স্বাধীন সিকিমকে ভারতের হাতে তুলে দেয়ার লেন্দুপ দর্জির ঘটনা এবং পডকাষ্টে আলোচিত মন্তব্য:
“আঃলীগ আবার ক্ষমতায় আসলে কি করবে তার পরিকল্পনা ফাঁস আঃলীগ ক্ষমতায় আসলে সেনাবাহিনী বিলুপ্ত করে ভারতের সেনাবিাহিনীকে দেশ রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হবে।”
এ প্রসঙ্গে আওয়ামীলীগের দায়িত্বশীলদের শক্ত জবাব জাতি জানতে চায়। (পর্ব-১)
, ০৭ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৩ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ২২ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ০৭ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) মন্তব্য কলাম
(১)
বিটিশরা বিদায় নিলেও মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তান যাতে প্রতিষ্ঠিত না হতে পারে সে বিষয়ে গান্ধী ও নেহরুর নেতৃত্বে কংগ্রেস এবং ভারতীয় হিন্দুরা শেষ পর্যন্তও চেষ্টা করেছিল।
পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠা ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় দলের ভেতরে-বাইরে তীব্র নিন্দা-সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছিলো গান্ধী ও নেহরু। অমন এক অবস্থার মধ্যেই নেহরু তার ভিসন বা স্বপ্নের কথা জানিয়েছিলো। বলেছিলো ‘তার ভারত মাতার’ এই বিভক্তি নিতান্তই সাময়িক ব্যাপার। ভারতকে আবারও পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে। অর্থাৎ এক রাষ্ট্রে পরিণত করা হবেÑ ‘তার ভারত মাতা’ অখন্ডই থাকবে। নেহরুর এ ‘ভিসন’কে দলীয় প্রস্তাব আকারে গ্রহণ করেছিল কংগ্রেস। এটা পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরের মাস ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বরের ঘটনা। ভারতকে অখন্ড তথা পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কর্মকান্ডও শুরু হয়েছিল তখন থেকেই।
১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে সিকিমও স্বাধীন রাষ্ট্রের অবস্থান অর্জন করেছিল। ১৯৬৮ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ বা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসস উইং গঠিত হওয়ার পর। ‘র’ সিকিম ও ভুটানকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছিল। কিন্তু ১৯৬৮ সালেই জাতিসংঘের সদস্যপদ পেয়ে যাওয়ায় ভুটান ‘র’-এর হাতছাড়া হয়ে যায়। ‘র’ তখন সিকিমের দিকে হাত বাড়ায় এবং দালাল হিসেবে বেছে নেয় রাজনীতিক লেন্দুপ দর্জিকে।
লেন্দুপ দর্জি একটি আলোচিত নাম। আলোচিত চরিত্র। বিশ্বাসঘাতকতার প্রতীক। ভারতীয় আধিপত্যবাদের সেবাদাস। সিকিমের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী।
সত্তরের দশক থেকেই নেহেরু-প্রভাবিত কাজী লেন্দুপ দর্জি তার দল সিকিম ন্যাশনাল কংগ্রেসকে ব্যবহার করে ব্যপক অরাজকতা সৃষ্টি করে। রাজপ্রাসাদের সামনে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়লে ইন্দিরা সরকার রাজার নিরাপত্তার কথা বলে ভারতীয় বাহিনী পাঠায়। কিন্তু তারা মূলত রাজাকে গৃহবন্দী করেন, বহির্বিশ্বের সাথে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং বি এস দাশকে ভারত সরকার সিকিমের প্রধান প্রশাসক নিয়োগ করে।
৬ এপ্রিল ১৯৭৫ সালের সকালে সিকিমের রাজা যখন নাস্তা করতে ব্যস্ত সে সময় ভারতীয় সৈন্যরা রাজপ্রাসাদ আক্রমণ করে এবং রাজাকে বন্দী করে প্রাসাদ দখল করে নেয়। ২৬ এপ্রিল সিকিমকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের ২২তম রাজ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সিকিম সেনাবাহিনীকে সহায়তা ও প্রশিক্ষণ দিয়েছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। তারা একটি স্বাধীন রাষ্ট্রকে গ্রাস করে ভারতের প্রদেশে পরিণত করে।
ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সাবেক পরিচালক তার বই 'ইনসাইড র' -এ উল্লেখ করে, 'সিকিম দখলের জন্য ভারত কৌশলগত পরিস্থিতি তৈরি করতে আন্দোলন, সন্ত্রাস, এবং সাম্প্রদায়িক বিভেদকে ব্যবহার করেছে। সিকিমের রাজতন্ত্রবিরোধী নেতা লেন্দুপ দর্জি ভারতীয় সংস্থাগুলোর সহায়তায় এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন।'
'লেন্দুপ দর্জি নিজেই বলেছে, ‘ভারতের ইনটেলিজেন্স ব্যুরোর লোকেরা বছরে দু’তিনবার তার সাথে দেখা করে পরামর্শ দিত কিভাবে আন্দোলন পরিচালনা করা যাবে। তাদের একজন এজেন্ট তেজপাল সেন ব্যক্তিগতভাবে তাকে অর্থ দিয়ে যেতো এ আন্দোলন পরিচালনার জন্য। এ অর্থ দিয়ে রাজনৈতিক সন্ত্রাস পরিচালিত হতো।’
সিকিমের চোগিয়ালের তৎকালীন এডিসি ক্যাপ্টেন সোনাম লিখেছে, 'ভারতীয় সামরিক বাহিনীর সদস্যরা বেসামরিক পোশাকে রাজার বিরুদ্ধে গ্যাংটকের রাস্তায় মিছিল, আন্দোলন ও সন্ত্রাস করত। নেহেরুর পরামর্শ, মদদ ও উৎসাহে সিকিম ন্যাশনাল কংগ্রেস গঠন করেছিলো লেন্দুপ দর্জি। শ্লোগান তুলেছিলো, ‘গণতন্ত্রের সংগ্রাম চলছে, চলবে’।'
লেন্দুপ দর্জির গণতন্ত্রের শ্লোগান শুনে সিকিমের সাধারণ জনগণ ভাবতেই পারেনি, এই শ্লোগানের পিছনে প্রতিবেশী দেশ একটি জাতির স্বাধীনতা হরণ করতে আসছে। সিকিমের জনগণকে দ্বিধাবিভক্ত করে ভারত তার আগ্রাসন সফল করতে এবং এক পক্ষকে ক্ষমতায় এনে তাদের দ্বারা দেশ বিক্রির প্রস্তাব তুলে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করতে পেরেছিল।
সিকিমের স্বাধীনতা হারানোর গল্প কেবল রাজনৈতিক এবং সামরিক চক্রান্তের ফল নয়, বরং এটি একটি স্বাধীন জাতির অভ্যন্তরীণ বিভেদের সুযোগ নিয়ে সার্বভৌমত্ব হারানোর করুণ অধ্যায়।
(২)
প্রসঙ্গত, প্রখ্যাত সৌদি সাংবাদিক, রাজনীতিক বিশ্লেষক এবং গালফ এয়ারের পরিচালক, সৌদি শাসকের সমালোচক আলী আল আহমেদ সম্প্রতি এক পডকাষ্টে, উপস্থাপকের সাথে সহমত পোষণ করে বলেন-
“আঃলীগ ক্ষমতায় আসলে সেনাবাহিনী বিলুপ্ত করে ভারতের সেনাবিাহিনীকে দেশ রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হবে।”
পডকাষ্টে আরো আলোচনা হয়-
“আওয়ামী লীগ যদি আর একটা বার সুযোগ পায় তাহলে গতবার যেই ভুল করছে এই ভুল তারা আর করবে না। তারা এই দেশকে পুরোপুরি ভারতের কাছে তুলে দিয়ে, ভারতের অঙ্গরাজ্য হিসেবে তুলে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সে শপথ নেবে।
পডকাষ্টে আওয়ামী লীগের একজন নেত্রীর ভাষ্য তুলে ধরা হয়। আওয়ামী নেত্রী বলে- ” আমি কোনো সেনাবাহিনীর কোনো ধরনের প্রয়োজনীয়তা দেখি না। নৌ বাহিনীরও নেই আর বিমান বাহিনীরও দেখি না। আমাদের যদি একটা প্রতিরক্ষা চুক্তি করে ফেলে, একটা সামরিক চুক্তি করে ফেলে that's enough for us. এই burden থেকেও আমরা মুক্তি পাই। আর হলো যে ভারত আমাদের সুরক্ষা দেবে এবং আমাদের আর্থিকভাবে অনেকটাই safe হয়। এত বড় সেনাবাহিনীরকে খাইয়ে পড়িয়ে রাখা জাতির জন্য যে একটা burden plus ওরা হলো বিতত্রেয়ার। আমি বলব আমাদের নেত্রী এত সহজ সরল যে সেনাবাহিনী তার পুরো পরিবারকে হত্যা করেছে, তাদের তিনি কীভাবে trust করেন? (নাউযুবিল্লাহ)” (ইনশাআল্লাহ চলবে)
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুসলমানকে ‘মুসলমানিত্ব’ বুঝতে হবে। ‘আশহাদু আন্না মুহম্মাদার রসূলুল্লাহ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাক্বীক্বীভাবে বলতে হবে ও আমলে আনতে হবে।
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রতি বছর শুধু অসুস্থতার কারণে প্রায় ৬৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছে।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রধানমন্ত্রী নিজেই ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেয়া শুরু করেছেন। বাতিল হয়েছে ‘রাষ্ট্রপতির’ সাথে ‘মহামান্য’ শব্দ ব্যবহারও।
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাংলাদেশের সামরিক ব্যয় গত দশকগুলোতে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধি মূলত বেতন, স্থায়ী খরচ এবং চলমান পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়েছে। তবে সামরিক আধুনিকায়ন, সমরাস্ত্র ক্রয় এবং নতুন প্রযুক্তি সংযোজনের জন্য মোট বাজেটের মাত্র ২-৪ শতাংশ ব্যয় হয়েছে।
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ্র পরিক্রমায় চললেই সে প্রজ্ঞা পাওয়া সম্ভব ইনশাআল্লাহ
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!!!!
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সরকারের ঋণের পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ কোটি টাকা
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
তবে কি সাবেক সরকারের অসমাপ্ত ষড়যন্ত্রের সমাপনীর পথেই হাঁটতে চাইছে বর্তমান সরকার?
০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুসলিম দেশগুলোর উচিৎ মক্কা চুক্তিকে আরো বিশুদ্ধ ও বিস্তৃত করা যাতে ভারতের গোস্বা এত বাড়ে যে তাদের গোস্বার অনলেই তারা জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়
০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












