স্থাপত্য-নিদর্শন
বয়নশিল্প নিদর্শনে মুসলমানগণ (৩)
, ১৩ই রবিউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৭ খমীছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৬ অক্টোবর, ২০২৫ খ্রি:, ২২ আশ্বিন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) স্থাপত্য নিদর্শন
মিশরে বয়নশিল্প:
বস্ত্রের অন্তর্দিকে লিনেন ব্যবহারের রীতি তখনও বিদ্যমান ছিলো। তবে সিল্কের সাথে বুটিদার (যিনি বুটিক তৈরী করেন) লিনেন ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দিতো। ফাতেমীয় যুগে বস্ত্রের প্রান্তে বোটাসহ পুষ্পাদির বুনন মনোরমভাবে সম্পন্ন হতো, কিন্তু মামলুক সালতানাত যুগে অত্যন্ত যতেœর সাথে বয়নসেলাই অব্যাহত রাখা হয়েছিলো যা তার পরিপূর্ণতার ক্ষেত্রে চমক বলে মনে হতো। বুননের চেয়ে বস্ত্রাদির প্রান্তরেখায় প্যাটার্নে সংমিশ্রিত অথচ টিকসই রং ব্যবহৃত হয়েছে।
মামলুক সালতানাত যুগে এই জাতীয় চলমান মটিফের বিভিন্ন প্রকরণ সøাভ ও স্কান্ডিনেভীয় লোকশিল্পে প্রত্যক্ষ করা যায়। অনুমান করা যায়, মামলুক সালতানাত যুগের বয়নশিল্পী স্বল্পসংখ্যক হলেও ঐসব দেশে কয়েক শতাব্দী ধরে বসবাস করে আসছিলো এবং তাদের দ্বারা ঐ দেশের নান্দনিক শিল্পের অলঙ্করণ প্রভাবিত হয়েছিলো। এসব বয়নশিল্পীর সাথে হানস হালবিয়ান বুননের নমনীয় রূপরেখা ইউরোপে প্রবেশ করেছিলো এবং এরই ফলশ্রুতি হিসেবে রেনেসাঁ বুটিদার বস্ত্রের সাথে ইউরোপবাসীদের পরিচয় ঘটেছিলো।
পরিশেষে বলা যায় যে, মামলুক যুগে লিনেনের ওপর একই রংয়ের ব্লোকপ্রিন্ট বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলো। এছাড়া বেশ কিছু কাষ্ঠ-ব্লোক এমন দক্ষতার সাথে ব্যবহার করা হতো যে, সেগুলো থেকে অত্যন্ত নিবিড় ও চলমান ডিজাইন তৈরি করা সহজ হতো।
ইরানে মোঙ্গল বয়নশিল্প:
চতুর্দশ ও পঞ্চদশ শতাব্দীতে ইরানীয় বয়নশিল্পের নিদর্শন অপ্রতুল। মোঙ্গলদের শাসনামলে ইরানে চৈনিক বয়নবস্ত্রের চাহিদা এতটা বেড়ে গিয়েছিলো যে, স্থানীয় তাঁতীরা চৈনিক রীতি ও ধারার অনুকরণে তাদের বয়নশিল্প টিকিয়ে রেখেছিলো। মোঙ্গল (১২৫৬-১৩৩৫) এবং তৈমুরীয় (১৩৬৯-১৫০৬) শাসনের সময়পর্বে ক্ষুদ্রাকৃতির চিত্রকলায় যে, পোশাক-পরিচ্ছদ চিত্রিত হয়েছে তাতে চৈনিক রীতি স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়। আর সেগুলোর অলঙ্করণের মধ্যে রয়েছে পুষ্পগুল্ম যেমন পিউনি বৈশ্বিক তরু ও পদ্ম। আবার কখনও কখনও এইসব অলঙ্করণের সাথে যুক্ত হয়েছে খাঁটি পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিষয়াবলি।
নানারূপ বুটিদার রেশমীবস্ত্র ইরানে প্রস্তুত হতো। আমেরিকার মেট্টোপলিটান মিউজিয়ামে এমন একটি অনন্য বুটিদার রেশমীবস্ত্র সংরক্ষিত আছে যার প্রস্তুতকাল পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষের দিকে নির্দেশ করা যায়। টাউয়েল জাতীয় এই বুটিদার রেশমীবস্ত্রে এরাবেক্স অলঙ্করণের প্রতিটি বিভাজিত খিলানাকৃতি পরিসরে পরিলক্ষিত হয় কালো শুভ্র রংয়ের প্রস্ফুটিত পুষ্পস্ক্রোল, প্রাকৃতিক তরুলতা ও বৈশ্বিক প্যামেট এবং এটি জলপাই-সবুজ পটভূমির ওপর অঙ্কিত। তৈমুরীয় অলঙ্করণের সাথে এটির ডিজাইন ও রং প্রয়োগের যথেষ্ট মিল আছে। (অসমাপ্ত)
-মুহম্মদ নাইম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (৪র্থ পর্ব)
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (৩য় পর্ব)
০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান”
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (১ম পর্ব)
২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইস্তাম্বুলে হযরত আবু আইয়ূব আল আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মসজিদ (৩)
১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইস্তাম্বুলে হযরত আবু আইয়ূব আল আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মসজিদ (২)
১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইস্তাম্বুলে হযরত আবু আইয়ূব আল আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মসজিদ (১)
০৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খেজুরের পাতায় লিখা পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ
২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মোঘল আমলের ইদ্রাকপুর দুর্গ
২১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের উজ্জ্বল সাক্ষী সাতৈর শাহী মসজিদ (১)
০৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
অস্থায়ী হাসপাতাল নির্মাণে মুসলমানদের অবদান
২৩ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মালয়েশিয়ার ঐতিহাসিক মসজিদ “মসজিদ নেগারা”
১৬ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












