সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৪তম পর্ব)
, ০১ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৯ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৯ মে, ২০২৬ খ্রি:, ০৫ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) আইন ও জিহাদ
সম্মানিত জিহাদের উদ্দেশ্যে রওয়ানা:
পবিত্র শাওওয়াল শরীফ ইয়ামুল জুমুয়াহ পবিত্র আছর নামায উনার পর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এক হাজার সৈন্যসহ পবিত্র মদীনা শরীফ থেকে রওয়ানা হন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার ঘোড়া মুবারকের উপর ছাওয়ার হন। হযরত সা’দ ইবনে মুয়াজ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত সা’দ ইবনে উবাদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারা বর্ম পরিহিত অবস্থায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সামনে সামনে যাচ্ছিলেন। আর অন্যান্য হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ডানে বামে ও পিছনে পিছনে আসছিলেন। পথিমধ্যে থেকে কাট্টা মুনাফিক সরদার উবাই বিন সুলূল সে ৩০০ জন সহচর নিয়ে পিছন দিকে পালিয়ে গেলো। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মোট ৭০০ জন ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে নিয়ে সফর মুবারক করতে লাগলেন। সুবহানাল্লাহ!
‘তাবাকাতে ইবনে সা’দ’ ও ‘যুরকানী’ কিতাবে উল্লেখ রয়েছে, পবিত্র মদীনা শরীফ উনার বাইরে বেরিয়ে যখন উনারা ‘শাইখাইন’ নামক স্থানে পৌঁছলেন তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মুজাহিদ কাফিলাকে পর্যবেক্ষণ ও যাচাই বাছাই করলেন। ‘শাইখাইন’ দু’টি টিলার নাম। পবিত্র মদীনা শরীফ ও উহুদ পাহাড়ের মাঝামাঝি এই স্থান অবস্থিত। এ এলাকায় এক অন্ধ বৃদ্ধ এবং এক অন্ধ বৃদ্ধা মহিলা বাস করতো। তাই এ টিলা দুটোর শাইখাইন (দুই বয়স্ক) নামকরণ করা হয় এবং তা ব্যাপকতা লাভ করে। (সীরতে মুস্তফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
ইবনে ইসহাক বলেন, “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র উহুদের এক ঘাঁটিতে গিয়ে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করলেন। এই স্থানটি ছিলো উহুদ পাহাড়ের পাশে উপত্যকার সমতল ভূমিতে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উহুদ পাহাড়কে পিছনে রেখে অবস্থান মুবারক নিলেন। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে তিনি উহুদ পাহাড়ের দিকে অবস্থান করার জন্য বললেন এবং উটগুলোও রাখলেন। তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে নির্দেশ মুবারক দিলেন আপনাদের কেউ যেন জিহাদ না করেন, যতক্ষণ পর্যন্ত নির্দেশ মুবারক না দেয়া হয়।
অন্যদিকে কুরাইশ কাফির মুশরিকরা তাদের উট ও ঘোড়াগুলো ঘাস খাওয়ার জন্য ছেড়ে দিয়েছিলো পাহাড়ের খালের তীরে শ্যামল শস্যক্ষেতে। আর এই ক্ষেতগুলোর মালিক ছিলেন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা। জনৈক আনছার ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! বনূ কায়লাহ অর্থাৎ আউস ও খাযরাজ উনাদের ক্ষেতে কাফির মুশরিকরা তাদের পশু চরাচ্ছে, দয়া করে আপনি অনুমতি মুবারক দিন আমরা আমাদের তরবারি দিয়ে তাদের উপযুক্ত শিক্ষা দেই। অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জিহাদের প্রস্তুতি নিতে শুরু করলেন।
ইবনে ইসহাক বলেন-
وَتَعَبّى رَسُولُ اللّهِ صَلّى اللّهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ لِلْقِتَالِ وَهُوَ فِي سَبْعِ مِائَةِ رَجُلٍ وَ أَمّرَ عَلَى الرّمَاةِ حَضْرَتْ عَبْدَ اللّهِ بْنَ جُبَيْرٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَخَا بَنِي عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ وَهُوَ مُعَلّمٌ يَوْمئِذٍ بِثِيَابِ بِيضٍ وَالرّمَاةُ خَمْسُونَ رَجُلًا، فَقَالَ انْضَحْ الْخَيْلَ عَنّا بِالنّبْلِ، لَا يَأْتُونَا مِنْ خَلْفِنَا، إنْ كَانَتْ لَنَا أَوْ عَلَيْنَا، فَأَثْبُت مَكَانَك لَا نُؤْتَيَنّ مِنْ قِبَلِك. وَظَاهَرَ رَسُولُ اللّهِ صَلّى اللّهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ بَيْنَ دِرْعَيْنِ وَدَفَعَ اللّوَاءَ إلَى حَضْرَتْ مُصْعَب بْنِ عُمَيْرٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَخِي بَنِي عَبْدِ الدّارِ.
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন জিহাদের জন্য প্রস্তুতি নিলেন তখন উনার সাথে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সংখ্যা ছিলেন ৭০০ জন। তিনি তীরন্দাজ বাহিনীর প্রধান রূপে বনূ আমর ইবনে আওফ গোত্রের হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে নিযুক্ত করেন। সেদিন তিনি ছিলেন সাদা পোশাক পরিহিত। তীরন্দাজ বাহিনী সংখ্যায় ছিলেন ৫০ জন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, তীর নিক্ষেপ করে আপনারা শত্রুপক্ষের অশ্বারোহী বাহিনীকে প্রতিরোধ করবেন। তারা যেন আমাদের পিছন দিক থেকে আসতে না পারে। জিহাদের ফলাফল আমাদের পক্ষে হোক কিংবা বিপক্ষে হোক আপনারা এই গিরিপথে অবিচল থাকবেন। আপনাদের ঐ দিক থেকে আমাদের উপর যেন কোন আক্রমণ না আসে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দু’টি লৌহবর্ম মুবারক পরিহিত ছিলেন। তিনি হযরত মুসয়াব ইবনে উমাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হাত মুবারকে পতাকা মুবারক অর্পণ করেন। তিনি ছিলেন বনূ আব্দুদদারের লোক। (সীরাতুন নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি, সীরাতু লি- ইবনে হাব্বান, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলূক, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া)
(ইনশাআল্লাহ চলবে)
-আল্লামা সাইয়্যিদ শা’বীব আহমদ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৮)
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৭)
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৭)
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়:(১৫তম পর্ব)
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৬)
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৬)
২০ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৫)
১৮ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৫)
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৩তম পর্ব)
১২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৪)
১১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১২তম পর্ব)
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৩)
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












