবের ৮৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে। (ইনশাআল্লাহ চলবে)
-মুহাদ্দিস আহমদ হুসাইন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৫)
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৩তম পর্ব)
১২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৪)
১১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১২তম পর্ব)
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৩)
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১২)
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১২)
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১২)
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়:
২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১১)
২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১০ম পর্ব)
১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১০)
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












