বিশ্ব সভ্যতায় মুসলমানদের অবদান: ইলম অর্জন ও প্রচার প্রসার (২য় পর্ব)
, ০৩ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২১ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ২১ মে, ২০২৬ খ্রি:, ০৭ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) ইতিহাস
বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখা:
উমাইয়াদের পৃষ্ঠপোষকতায় বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির অনেক উন্নতি সাধিত হয়। উমাইয়া শাসকদের পৃষ্ঠপোষকতায় বিজ্ঞান বিষয়ক অনেক বই পুস্তক আরবীতে অনূদিত হয়। জ্যোতির্বিদ্যা, ক্ষেত্র তত্ত্ব, চিকিৎসা, বীজগণিত, নৌ-চালনা, ভূগোল প্রভৃতি বিষয়ের উন্নতির সূচনা করে উমাইয়া শাসকরা।
আব্বাসীয় শাসকদের অবদান:
আব্বাসীয় যুগকে শিক্ষা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের স্বর্ণযুগ বলা হয়। শিক্ষা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের সকল শাখায়ই তাদের অবদানে সমৃদ্ধ। আব্বাসীয় আমলে সালতানাতের সকল অঞ্চলে অসংখ্য বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। বাগদাদ, কায়রো ও কর্ডোভায় উচ্চ মানের বিশ্ববিদ্যালয় ছিলো। সে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা হতো। শিক্ষাকে সাধারণ পাঠকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার জন্য এ সময়ে অনেক পাঠাগার স্থাপন করা হয়। পাঠাগারসমূহে বইয়ের সংখ্যা ছিলো অগণিত। পাঠাগারে থাকতো গবেষণা বিভাগ, অনুবাদ বিভাগ। আব্বাসীয় শাসক আল-মামুনের সময় বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় গভীর গবেষণার জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয় ইতিহাসবিখ্যাত বাইতুল হিকমাহ। এটি একটি শিক্ষা সংস্থা ছিলো। এতে লাইব্রেরিও ছিলো। সম্মানিত দ্বীন ইসলাম বিষয়ক জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা যেমনÑ হাদীছ শরীফ, তাফসীর, ফিক্হ, আকাইদ প্রভৃতি বিষয়সমূহের চর্চা ও গবেষণা ব্যাপকভাবে চলতে থাকে। এসব বিষয়ে প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়। ফিক্হকে বিধিবদ্ধ শাস্ত্র হিসেবে এ সময়েই সম্পাদনা করা হয়। ছিহাহ ছিত্তাহর হাদীছসমূহ সংকলন করা হয়। আব্বাসীয় যুগে সাহিত্য কলা ও সংস্কৃতির বিপুল উৎকর্ষ সাধিত হয়। ভাষাতত্ত্ব, অলংকার, উপন্যাস, কবিতা প্রভৃতি সাহিত্যকলা চরম উন্নতি লাভ করে।
প্রাচীন আরবী কবিতাসমূহ পুস্তকাকারে প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে এ যুগের মনীষী ও প-িতদের সৃজনশীল অবদান আধুনিককালেও বিস্ময়কর বলে মনে হয়। এ যুগে চিকিৎসা শাস্ত্র, জ্যোতির্বিদ্যা, গণিত শাস্ত্র, রসায়ন, উদ্ভিদ বিজ্ঞান, ভূতত্ত্ব প্রভৃতি বিষয়ে অভাবনীয় উন্নতি সাধিত হয়।
বিজ্ঞান চর্চার স্বর্ণযুগ:
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অসীম রহমত, বরকত, সাকীনা মুবারক উনার বদৌলতে হযরত খুলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের থেকে শুরু করে পরবর্তীতে উমাইয়া, আব্বাসীয় থেকে শুরু করে সকল মুসলমান সালতানাতেই বিজ্ঞান এক অসীম চূড়ায় গিয়ে উপনীত হয়েছিলো।
আনুষ্ঠানিকভাবে বিজ্ঞান চর্চার সূত্রপাত হয় হযরত খুলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম উনার সময়ে। এরপর বিজ্ঞান চর্চা বৃদ্ধি পায় উমাইয়াদের আমলে এবং পূর্ণ বিকশিত হয় আব্বাসীয়দের যুগে। স্পেনের মূর মুসলমানগণও বিজ্ঞান চর্চায় বিশেষ কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন।
উমাইয়া যুগ:
উমাইয়া শাসকদের মধ্যে আব্দুল মালিক, প্রথম ওয়ালিদ, হাজ্জাজ বিন ইউসুফ, হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি, হিশাম বিন আব্দুল মালেক প্রমুখ শাসকরা বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা করেন। তাদের পৃষ্ঠপোষকতার ফলে বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ আরবীতে অনূদিত হয়েছিলো। চিকিৎসক মাসার যাওয়াহ্ সর্বপ্রথম বৈজ্ঞানিক প্রণালীর চিকিৎসা গ্রন্থ আরবীতে অনুবাদ করেন। আবু হাসেম, খালেদ বিন ইয়াযীদ রসায়ন এবং চিকিৎসা শাস্ত্রের ওপর বই লিখেন।
উল্লেখ্য, আরব জাতি যে জ্যোতির্বিদ্যা, ক্ষেত্রতত্ত্ব, বীজগণিত, নৌচালনা ইত্যাদি বিষয়ের উন্নতি সাধনা করে পরবর্তী যুগে উৎকর্ষ সাধন করতে সক্ষম হয়েছিলো, উমাইয়া যুগে তার প্রাথমিক সূচনা পরিদৃষ্ট হয়।
আব্বাসীয় যুগ:
আব্বাসীয় যুগে জ্ঞান-বিজ্ঞান সাধনার এক স্বর্ণযুগ বলে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার ইতিহাসে বিশেষভাবে পরিচিত। বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে এ যুগের মুসলমান বিজ্ঞানীদের সৃজনশীল অবদান আধুনিককালেও বিস্ময়কর বলে মনে হয়। এ যুগে চিকিৎসা শাস্ত্র, জ্যোতির্বিদ্যা, গণিত শাস্ত্র, রসায়ন, উদ্ভিদ বিজ্ঞান, ভূতত্ত্ব প্রভৃতি বিষয়ে অভাবনীয় উন্নতি সাধিত হয়।
চিকিৎসা শাস্ত্রে ও অস্ত্র পাচার চিকিৎসায় আব্বাসীয়দের অবদান অসামান্য। চিকিৎসা শাস্ত্রে ইবনে আব্বাস, ইবনে সিনা, ইবনে দুহর, ইবনে রুশদ, ওমর বিন-খলদূন প্রমুখ যুগান্তর সৃষ্টি করেছিলেন। আলী ইবনে আব্বাস একজন প্রসিদ্ধ চিকিৎসক ছিলেন। প্রখ্যাত দার্শনিক ইবনে সিনা চিকিৎসক হিসেবেও সুপরিচিত ছিলেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ওপর তার লিখিত ‘কানূন’ চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভিত্তি হিসেবে সর্বত্র সমাদৃত ছিলো। আলী ইবনে আব্বাস ১২ খ-ে চিকিৎসা শাস্ত্রের এক বই লিখেছিলেন। তিনি হিপোক্রেটিস এবং গিলেনের বহু ভুল তথ্য সংশোধন করেছিলেন। একাদশ শতকের প্রসিদ্ধ অস্ত্র চিকিৎসক ছিলেন আবুল কাশেম খালেদ। অস্ত্রোপচারের দিক দিয়ে তিনি আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের পথিকৃৎ।
-মুহম্মদ শাহজালাল।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
আমিরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার নৌবাহিনী গঠন এবং বিজিত এলাকার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত নিযামুদ্দিন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাজার শরীফ প্রাঙ্গণে বসন্ত পঞ্চমী উৎসবের বানোয়াট ইতিহাসের ব্যবচ্ছেদ
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অশ্লীল চিত্র দেখা ও তৈরিতে যে সমস্ত বিধর্মী রাষ্ট্র শীর্ষে...
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বিধর্মীদের কুকীর্তিগুলো লিখিত রূপ দেয়নি কোনো লেখক, ফলে তাদের অপকীর্তিগুলো মুসলমানদের জানার আড়ালেই থেকে যাচ্ছে
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি বিধর্মী-কাফির, মুশরিকরা কতবেশি বিদ্বেষ পোষণ করে তার একটি উদাহরণ
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্তমান মুসলিম দেশগুলোর বিধর্মীপ্রীতিতে মত্ত শাসকগোষ্ঠীর শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি এক ছোট্ট কুটিরে খুঁজে পেলেন গরিব কিন্তু বেমেছাল তাক্বওয়াধারী এক পুত্রবধু
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার ইলম মুবারক
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি অনন্য খুছুছিয়ত মুবারক আর বাবুল ইলমী শানে মহীয়ান
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিশ্ব সভ্যতায় মুসলমানদের অবদান: ইলম অর্জন ও প্রচার প্রসার (৪র্থ পর্ব)
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (১৪)
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিশ্ব সভ্যতায় মুসলমানদের অবদান: ইলম অর্জন ও প্রচার প্রসার (৩য় পর্ব)
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












