স্থাপত্য-নিদর্শন
মুসলমানদের শিল্পকলার এক অনন্য নিদর্শন ইসলামী মৃৎপাত্র (৯)
, ২৬ ছফর শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২২ ছালিছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ২১ আগস্ট, ২০২৫ খ্রি:, ০৬ ভাদ্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) স্থাপত্য নিদর্শন
ইরানে তৈমুরীয় যুগের সিরামিক্স শিল্প:
তৈমুরীয় যুগের মৃন্ময়পাত্রের উদাহরণ অত্যন্ত অপ্রতুল। যে কিছু অবশিষ্ট মৃৎপাত্রের নিদর্শন পরিদৃষ্ট হয় তাতে মোঙ্গল যুগের টেকনিক ও অলঙ্করণের ছাপ অতি স্পষ্ট। তবে মোঙ্গল যুগের মৃৎপাত্রের তুলনায় তা ভিন্নমানের বলে প্রতীয়মান হয়। পঞ্চদশ শতাব্দীতে ক্ষুদ্রাকৃতির প্রতিকৃতির উপস্থাপনের বিবেচনায় তৈমুরীয় যুগের মৃন্ময়পাত্রে চৈনিক প্রভাব বিশেষভাবে লক্ষণীয়।
প্রদর্শিত কোনো কোনো সিরামিক্সের ক্ষেত্রে বলা যায় যে, সেগুলো ইরানী মৃৎপাত্রের অবিকল মনে করেও অনেকে ভুল করে। এক্ষেত্রে আমেরিকার মেট্রোপলিটান মিউজিয়ামে সংরক্ষিত পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষের দিকের একটি বাটির উল্লেখ করা যায়। এটির ক্ষীণ অবয়ব সাদা মৃত্তিকা বালু দ্বারা তৈরি এবং দীর্ঘকায় যা কালো রং দিয়ে রঞ্জিত। এই বাটির অলঙ্করণ প্রক্রিয়ার পটভূমিতে হালকাভাবে নীলবর্ণে মেঘমালা উপস্থাপিত হয়েছে। পঞ্চদশ শতাব্দীর এমন কিছু থালা ও বাটি পরিলক্ষিত হয় যা নীলকান্তমণি অথবা উজ্জ্বল সবুজের আবরণে উদ্ভিদ মটিফ ও স্ক্রোলকর্মে কালো অলঙ্করণ দ্বারা পরিবৃত।
আর এসব মৃৎপাত্র দাগিস্তান প্রদেশের কোবাট্চা হতে আনীত। পঞ্চদশ শতাব্দীর এসব মৃৎপাত্র এবং পরবর্তী ষষ্ঠদশ ও সপ্তদশ শতাব্দীর উদাহরণগুলোও দাগিস্তানের তৈরি মৃৎপাত্র হিসেবে গণ্য করা হয়।
পঞ্চদশ শতাব্দীতে ইরানীয় মৃৎশিল্পীগণ চকচকে মোজাইক শিল্পের অগ্রগতি কেবল জিইয়ে রাখেননি, বরং চতুর্দশ শতাব্দীর তুলনায় তারা এটির ব্যবহার বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে দিয়েছেন। জাঁকাল মোজাইক মসজিদ ও সমাধিসৌধের অভ্যন্তর ও বহির্দেয়ালের অলঙ্করণের জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে যার কিছু কিছু নিদর্শন বর্তমানে সংরক্ষিত আছে। এই জাতীয় মোজাইক অন্তর্ভুক্ত করে এমন আলঙ্কারিক মটিফ যাতে থাকে এরাবেস্ক, লতাযুক্ত পুষ্পস্ক্রোল, রোজেট বা ক্ষুদ্রাকৃতি গোলাপপুষ্পের অনুকৃতি ও বৈশ্বিক পুষ্পগুচ্ছ কোনো কোনো সময় বৃত্তাকার মেডেলে বন্ধনীযুক্ত হয়ে। এটির পটভূমি চিত্রিত হয় রূপালী নীল রঙে এবং প্যাটার্ন রঞ্জিত হয় সাদা, হলদে সবুজ ও বেগুনি-লাল রঙে।
পঞ্চদশ শতাব্দীতে তাবরিজে নির্মিত জাঁকাল মোজাইক অলঙ্করণের ইমারত হলো ব্লু মসজিদ (নীল মসজিদ) যা ব্লাক সীপ তার্কোম্যান (কালমেষ তার্কোম্যান) শাসক জাহানশাহের শাসনামলে (১৩৬৭-১৪৩৭) নির্মিত হয়েছিলো। ইস্পাহান বিশেষ করে পঞ্চদশ শতাব্দীর জাঁকাল মোজাইক অলঙ্করণে শোভিত ইমারতরাশির জন্য প্রসিদ্ধ ছিলো। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ঐশ্বর্যম-িত ছিলো ইস্পাহানে দারব-ই-ইমামের মাজারের জমকালো তোরণ যার নির্মাণকাজ জাহানশাহের সময়ে ১৪৫৩ খৃ: সম্পূর্ণ হয়েছিলো। অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন তৈমুরীয় মোজাইকের নিদর্শন পরিদৃষ্ট হয় সমরকন্দে তাইমুরের কবর যা ইস্পাহানের মুহম্মদ কর্তৃক ১৩৩৪ খৃ: নির্মিত, মাশহাদে, শাহর-ই-সাবজে (কাশে) ও আমীর তাইমুরের প্রাসাদে যার নির্মাণকাজ আংশিকভাবে ১৩৯৫/৬ খৃ: সম্পন্ন হয়েছিলো। যদিও জাঁকাল মোজাইক শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে ইস্পাহান প্রসিদ্ধ ছিলো, কিন্তু ইরানের সর্বত্র এই শিল্পের লালন ও বিকাশ ঘটেছিলো।
চিত্র: ইরানের সাফাবী যুগের মৃৎপাত্র।
(অসমাপ্ত)
-মুহম্মদ নাইম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (৪র্থ পর্ব)
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (৩য় পর্ব)
০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান”
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (১ম পর্ব)
২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইস্তাম্বুলে হযরত আবু আইয়ূব আল আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মসজিদ (৩)
১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইস্তাম্বুলে হযরত আবু আইয়ূব আল আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মসজিদ (২)
১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইস্তাম্বুলে হযরত আবু আইয়ূব আল আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মসজিদ (১)
০৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খেজুরের পাতায় লিখা পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ
২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মোঘল আমলের ইদ্রাকপুর দুর্গ
২১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের উজ্জ্বল সাক্ষী সাতৈর শাহী মসজিদ (১)
০৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
অস্থায়ী হাসপাতাল নির্মাণে মুসলমানদের অবদান
২৩ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মালয়েশিয়ার ঐতিহাসিক মসজিদ “মসজিদ নেগারা”
১৬ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












