যুদ্ধাস্ত্র : ব্যালিস্টিক মিসাইল কীভাবে কাজ করে
, ০৮ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৭ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ১৪ বৈশাখ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পাঁচ মিশালী
ব্যালিস্টিক মিসাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র আধুনিক প্রযুক্তির এক বিস্ময়। দূরপাল্লায় হামলা চালানোর এই প্রযুক্তির মূলনীতি কিন্তু খুব সহজ। এই ক্ষেপণাস্ত্র উদ্ভাবন সম্ভব হয়েছে গতিবিদ্যার একটি সূত্র প্রয়োগের মাধ্যমে। সূত্রটি হলো- “প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে।”
মুসলিম বিজ্ঞানী হিবাতুল্লাহ আবুল বারাকাত আল বাগদাদী, উনার রচিত ‘আল মু’তাবার ফিল হিকমাহ’ কিতাবে এই সূত্রটি উল্লেখ করেন। এছাড়াও মুসলিম বিজ্ঞানী হাসান ইবনে হাইছাম উনার রচিত ‘আল মানাযির’ কিতাবে তিনি উল্লেখ করেছেন, “যদি চলমান বস্তু কোন প্রতিবন্ধকতা দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং বলের অস্তিত্ব থাকে তাহলে প্রতিবন্ধকের প্রতিক্রিয়ার কারণে চলমান বস্তুটি সমবেগে বিপরীত দিকে ফিরে আসে।”
উল্লেখ্য, এই সূত্রটি নিউটনের ৫৫০ বছর আগেই মুসলিম বিজ্ঞানীরা তাদের কিতাবে উল্লেখ করলেও এটিকে নিউটনের ৩য় সূত্র হিসেবে প্রচার করা হয়ে থাকে।
গতিবিদ্যার এই সূত্র থেকে থ্রাস্ট বা ধাক্কাকে ব্যাখ্যা করা যায়। এই ধাক্কার মাধ্যমেই ক্ষেপণাস্ত্র চলে। ক্ষেপণাস্ত্রের জ্বালানি বা প্রপেলান্ট একটি ইঞ্জিনে পোড়ানো হয়। প্রপেলান্ট পুড়ে যে উত্তপ্ত গ্যাস তৈরি হয়, তা একটি ফানেলের মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্রের বেজে ধাক্কা দেয়। এই ধাক্কায় ক্ষেপণাস্ত্র ওপর বা বিপরীত দিকে যাত্রা করে।
লিফট অফ করা বা বিপরীতে ধাক্কা দিয়ে ছুটে চলতে থ্রাস্ট ক্ষেপণাস্ত্রের ওজনের চেয়ে বেশি হতে হয়। থ্রাস্টের মাত্রা নির্ভর করে কয়েকটি বিষয়ের ওপর। গ্যাস যে গতিতে বের হয়, প্রপেলান্ট বা জ্বালানির ধরণ এবং পরিমাণ এবং কোন ধরনের ইঞ্জিন ব্যবহার হয়েছে।
ক্ষেপণাস্ত্র চলতে থাকে যতক্ষণ না এর প্রপেলান্ট ফুরিয়ে যায়। চলার সময়ে এটি সর্বোচ্চ গতিতে পৌঁছে যাবে এবং একই গতিতে চলতে থাকবে। যতক্ষণ না অন্য শক্তি এর ওপর কাজ করে। যেমন মাধ্যাকর্ষণ বা বায়ু। প্রপেলান্ট পুড়তে থাকা সময়কে বলে বার্নআউট সময়। এই সময়ে ক্ষেপণাস্ত্র যে বেগে পৌঁছায়, তাকে বলে বার্নআউট বেগ।
ক্ষেপণাস্ত্রের জ্বালানি কখন ফুরিয়ে যাবে, তা সঠিক গতি এবং লক্ষ্যে আঘাত নিশ্চিত করার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষেপণাস্ত্র স্বল্প সময়ের মধ্যে পুরো জ্বালানি ব্যবহার করে, যাকে বলে বুস্ট পর্যায়। এই পর্যায়ে ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ নির্দিষ্ট করা হয় এবং এটি পরিবর্তন করা যায় না। এই সময়কাল মাত্র কয়েক মিনিট স্থায়ী হতে পারে।
বুস্ট পর্বের পরে ক্ষেপণাস্ত্রের ত্বরণ বন্ধ হয়। এরপর নিজ গতিবেগ দিয়ে চলতে থাকে। একে বলে মিডকোর্স পর্যায়। এমন একটি ক্ষেপণাস্ত্র আইসিবিএম। এটি যাত্রাপথের টার্মিনাল পর্বে আবারও বায়ুম-লে প্রবেশ করে। এর আগে ২০ মিনিট পর্যন্ত মহাকাশের মধ্য দিয়ে যাত্রা করতে পারে।
ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে সাধারণত শেষ মুহূর্তে কোথায় আঘাত করবে ঠিক করার সুযোগ থাকে না। নিক্ষেপের সময় ঠিক করে দিতে হয় কখন জ্বালানি শেষ হবে। গতি ঠিক করে দেওয়া, উৎক্ষেপণের কোণ এবং কোন দিকে যাবে, তাদের লক্ষ্যে আঘাত করে।
যদি জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার সময় একটু বেশি হয়, তবে ক্ষেপণাস্ত্র গতিতে বদলে গিয়ে লক্ষ্য অতিক্রম করে চলে যাবে। একইভাবে কম হলে গতি খুব ধীর হবে। লক্ষ্যে আঘাত করার আগেই পতিত হবে। লম্বা দূরত্বে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হলে ছোটখাটো ভুলও চূড়ান্ত লক্ষ্যে আঘাতের ক্ষেত্রে বড় প্রভাব রাখে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
কবর খননে মিললো ২ যুগ আগে দাফন করা অক্ষত মরদেহ
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ছয় মিনিটের জন্য অন্ধকারে ডুবে যাবে সৌদি আরব
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সূর্যের বুকে লুকিয়ে থাকা রুপার সন্ধান
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাকাশ থেকে নীল নদের শ্বাসরুদ্ধকর ছবি শেয়ার
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ফল ফলাদির বৈচিত্রতা!
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কদুর যত পুষ্টিগুণ
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
আরও ৪ নক্ষত্রের সন্ধান
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ধনেপাতার পুষ্টিগুণ
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
যেভাবে মানুষের মস্তিষ্কে প্লাস্টিক জমা হচ্ছে
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মেক্সিকোতে ইসলামের আগমনের ইতিহাস
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রতারিত বাংলাদেশি শ্রমিকরাই আজ মিশরে সফল শিল্পোদ্যোক্তা
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পৃথিবীর বয়স নিয়ে বিজ্ঞানীদের ধারণার আমূল পরিবর্তন
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












