স্থাপত্য-নিদর্শন
বয়নশিল্প নিদর্শনে মুসলমানগণ (১)
, ২৭ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৩ রবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ০৭ আশ্বিন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) স্থাপত্য নিদর্শন
বয়ন শিল্প: যে শিল্পে টানা এবং পড়েন সুতা পরস্পরের বন্ধনীর মাধ্যমে মানুষের পরিধেয় এবং ব্যবহারের উপযোগী বস্ত্র তৈরি করা হয় তাকে বয়ন শিল্প বলে।
মুসলমানদের বিজয়ের প্রাথমিক পর্যায়ে বিজিত অঞ্চলসমূহে বয়নশিল্পের ক্ষেত্রে মুসলমানদের স্বতন্ত্র স্টাইল ও রীতি বিকাশ লাভ করে এবং তা মুসলিম শাসনের অধ্যুষিত দেশগুলোতে বিকাশ লাভ করে।
মিশরে বয়নশিল্প:
খলীফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত খিলাফতকালে ৬৪১ খৃ: বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আমর ইবনুল আস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নেতৃত্বে মুসলমানদের মিশর বিজয়ের পরেই বয়নশিল্পের ব্যাপক উন্নতি হয়। তিরায নামের পোশাক কারখানা যা মুসলমান শাসনাধীন সকল প্রদেশে বিদ্যমান ছিলো এবং তা রাষ্ট্রীয় জীবনে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হতো। তিরায কারখানারূপ বিপণীতে (কতকগুলো আবার শাসকদের প্রাসাদসংলগ্ন) তিরায ব্যান্ড সম্বলিত এমন সম্মান-পোশাক প্রস্তুত হতো যা প্রতিবছর কমপক্ষে একবার উচ্চ পদমর্যাদার কর্মকর্তাগণকে উপহার দেয়া হতো। তিরায বলতে বুঝায় লিপিধারক ব্যান্ডের বুনন অথবা সূচ দ্বারা বুটিকরা বস্ত্র ও পোশাক কিংবা এরূপ পোশাক নির্মাণের কারখানা। আবার এই সম্মানসূচক উপহারে তিরায ব্যান্ডের লিপিতে নিজস্ব প্রতীক হিসেবে উল্লেখ থাকতো।
মিশরের তিরায বয়ন কারখানাগুলো শণবস্ত্র (লিনেন) ও সিল্ক-কাপড় প্রস্তুত করার জন্য প্রসিদ্ধ ছিলো এবং আরব বুনন-বস্ত্রাদি মিশর থেকে মুসলমান অধ্যুষিত অন্যান্য প্রদেশগুলো যেমন সিরিয়া ও মেসোপটেমিয়ায় রপ্তানি করা হতো। নবম শতাব্দীর একটি লিপি সম্বলিত বুটিকরা রক্তিম সিল্কের বস্ত্র যা সামাররাতে পাওয়া গিয়েছে তা এটির প্রস্তুত কারখানা পোর্ট সাইদের নিকটবর্তী তিন্নিসকে নির্দেশ করে।
পাঁচ হাজার তাঁত কারখানার স্থান জিনিস বিভিন্ন প্রকার ও ধরনের বস্ত্রাদি বুননের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলো। ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে এগুলোর ভিন্ন ভিন্ন নাম হলো- পাগড়ি ও শিরস্ত্রাণের জন্য অত্যন্ত মসৃণ শণবস্ত্রের নাম কাসাব; দেশের গুরত্বপূর্ণ লোকদের ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত বস্তু বাদানা; এবং অশ্বের জিন ও শিবিকার জন্য পরিবর্তিত রংয়ের বস্ত্রের নাম বুকাইলিমুন।
একাদশ শতাব্দীর নাসির-ই-খুসরাও নামক একজন পারসিক পর্যটক উল্লেখ করেছেন যে, তিন্নিসে উৎপাদিত তিরায কেবলমাত্র নির্ধারিত লোকদের ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত থাকতো এবং তা বিক্রি করা বা কাউকে দেয়া যেতো না। তবে তিন্নিস ছাড়াও তার নিকটবর্তী তুনা নামকস্থানে মনোমুগ্ধকর লিনেন বা শণকাপড় ও পবিত্র কা’বা শরীফ উনার গিলাফের জন্য কিসওয়াস নামে এক প্রকার উত্তম বস্ত্র তৈরি হতো। আব্বাসীয় শাসনামলে প্রতিবছর তিরাযে প্রস্তুত রাষ্ট্রীয় কিসওয়াস বাগদাদ হতে পবিত্র কা’বা শরীফ উনার জন্য গিলাফ পবিত্র মক্কা শরীফে প্রেরণ করতেন। দাবিক ও দামিত্তায় সিল্ক ও লিনেন কাপড় প্রস্তুত হতো। এসব মনোরম বয়নশিল্পের কারখানা ছাড়াও আলেকজান্দ্রিয়া ও ফুসতাতে তাঁত-কারখানা বিদ্যমান ছিলো।
দশম শতাব্দীর ফুসতাত তাঁতকলে নির্মিত লিনেন কাপড় আমেরিকার মেট্টোপলিটান মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে। মিশরের উঁচুভূমিতে প্রতিষ্ঠিত আশমোনাইন ও বাহনাশা তাঁতকলে আরব-বয়ন বস্ত্রাদি প্রস্তুত হতো। ফাতেমীয় শাসনামলে তিরাযবস্ত্রাদির চাহিদা অধিক পরিমাণে বৃদ্ধি পায়, এবং তিন্নিস, আলেকজান্দ্রিয়া ও দামিত্তার রাষ্ট্রীয় তাঁত কারখানাসমূহ ফাতেমীয় শাসকদের ব্যবহারের জন্য তিরায বস্ত্রাদির উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। (অসমাপ্ত)
-মুহম্মদ নাইম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
অলৌকিক ঘটনা ও ঐতিহ্যের স্মারক বিবিচিনি মসজিদ
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পিরামিডের রহস্যভেদ নিয়ে নতুন তথ্য!
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
উসমানীয় স্থাপত্যের কালজয়ী প্রতীক নীল মসজিদ
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইউরোপের সর্বশেষ ইসলামী দুর্গ স্পেনে কী দেখেছিলেন ইবনে বতুতা?
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কালকিনির মসজিদ বাইতুর রাইয়ান, যার সৌন্দর্য মুগ্ধ করে দর্শনার্থীদের
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রসঙ্গ মূর্তি-ভাস্কর্য দ্বীন ইসলামে নিষিদ্ধ (৫)
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ভারতের মালদহর ঐতিহাসিক তাঁতীপাড়া মসজিদ
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ফ্রান্সের ইতিহাসে মুসলিম অবদানের এক জীবন্ত দলিল
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
তাজ-উল-মসজিদ ভারতের সর্ববৃহৎ মসজিদ
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সুনামগঞ্জে কালের সাক্ষী শত বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী পাগলা বড় মসজিদ
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মোঘল শাসক আওরঙ্গজেবের শাসনামল নিয়ে প্রচলিত ভাষ্য বদলে দিতে পারে ৩০০ বছর আগের নথি
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
উমাইয়া আমলের মুসলিম স্থাপত্য ‘কুসাইর আমরা দুর্গ’
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












