স্থাপত্য-নিদর্শন
বয়নশিল্প নিদর্শনে মুসলমানগণ (৫)
, ২৬ রবিউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২০ খমীছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৯ অক্টোবর, ২০২৫ খ্রি:, ০৩ কার্তিক, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) স্থাপত্য নিদর্শন
সূচিশিল্পে ও ছাপায় পরিশোভিত ইরানীয় সুতিবস্ত্র:
মেট্টোপলিটান মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে সপ্তদশ, অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীর বিভিন্ন ধরনের সূচের ফোঁড়যুক্ত সূচিশিল্পের সুতিবস্ত্রাদির উদাহরণ। এগুলোর সপ্তদশ শতাব্দীর সূচিকর্মের একটি সুতিবস্ত্র বিশেষ উল্লেখযোগ্য। এটির কালো পটভূমিতে বিভিন্ন উজ্জ্বল রংয়ের পুষ্পগুল্মের দৃশ্যাবলির উপস্থাপন বিশেষভাবে লক্ষণীয়। এছাড়াও মহিলাদের পরিধেয় সেলোয়ার-কামিজের জন্য ঘনপুষ্প প্যাটার্নের সুতিবস্ত্রাদি তৈরি হতো বিভিন্ন বয়নকারখানায়। জ্যামিতিক রেখাচিত্রের ককেসীয় সূচিকর্মের সুতি কাপড়ের চাহিদা ছিলো সর্বত্র। অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীতে বিভিন্ন রংয়ের খ-াংশ টুকরা কাপড়ের বাহ্যত সংযুক্ত বস্ত্রাদি ক্রেতাদের মধ্যে জনপ্রিয়তা লাভ করেছিলো।
আবার কোনো কোনো সময় রেশমী কাপড়ে টানা ও রূপালী সুতার আনুভূমিক রেখা তাতে যুক্ত করা হতো। রিশ্ট ও ইস্পাহানে প্রধানত এই জাতীয় সুতিবস্ত্রাদির বুনন কার্য চলতো। উপরন্তু ঊনবিংশ শতাব্দীতে ইস্পাহান, হামাদান ও ইয়াদ কারখানাগুলোতে প্রস্তুত হতো কালামকার নামে অলঙ্করণ-সজ্জায় ঝুলিয়ে রাখার ব্লক-প্রিন্ট সুতিবস্ত্রাদি। আমেরিকার মেট্রোপলিটান মিউজিয়ামে এই জাতীয় সুতিবস্ত্রাদির অনেক নমুনা বিদ্যমান আছে।
সাফাবী যুগের কম্বল ও গালিচা:
ষষ্ঠদশ শতাব্দী পারসিক কম্বল ও গালিচা শিল্পের জন্য শ্রেষ্ঠ কালপর্ব হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। অত্যন্ত খ্যাতিমান শিল্পীদের তত্ত্বাবধানে রাষ্ট্রীয় উৎপাদন-কারখানায় এই বয়নশিল্পটি উন্নতমান, নয়ন কাড়ানো সৌন্দর্য ও উত্তম বুননের জন্য যা পূর্ণতা লাভ করেছিলো তা পূর্বে তেমন দেখা যায়নি। দুই ক্যাটেগরীর কম্বল-বয়ন প্রক্রিয়া প্রসার লাভ করেছিলো এই সময়পর্বে-একটি বহুল পরিমাণে উৎপাদিত কেন্দ্রীয় প্যাটার্ন এবং অপরটি যে কোনো দিকের মনোনীত প্যাটার্ন। দ্বিতীয় ক্যাটিগরীতে অন্তর্ভুক্ত হয় বিস্তৃত ও নানা জাতীয় পুষ্প মটিফ সম্বলিত ভাজ (াধংব) বা পাত্র-কম্বল যার পুষ্প অলঙ্করণ যুক্ত হয়েছে লতাস্ক্রোল দ্বারা এবং মাঝে মধ্যে ডানা-হাতল পাত্র দ্বারা। ফলে গোটা পুষ্প-অলঙ্করণ সুসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বিন্যস্ত হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।
এই জাতীয় কম্বলের সংকীর্ণ প্রান্তিক ধার এই ধারণা দেয় যে, পাশাপাশি রেখে এগুলো একসাথে মসজিদের জুল্লায় বা নামাজকক্ষে বিছানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে।
আবার পারস্যের উত্তরাঞ্চলের উদ্যান-কম্বল শক্ত রেখাঙ্কনের দ্বারা সুসংহত। এগুলোর অলঙ্করণ ডিজাইনে প্রত্যক্ষ করা যায় মধ্যস্থিত পাণিধার, পার্শ্বস্থিত পরিখা, বৃক্ষসারির প্রশস্তপথ ও পুষ্প-কেয়ারিসহ পারসিক পার্কের প্রতিচ্ছবি। এই পরিকল্পনার তৈরি কম্বল ও গালিচা স্বভাবতই কোনরূপ পরিবর্তন ছাড়া অষ্টাদশ শতাব্দী পর্যন্ত চলমান ছিলো। চলবে....
-মুহম্মদ নাইম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (৪র্থ পর্ব)
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (৩য় পর্ব)
০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান”
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (১ম পর্ব)
২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইস্তাম্বুলে হযরত আবু আইয়ূব আল আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মসজিদ (৩)
১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইস্তাম্বুলে হযরত আবু আইয়ূব আল আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মসজিদ (২)
১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইস্তাম্বুলে হযরত আবু আইয়ূব আল আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মসজিদ (১)
০৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খেজুরের পাতায় লিখা পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ
২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মোঘল আমলের ইদ্রাকপুর দুর্গ
২১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের উজ্জ্বল সাক্ষী সাতৈর শাহী মসজিদ (১)
০৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
অস্থায়ী হাসপাতাল নির্মাণে মুসলমানদের অবদান
২৩ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মালয়েশিয়ার ঐতিহাসিক মসজিদ “মসজিদ নেগারা”
১৬ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












