দেশের জনগণ, দেশের বাজার, সিন্ডিকেট ইত্যাদির কথা না ভেবেই পোলাওর চালের রফতানী কোটা দ্বিগুণ করা হলো।
বিশ্বের ১৩০টি দেশ বাংলাদেশী পোলাওর চালের স্বাদ নিতে পারলেও বঞ্চিত হলো এবং হচ্ছে বাংলাদেশের গরীব জনসাধারণ।
পোলাওর চাল রফতানী নীতিতে ‘বাংলাদেশ প্রথম’- নীতির প্রতিফলন সম্পূর্ণই ব্যর্থ ও আত্মঘাতী।
, ১৪ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ৩০ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৯ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ১৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) বিশেষ প্রতিবেদন
গত সাত বছরে দেশে সুগন্ধি চালের উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। প্রচলিত সেদ্ধ চালের তুলনায় কৃষকরা বেশি দাম পাওয়ায় তারা এই ধান উৎপাদনে আগ্রহী।
ব্রি'র তথ্য বলছে, দেশে বর্তমানে ৩৩ ধরনের সুগন্ধি ধানের চাষ হচ্ছে।
স্থানীয় জাতগুলো চাষে বিঘাপ্রতি ধান পাওয়া যায় ১৮৭ থেকে ২৯৯ কেজি। উচ্চ ফলনশীল জাতে প্রতি বিঘায় ধান পাওয়া যায় ৪৪৮ থেকে ৮২১ কেজি।
রপ্তানি নীতি আদেশ অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে চাল রপ্তানি নিষিদ্ধ। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আগাম অনুমোদন নিয়ে সুগন্ধি চাল রপ্তানির সুযোগ রয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে সরকার সুগন্ধি ও অন্যান্য চাল রপ্তানির ওপর অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা দেয়। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষার লক্ষ্যে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
গত ২০২৫ সালে সরকার ২৩ হাজার ৯৫৯ টন চাল রফতানির অনুমতি দিয়েছিল; কিন্তু চলতি বছর পুরনো রফতানির সময়সীমা শেষ হওয়ার পরপরই দ্বিগুণ পরিমাণ রফতানির অনুমোদন দেওয়ায় বাজারে এই তীব্র সংকট ও মজুদদারির সৃষ্টি হয়েছে।
বর্তমান সরকারের আমলে দুই দফায় ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে রফতানির অনুমতি দেয়া হয়। এ খবরে বিগত কয়েক মাসের ব্যবধানে দেশের ইতিহাসে রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে সুগন্ধি চালের বাজারদর। এতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে হোটেল-রেস্তোরাঁর ব্যবসায়ীদের ওপর এবং গরীব জনসাধারণের উপর।
দুই মাস আগেও দেশের বাজারে সুগন্ধি চালের মধ্যে চিনিগুঁড়ার খুচরা দাম ছিল কেজিপ্রতি সর্বনিম্ন ১১০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে। বর্তমানে দাম বেড়ে সর্বনিম্ন ১৭০ থেকে ২০০ টাকায় উঠে গেছে। এর মধ্যে মোড়কজাত ব্র্যান্ডেড কোম্পানিগুলোর চিনিগুঁড়া চালের দাম কেজিপ্রতি ২০০ টাকা ছাড়িয়েছে। চাহিদাসম্পন্ন চিনিগুঁড়া চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাজারে বিভিন্ন জাতের চাল মিশ্রিত করে ভেজাল চিনিগুঁড়া চালের দৌরাত্ম্য বেড়ে গেছে। ব্যবসায়ীদের একটি শ্রেণী আতপ কাটারিসহ বিভিন্ন সরু চাল চিনিগুঁড়ার সঙ্গে মিশিয়ে কম দামে বিক্রির মাধ্যমে ভোক্তাদের ঠকাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
দুই মাসের ব্যবধানে দুই দফায় ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দেয়ায় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। কয়েক বছর ধরে দেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় সুগন্ধি চালের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় রফতানির কারণে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
দফায় দফায় রফতানির সময়সীমা বাড়ানোর ফলে দেশের বাজারে রফতানিকে কেন্দ্র করে কৃত্রিম সংকট ও মজুদদার শ্রেণী তৈরি হচ্ছে। এতে দেশের বাজারে সুগন্ধি চালের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে।
‘কয়েক মাসের ব্যবধানে চিনিগুঁড়া চালের দাম বস্তাপ্রতি ৪ হাজার ৫০০ টাকা বেড়ে গেছে। কিন্তু ব্যবসায়িক মন্দায় চাইলেও ভাত কিংবা পোলাও-বিরিয়ানির দাম বাড়ানো যাচ্ছে না। ফলে লাভের হার অস্বাভাবিক কমে ব্যবসায় বড় ধরনের সংকটের মধ্যে রয়েছেন সাধারণ হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিকরা।’
দেশে চলতি বছর ঢালাওভাবে সুগন্ধি চাল রফতানির অনুমতি দেওয়ার প্রভাবে বিগত কয়েক মাসের ব্যবধানে এর বাজারদরে দেশের ইতিহাসে এক সর্বকালের রেকর্ড তৈরি হয়েছে। রফতানির সুযোগে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় উৎসব-আয়োজনের অন্যতম অনুষঙ্গ এই সুগন্ধি বা চিনিগুঁড়া চাল এখন সাধারণের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
বিশেষ করে ঈদ উৎসব, ঘরে মেহমান বা বিশেষ করে গরীবের বিয়ে অনুষ্ঠানে সুগন্ধি চাল বা পোলাওয়ের চালের অতিরিক্ত বাড়তি দাম এখন অতিরিক্ত বাড়তি কষ্টের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশী পোলাও চালে সমৃদ্ধ ও সুখী এবং খুশী হচ্ছে বিদেশীরা।
এ পর্যন্ত বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ব্রুনেই, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিশ্বের ১৩০টির বেশি দেশে সুগন্ধি চাল রপ্তানি হয়েছে।
কিন্তু দেশের গরীব, নিম্নবিত্ত তথা মধ্যবিত্ত শ্রেণী এখন পোলাওর স্বাদ নেয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। উৎসবেও খাবার তালিকা থেকে বাদ যাচ্ছে। ইলিশের মত পোলাওর স্বাদও ভূলতে বসেছে বাংলাদেশের জন সাধারণ।
এই কী তবে বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতির প্রতিফলন। এই প্রতিশ্রুতি কী নিছকই প্রচারণা? নাকি প্রতারণা?
এ প্রশ্ন এখন খুবই আলোড়িত হচ্ছে। জনমনে আন্দোলিত হচ্ছে। সরকারের সচেতন হওয়া দরকার।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
৯৮ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত দেশে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় সব নাগরিকের জন্য সামরিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে হবে।
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নতুন সেনানিবাস ও গ্যারিসন পরিকল্পনার অপরিহার্য রূপরেখা (পর্ব-১৮)
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
দ্বীন ইসলাম উনার কথা বলা দ্বীনি এবং সাংবিধানিক অধিকার।
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গোল্ডেন রাইস বহুজাতিক কোম্পানির এগ্রিবিজনেসের নতুন হাতিয়ার
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
৫০ লক্ষাধিক সেনাসদস্যের প্রস্তাবিত স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ এবং ক্লোজ কোয়ার্টার কমব্যাট প্রশিক্ষণ (পর্ব১৫)
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “যার সাথে মহব্বত, পরকালে তার হাশর-নশর তার সাথেই হবে।” (সহীহ বুখারী, হাদীছ নং- ৬১৬৯)
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
চিকিৎসা সক্ষমতা এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের সমীকরণ (পর্ব ১৪)
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৫০ লক্ষাধিক বাহিনীর পার্সোনাল ট্যাকটিক্যাল ও সারভাইভাল লজিস্টিকসের কৌশলগত হিসাব (পর্ব ১৩ : ২য় অংশ)
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৫০ লক্ষাধিক বাহিনীর পার্সোনাল ট্যাকটিক্যাল ও সারভাইভাল লজিস্টিকসের কৌশলগত হিসাব (পর্ব ১৩ : ১ম অংশ)
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলিম যোদ্ধাদের মস্তক ছিন্ন করে বাক্স বন্দী করে “যুদ্ধের ট্রফি” হিসেবে নিয়ে যেতো প্যারিসে (২)
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
দেশবাসীকে কর মুক্ত এবং মূল্যস্ফীতি মুক্ত বাজেট তথা শায়েস্তাখাঁর আমলের মত সস্তা দ্রব্য মূল্যের বাজেট এমনিতেই উপহার দেয়া যাবে ইনশাআল্লাহ
০৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ব্রেন টিউমারের ঝুঁকি বেশি কাদের?
০৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












