স্থাপত্য-নিদর্শন
মুসলমানদের শিল্পকলার এক অনন্য নিদর্শন ইসলামী মৃৎপাত্র (১০)
, ৩রা রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৯ ছালিছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৮ আগস্ট, ২০২৫ খ্রি:, ১৩ ভাদ্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) স্থাপত্য নিদর্শন
সাফাবী যুগের মৃন্ময়শিল্প দু’টি শ্রেণিতে বিন্যাস করা যেতে পারে। একটি শ্রেণিতে কেবলমাত্র সাফারী অলঙ্করণ বন্ধনীযুক্ত যা পা-ুলিপি-দ্যুতিকরণ, কম্বল ও বয়নশিল্পের অলঙ্করণরূপে আমাদের নিকট পরিচিতি লাভ করেছে। দ্বিতীয় শ্রেণিতে মিং চীনা বাসনের অনুকরণে ষষ্ঠদশ শতাব্দীতে ইরানীয় মৃৎশিল্পীগণ প্রকৃত মৃন্ময়পাত্রের।
উৎপাদনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন এবং এসব মৃৎপাত্র সাফারী শাসকগণ কর্তৃক বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। ইরানী স্টাইলের সাথে চৈনিক ডিজাইনকে একীভূত করে তৈরি প্রাথমিক পর্যায়ের দু’টি থালা মেট্রোপলিটান মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে। ষষ্ঠদশ শতাব্দীর শেষের দিকে সম্ভবত শাহ আব্বাসের শাসনামলে মৃৎশিল্পীগণ প্রকৃত মৃন্ময়পাত্রের ন্যায় শক্ত না হলেও আংশিক অথচ প্রকৃত মৃৎপাত্রের নিকটবর্তী চীনামাটির বাসনাদি তৈরি করতে সক্ষম হন। অনেক ইরানী মৃৎপাত্রকে চীনা মৃৎপাত্র হিসেবে ভুল ভাবতো অনেকে। এসব সাফারী সেমিমৃৎপাত্র ডিজাইন ও স্টাইলের ক্ষেত্রে গুণগত মানের দিক থেকে একইরূপ নয়। উৎকৃষ্ট এসব মৃৎপাত্র ষষ্ঠদশ ও সপ্তদশ শতাব্দীর বলে গণ্য হয়। চৈনিক ডিজাইন ইরানীয় মটিফের সাথে যুক্ত হয়ে সাফাবীয় মৃৎপাত্রকে মোহনীয় করে তোলে।
সপ্তদশ শতাব্দীতে ইরানে পরিভ্রমণকারী চ্যারডিনের মতে উৎকৃষ্টমানের মৃৎপাত্র সিরাজ, মাশহাদ, ইয়াযদ ও কিরমানে তৈরি হতো। সে বর্ণনা করেছে যে, ইরানী মৃৎপাত্র অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর এবং ঔজ্জ্বল্য। অষ্টাদশ এবং ঊনবিংশ শতাব্দীর সূচনাপর্বের এক শ্রেণির শুভ্র পারস্য উপসাগরের বন্দর ‘গোমব্রন’ এর সাথে যুক্ত করা হয়। কিন্তু এটি তার উৎপাদন স্থান নয়, বরং জাহাজযোগে প্রেরণ কেন্দ্র। ‘গোমব্রন’ টাইপের মৃৎপাত্র সাধারণত উঁচু অথবা নিচু পাদদেশসহ বৃহৎ পানপাত্রকে নির্দেশ করে যার ছিদ্রকৃত অলঙ্করণ উজ্জ্বল রং দ্বারা পূরণ করা হয়। চ্ছিদ্রকৃত অলঙ্করণ অনেক ক্ষেত্রে নীল অথবা কালো রং রঞ্জিত পুষ্পডিজাইনে শোভিত করা হয়।
চতুর্দশ শতাব্দীর শুরু হতে মোঙ্গল সিরামিক্স স্টাইল পূর্ণতা প্রাপ্ত হয়েছে। মোঙ্গল মৃৎপাত্রের ওপর চৈনিক নান্দনিক শিল্পের প্রভাব অত্যন্ত স্পষ্ট। এটি কেবলমাত্র মটিফ ধারকরা যেমন পুষ্পসমৃদ্ধ উদ্ভিদ, প্রস্ফুটিত লোটাস বা পদ্মফুল, পুঞ্জিভূত মেঘমালার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা পরিকল্পনার প্রকৃতিকরণ পর্যন্ত পরিব্যাপ্ত। সুলতানাবাদ অঞ্চলে তৈরি রঞ্জিত অলঙ্করণসহ একগুচ্ছ মৃন্ময়পাত্রের উদাহরণ এই প্রসঙ্গে উপস্থাপন করা যায়। প্রাকৃতিক তরুরাজি ও ক্ষুদ্র লতা-গুল্মের মোজাইকসদৃশ প্যাটার্ন বাটি, থালা, কুজো আকারের পাত্রাদি এবং টাইলসের গোটা অবয়বের অলঙ্করণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অথবা এগুলোর সাথে সম্মিলিতভাবে উপস্থাপিত হয়ে থাকে কালো রূপালী নীল ও নীলকান্তমণি-এর রঙে।
এসব অলঙ্করণে পটভূমি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে রূপালী-নীল অথবা কালো রঙে শামুকের ন্যায় পেঁচানো মটিফ। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে রিলিফ-উঁচু উঁচু প্রক্ষিপ্ত-প্রক্রিয়ায় অলঙ্করণ সম্পন্ন করা হয়ে থাকে যেমন প্রত্যক্ষ করা যায় বিভিন্ন মৃৎপাত্রের অলঙ্করণে এবং তারকা-আকৃতির ও আয়তক্ষেত্রাকার টাইলসের অলঙ্করণ সজ্জায়। মোঙ্গল স্টাইলের মৃৎপাত্র চতুর্দশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধ পর্যন্ত চলমান ছিল যদিও পরবর্তীকালের মৃন্ময়পাত্রের অঙ্গসজ্জায় কিছুটা ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে। প্রাকৃতিক তরুরাজি, লতাগুল্ম, প্রস্ফুটিত পদ্মফুল, পুঞ্জিভূত মেঘমালা প্রভৃতি বৈশিষ্ট্যাবলি মোঙ্গল মৃৎপাত্র ও টাইলসে উপস্থাপিত হতে দেখা যায়। (অসমাপ্ত)
-মুহম্মদ নাইম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (৪র্থ পর্ব)
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (৩য় পর্ব)
০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান”
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (১ম পর্ব)
২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইস্তাম্বুলে হযরত আবু আইয়ূব আল আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মসজিদ (৩)
১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইস্তাম্বুলে হযরত আবু আইয়ূব আল আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মসজিদ (২)
১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইস্তাম্বুলে হযরত আবু আইয়ূব আল আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মসজিদ (১)
০৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খেজুরের পাতায় লিখা পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ
২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মোঘল আমলের ইদ্রাকপুর দুর্গ
২১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের উজ্জ্বল সাক্ষী সাতৈর শাহী মসজিদ (১)
০৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
অস্থায়ী হাসপাতাল নির্মাণে মুসলমানদের অবদান
২৩ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মালয়েশিয়ার ঐতিহাসিক মসজিদ “মসজিদ নেগারা”
১৬ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












