সুলতানুন নাছীর হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার বদ দোয়ার কারণে আমেরিকা এখন চরমভাবে ক্ষতবিক্ষত, বিপর্যস্ত, ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং মৃত আমেরিকা শুধু দাফন করা বাকি কিন্তু ভোগবাদে মক্ত চরম চরিত্রহীণ, পশ্বাধম আমেরিকাবাসী তালমাতাল হওয়ার কারণেই এখনো তা উপলব্ধি করতে পারছে না
, ১৭ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৭ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৭ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ২২ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) মন্তব্য কলাম
(২য় পর্ব)
অপরাধের দেশ
আমেরিকা তো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী দেশ। সেখানে ১৯৬৫সালে ৫০ লাখ অপরাধ সংঘঠিত হয়েছে। অথচ জনসংখ্যা বৃদ্ধির তুলনায় বিপদজনক অপরাধের বৃদ্ধির পরিমান ১৪গুণ বেশি। অপরাধ বৃদ্ধির শতকরা হার ১৭৮% তখন জনসংখ্যা বৃদ্ধির শতকরা হার ছিল ১৩%। প্রতি ১২ সেকেন্ডে একটি অপরাধ সংঘঠিত হয়। প্রতি ঘন্টা পর একজন লোক খুন হচ্ছে, প্রতি ২৫ মিনিটে একটা করে সম্ভ্রমহরণের ঘটনা ঘটছে, প্রতি মিনিটে একটি চুরির ঘটনা ঘটছে, প্রতি ৫ মিনিটে ১টি ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। ১৯৫১ সালে ১ লাখ বাসিন্দার মধ্যে ৩০ জনে ১টি খুন। ১৯৬০ সালে ৫জন, ১৯৬৭ সালে ৯জন। প্রতি মিনিটে একটি হত্যাকান্ড, আটটি চুরির ঘটনা, মাসে পচিশ হাজার কার চুরি হয়। আমেরিকায় প্রতি বছর হাজার হাজার শিশু যৌন নিপীড়নসহ নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এ জাতীয় ঘটনায় কেবল ২০১০ সালে আমেরিকায় ১,৬০০ শিশু মারা গেছে।
বিপদজনক শহর ওয়াশিংটন
আমেরিকার রাজধানী ওয়াশিংটন। যেখানে যুবকদের জন্য ১৬ জুলাই থেকে রাতে কারফিউ জারীর জন্য আইন করে ওয়াশিংটনের মেয়র স্বাক্ষর করেছে। ঐ আইনের অধীনে ১৭ বছর ও তার চেয়ে কম বয়সী যুবকদের ঘুরাফেরা বে-আইনি ঘোষনা করা হয়েছে। উদ্দেশ্য-রাতে যুবকদের ঘরে থাকতে হেবে। এ আইন না মানলে অর্থদন্ড জরিমানা গুনতে হবে অভিভাকদের। ওয়াশিংটন ডিসির অপরাধ প্রবনতা কমানোর এ উদ্যেগ। কেননা পৃথিবীর সবচেয়ে বিপদজনক শহন হল ওয়াশিংটন। ১৭ জুলাই প্রকাশিত দৈনিক ‘খবর’ পত্রিকায়ও ওয়াশিংটন সম্পর্কে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, আমেরিকা রাজধানী যেমন মর্যাদাপূর্ণ ঠিক তদ্রুপ নিকৃষ্টতম শহর যা চারিত্রিক সামাজিক ও স্বাস্থ্যের নিরাপত্তার দিক থেকে একদম অধঃপতনের শিকার হয়েছে।
সম্ভ্রমহরণের দেশ
এফ.বি.আই এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১৯৯০ সালে ১ লক্ষ ২ হাজার ৫৫৫ টি সম্ভ্রমহরণের কেস রির্পোট করা হয়েছে। আরো বলেছে যে, এ রির্পোট মোট সম্ভ্রমহরণের মাত্র ১৬ ভাগ কেস রির্পোট করা হয়েছে। তার মানে ১৯৯০ সালে সম্ভ্রমহরণের ঘটনা ঘটেছে ৬ লক্ষ ৪০ হাজার ৯৬৮ টি। অর্থ্যাৎ ১৯৯০ সালে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৭শত ৫৬ টি সম্ভ্রমহরণের ঘটনা ঘটেছে। ১৯৯২-৯৩ সালে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৯শতেরও বেশি সম্ভ্রমহরণের ঘটনা ঘটে। অর্থ্যাৎ প্রতি ১.৩ মিনিটে সম্ভ্রমহরণের ঘটনা ঘটছে একটা। মোট সম্ভ্রমহরণের কেস রির্পোট করা হয়েছে ১৬%। যতগুলো কেস রির্পোট করা হয়েছে তার ১০% অ্যারেস্ট হয়েছে। মানে সম্ভ্রমহরণকারীদের মাত্র ১.৬% এরেস্ট হয়েছে। যারা এরেস্ট হয়েছে তাদের ৫০% মুক্তি পেয়েছে বিচার আগেই বিনা বিচারে। অর্থ্যাৎ মাত্র .০৮ শতাংশ সম্ভ্রমহরণকারীর বিচার হয়েছে। ১২৫টি সম্ভ্রমহরণ করলে শাস্তি পায় মাত্র একবার। আর যাদের বিচার হয়, তাদের ৫০% শাস্তি পায় ১ বছরের কম কারাদন্ড। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আমেরিকায় যত সম্ভ্রমহরণ সংঘঠিত হয় তার বেশির ভাগই মানে শতকরা ৯৫ ভাগের বেশি সম্ভ্রমহরণ সংঘঠিত হয় মাতাল অবস্থায়। আর এসব ঘটনার প্রায় সব অজাচার ঘটে। মানে বাবা-মেয়ে, মা-ছেলে, ভাই-বোন ইত্যাদি এদের সাথে অশালীনতা। পরিংখ্যান অনুযায়ী দেখা যায়, সম্ভ্রমহরণের দায়ে সাজা প্রাপ্ত অপরাধীরা জেল খাটার যখন মুক্তি পায়, তাদের শতকরা ৯৫ জনই আবার সম্ভ্রমহরণ করে। (জাকের নায়েক লেকচার সমগ্র)
চারিত্রিক অধঃপতনে ধস নামছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের
বর্তমানে প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখানো হয়েছে, আমেরিকার স্কুল সমূহে সংঘঠিত অপরাধের মাত্রা ৩০% বৃদ্ধি পেয়েছে। নিউইয়ার্ক টাইমসে জর্জ ডাইনের এক রির্পোটের বরাতে উল্লেখ করা হয়েছে, আমেরিকার বিগত ১৫-১৯ বছরের মধ্যে প্রতি হাজার মেয়ের মধ্যে ৯৬% অবৈধ গর্ভবতী হয়েছে। ১৯৯১ সাল পর্যন্ত আমেরিকায় ২,৭০,০০০ লোক এইডস এ আক্রান্ত। কঠোর আইনের বদলে “সর্তকতার সাথে প্রেম করো” “সর্তকতার সাথে মহব্বত করো” বলে যুব সমাজকে উপদেশ দেয়া হয়।। হাই স্কুলের ৮৬% দশ বছর বয়সী ছাত্রী গর্ভবতী হয়। কলেজ ছাত্রদের উপর এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে যা ৬২০০ নারী ও পুরুষের মাঝে ৩২ টি ক্যাম্পাসে ৩ বছর পর্যন্ত চালানো হয়। খ্যাতনামা মনোস্তত্ত্ব বিশেষজ্ঞ ম্যারিকাস বলেছেন, ঐ ক্যাম্পাস সমূহে ২০% মেয়ের সাথে জোরপূর্বক সম্ভ্রমহরণের ঘটনার সংখ্যা ৮৭৩৪০ টি। আমেরিকায় হাই স্কুলে প্রতি ২ জনে এক জন মদ্যপ, চার জনে ১ জন সিগারেট পান করে, দশ জনে ১ জন হাশীশ ব্যবহার করে। প্রতি সাত মিনিটে একটি শিশু নেশা করার দায়ে গ্রেফতার হয়। প্রতি ২৭ সেকেন্ডে একটি অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ে মা হয়। প্রতি ৪৭ সেকেন্ডে একটি শিশু সম্ভ্রমহরণের শিকার হয়। প্রতি ৩৬ মিনিটে আগ্নেয়াস্তে এক জন লোক নিহত বা আহত হয়। জর্জ লিন্ডসে লিখে, হাই স্কুলের ৪৯৫ জন অল্প বয়সী তার কাছে স্বীকার তারা ছেলেদের সাথে অনৈতিক সম্পর্কের অভিজ্ঞা লাভ করেছে, এর মধ্যে ১২৫ জনের গর্ভ হয়। মানব সভ্যতার জন্য নতুন এক ভয়ঙ্কর তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রভাবশালী পত্রিকা নিউ ইয়র্ক টাইমস। পত্রিকাটি খবর দিয়েছে- আমেরিকার গ্রেড সেভেন থেকে টুয়েলভ ক্লাসের ছাত্রীদের অর্ধেকই যৌন হয়রানির শিকার। অন্তত গত শিক্ষাবছরের ওপর পরিচালিত গবেষণা রিপোর্ট তাই বলছে। শ্লীলতাহানির শিকার ছাত্রীদের শতকরা ৮৭ ভাগের ওপর পড়েছে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব। গবেষণায় বলা হচ্ছে, ছেলেরা যেখানে শতকরা ৪০ ভাগ শ্লীলতাহানির শিকার সেখানে মেয়েদের সংখ্যা শতকরা ৫৬ ভাগ। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, ২০১০-১১ শিক্ষা বছরে গড়পড়তা শতকরা ৪৮ ভাগ ছাত্র-ছাত্রী শ্লীলতাহানির শিকার। শতকরা ৪৪ ভাগ ছাত্র-ছাত্রী বলেছে, তারা মানুষের হাতে নির্যাতিত হয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুলগুলোতে ছাত্রীরা সবচেয়ে বেশি শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছে। এ সংখ্যা শতকরা ৫২ ভাগ। এরা সবাই শারীরিকভাবে শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছে আর শতকরা ৩৬ ভাগ অনলাইনে। এর বিপরীতে মাধ্যমিক পর্যায়ের ছাত্রদের শতকরা ৩৫ ভাগ শারীরিক শ্লীলতাহানির শিকার এবং ২৪ ভাগ অনলাইনে।
বিলুপ্ত হচ্ছে পরিবার প্রথা
আমেরিকার এক ম্যাগাজিনে ইবঃঃবৎ ঐড়সবং ধহফ ঊধৎফরহং তার পাঠকদের প্রশ্ন করেছিল আপনারা কি মনে করেন, আমেরিকার পারিবারিক জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে? ৭৬% জবাব ছিল হ্যা, ৮৫% লোক বিবাহের ব্যাপারে তাদের আশা পূর্ণ হয়নি বলে মত দেয়। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রতি ১৮ সেকেন্ডে একজন স্ত্রী বা মহিলা মারা যায় স্বামী বাব বন্ধুর হাতে। টাইমস (২৩ মার্চ ১৯৮৭) আমেরিকায় প্রায় ১৫% বিবাহিত ব্যক্তি শারীরিক দিক থেকে সন্তান প্রজননে অক্ষম (টাইমস জানু, ১৯৮৭)। আমেরিকান নারী সমাজ মাতৃত্ব এবং ঘর সামনোর দায়িত্ব ১৫ বছর পূর্বে ছেড়ে দিয়েছে। বিংশ শতাব্দির শেষ প্রান্তে পৌছে আমেরিকান বৃদ্ধিজীবিরা বলতে বাধ্য হচ্ছেন, বিংশ শতাব্দির সূচনা লগ্নে আমেরিকা যে বিষয়কে উন্নতির সোপান মনে করেছিল, তা বর্তমানে তাদের জন্য ধ্বংসের সোপান প্রমাণ হচ্ছে। টাইমসের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রতি বছর আমেরিকায় ২৫ লাখ অবিবাহিত মেয়ে মা হয়
আমেরিকায় দৈনিক ৪ হাজার গর্ভপাত করা হয়, তন্মর্ধে ৬৫% ভাগ মহিলাই অবিবাহিত। ১৯৭৩ সালে আমেরিকার সুপ্রীমকোটের গর্ভপাতকে বে-আইনী ঘোষনার পর বার্ষিক ১৫ লাখ গর্ভপাত ঘটানো হয়ে থাকে। বিগত ২০ বছরে ৩০ কোটি শিশুকে বংশচ্যুত করা হয়েছে। প্রতি বিশ সেকেন্ডে ১টি গর্ভপাত ঘটানো হচ্ছে। আমেরিকার প্রতি ৫ জনে একজন পাগল। আমেরিকান সাড়ে চার কোটি মানুষ মস্তিস্কের ব্যাধিতে আক্রান্ত। লেজকাটা ঘৃণিত ইউরোপ ও আমেরিকায় পরিবার প্রথা ভেঙ্গে জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে হাজার বছর এগিয়ে গিয়েও ধ্বংসোন্মুক্ত সভ্যতায় পরিণত হতে চলেছে। বিকৃত সভ্যতা ভেঙ্গে দিয়েছে মা-সন্তানের শ্রদ্ধার দেয়াল, পিতাকে কাছে না পাওয়ায় সন্তানের শর্য্যাসঙ্গী হচ্ছে মা। অসৎ পিতার যৌন লালসা পূরণে আপন কন্যা হচ্ছে অঙ্গশায়িনী। এ অনৈতিকতার ছোবলে ক্ষত বিক্ষত পশ্চিমা জগৎ। সেখানকার অসভ্য মানুষগুলো শান্তির জন্য হন্যে ঘুরছে। ৫০ বছর পূর্বে আমেরিকায় পারিবারিক বন্ধন ছিল, এখন তা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে পড়েছে।
অশান্তি থেকে বাচতে আত্মহত্যার ব্যাপকতা
সাপ্তাহিক টাইমস এর রিপোর্টের শিরোনাম “সন্তানের আত্মহত্যা” এতে বলা হয়েছে, আমেরিকায় ১০-২০ বছর বয়সী যুবকদের আত্মহত্যার হার দ্রুত গতিতে বেড়ে চলেছে। ১৯৫০ সালের তুলনায় এ সংখ্যা এখন তিন গুন বেড়েছে। ১৯৮৫ সালে লাখে ৬০ যুবক (তত সংখ্যক বড়রা) আত্মহত্যা করেছে। প্রতি বছর ১৩-৩০ বয়সী ৫ হাজার যুবক আত্মহত্যা করে। বিগত ১০ বছরে ইচ্ছাকৃত আত্মহত্যাকারীর সংখ্যা ৩৫% ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৬২ থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত হত্যার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে ১৮.৬ ভাগ।
অপরাধের ভয়াবহতায় মার্কিন সামরিক বাহিনী
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে মহামারির আকারে যৌন অপরাধের সংখ্যা বাড়ছে। এ ব্যাধি নিয়ন্ত্রণে পেন্টাগণ নানা উদ্যোগ নিলেও তা কাজে আসেনি।
প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর সামরিক বাহিনীর অন্তত ২৬,০০০ সক্রিয় সদস্য যৌন আক্রমণের শিকার হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যদিও এ সময় যৌন আক্রমণের শিকার হয়ে অভিযোগ দায়ের করেছে এমন সদস্যের সংখ্যা ৬ শতাংশ বেড়ে ৩,৩৭৪ জনে উন্নীত হয়েছে, তবে নাম প্রকাশ না করে যেসব সদস্য যৌন আক্রমণের শিকার হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন তাতে মোট সংখ্যা ২৬,০০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। ২০১১ সালে এ সংখ্যা ছিল ১৯,০০০।
যৌন আক্রমণের শিকার সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সহায়তা ও উর্ধতন কর্তৃপরে নজরদারি বাড়ানো হলেও তাতে কোনো লাভ হয়নি।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ লাখ সামরিক বাহিনীর ৬.১ শতাংশ সক্রিয় নারী সদস্য বা মোট ১২,১০০ নারী সদস্য জানিয়েছে, ২০১২ সালে তারা অযাচিত যৌন সংস্পর্শে এসেছে। ২০১১ সালে এই সংখ্যা ছিল ৮,৬০০। পুরুষদের মধ্যে যৌন আক্রমণের শিকার লোকের সংখ্যা ১০,৭০০ থেকে বেড়ে গত বছর ১৩,৯০০ তে উন্নীত হয়েছে। মার্কিন বিমান বাহিনীর ৩০ জনেরও বেশি মহিলা ক্যাডেট অভিযোগ করেছে, তারা প্রশিক্ষণ নেয়ার সময় প্রশিক্ষকদের হাতে শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছে। টেক্সাস বিমান প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটেছে বলে তারা জানায়। ঘাঁটিতে এ ধরনের শ্লীলতাহানির ঘটনা বেড়েই চলেছে বলেও তারা অভিযোগ করেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর নারী সদস্যরা অহরহ যৌন নির্যাতন ও অবৈধ যৌন নিপীড়নের শিকার হয়ে থাকে এবং প্রতিবছর হাজার হাজার ঘটনা রেকর্ড করা হয়। পৃথক আরেক হিসাবে এর আগে বলা হয়েছে, মার্কিন বাহিনীতে কর্মরত প্রতি পাঁচ জন মহিলার মধ্যে একজন এবং প্রতি ২০ জন পুরুষের মধ্যে একজন শ্লীলতাহানির শিকার হয়। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীতে চাকরিরত অবস্থায় একজন মহিলা সেনার সম্ভ্রমহরণের শিকার হওয়ার আশংকা ২০ থেকে ৪০ শতাংশ। তবে, মার্কিন সেনাবাহিনীতে যৌন হেনন্তর ৮০ শতাংশ ঘটনা চেপে যাওয়া হয় বলে এ বিষয়ে যথার্থ হিসাব পাওয়া যাবে না।
মার্কিন জনগণ যখন এতটা দুর্দশায় রয়েছে তখন দেশটির কংগ্রেসের অর্ধেকেরও বেশি সদস্য মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার আয় করছে খুব স্বল্প সময়ে। তারা অল্প কিছু সংখ্যক মার্কিন ধনকুবের বা পুঁজিপতির স্বার্থ রক্ষা করে চলছে সংসদে। দেশটির মাত্র এক শতাংশ পুঁজিপতির হাতে আমেরিকার বেশিরভাগ স¤পদ পুঞ্জীভূত রয়েছে। তাই নিরানব্বই শতাংশ বঞ্চিত মার্কিন নাগরিককে বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার করতে ও ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনে শরিক করতে স¤প্রতি শুরু হয়েছিল “৯৯ শতাংশ” শীর্ষক আন্দোলন। মার্কিন সরকার কঠোর হাতে এ আন্দোলন দমিয়ে রেখেছে। কিন্তু এটা ¯পষ্ট যে আমেরিকার পুঁজিবাদী শাসন-ব্যবস্থার দানব এভাবে বেশি দিন টিকে থাকতে পারবে না। যে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে একদা সূর্য অন্ত যেত না, সে বৃহত্তম উপনিবেশবাদী শক্তি আজ পাশ্চাত্য এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছেই যেমন অসহায়, এতিমের মত সাহায্য চেয়ে হাত পেতে আছে, সে একই দৈন্যদশা সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকার জন্যও আসন্ন।
(ইনশাআল্লাহ চলবে)
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
উৎপাদনহীন অর্থনীতি: সংকটের মূল কোথায়?
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
“স্কুলে সংস্কৃতি চর্চা হলে দেশে উগ্রবাদ থাকবে না” নতুন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর এ বক্তব্য ফ্যাসিস্ট গত সরকার, তার ইসলাম বিরোধী সংস্কৃতি নীতি ও কুখ্যাত আওয়ামী সংস্কৃতিমন্ত্রীর হুবহু কণ্ঠস্বর। সংস্কৃতির নামে ঠগ সঙ্গীত, ঠগ বন্দনা, নাচ-গান তথা হিন্দুয়ানী সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা ছিল আওয়ামী রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। দ্বীনদার মুসলমান ও সন্ত্রাসবাদের নাটক ছিলো তাদের, ইসলাম দমনের হাতিয়ার।
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি এবং উনার অনবদ্য তাজদীদ ‘আত-তাক্বউইমুশ শামসী’ সম্পর্কে জানা ও পালন করা এবং শুকরিয়া আদায় করা মুসলমানদের জন্য ফরয। মুসলমান আর কতকাল গাফিল ও জাহিল থাকবে?
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
লালদিয়া: উন্নয়নের স্বপ্ন, নাকি সার্বভৌমত্বের সওদা?
২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার দোয়ার বরকতে প্রতি বছরই বাড়ছে বাংলাদেশের ভূখ-। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বিভিন্ন নদীর মোহনায় যে চর পড়েছে তা সুপরিকল্পিতভাবে সুরক্ষা ও উদ্ধার করা হলে অন্তত ১ লাখ বর্গকিলোমিটার ভূমি উদ্ধার করা সম্ভব হবে।
২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আইনের খাঁচায় বন্দি বিচার, আর কতকাল নিখোঁজ থাকবেন নওমুসলিম ’জারা’?
২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না। যানজট নিরসনের মূল কারণ চিহ্নিত ও পদক্ষেপ নিতে না পারাই ঢাকায় যানজটের প্রধান কারণ। (৫)
২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সিলেটের সবুজ অরণ্যে পাপাচারের কালো ছায়া-চা বাগানের পৌত্তলিক শ্রমিকদের মদ্যপতা ও অনৈতিকতা: উম্মাহর জন্য এক সতর্কসংকেত
১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ডলারের শিকল ভাঙা: গোল্ড রিজার্ভ, ডলার বর্জন এবং মুসলিম বিশে^র অভিন্ন মুদ্রার দাবি
১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
৯৮ শতাংশ মুসলমানের দেশে এ কেমন ধৃষ্টতা? কুড়িগ্রামে মুসলমান যখন নিজ ভূমে পরবাসী!
১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মাদক পাচারের কলঙ্কিত ইতিহাস নিয়ে মেডলগ-এর হাতে পানগাঁও বন্দর তুলে দেয়া কি সঠিক?
১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সৌদি জনগণের চরম বিরোধীতা এবং আতঙ্ক প্রকাশের পরও মার্কিন ঘাটি স্থাপন হয়। ৬০০ বিলিয়ন সামরিক চুক্তি এবং ১ ট্রিলিয়ন বিনিয়োগ চুক্তির পরও ড্রাম্প সৌদি যুবরাজকে অপমান করেছে। আর ভ্রাতৃপ্রতীম পাকিস্তান ঠিকই চুক্তি অনুযায়ী সৌদিকে সহায়তায় এগিয়ে আসছে।
১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












