ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৫)
, ২৫ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৪ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৪ মে, ২০২৬ খ্রি:, ৩১ বৈশাখ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) আইন ও জিহাদ
কাফির শিবিরের প্রধান কুখ্যাত যোদ্ধা আমর ইবনে আবদে উদকে জাহান্নামে প্রেরণ:
৬ষ্ঠ হিজরীতে সংঘটিত ঐতিহাসিক খন্দকের জিহাদে বিজয়ী হয়েছিলেন মুসলমানরা। এ জিহাদের প্রধান বীর ছিলেন আমিরুল মু’মিনীন, মুরতাদ্বা, হায়দার, বাবুল ইলম, আসাদুল্লাহিল গালিব, হযরত ইমামুল আউওয়াল, কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি। আমিরুল মু’মিনীন, হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপহার দেয়া অমর তরবারি জুলফিকারের অব্যর্থ আঘাতে নিহত হয়েছিলো কাফির শিবিরের প্রধান দুর্র্ধর্ষ যোদ্ধা আমর ইবনে আবদে উদ।
এ মহান জিহাদে বিজয় লাভ করা ইসলামের জন্য ছিলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এর আগে আর কোনো যুদ্ধে আরব বিশ্বের সবগুলো কাফির ও ইহুদী গোত্র ইসলামের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যুদ্ধে নামেনি। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শহীদ করাসহ মুসলমানদের নাম-নিশানা পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করা ছিলো মুসলমানদের বিরুদ্ধে এই মহাযুদ্ধ আয়োজনের লক্ষ্য।
অন্যদিকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইমামতিতে তিন হাজার মুসলমান প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত হন। বিখ্যাত ছাহাবী হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পরামর্শে মদীনা শরীফ অরক্ষিত অথচ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোকে হামলা থেকে রক্ষার জন্য প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ (প্রায় ৫ মিটার গভীর ও ৫ মিটার চওড়া) এক গভীর পরিখা বা গর্ত খনন করা হয় যাতে শত্রুর দক্ষ অশ্বারোহী সেনাও এই পরিখা অতিক্রম করতে না পারে। এই জন্য এই জিহাদকে খন্দকের জিহাদ বলা হয়।
এই পরিখা খনন ও তার আশপাশে মুসলিম সেনাদের কড়া প্রহরার ফলে বহু দিন ধরে অবরোধ চালিয়ে যেতে হয়েছিলো সম্মিলিত কাফির বাহিনীকে। তীব্র শীত শুরু হওয়ায় এবং খাদ্য-দ্রব্য ও রসদ ফুরিয়ে আসায় পরিস্থিতি ক্রমেই কাফিরদের জন্য হতাশাজনক হয়ে পড়ছিলো। তাই কাফির নেতারা যে কোনোভাবে পরিখা অতিক্রম করে মুসলমানদের ওপর হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়। আর মদীনা শরীফের ভেতর থেকে ইহুদী গোত্র বনী কুরাইজা কাফিরদের জন্য পথ খুলে দেবে ও শহরের ভেতরে আকস্মিক লুটপাটের মাধ্যমে মুসলমানদের বিরুদ্ধে তারাও আগ্রাসন শুরু করবে বলে গোপনে ষড়যন্ত্র পাকানো হয়।
কুরাইশ শিবিরের প্রধান যোদ্ধা আমর ইবনে আবদে উদ ছাড়াও হযরত ইকরামা ইবনে আবী জাহল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হুবাইরা ইবনে ওয়াহাব, নওফেল ইবনে আবদুল্লাহ এবং যিরার ইবনে খাত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (উনারা তখনও ঈমান প্রকাশ করেননি) পাঁচজন ভয়ানক কমান্ডার যুদ্ধের পোশাক পরে দর্পভরে বনী কিনানার সৈন্যদের সামনে দাঁড়িয়ে বলেছিলো, “তোমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাও। আজ তোমরা বুঝতে পারবে, কারা আরব বাহিনীর প্রকৃত বীর যোদ্ধা।” এরপর অশ্ব চালনা করে পরিখার যে অংশটির প্রস্থ কম ছিলো, সেখান দিয়ে ঘোড়াসহ লাফ দিয়ে এ পাঁচ অতি কুখ্যাত কাফির যোদ্ধা সেখানে প্রহরারত মুসলিম তীরন্দাজ সৈন্যদের নাগালের বাইরে চলে যায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে পরিখা পার হবার স্থান ঘেরাও করে ফেলা হয় এবং অন্যদের তা অতিক্রম করার ক্ষেত্রে বাধা দান করা হয়।
মল্ল (দ্বৈত) যুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে আসা অত্যন্ত শক্তিশালী এ পাঁচ যোদ্ধা পরিখা ও সালা পাহাড়ের (মুসলমান সেনাবাহিনীর কেন্দ্রীয় তাবুর) মাঝখানে এসে দাঁড়ালো। তারা সেখানে অহংকারবশত নিজেদের অশ্বগুলোর সাথে ক্রীড়ায় লিপ্ত হলো এবং ইশারায় তাদের প্রতিপক্ষকে মল্লযুদ্ধের আহবান জানাতে লাগলো।
এ পাঁচ জনের মধ্যে সাহস ও কৌশলের দিক থেকে বেশি কুখ্যাত দুর্ধর্ষ যোদ্ধাটি মুসলমানদের সামনে এসে দ্বৈত যুদ্ধে লিপ্ত হবার আহবান জানালো। সে মুহূর্তের পর মুহূর্ত ধরে নিজের কণ্ঠ উচ্চকিত করতে লাগলো এবং মাতলামিপূর্ণ হুঙ্কার-ধ্বনি দিয়ে বলতে লাগলো:هل من مبارز؟ “তোমাদের মধ্যে কি কোন যোদ্ধা আছে?” তার এ আস্ফালন সমগ্র যুদ্ধক্ষেত্র জুড়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিলো এবং মুসলিম সৈন্যদের দেহে জজবা ধরিয়ে দিয়েছিলো। মুসলমানদের নীরবতা তার স্পর্ধা আরো বাড়িয়ে দিয়েছিলো। সে (ব্যঙ্গচ্ছলে) বলছিলো, “বেহেশতের দাবিদাররা কোথায়? তোমরা মুসলমানরা কি বলো না যে, তোমাদের নিহত ব্যক্তিরা বেহেশতে এবং আমাদের নিহতরা জাহান্নামে যাবে? তোমাদের মধ্য থেকে কি একজনও আমাকে দোযখে পাঠানোর জন্য বা আমার পক্ষ থেকে তাকে বেহেশতে পাঠিয়ে দেয়ার জন্য প্রস্তুত নয়?”আর সে তার এ কথাগুলো বীরত্ব-গাঁথায় এভাবে বলছিলো-
ولقد بححت من النّداء بجمعکم هل من مبارز
উচ্চস্বরে কথা বলার জন্য এবং মল্লযোদ্ধাকে আহবান জানাতে জানাতে আমার গলা বসে গেছে।” (চলবে)
-আল্লামা মুহম্মদ নাজমুল হুদা ফরাজী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৩তম পর্ব)
১২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৪)
১১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১২তম পর্ব)
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৩)
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১২)
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১২)
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১২)
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়:
২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১১)
২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১০ম পর্ব)
১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১০)
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১১)
০৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












