আন্তর্জাতিক ধুরন্ধর, বড় চোর সুদী জনক, বাংলাদেশকে গোলামী চুক্তিতে আবদ্ধকারী- ইউনুস এখন তার নিয়োগ কর্তাদের নিয়ে দেশীয় চাপ এবং বিদেশী বন্ধু তথা ভারত আমেরিকা যোগ সাজশে বহুমুখী বৈশ্বিক প্রভাব সৃষ্টি করছে প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চারপাশে এখন চাপ আর চাপ এসব চাপকে- জনগণের নিজের মনে করতে হবে।
৫ই আগস্টের মত ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দিতে হবে। ইউনুসকে কোনমতেই প্রেসিডেন্ট হতে দেয়া যাবে না। (১ম পর্ব)
, ২৬ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১১ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ১০ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ২৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) মন্তব্য কলাম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে বরাবর ইউনুসের সাথে একটা দূরত্ব বজায় রেখে চলতে চেয়েছেন। ইউনুস দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তারেক রহমান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সালাউদ্দিন আহমেদ বিভিন্ন সময়ে ইউনুসের বিরুদ্ধে বলেছেন। তাদের মূলত: ধারণাই ছিল না যে, এই ছাত্ররা শেষ পর্যন্ত ইউনুসকে এনে একটা সরকার গঠন করাবে। যে সরকার কিনা আবার কিছুতেই নির্বাচনটা কবে দেবে সেটা খোলাসা করে বলবে না এবং যতদিন ইচ্ছায় ক্ষমতায় থাকার একটা খায়েশ প্রকাশ করবে সংস্কার বিচার এরকম নানা অজুহাতে।
এই প্রসঙ্গে ইউনুস সরকারের উপর যে তাদের রাগ ছিল, ক্ষোভ ছিল সেটা তা প্রায়ই সালাউদ্দিন আহমেদের মুখ দিয়ে প্রকাশিত হত। আর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তো অনেকবার বলেছেন।
তারেক রহমানও এতটাই ক্ষেপে বলেছিলেন যে তারা কেন নির্বাচন দিচ্ছে না? কেন বারবার বলছে আগে সংস্কার, তারপর বিচার, তার পরে নির্বাচন।
তারেক রহমান ২০২৫ সাল মে মাসে নয়াপল্টনে বিএনপির এক জনসভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, এখনই যদি এই সরকার এ বছরের মধ্যে মানে ২০২৫ মধ্যে নির্বাচনের ঘোষণা না দেয় তাহলে সরকার পতনের আন্দোলন করতে হবে। ইউনুস কে পরে তারেক রহমানের মাথা ঠান্ডা করতে জুন মাসে তার সঙ্গে দেখা করতে বিরাট বহর নিয়ে লন্ডন যেতে হয়েছে।
কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ইউনুসের উপর সন্তুষ্ট ছিলেন না, এমনকি তার মায়ের জানাজার দিনেও যখন ইউনূস আবেগ দেখাতে তাকে জড়িয়ে ধরতে গেলেন, তারেক রহমানের ছবি এবং ভিডিওতে স্পষ্টভাবে অস্বস্তি ফুটে উঠেছে। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচিত হলেন। কোনো উচ্ছ্বাস দেখালেন না। তার শপথ অনুষ্ঠানে উচ্ছ্বাস দেখালেন না। নির্বাচিত হওয়ার পর ইউনূসকে আলাদা করে কোনো ধন্যবাদ দিলেন না যে, আপনি ছিলেন বলেই এমন অবাধ নির্বাচন হলো যেখানে আওয়ামী লীগকে বাদ রেখে আমি নির্বাচিত হয়ে আসতে পারলাম বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায়। কিংবা তিনি তার শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানেও ইউনূসকে কোনো আলাদা ধন্যবাদ, আলাদা আবেগ, আলাদা করমর্দন কিংবা আলাদা আলিঙ্গন কিছুর সুযোগ দিলেন না। ইউনূস দু'ঘন্টা, আড়াই ঘন্টা অপেক্ষা করে, নিজেই ঢুকে সেই কথা বলছিলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে। তার রিলও ভাইরাল হয়েছে। যমুনায় ঢুকেছিলেন তারেক রহমানের ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ের দিন। একেবারে সাধারণ মানুষের সাথে যমুনার গেটে দুই-আড়াই ঘন্টা অপেক্ষার পর ইউনূসকে ঢুকতে দেওয়া এবং ঢোকার পরও একরকমের মানে উষ্ণতা ছাড়া একরকমের আনুষ্ঠানিক ভাবে যতটুকু অভ্যর্থনা জানাতে হয় ততটুকুই অভ্যর্থনা এবং আবেগ দেখানোর মাধ্যমে তারেক রহমান প্রমাণ করেছিলেন যে, তিনি ইউনুসের সাথে কোনো আলাদা মাখামাখি চান না। আর সালাউদ্দিন আহমেদ তারেক রহমানের হয়ে বারবার সংসদে দাঁড়িয়ে, সংসদের বাইরে দাঁড়িয়ে বলেন, আমরা জুলাই সনদে তখন রাজি হয়েছিলাম, গণভোটে রাজি হয়েছিলাম। কারণ ইউনূস সরকারের ধান্দা ছিল যে তারা যতদিন ইচ্ছা ক্ষমতায় থাকবে। কিন্তু আমরা আসলে ইউনুস সরকারের ধান্দা বুঝেছিলাম।
কিন্তু সেই ইউনুসকেই আবার গত ৫ই আগাস্ট দর্শক সারি থেকে ডেকে এনে নিজের পাশে এনে বসালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
* এদিকে ভারত সরকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমাকে কোনো পাত্তা দিচ্ছে না, শেখ হাসিনাকে বক্তৃতা দিতে দিচ্ছে। তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ না করে বিমসটেক সভাপতি উল্লেখ করে চাপ দিচ্ছে যাতে তিনি ওই দাওয়াত নিয়ে ভারত যান। অন্যদিকে ড্রাম্পের বিশেষ দূত, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর ঢাকা সফরে এসে ভারতের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বলে যাচ্ছে, তাকে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে দিতে হবে। তাকে আর কী কী করতে হবে, তার যে লিস্ট দিয়েছে, তার সাথে তারেক রহমান যে লিস্টে চলছিলেন তার কোনো সম্পর্ক নাই। মানে তারেক রহমানকে চীনের সঙ্গে মাখামাখি কমিয়ে আনতে হবে। তারেক রহমান এতসব চাপে এখন একেবারে জর্জরিত, বিপর্যস্ত।
ইউনুস সম্প্রতি প্রকাশ্যেই বাংলাদেশে ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। ইরানের রাষ্ট্রদূত তাকে দ্রুত ইরান সফরে যেতে বলেছে। তারেক রহমানকে কেউ কোথাও সফরে যেতে বলছেন না। তিনি চীন গিয়েছিলেন এ কথা দিয়ে যে তিনি করিডোর করতে দেবেন। এখন গোর এসে বলেছে, কোনো চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার করিডোর হবে না। রাখাইন করিডোর দিতে হবে। এসব চাপে বিপর্যস্ত তারেক রহমান শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বিশ্বের চর, আমেরিকার চর ইউনুসের পতাকাতলে আশ্রয় নিতে চাইছে, এমন সমালোচনাই করছে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। মার্কিন বিরোধী জোটে একটা মুখ্য ভূমিকা বাংলাদেশকে রাখতে সে ভূমিকা পালন করবে। ইউনুস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে তারেক রহমানকে এমন একটা ফাঁপড়ে ফেলে গেছে, সেই ইউনুসই এখন তারেক রহমানসহ বাংলাদেশকে ইরান অক্ষে নিয়ে যাবে বলে কথা দিচ্ছে এবং তার বিনিময়ে প্রেসিডেন্ট পদ পাওয়ার পায়তারা করছে।
শুধু কী তাই ইউনুস এখন আগের নিয়োগ কর্তা- ছাত্রদেরও লেলিয়ে দিয়েছে।
ইউনুসের ছাত্ররা এখন ঘোষণা করছে, এই সরকারের দিন ফুরিয়ে আসছে এবং পাঁচই আগস্টে তাদের এই সমাবেশ শেখ হাসিনা সরকারের পতনের সেলিব্রেশন উদযাপন উপলক্ষে ছিল না, বরং ছিল তারেক রহমান সরকারের দুর্নীতি, গ্যাস বিদ্যুৎ না দিতে পারা এবং এই সরকারের আমলে মানুষের ব্যাপক জনদুর্ভোগের প্রতিবাদে।
(ইনশাআল্লাহ চলবে)
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আসইয়াদ, সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম, মহাসম্মানিত রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস উনার মহিমান্বিত, মহাপবিত্র ১২ তারিখ উনার সাথে সম্পর্কযুক্ত মহাসম্মানিত ১২ই রবীউছ ছানী শরীফ আজ।
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সরকারের এক মূর্খ মন্ত্রী বলেছে তেলের দাম বৃদ্ধিতে মূল্যস্ফীতি হবে না। অথচ তেলের দাম বৃদ্ধিতে প্রথম দাম বাড়বে খাদ্যের।
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অপসংস্কৃতি রোধ করতে হলে কথিত ফ্যাশন হাউজগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
উগ্র হিন্দুত্ববাদী ভারত এবং পতিত আওয়ামীলীগ চাচ্ছে বাংলাদেশে তথাকথিত জঙ্গী তৎপরতা প্রমাণ করতে।
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমানকে ‘মুসলমানিত্ব’ বুঝতে হবে। ‘আশহাদু আন্না মুহম্মাদার রসূলুল্লাহ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাক্বীক্বীভাবে বলতে হবে ও আমলে আনতে হবে।
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রতি বছর শুধু অসুস্থতার কারণে প্রায় ৬৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছে।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রধানমন্ত্রী নিজেই ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেয়া শুরু করেছেন। বাতিল হয়েছে ‘রাষ্ট্রপতির’ সাথে ‘মহামান্য’ শব্দ ব্যবহারও।
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাংলাদেশের সামরিক ব্যয় গত দশকগুলোতে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধি মূলত বেতন, স্থায়ী খরচ এবং চলমান পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়েছে। তবে সামরিক আধুনিকায়ন, সমরাস্ত্র ক্রয় এবং নতুন প্রযুক্তি সংযোজনের জন্য মোট বাজেটের মাত্র ২-৪ শতাংশ ব্যয় হয়েছে।
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ্র পরিক্রমায় চললেই সে প্রজ্ঞা পাওয়া সম্ভব ইনশাআল্লাহ
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!!!!
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












