আন্তর্জাতিক চুক্তিতে দর কষাকষির দুর্বলতায় ঠকছে বাংলাদেশ। সরকার চুক্তিতে দক্ষতা ও প্রজ্ঞা সম্পন্ন বিভাগ বা দল কোনটাই তৈরিতে সক্ষমও হয়নি। গুরুত্বও দেয়নি।
আন্তর্জাতিক চুক্তিতে সক্ষমতা তৈরির জন্য সর্বোচ্চ যোগ্যতা সম্পন্ন ও যথেষ্ট সংখ্যক আমলা, কূটনৈতিক তৈরি ও প্রয়োগ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দর-কষাকষিতে শুল্কের বাইরেও বিভিন্ন অশুল্ক বিষয় রয়েছে।
, ০৮ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৪ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৩ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ০৮ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) মন্তব্য কলাম
বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা পাল্টা শুল্ক শুধু বাণিজ্যের বিষয় নয়। এটি ভূরাজনৈতিক, ভূ-অর্থনৈতিক ও ভূকৌশলগত বিষয়। আগামী ১ আগস্ট কার্যকর হওয়ার কথা বিদ্যমান ১৫ শতাংশের সঙ্গে নতুন ৩৫ শতাংশ অর্থাৎ মোট ৫০ শতাংশ শুল্কহার। এ হার কমিয়ে আনতে এখন পর্যন্ত দেশটির সঙ্গে যথাযথ আলোচনা ও দর-কষাকষি করতে পারেনি বাংলাদেশ। এসব কথা তুলে ধরে ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদেরা বলেছেন, কোনো দুর্বল সরকার সফল দর-কষাকষি করেছে-ইতিহাসে এমন নজির খুব কম।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দেশে বাড়ছে অসন্তোষ। বাংলাদেশ যে চুক্তিতে ঠকেছে-এ বিষয়ে প্রায় সবাই একমত। সর্বশেষ জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তির (ইপিএ) অনেক ধারার বিষয়েও আপত্তি রয়েছে। অনেকের মতে, ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি (আইপি) চুক্তিসহ জাপানের সঙ্গে করা ইপিএতে এমন কিছু ধারা রয়েছে; যাতে বাংলাদেশ সুবিধা পাওয়ার চেয়ে অসুবিধায় পড়বে বেশি।
এ দুটি চুক্তি উদাহরণ মাত্র। ট্রেড নেগোসিয়েশন বা বাণিজ্য দরকাকষাকষিতে দুর্বলতার কারণে প্রায়ই আন্তর্জাতিক চুক্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাংলাদেশ। সুবিধা আদায় করার চেয়ে প্রতিপক্ষকে সুবিধা বেশি দিতে হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও দরকষাকষিতে দক্ষতা না থাকা; বিষয়ভিত্তিক জানাশোনায় ঘাটতি এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিশ্লেষণ করতে না পারাসহ নানা কারণে আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোকে বাংলাদেশ ঠকছে। এ ছাড়া প্রশাসনে যারা অভিজ্ঞ হয়ে ওঠেন, তাদের ধরে রাখতে না পারা; অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা দ্রুত বদলি হয়ে যাওয়া; নেগোসিয়েশনের সময় কিছু কর্মকর্তার বিদেশ ভ্রমণের আগ্রহসহ আরও বেশি কিছু কারণের কথা বলেছেন ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা।
‘যখন প্রতিপক্ষ বুঝে যায় যে, আপনার দরকষাকষির খুব একটা দক্ষতা নেই; কিংবা চুক্তি করতে তাড়াহুড়া করা হচ্ছে, তখন তারা সেই সুযোগটা নেয়। নেগোসিয়েশনে দক্ষতা অর্জনের বড় অন্তরায় হলো, আমাদের দক্ষ কর্মকর্তাদের ধরে রাখতে না পারা। তাদের বদলি করে দেওয়া হয়। অনেক সময় এমনও হয়েছে, কোনো একটা চুক্তির বিষয়ে চলমান আলোচনার মধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অন্যত্র বদলি হয়ে গেছেন। আবার চুক্তির আলোচনায় বিদেশে যেতে অনেক কর্মকর্তার তদবিরও থাকে। অথচ একজন কর্মকর্তা নেগোসিয়েশনে গেলে তাকে ট্রেড পলিসি জানতে হয়, শুল্ক বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান ও বিশ্লেষণের দক্ষতা থাকতে হয়, ডব্লিউটির নীতিমালা মুখস্থ থাকতে হয়; রুলস অব অরিজিন,
ই-কমার্স, পণ্যের ধরনসহ ৮ থেকে ১০ ধরনের এরিয়াতে তার দক্ষতা থাকতে হয়। এসব জ্ঞান ও বিশ্লেষণক্ষমতা থাকলেই কেবল কোনো একটা আন্তর্জাতিক চুক্তির বিষয়ে আলোচনায় বসতে পারে। কারণ অন্য দেশগুলো এসব বিষয়ে আমাদের চেয়ে অনেক বেশি দক্ষ।
অতীতে দেখা গেছে, বাংলাদেশের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিগুলো হয়েছে খুব অল্প সময়ের মধ্যে। যেখানে অনেক দেশ একটা চুক্তি করতে ১০ বছর পর্যন্ত পর্যালোচনা করে, সেখানে বাংলাদেশ সরকার ৬ থেকে ৮ মাসের মধ্যে একটা চুক্তি করে ফেলেছে।’
চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যে আরও তিন থেকে চারটি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত হবে চলতি মাসেই। দেশটির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (ইপিএ) করার লক্ষ্যে প্রথম দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধিদল দেশটিতে গিয়ে আলোচনা করেছে। এ ছাড়া সিঙ্গাপুরের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গেও আনুষ্ঠানিকভাবে মূল পর্ব অর্থাৎ নেগোসিয়েশন বা দরকষাকষি পর্ব শুরু করেছে বাংলাদেশ। মালয়েশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। পরবর্তী সময়ে এফটিএ করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, চীন, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ব্রাজিল, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া ও সৌদি আরবের নামও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তালিকায় রয়েছে। এ ছাড়া বিমসটেকের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে এ জোটসহ অন্যান্য আঞ্চলিক জোটের সঙ্গেও এফটিএ করার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।
ধারাবাকিভাবে অনেক দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা হলেও এ বিষয়ে নেই বিশেষজ্ঞ টিম বা বিভাগ। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা সংস্থা থেকে অন্যান্য দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের নিয়েই চলছে চুক্তির জন্য আলোচনা। ফলে দরকষাকষির সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
‘জাপানের সঙ্গে যখন ইপিএ করার জন্য আলোচনা শুরু হয়, তখন মেধাসম্পদ বা আইপিআর পরিদর্শনে বাংলাদেশে মাত্র দুই থেকে তিনজন পরিদর্শক থেকেছে। অন্যদিকে জাপানে পরিদর্শক রয়েছেন প্রায় ৩ হাজার ৬০০ জন। আর জাপান থেকে ৯০ জন সশরীরে এসেছিলেন। কিন্তু অনলাইনে তাদের আরও ২০০ জন যুক্ত ছিলেন। এ থেকে বোঝা যায়, বিদেশীরা কতটা গুরুত্ব দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার ধরে রাখা এবং নতুন বাজারে প্রবেশের জন্য শুধু বেশি চুক্তি করাই যথেষ্ট নয়, বরং দেশের স্বার্থ রক্ষা করে কার্যকর চুক্তি করার সক্ষমতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক চুক্তিতে সক্ষমতা তৈরির জন্য সর্বোচ্চ যোগ্যতা সম্পন্ন ও যথেষ্ট সংখ্যক আমলা, কূটনৈতিক তৈরি ও প্রয়োগ করতে হবে।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
“আঃলীগ আবার ক্ষমতায় আসলে কি করবে তার পরিকল্পনা ফাঁস আঃলীগ ক্ষমতায় আসলে সেনাবাহিনী বিলুপ্ত করে ভারতের সেনাবিাহিনীকে দেশ রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হবে।”
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের সামরিক সম্পর্ক জোরদার হওয়া উভয় দেশের জন্যই কল্যাণকর
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মার্কিনীরা তাদের পতিত সরকারকেই নূতন করে তুলে ধরে অপেক্ষাকৃত বেশি লুটতরাজের শর্তে। নূতন করে মার্কিন গোয়েন্দাদের আনা-গোনা কি তারই আলামত!
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
এমপিদের জন্য ৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন বরাদ্দের আইনী ও ব্যবহারিক প্রতিবন্ধকতা অনেক।
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সংসদে সরকারি ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওভেন এমনকী জানালার পর্দা চাইলো জামায়াত এমপি বিরোধী এমপিদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ ঘোষণা, স্পিকার বললেন ‘আমি কোনোদিন কানাকড়িও পাইনি’ সংসদ সদস্যরা ৫০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ পাবেন এমপিদের জন্য ৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন বরাদ্দের আইনী ও ব্যবহারিক প্রতিবন্ধকতা অনেক। এমপিদের জন্য বরাদ্দ প্রদান সংবিধান পরিপন্থী সংসদে বসে সাংসদরাই সংবিধান বিরোধী কাজ এবং নিজস্ব ভোগ বিলাসে তথা লুটতরাজে মত্ত (২য় পর্ব)
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সংসদ সদস্যরা ৫০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ পাবেন এমপিদের জন্য ৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন বরাদ্দের আইনী ও ব্যবহারিক প্রতিবন্ধকতা অনেক।।
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে না পারার প্রধান কারণ ‘মাফিয়া তান্ত্রিক’ সিন্ডিকেট ব্যবস্থা।
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ভারত বাংলাদেশ চুক্তিকে তারা গোলামীর চুক্তি বলে কঠিন আওয়াজ তুলেছিলো! আজ আমেরিকার প্রকাশ্য গোলামী বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে তারা নীরব কেনো? দেশ বিরোধী বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে বৈষম্য বিরোধীরাও নিস্ক্রিয় থেকে কঠিন বৈষম্য করছে।
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
৫০ লক্ষাধিক বাহিনীর জন্য ড্রোন, কাউন্টার ড্রোন এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের কৌশলগত রোডম্যাপ (পর্ব-১২ : ২য় অংশ)
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আম রফতানীর বাধা দূর এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতায় গুরুত্ব দিন
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
৫০ লক্ষাধিক বাহিনীর জন্য ড্রোন, কাউন্টার-ড্রোন এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের কৌশলগত রোডম্যাপ (পর্ব-১২ : ১ম অংশ)
১২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বর্তমানে সন্ত্রাসী দখলদার ইহুদীদের দ্বারা ফিলিস্তীনীদের উপরে চরম যুদ্ধাপরাধ করার পরও আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের প্রকাশ্য ইহুদী ধর্ম গ্রহণ করার পরও কী এদেশের মুসলমানরা আর্জেন্টিনা উন্মাদনায় উন্মত্ত থাকবে? গ্যালারীতে আর্জেন্টিনার সমর্থকরা, মুসলমান বলে মিশরীয় সমর্থকদের উপর মদ ছিটিয়ে ঘৃণা প্রকাশ করেছে।
১২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












