বন্যার পর নদী ভাঙনে নিঃস্ব মানুষ নদীভাঙনে দিশাহারা মানুষের খবর রাখে না সরকার
নদীভাঙনে গত এক দশকে বাস্তুচ্যুত লাখ লাখ মানুষ, নদী ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিন
নদীর ভাঙ্গনে দেশের ভূখন্ড কমে যাচ্ছে
, ১০ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৬ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৫ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ১০ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) মন্তব্য কলাম
বর্ষার টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের পাহাড়ি ঢলে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলো ফুঁসে উঠেছে। তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, মেঘনা থেকে শুরু করে দক্ষিণের পায়রা বা উত্তরের মৃগী সবখানেই এখন আগ্রাসী রূপ। কোথাও নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে, কোথাওবা পানি নামতে শুরু করেছে। কিন্তু নদীর এই পানি বাড়া ও কমার দোলাচলেই ঘটছে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র গ্রোতের টানে পাড়ের মাটি ধসে পড়ছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যমতে এবং প্রতিনিধিদের পাঠানো সরেজমিন চিত্রে দেখা যায়, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নীলফামারী, রংপুর, শেরপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, লক্ষীপুর ও পটুয়াখালীর বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে এখন নদীভাঙনের ভয়াল তা-ব চলছে। কোথাও গ্রোতের তোড়ে ভেঙে যাচ্ছে শত শত বসতভিটা, কোথাও তলিয়ে যাচ্ছে হাজার একর ফসলি জমি, আবার কোথাও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে থমকে গেছে জনজীবন।
‘মোর আর কিছু থাকিল না’
নদীভাঙনের মানবিক বিপর্যয়ের চিত্রটি বড়ই করুণ। পটুয়াখালী সদরের চাঁন্দোখালী গ্রামের ৭৭ বছর বয়সী বৃদ্ধ সজীব মিয়ার নির্বাক দৃষ্টি যেন সেই ট্র্যাজেডিরই প্রতিচ্ছবি। প্রায় ছয় দশক ধরে নদীর সঙ্গে যুদ্ধ করা এই মানুষটি জীবনে পাঁচবার ঘর সরিয়েছেন। শেষ সম্বল আর ঋণ করা টাকায় একটি পাকা ঘর তুলেছিলেন, ভেবেছিলেন জীবনের বাকি দিনগুলো শান্তিতে কাটবে। কিন্তু পায়রা নদী কয়েক দিন আগে তার সেই গোয়ালঘর ও পাকা ঘরের একাংশ গিলে খেয়েছে। সর্বস্বান্ত সজীব বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে এই নদীর পাড়ে আছি। নদী আমার জমি নিছে, ঘর নিছে। আর কতবার সরাব? এখন আর যাওয়ার কোনো জায়গা নেই।’
রংপুরের তিস্তার পানির তোড়ে স্বেচ্ছাশ্রমে গড়া বাঁধ ভেঙে এক রাতেই পথে বসেছেন নোহালী গ্রামের শাহজাহান মিয়া। তার ১১ একর জমি, ৮০ শতকের বসতভিটা আর দেড় একরের পুকুর চোখের সামনেই বিলীন হয়ে গেছে। বুকফাটা কান্নায় তিনি বলেছেন, ‘মোর আর কিছু থাকিল না। সউগ (সব) নদী কাড়ি নিল। এই যে নদী সউগ নিয়া গেইল, মোর এই ক্ষতি কায় (কে) পুষে দিবে?’
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক অবস্থা নীলফামারীর সদর উপজেলার ঈমানী গ্রামের মুসলিম আক্তারের। নদীর গ্রোত যে কেবল ঘরবাড়ি নেয় তা নয়, কেড়ে নেয় প্রিয়জনের শেষ স্মৃতিচিহ্নটুকুও। তিনি বলেন, ‘গেল বছর নদীতে তলিয়ে গেছে আদরের মেয়ে আর শ্বশুরের কবর। এবার বসতভিটাটুকুও নদীতে যাওয়ার পথে।’ নূরপুরের চরবংশীর রহিমা বেগমদের মতো হাজারো নারীর এখন রাত কাটে নির্ঘুমে এই বুঝি জোয়ারের পানি এসে ভাসিয়ে নিয়ে গেল আদরের সন্তানদের!
পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তাসহ বড় ও মাঝারি অনেক নদ-নদীতে প্রতিবছর ভাঙন হয়। এই ভাঙনের শিকার মানুষ কীভাবে বেঁচে থাকেন-সরকার তার কোনো খবর রাখে না। গ্রামের পর গ্রাম চোখের সামনে বিলীন হয়। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী কিংবা বিত্তহীন অনেকেই দারিদ্র্যসীমার তলানিতে পড়েন। খাবার নেই, থাকার স্থান নেই, চিকিৎসা নেওয়ার সামর্থ্য নেই-এসব মানুষের জন্য রাষ্ট্র কখনো মানবিক আচরণ করে না।
নদী ভাঙন কোনো দলীয় বা গোষ্ঠীগত সমস্যা নয়; এটি একটি মানবিক, সামাজিক এবং পরিবেশগত সংকট। প্রশাসনের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
বাংলাদেশের অভ্যন্তর দিয়ে ৫৪টি আন্তর্জাতিক নদী প্রবাহিত। দেশের এসব নদীর প্রায় ১৩০টি স্থানে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্যভাবে নদী ভাঙ্গনের ঘটনা ঘটছে।
সিইজিআইএসের সমীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা গেছে ১৯৭৩ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত যমুনার ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে দেশের ৯০ হাযার ৩৬৭ হেক্টর এলাকা। এভাবে প্রতিবছর পদ্মা নদীর ভাঙ্গনের শিকার হচ্ছে চাঁপাই নবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নাটোর, কুষ্টিয়া, পাবনা ও রাজবাড়ী যেলা।
সরকার নদীভাঙনের শিকার মানুষদের গৃহনির্মাণ করে দেওয়ার নীতিমালা এবং তা প্রয়োগের দৃষ্টান্ত হাজির করতে পারে।
সরকার ইতোমধ্যে কৃষক কার্ড সহ প্রবাসী কার্ডের কথা বলছে। কিন্তু সবচেয়ে মানবিক ও করুণ কাহিনীর স্বীকার নদীভিাঙ্গনে সর্বশান্তদের জন্য নদীভাঙ্গা সহায়তা কার্ড কোথায়?
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুসলমানকে ‘মুসলমানিত্ব’ বুঝতে হবে। ‘আশহাদু আন্না মুহম্মাদার রসূলুল্লাহ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাক্বীক্বীভাবে বলতে হবে ও আমলে আনতে হবে।
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রতি বছর শুধু অসুস্থতার কারণে প্রায় ৬৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছে।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রধানমন্ত্রী নিজেই ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেয়া শুরু করেছেন। বাতিল হয়েছে ‘রাষ্ট্রপতির’ সাথে ‘মহামান্য’ শব্দ ব্যবহারও।
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাংলাদেশের সামরিক ব্যয় গত দশকগুলোতে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধি মূলত বেতন, স্থায়ী খরচ এবং চলমান পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়েছে। তবে সামরিক আধুনিকায়ন, সমরাস্ত্র ক্রয় এবং নতুন প্রযুক্তি সংযোজনের জন্য মোট বাজেটের মাত্র ২-৪ শতাংশ ব্যয় হয়েছে।
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ্র পরিক্রমায় চললেই সে প্রজ্ঞা পাওয়া সম্ভব ইনশাআল্লাহ
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!!!!
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সরকারের ঋণের পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ কোটি টাকা
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
তবে কি সাবেক সরকারের অসমাপ্ত ষড়যন্ত্রের সমাপনীর পথেই হাঁটতে চাইছে বর্তমান সরকার?
০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুসলিম দেশগুলোর উচিৎ মক্কা চুক্তিকে আরো বিশুদ্ধ ও বিস্তৃত করা যাতে ভারতের গোস্বা এত বাড়ে যে তাদের গোস্বার অনলেই তারা জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়
০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












