মন্তব্য কলাম
বিদ্যুৎবাঁচাতে সন্ধ্যা ৬টার সময় দোকানপাট বন্ধ করলে অর্থনীতি আরো দুর্বল হবে
, ২১ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১০ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ২৭ চৈত্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) মন্তব্য কলাম
সমস্ত প্রশংসা খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সমগ্র জগতের প্রতিপালক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অসংখ্য দরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক।
বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে জ্বালানি বিষয়ক নীতিনির্ধারকদের বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতা অপরিহার্য। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নামে এমন কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণের আলোচনা হচ্ছে, যা অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ করার প্রস্তাব তেমনই একটি অযৌক্তিক ও আত্মঘাতী উদ্যোগ।
অর্থনীতির মৌলিক নিয়ম হলো-লেনদেন যত বাড়বে, অর্থনীতি তত গতিশীল হবে। দোকানপাট খোলা থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্য সচল থাকে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় এবং মানুষের আয়-রোজগার অব্যাহত থাকে। সেখানে কৃত্রিমভাবে সময় বেঁধে দিয়ে ব্যবসা সীমিত করে দিলে অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই সংকুচিত হবে। এমনিতেই যেখানে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা নানা চাপে জর্জরিত, সেখানে এই সিদ্ধান্ত তাদের জন্য নতুন করে দুঃস্বপ্ন ডেকে আনবে।
প্রশ্ন জাগে-বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য কেন শুধু উৎপাদনশীল খাতকেই টার্গেট করা হচ্ছে? যদি সত্যিই জ্বালানি সাশ্রয়ের প্রয়োজন হয়, তবে প্রথমে অনুৎপাদনশীল ও বিলাসী খাতগুলোতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা উচিত। খেলাধুলার আয়োজন, স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইট, টেলিভিশন- সিনেমা হল-এসব খাতে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎব্যবহৃত হয়। এগুলোর ব্যবহার বন্ধ করা হলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব। একইভাবে সরকারি-বেসরকারি অফিসে এসির অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমানো, সেন্ট্রাল এসির পরিবর্তে সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা-এসব পদক্ষেপ অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে।
এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো-অতীতের অভিজ্ঞতা। করোনাকালীন লকডাউনের সময় দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে পথে বসিয়েছিল। সেই ক্ষত এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। অথচ আবারও একই ধরনের নীতি গ্রহণের চিন্তা করা হচ্ছে, যা অর্থনীতিকে পুনরায় দুর্বল করে দিবে। অর্থনীতিকে সচল রাখার পরিবর্তে সংকুচিত করার এই প্রবণতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আরও একটি বিষয় গভীরভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন-সবকিছু অনলাইনে স্থানান্তরের প্রবণতা। অনেকেই যুক্তি দেন, দোকানপাট বন্ধ থাকলেও অনলাইন লেনদেন চলবে। কিন্তু অনলাইন ব্যবস্থাও বিদ্যুৎ নির্ভর। ইন্টারনেট অবকাঠামো, সার্ভার, ডিভাইস-সবকিছুই বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। ফলে বাস্তবতা হলো, অনলাইন কোনো বিকল্প নয়; বরং এটি ভিন্ন ধরনের বিদ্যুৎ খরচ সৃষ্টি করে। তাই কৃত্রিমভাবে অফলাইন ব্যবসা সীমিত করে অনলাইন নির্ভরতা বাড়ানো কোনো টেকসই সমাধান হতে পারে না।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো-দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই জ্বালানি নীতি প্রণয়ন। স্বল্পমেয়াদি ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সমস্যার মূল সমাধান করা সম্ভব নয়। সস্তায় জ্বালানি সংগ্রহ, জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, মজুদদারির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দেশীয় জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর দিকে জোর দিতে হবে। একইসঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ করাও সময়ের দাবি।
সুতরাং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নামে দোকানপাট সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করার মতো সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত নয়, বরং তা অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করে দেবে। সরকারের উচিত হবে উৎপাদনশীল খাতকে সচল রেখে বিকল্প উপায়ে জ্বালানি সাশ্রয়ের পথ খোঁজা। একটি দেশের অর্থনীতি তখনই শক্তিশালী হয়, যখন তার ব্যবসা-বাণিজ্য অবাধ ও সচল থাকে-সংকুচিত নয়।
তবে দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণে কার্যকর ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ তখনই সম্ভব, যখন নীতিনির্ধারকগণ খালিছ নেককার ব্যক্তিত্বদের সান্নিধ্য লাভ করবেন। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে হক্ব বুঝার ও সে অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন। আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (৮)
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
১৯৯০ সালে কাঁচা চামড়া রফতানীর নিষিদ্ধ করণের প্রেক্ষাপট বর্তমানে নেই। এ মুহুর্তে কাঁচা চামড়া রফতানীর অনুমোদন বর্তমান সংকটকে অনেকটাই কমাতে পারে।
০৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কুরবানী আসে-যায় মৌসুমী কসাইরা অরক্ষা আর অবহেলাতেই থেকে যায়। তাদের অনেকে আহত হয়, পঙ্গু হয়, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়- মৌসুমী কসাইদের প্রশিক্ষণ ও পৃষ্টপোষকতার পাশাপাশি ঈদুল আদ্বহায় বিশেষ স্বাস্থসেবা চালু করা দরকার।
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
‘দ্যা গ্রেট রিসেট’ ও নমরুদী মশার প্রতিশোধের এক চরম ইহুদী-নাসারায়ী নীলনকশা!
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বিদ্যুতের বিল বার বার বাড়ানো শোষক জমিদারি কায়দায় চক্র বৃদ্ধি হারে খাজনার চাবুক মারা অথচ বিদ্যুতে শুধু চুরি নয়, সব দিক থেকে সাগর চুরি হচ্ছে। সে চুরির ক্ষত পোষাতে জনগণের উপর খাজনা বৃদ্ধি করে চোরদের উৎসাহ ও প্রনোদনা এবং নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে।
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সে যুগেও হুসাইন আহমদকে ইহুদীদের দালাল, হিন্দুদের কংগ্রেসের পা চাটা- গোলাম প্রচারণা করা হলেও থানভী গংরা তা বুঝতে পারলো কৈ? আজকে পশ্চিমবঙ্গে হাজার হাজার মসজিদ ভাঙ্গা ও লাখ লাখ মুসলমানদের বাড়ী-ঘর ধ্বংস, হিন্দুত্ববাদ গ্রহণে বাধ্য করার মত মহা জুলুমের মূলে হোসেন আহমদের সর্ব ভারতীয় জাতীয়বাদ।
২৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
আকাশের অতন্দ্র প্রহরী: বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ও আবহাওয়া রাডার অবকাঠামোর মহাপরিকল্পনা কেন জরুরি? (১ম পর্ব)
২৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর ২০২৫) ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসীম উদ্দিনের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
২২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
কিন্তু গতকাল গুগল, ফেইসবুকে অসংখ্য আইডি থেকে প্রচারিত- ‘তারেক রমমান নারিকেল দ্বীপ (সেন্টমার্টিন দ্বীপ) আমেরিকাকে দিয়ে দিয়েছেন নারিকেল দ্বীপ এখন মার্কিন ঘাটি হবে’- ইত্যকার প্রচারণা দেশবাসীকে হতভম্ব করছে। সর্বপোরি সরকারের দলীয় বা প্রশাসনের তরফ থেকে এটাকে গুজব না বলায়- হতাশা চরম আকার ধারণ করেছে।
২২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বর্বর আম্রিকা আর সন্ত্রাসী ইসরাইলের সাথে সু-সম্পর্ক বজায় রাখছে সংযুক্ত আরব আমিরাত কিন্তু মুসলিম দেশ ইয়েমেন থেকে শুরু করে সোমালিয়া-লিবিয়া হতে সুদানে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ চালিয়ে রাখছে আরব-আমিরাত ভয়াবহ মানবেতর সংকটে সুদান, সহিংসতা-রোগ-দুর্ভিক্ষে দিশাহারা মানুষ সুদানের রক্তপাত বন্ধে মুসলিম বিশ্বকে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসতে হবে এক্ষুনি
২১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সার্বভৌমত্বের বিনিময়ে এক শতাংশ ছাড়! এ কেমন কালোচুক্তি? প্রকৃতপক্ষে গোলামীর চুক্তি
২০ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৭১ এ তারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলো ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধীতার নামে। তবে তারা ২০২৬- এ আমেরিকার আধিপত্যবাদী বাণিজ্য চুক্তির বিরোধিতায় নামছে না কেন? ভারত বাংলাদেশ চুক্তিকে তারা গোলামীর চুক্তি বলে কঠিন আওয়াজ তুলেছিলো!
১৯ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












