বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক বছরের পর বছর চালু রেখে এক সময় বিয়ে না করলে দন্ডবিধির ৩৭৫ ধারায় ধর্ষক হয় পুরুষ।
গত ৪ঠা আগস্ট হাইকোর্ট নতুন রুলিং দিয়েছে। কিন্তু বিয়ে বহির্ভূত শারীরিক সম্পর্কের অপরাধ বলে রুলিং দেয়া হয়নি কেন? দন্ডবিধিতে পারস্পরিক সম্মতি থাকলেও বিয়ে বহির্ভূত শারীরিক সম্পর্কের শাস্তি অন্তর্ভূক্ত করতে হবে
, ২৭ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১২ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ১১ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ২৭ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) মন্তব্য কলাম
বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি গতকাল গণমাধ্যমে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বহুল আলোচিত হয়েছে। এর পূর্বে বিয়ের প্রতিশ্রুতি, দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক (যতদিন ইচ্ছা) করার পর বিয়ে না করলে তা ধর্ষণ হিসেবে শাস্তিযোগ্য ছিল। এবং এ ধরনের ঘটনায় মামলার খবরের প্রচলন ছিল।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কারো বিরুদ্ধে যদি ধর্ষণ মামলা করা হয় তবে তার বিচার হয় ১৮৬০ সালে প্রণীত বিধি অনুযায়ী।
দন্ডবিধির ৩৭৫ নম্বর ধারাতেই ব্যভিচারের সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে।
ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, “যদি কোনো পুরুষ বিবাহ বন্ধন ব্যতীত [ষোলো বৎসরের] অধিক বয়সের কোনো নারীর সহিত প্রতারণামূলকভাবে তাহার সম্মতি আদায় করেন, তাহা হইলে তিনি উক্ত নারীকে ব্যভিচার করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন।”
অর্থাৎ বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্ক করেছে এবং পরে বিয়ে করেনি; এটিকে ব্যভিচার হিসেবে দাবি করা হচ্ছে।
আইন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভবিষ্যতের কোনো ধরনের প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন এবং পরে সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার বিষয়টিকেই বর্তমানে ‘বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ব্যভিচার’ মামলায় ব্যবহার করা হচ্ছে।
“নারী যে সম্মতিটা দিলো, সেটা কি স্বেচ্ছায় দিলো না কোনো না কোনো প্রলোভন দেখিয়ে বা প্রতারণা করে সম্মতিটা আদায় করা হচ্ছে? সম্মতিটা প্রতারণামূলকভাবে হয়েছে কি না সে বিষয়টাই আইনে বলা হচ্ছে।”
অর্থাৎ কোনো পুরুষ যদি ভবিষ্যতের আশ্বাস দিয়ে কোনো নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে এবং পরে সেই প্রতিশ্রুতি না রাখে তবে সেটাই প্রতারণা ধরা হচ্ছে।
শাস্তি হিসেবে আইনে বলা হয়েছে- ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ এর মাধ্যমে সংযোজিত এ বিধান কেন সংবিধানবিরোধী, অকার্যকর ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।
বলা হয়েছে, দৈহিক বলপ্রয়োগ ছাড়া বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ১৬ বছরের বেশি বয়সি কোনো নারীর সঙ্গে ব্যভিচার করা এবং ওই সময় তার সঙ্গে আস্থাভাজন সম্পর্ক থাকলে কিন্তু পরে অস্বীকার করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনধিক সাত বছর সশ্রম কারাদ- এবং এর অতিরিক্ত অর্থদ-েও দ-িত হবেন।
বিয়ের প্রলোভনে অবৈধ মিলন-কে- অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে শাস্তির জন্য আইন করা হয়েছে। যদিও অপরাধটি প্রকৃত অর্থে কী করলে অপরাধ হবে?- তার ব্যাখ্যা নেই। অর্থাৎ কেউ বিয়ের কথা কথা বলে, অবৈধ মিলন করার সঙ্গে সঙ্গে অপরাধ সংঘটিত হয়? নাকি পরবর্তীতে বিয়ের প্রতিশ্রুতি পালন না করলে অপরাধ হবে?
যখন ঘটনা ঘটছে, তখন তা অপরাধ নয়, পরবর্তী সময়ে প্রতিশ্রুতি না রাখলে সেটিকে অপরাধ হিসেবে দেখা হয়েছে বিধানটিতে।
বিয়ে বহির্ভূত শারীরিক সম্পর্ক যখন হলো, তা কিন্তু আদালতে তখন বিবেচনা করা হয় না। কোন বিচারক আমলে নেয় না।
বরং বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্ক এখন পর্যন্ত আইন আদালতে জায়েয বলেই সাব্যস্ত আছে। নাউযুবিল্লাহ!
তবে ৪ঠা আগষ্টের হাইকোর্টের রুলিং যে নূতন ধারণা দিয়েছে তা হলো বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করে পরে বিয়ে না করলে পুরুষ একা কেন ব্যভিচারের অপরাধে দায়ী হবে?
রিটে প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতিমূলক সম্পর্ককে ‘বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি’র অজুহাতে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিধান কেন অবৈধ হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী বিয়ের প্রলোভন দিলেই শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়বে আর এক্ষেত্রে তার পুরুষ সঙ্গীটির ৭ বছর পর্যন্ত জেল হবে। এরকম অবিবেচনামূলক বিধান কীভাবে আইন প্রণেতারা সম্মতি দিয়েছেন তা একেবারেই বোধগম্য নয়, বলেও হাইকোর্ট মন্তব্য করেছে। কিন্তু এমন মন্তব্য এখনও কেন আসলো না যে বিয়ের আশ্বাসেই হোক অথবা আশ্বাস ছাড়া সম্মতিতেই হোক, প্রলোভন অথবা বিনা প্রলোভনেই হোক বিয়ে পূর্ব সহবাসই পূর্ণ অপরাধ। এ অপরাধে দুজনেই সমান অভিযুক্ত। এবং সর্বপ্রথম এ অপরাধ আমলে নেয়া ও বিচার করা অপরিহার্য।
এ মূল্যবোধটি মূলত: ৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলমানের দেশে একান্ত প্রাসঙ্গিক। সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি আস্থা জ্ঞাপনকারী, বর্তমান সরকার বিষয়টি দন্ডবিধিতে প্রতিফলিত করবে- এটা ৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলমানদের একান্ত প্রত্যাশা।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাস কেনো আশাহীন বিষয়ে পরিণত হলো?
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আসইয়াদ, সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম, মহাসম্মানিত রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস উনার মহিমান্বিত, মহাপবিত্র ১২ তারিখ উনার সাথে সম্পর্কযুক্ত মহাসম্মানিত ১২ই রবীউছ ছানী শরীফ আজ।
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সরকারের এক মূর্খ মন্ত্রী বলেছে তেলের দাম বৃদ্ধিতে মূল্যস্ফীতি হবে না। অথচ তেলের দাম বৃদ্ধিতে প্রথম দাম বাড়বে খাদ্যের।
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অপসংস্কৃতি রোধ করতে হলে কথিত ফ্যাশন হাউজগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
উগ্র হিন্দুত্ববাদী ভারত এবং পতিত আওয়ামীলীগ চাচ্ছে বাংলাদেশে তথাকথিত জঙ্গী তৎপরতা প্রমাণ করতে।
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমানকে ‘মুসলমানিত্ব’ বুঝতে হবে। ‘আশহাদু আন্না মুহম্মাদার রসূলুল্লাহ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাক্বীক্বীভাবে বলতে হবে ও আমলে আনতে হবে।
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রতি বছর শুধু অসুস্থতার কারণে প্রায় ৬৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছে।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রধানমন্ত্রী নিজেই ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেয়া শুরু করেছেন। বাতিল হয়েছে ‘রাষ্ট্রপতির’ সাথে ‘মহামান্য’ শব্দ ব্যবহারও।
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাংলাদেশের সামরিক ব্যয় গত দশকগুলোতে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধি মূলত বেতন, স্থায়ী খরচ এবং চলমান পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়েছে। তবে সামরিক আধুনিকায়ন, সমরাস্ত্র ক্রয় এবং নতুন প্রযুক্তি সংযোজনের জন্য মোট বাজেটের মাত্র ২-৪ শতাংশ ব্যয় হয়েছে।
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ্র পরিক্রমায় চললেই সে প্রজ্ঞা পাওয়া সম্ভব ইনশাআল্লাহ
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












