সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১ম পর্ব)
, ০৭ শাবান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৯ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ১৩ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) আইন ও জিহাদ
পবিত্র মদীনা শরীফ উনার সুপরিচিত উহুদ পাহাড়ের নামে সম্মানিত উহুদ জিহাদের নামকরণ করা হয়। পাহাড়টি অন্য পাহাড়ের সাথে যুক্ত না থেকে একক হওয়ায় এর নাম করণ হয়েছে। এই পাহাড়ের পর ত্বায়েফের পাহাড় শুরু হয়েছে। এই সম্মানিত পাহাড়ের কতগুলো চূড়া রয়েছে। এর সরাসরি দক্ষিণে ছোট পাহাড়টির নাম আয়নায়েন। যা পরবর্তীতে জাবালুর রুমাত বা তীরন্দাযদের পাহাড় বলে পরিচিত হয়। এ দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী বৃহৎ উপত্যকার নাম ওয়াদে কুনাত। যেখানে সম্মানিত উহুদ জিহাদ সংঘটিত হয়।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
قَالَ النَّبِي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُحُدٌ جَبَلٌ يُحِبُّنَا وَنُحِبُّهُ.
“সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, উহুদ এমন এক পাহাড় যেই সম্মানিত পাহাড়টি আমাদেরকে মুহব্বত করে এবং আমরাও উনাকে মুহব্বত করি।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ: পবিত্র হাদীছ শরীফ নং-১৪৮২, মুসলিম শরীফ: পবিত্র হাদীছ শরীফ নং- ৩৪৭০)
কোন কোন ঐতিহাসিক উনারা অত্র পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার অর্থ করেছেন এভাবে, “আমরা সম্মানিত উহুদ পাহাড়ের আশে-পাশের অধিবাসী উনাদেরকে মুহব্বত করি আর উনারাও আমাদেরকে মুহব্বত করেন।” সুবহানাল্লাহ!
আরো উল্লেখ রয়েছে, সফর থেকে ফেরার পথে সম্মানিত উহুদ পাহাড় দৃষ্টিগোচর হলে বুঝা যায় যে, বাড়ীর কাছে এসে পৌঁছেছে। সম্মানিত উহুদ পাহাড় যেন সম্মানিত মুসলমান মুসাফির উনাদেরকে উনাদের বাড়ী-ঘরের নিকটবর্তী পৌঁছার সুসংবাদ দেন যেমন প্রিয়জন তার প্রিয়জনকে সুসংবাদ প্রদান করে।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
قَالَ رَسُولُ اللّهِ صَلّى اللّهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ أُحُدٌ يُحِبّنَا وَنُحِبّهُ وَهُوَ عَلَى بَابِ الْجَنّةِ.
“সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সম্মানিত উহুদ পাহাড় আমাদেরকে মুহব্বত করেন। আর আমরাও উনাকে মুহব্বত করি। সেটি জান্নাতের দরজায় অবস্থিত।” সুবহানাল্লাহ! (উমদাতুল কারী, রওদ্বূল উনূফ, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া)
পবিত্র মক্কা শরীফের কাফির মুশরিকদের সংঘবদ্ধ ও যুদ্ধের প্রস্তুতি:
সম্মানিত বদর জিহাদে যখন কুরাইশ কাফির মুশরিকরা চরম ভাবে লাঞ্চিত ও পরাজিত হলো এবং তাদের পরাজিত দল পবিত্র মক্কা শরীফে ফিরে এলো, আর এদিকে হযরত আবূ সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি (তখনও সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেননি) ও উনার বানিজ্যিক কাফিলা নিয়ে পবিত্র মক্কা শরীফে এলেন, তখন আব্দুল্লাহ ইবনে রবীয়া, হযরত ইকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (তিনি তখনও উনার ঈমান প্রকাশ করেননি), সাফওয়ান ইবনে উমাইয়া প্রমূখ কুরাইশ কাফির মুশরিকদের আরও কিছু ব্যক্তি যাদের পিতা-পুত্র কিংবা ভাই সম্মানিত বদর জিহাদে নিহত হয়েছিল। তারা হযরত আবূ সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে ও কুরাইশ কাফির মুশরিকদের মধ্যে সেই কাফিলায় যাদের বাণিজ্যিক পণ্য ছিল, তাদেরকে লক্ষ্য করে বলল; হে কুরাইশ কাফির মুশরিক সম্প্রদায়রা! যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তোমাদের শিকড় উৎপাটন করে দিয়েছেন। তোমাদের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদেরকে হত্যা করেছেন। সুতরাং তোমরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য ধন-সম্পদ দ্বারা আমাদের সাহায্য কর, যাতে আমরা উনাদের থেকে আমাদের মধ্যে যারা নিহত হয়েছে, তাদের প্রতিশোধ নিতে পারি। তখন তাদের কথা মত কুরাইশ কাফির মুশরিকরা তাই করলো। সেই বানিজ্যিক কাফিলায় যত ধন-সম্পদ, অস্ত্র ছিলো সবগুলো সম্মানিত উহুদ যুদ্ধে তথা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধে ব্যয় হবে বলে সবাই ওয়াদাবদ্ধ হলো। নাউযুবিল্লাহ!
হযরত ইবনে ইসহাক্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, অনেক আলিম আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তাদের সম্পর্কেই নিম্নোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল হয়।
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا يُنفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ لِيَصُدُّوا عَن سَبِيلِ اللَّـهِ ۚ فَسَيُنفِقُونَهَا ثُمَّ تَكُونُ عَلَيْهِمْ حَسْرَةً ثُمَّ يُغْلَبُونَ ۗ وَالَّذِينَ كَفَرُوا إِلَىٰ جَهَنَّمَ يُحْشَرُونَ.
“নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার পথ থেকে লোকদেরকে নিবৃত্ত করার জন্য কাফিরেরা তাদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে, তারা তাদের ধন-স¤পদ ব্যয় করতেই থাকবে; এরপর তা তাদের মনকষ্টের কারণ হবে। তারপর তারা পরাভূত হবে এবং যারা কুফরী করে তাদেরকে জাহান্নামে একত্র করা হবে।” (পবিত্র সূরা আনফাল শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৬)
দেখা গেলো কুরাইশ কাফির মুশরিকরা সকলে মিলে এবং বানিজ্যিক কাফিলার উসকানিতে গোটা কুরাইশ সম্প্রদায় ও তাদের মিত্ররা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধে কেবল ঐক্যবদ্ধই হলো না বরং কিনানার গোত্রগুলো এবং তিহামার লোকেরা, যারা তাদের অনুগত ছিলো, তারাও তাদের সহযোগিতার জন্য তৈরী হলো। নাউযুবিল্লাহ! (চলবে)
-আল্লামা সাইয়্যিদ শা’বীব আহমদ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সকল কাফিররাই মুসলমানদের প্রকাশ্য শত্রু
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৭)
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র ফাতহে মক্কা অর্থাৎ পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয় দিবস
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৭)
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৬ষ্ঠ পর্ব)
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৬)
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মুহব্বত ঈমান, আর উনাদের সমালোচনা করা লা’নতগ্রস্ত হওয়ার কারণ
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৬)
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
দ্বীন ইসলাম ব্যতিত অন্য কোন তন্ত্র-মন্ত্র নিয়মনীতি শরীয়তসম্মত নয়
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৫ম পর্ব)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৫)
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৫)
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












