মন্তব্য কলাম
বাংলাদেশকে সুদী ইউনুস কতটা ঘৃণা করে এবং বাংলাদেশের চূড়ান্ত ক্ষতি ও সার্বভৌমত্ব বিক্রী কত বেশী পছন্দ করে; তার সাক্ষাত প্রমাণ আমেরিকার সাথে তার সরকারের বাণিজ্য চুক্তি
, ১৩ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৩ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৩ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ১৮ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) মন্তব্য কলাম
এই তথাকথিত বাণিজ্যচুক্তির মাধ্যমে কার্যত বাংলাদেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য, এমনকি পররাষ্ট্রনীতির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিরঙ্কুশ আধিপত্য প্রতিষ্ঠার আয়োজন করা হয়েছে।
শিল্প, কৃষি, জ্বালানি থেকে শুরু করে দেশের সব খাতকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক স্বার্থের অধীন করে ফেলা হয়েছে;
বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক প্রকল্পে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে, তৃতীয় কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের হাত-পা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
ফলে এককথায় এটি জাতীয় স্বার্থবিরোধী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনকারী একটি চুক্তি।
চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার আগে আসন্ন সংসদ অধিবেশনের মাধ্যমে এর পুরোই সংশোধন করতে হবে ইনশাআল্লাহ।
(পর্ব-২)
একটি অনির্বাচিত সরকার হয়েও বিগত অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বাণিজ্য চুক্তি করেছে তা দেখে সচেতন দেশবাসী ‘হতভম্ব’ ও ‘স্তম্ভিত’।
বাড়তি সম্পূরক শুল্কের বোঝা মাথায় নিয়ে নয় মাসের আলোচনা শেষে অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘এগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) নামের বাণিজ্য চুক্তিটি করে। ভোটের ডামাডোলের কারণে এ নিয়ে আলোচনা কিছুটা আড়ালেই ছিল।
ছয়টা খ-ে ২৯টি ধারা ও ২০০-এর বেশি উপধারা আছে চুক্তিতে, সঙ্গে আছে তিনটি সংযুক্তি। ৩২ পৃষ্ঠার চুক্তিতে ‘আমেরিকার তুলা কিনলে গার্মেন্টস পণ্যে ছাড় পাওয়া যাবে, আর শুল্ক ১ শতাংশ কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়েছে’-এই একটি লাইন ছাড়া আর একটি ধারাও নেই; যা কার্যত বাংলাদেশের পক্ষে গেছে।
কি আছে চুক্তিতে?
চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ আমেরিকা থেকে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কিনবে, ১৫ বছরে জ্বালানি কিনবে ১৫শ’ কোটি ডলারের, তৈরি পোশাক খাতের কাঁচামাল হিসেবে তুলা কিনবে, বছরে প্রায় সাড়ে তিনশ’ কোটি ডলারের কৃষিপণ্য আমদানি করবে। টাকার অঙ্কে বেশ বড়সড় শোনানো এসব সংখ্যা নিয়ে বেশ হইচই হলেও এই চুক্তির সমস্যা মূলত অন্য জায়গায়। আমেরিকার পণ্যের জন্য আমদানি শুল্ক শূন্য করা, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাধ্যতামূলক পণ্য আমদানি করা, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুলে দেওয়া, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অন্য কোনো দেশের সঙ্গে ব্যবসা করতে না পারা, দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে ভর্তুকি দেওয়া বন্ধ করাসহ চুক্তির প্রায় প্রতিটি ধারায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য ঢুকবে বিনাশুল্কে কিন্তু বাংলাদেশকে দিতে হবে শুল্ক
চুক্তি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা প্রায় সাড়ে ছয় হাজারের বেশি পণ্যের ওপর হয় শুল্ক কমাতে হবে বা সেটিকে শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে। ফলে দেশকে হারাতে হবে বিশাল অঙ্কের রাজস্ব আয়! কিন্তু আমেরিকা যখন বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানি করবে তখন সে সংখ্যা দেড় হাজার। শুল্ক কতটা ধার্য হবে, ওটা ওদের মর্জির ওপর নির্ভর করবে। ব্যাপারটা এরকম যে, বাংলাদেশ আমেরিকার জন্য তার দরজা পুরোটা খুলে দাঁড়িয়ে থাকবে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র দরজা খোলা রাখবে কিনা, তা পুরোপুরি তাদের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে।
যেসব পণ্য নিয়ে চুক্তি হয়েছে সেটা শুনলেও বিস্মিত হতে হয়। কৃষিজাত পণ্য থেকে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ পণ্য, ওষুধ, বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, গোশত, চিজ-কি নেই সেই তালিকায়। ৫.১ নম্বর ধারার অংশবিশেষটা এরকম: যুক্তরাষ্ট্র খনিজ সম্পদ উত্তোলন থেকে শুরু করে অনুসন্ধান, পরিবহন, বিতরণে সরাসরি অংশ নেবে, সেখানে দেশীয় বিনিয়োগকারীদের সমান সুযোগ আমেরিকাকে দিতে হবে। ধরুন পেট্রোবাংলা দেশের অভ্যন্তরে খনিজ অনুসন্ধান করে। এখন আমেরিকার একটা কোম্পানি চলে আসলে পেট্রোবাংলার অস্তিত্ব থাকবে?
আমেরিকার পণ্যের মান যাচাই করা যাবে না
চুক্তি অনুযায়ী আমেরিকার পণ্য যখন ঢুকবে, বাংলাদেশ সেখানে কোনো ধরনের কোটা আরোপ করতে পারবে না, কোনো ধরনের পরীক্ষা বা মান নিয়ন্ত্রণও করতে পারবে না। ধরুন, বিএসটিআইয়ের মত প্রতিষ্ঠান যদি মনে করে আমেরিকা থেকে আসা খাদ্যপণ্যে অতিরিক্ত রাসায়নিক আছে বা আমেরিকার বীজ বাংলাদেশের তিনফসলি জমির জন্য উপযোগী নয়, কীটনাশক ব্যবহার করলে ক্ষতিকর আগাছা বাড়বে, দরকারি কীটপতঙ্গ সব মরে যাবে-সেসব গ্রহণযোগ্য হবে না। আমেরিকা থেকে আসা পণ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ওষুধ প্রশাসন, খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ বা বিএসটিআইয়ের মত প্রতিষ্ঠানের কোনো ভূমিকা থাকবে না।
একতরফা শ্রম আইন
বাংলাদেশে শ্রম আইন হতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দমত। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার স্ট্যান্ডার্ড এখানে প্রযোজ্য হবে না। কোনো কারণে বাংলাদেশ যদি শ্রম আইন মানার ক্ষেত্রে ব্যত্যয় ঘটায়, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে একতরফা শাস্তি দিতে পারবে, মানে শুল্ক বাড়িয়ে দিতে পারবে। ধরুন যুক্তরাষ্ট্র যদি মনে করে যে, বাংলাদেশের ইপিজেডগুলোতে শ্রম অধিকার বিষয়ক যেসব নীতিমালা আছে তা যথেষ্ট নয়, সেক্ষেত্রে তারা বাংলাদেশের পোশাকের ওপর শুল্ক বাড়াতে পারবে।
ডেটা লোকালাইজেশনের অধিকার হারাবে
চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ ডেটা লোকালাইজেশন করতে পারবে না, ডিজিটাল সার্ভিসের ওপর ট্যাক্স বসাতে পারবে না, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা নীতি সমন্বয় করতে হবে। তার মানে হল, যদি বাংলাদেশ ফেইসবুক বা গুগলকে স্থানীয়ভাবে সার্ভার স্থাপন করতে বলে সেটা তারা শুনতে বাধ্য নয়, আমাজান তার বিক্রি করা পণ্যের ওপর ট্যাক্স দেবে না। ডিজিটাল অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।
একটা উদাহরণ দিলে পরিষ্কার হবে। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে চীনের সঙ্গেও বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ব্যবসা আছে। এখন আমেরিকা চাইলে বাংলাদেশ অবশ্যই চীনের সব কোম্পানিকে নিষিদ্ধ করতে বাধ্য থাকবে, কারণ চুক্তিতে পরিস্কার বলা আছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র কোনো নিরাপত্তা সংক্রান্ত বাণিজ্য ব্যবস্থা নিলে বাংলাদেশকে একই ব্যবস্থা নিতে হবে, বাংলাদেশ তৃতীয় দেশের কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য থাকবে, বাংলাদেশ আর কোনো দেশ থেকে পারমাণবিক প্রযুক্তি কিনতে পারবে না।’ দেশের পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষা নীতি পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্র নির্ভর হয়ে পড়বে।
দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা বন্ধ, দেওয়া যাবে না ভর্তুকি
চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশের নিজস্ব একটি কোম্পানি বিনিয়োগ করার সময় যেসব সুবিধা পাবে, আমেরিকার একটা কোম্পানিকেও অনুরূপ সুবিধা দিতে হবে। কিন্তু আমেরিকার কোম্পানি যদি পরিবেশ দূষণ করে, তার জন্য বাংলাদেশ তাকে শাস্তি দিতে পারবে না। এখন আমেরিকার একটা কোম্পানির সঙ্গে লাল-তীর কি আর দাঁড়াতে পারবে? লাল-তীর যদি কোনো কারণে বিপদে পড়ে তাকে আবার সরকার ভর্তুকি দিতে পারবে না-সেটাও পইপই করে বলা আছে চুক্তিতে।
আরেকটি উদাহরণ দেওয়া যাক। ধরুন ওষুধ বাংলাদেশে বিকাশমান একটা শিল্প। এখন আমেরিকা থেকে ট্যাক্স ফ্রি ওষুধ দেশে আসতে শুরু করলে, বা ওখানকার কোম্পানি এখানে এসে ওষুধ বানানো শুরু করলে এখানকার একটা প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে? আমেরিকার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পড়ে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প শেষ হয়ে যাবে না? তাও আবার আমেরিকার কোম্পানিকে দিতে হবে না কোনো ট্যাক্স!
অভিন্ন চুক্তি কিন্তু ভিন্ন শাস্তি
দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হলে সেটা যেই অমান্য করুক, শাস্তিও তো সমান হওয়ার কথা, তাই নয় কি? এটা একটা আন্তর্জাতিক চুক্তির বেসিক দিক। কিন্তু এই চুক্তিতে এসবের বালাই নেই। যুক্তরাষ্ট্র যদি মনে করে বাংলাদেশ চুক্তি মানেনি, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক বসাতে পারবে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি ভঙ্গ করলে বাংলাদেশ কোনো প্রতিকার তো পাবেই না, প্রতিকার চাওয়ার জন্য কোনো নিরপেক্ষ সংস্থার কাছেও যেতে পারবে না। তবে দুই পক্ষই ৬০ দিনের নোটিশ দিয়ে চুক্তি থেকে বের হয়ে যেতে পারবে।
তুলা কিনলে তৈরি পোশাকের শুল্ক মাফ: ফাঁকি?
বাংলাদেশ তুলা আমদানি করে মূলত যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, উজবেকিস্তান, পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে।
আফ্রিকার তুলা দামে সস্তা, স্থল ও সমুদ্র দিয়ে আসতে পারে বলে পরিবহন খরচ কম, অর্ডার দেওয়ার ৭-১০ দিনের ভেতর চলে আসে, ফলে সেই তুলা মজুত করতে হয় না।
আমেরিকার তুলার দাম বেশি, অর্ডার দিলে দেশে আসতে সময় লাগে ৩০-৪৫ দিন, পরিবহন খরচ বেশি। এই তুলা সাধারণত খুব ব্যয়বহুল জামাকাপড়ের জন্য ব্যবহার হয়। তার মানে খরচ বাঁচে এরকম উৎস বিবেচনা করলে বাংলাদেশের জন্য উপযোগী বাজার হলো আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ।
কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এটি প্রচার করেছে যে, তুলা কিনলে বাংলাদেশে গার্মেন্টস পণ্য বিনাশুল্কে আমেরিকায় ঢুকতে পারবে, যা মূলত সত্য নয়। চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র এই শর্ত দিয়ে রেখেছে যে, বাংলাদেশ আমেরিকার কাছ থেকে তুলা কিনে পোশাক বানালে শুধু ওই পোশাকের ওপর শুল্ক বসবে না। বাংলাদেশ তার মোট পোশাকের মাত্র ১৮ থেকে ২০ শতাংশ আমেরিকায় রপ্তানি করে। এখন কি বাংলাদেশ এই ১৮ শতাংশ রপ্তানির জন্য ১০০ শতাংশ তুলা আমেরিকা থেকে কিনবে?
এই একটি কারণে বিরাট বিপদে পড়বে বাংলাদেশ। আমেরিকার ওপর বাণিজ্য নির্ভরতা তৈরি হবে, তুলা কেনার শর্ত মানতে হবে! শুধু যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করলে বাংলাদেশ কম দামি পোশাক বানাবে কি করে, কারণ পোশাক উৎপাদনের খরচ বাড়বে। এর মানে হল পোশাকের বিরাট এক বাজার হারাবে বাংলাদেশ। যে দেশের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ স্পিনিং মিল আফ্রিকান তুলা দিয়ে চলে, সে হঠাৎ করে বেশি দামের তুলার ব্যবহার শুরু করলে তার সেই পোশাক কিনবে কে?
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিতে বাংলাদেশ থেকে পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে আরোপ করা রেসিপ্রোকাল শুল্ক ১ শতাংশ কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়েছে। পক্ষান্তরে এই শুল্ক বাতিল হওয়ার পর ট্রাম্পের ভিন্ন আইনে ১৯ শতাংশ শুল্ক আরোপের স্থলে মূলত শুল্ক দাঁড়াচ্ছে ১০ শতাংশ অর্থাৎ আগের চেয়ে ৯ শতাংশ কম। এটা বাংলাদেশের জন্য তুলনামূলকভাবে লাভজনক। প্রশ্ন হচ্ছে, রেসিপ্রোকাল শুল্ক বাতিল হওয়ার বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি বাতিল বা অকার্যকর প্রতিপন্ন হবে কিনা? অনেকের মতে, যেহেতু রেসিপ্রোকাল শুল্কের কারণে বাণিজ্য চুক্তি, সুতরাং বাণিজ্য চুক্তি বাতিল হবে। আবার অনেকের মতে, রেসিপ্রোকাল শুল্ক ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি দুটি পৃথক বিষয়। ফলে একটা বাতিলে অন্যটি বাতিল হবে না। এ নিয়ে কার্যত এক ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, যার অবসান জরুরি।
বাণিজ্য চুক্তিতে মোটাদাগে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষিত হয়নি। চুক্তিতে কৃষি পণ্য বিশেষত তুলা, গম, সয়াবিন ও সয়াজাত পণ্য আমদানির কথা বলা হয়েছে। তুলা আমদানির কারণে গার্মেন্ট পণ্যে শূন্য শুল্কের সুবিধা পাওয়া গেলেও অন্যান্য কৃষিপণ্য আমদানির ফলে দেশের উৎপাদিত সমজাতীয় পণ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ার আশংকা থাকবে। জ্বালানি, সামরিক সরঞ্জাম ও বোয়িং কেনাতে প্রায় একচেটিয়া সুবিধা পাবে যুক্তরাষ্ট্র। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিষয়টি তো কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যায় না। এহন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে চুক্তির পুনর্মূল্যায়নের বিকল্প নেই। এ ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ। সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বাংলাদেশের স্বার্থ উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছে। বিশেষজ্ঞ ও ওয়াকিবহাল মহল এবং ব্যবসায়ী মহল মনে করে, নতুন নির্বাচিত সরকারকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে। অবিলম্বে চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথাবার্তা ও আলোচনার সূত্রপাত করতে হবে। চুক্তির খুঁটিনাটি পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করতে হবে। জাতীয় স্বার্থের প্রতিকূলে দ্রুত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করা অন্তর্বর্তী সরকারের মোটেই উচিত হয়নি। চুক্তি না করলে এখন চুক্তি নিয়ে আমাদের ভাবতে হতো না। চুক্তি বলে বাংলাদেশি পণ্যে শুল্ক রেয়াতে যতটা সুবিধা পাওয়ার কথা, রেসিপ্রোকাল শুল্ক বাতিল হওয়ার ফলে তার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ শুল্ক বেয়াতের সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। চুক্তি বাতিল হওয়াই একান্ত অনিবার্য ইনশাআল্লাহ।
(ইনশাআল্লাহ চলবে)
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বিশ্লেষকদের অভিমত: এলএনজি আমদানিতে বিপর্যস্ত হবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। দেশে উৎপাদিত গ্যাসের চেয়ে ২৪ গুণ বেশি দামে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। এলএনজির ভর্তুকি পোষাতে বার বার গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হচ্ছে। জ্বালানি খাতে আর কত শোষিত হবে দেশের জনগণ?
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র যাকাত সঠিকভাবে আদায় না করায় দেশবাসী আক্রান্ত হচ্ছে অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, খরা, বন্যাসহ নানা দুর্যোগে। সঠিকভাবে পবিত্র যাকাত আদায় এবং সঠিক জায়গায় পৌঁছানোই এসব দুর্যোগ থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায়।
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বছরে অর্থনৈতিক অপচয় ৩০ হাজার কোটি টাকা, রোগাক্রান্ত হচ্ছে যুবসমাজ, ধানী জমিতে চাষ হচ্ছে তামাক। অন্য পদক্ষেপের পাশাপাশি ইসলামী মূল্যবোধের আলোকেই সরকারকে তামাক নিয়ন্ত্রণ সক্রিয় ও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে ইনশাআল্লাহ।
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি এবং উনার অনবদ্য তাজদীদ ‘আত-তাক্বউইমুশ শামসী’ সম্পর্কে জানা ও পালন করা এবং শুকরিয়া আদায় করা মুসলমানদের জন্য ফরয। মুসলমান আর কতকাল গাফিল ও জাহিল থাকবে?
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বাংলাদেশকে সুদী ইউনুস কতটা ঘৃণা করে এবং বাংলাদেশের চূড়ান্ত ক্ষতি ও সার্বভৌমত্ব বিক্রী কত বেশী পছন্দ করে; তার সাক্ষাত প্রমাণ আমেরিকার সাথে তার সরকারের বাণিজ্য চুক্তি এই তথাকথিত বাণিজ্যচুক্তির মাধ্যমে কার্যত বাংলাদেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য, এমনকি পররাষ্ট্রনীতির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিরঙ্কুশ আধিপত্য প্রতিষ্ঠার আয়োজন করা হয়েছে।
২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কথিত স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা রোযার উপর গবেষনা করে রোযার মাহাত্ম স্বীকার করে তথাকথিত নোবেল পুরষ্কার পায়! কিন্তু মুসলমান দ্বীন ইসলাম উনার আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় লজ্জাকরভাবে ব্যার্থ হয়। কথিত বিজ্ঞান ও কথিত স্বাস্থ্যবিজ্ঞানী এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে রোযার উপকারিতা অপরিসীম।
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
কথিত স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা রোযার উপর গবেষনা করে রোযার মাহাত্ম স্বীকার করে তথাকথিত নোবেল পুরষ্কার পায়! কিন্তু মুসলমান দ্বীন ইসলাম উনার আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় লজ্জাকরভাবে ব্যার্থ হয়। কথিত বিজ্ঞান ও কথিত স্বাস্থ্যবিজ্ঞানী এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে রোযার উপকারিতা অপরিসীম। (পর্ব-১)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
দেশে কয়েক বছরে ধনী-গরীব বৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করেছে পুঁজিবাদী অর্থ ব্যবস্থায় জাতীয় সম্পদ কুক্ষিগত হচ্ছে গুটিকয়েক ব্যক্তির হাতে ধনী গরীব বৈষম্য দূরীকরণে যাকাত ব্যবস্থাই একমাত্র সমাধান মার্কিন অধ্যাপকের গবেষণা- “বছরে এক লাখ কোটি টাকা যাকাত আদায় সম্ভব” এ বক্তব্য সঠিক নয় বরং দৈনিক আল ইহসান শরীফের গবেষণা অনুযায়ী বছরে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা যাকাত আদায় সম্ভব ইনশাআল্লাহ
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইফতারীসহ বিভিন্ন খাদ্য ও পানীয়কে লোভনীয় করতে মেশানো হয় বিভিন্ন আকর্ষণীয় রং। সাধারণ মানুষ রংবিহীন বিশুদ্ধ খাবারের পরিবর্তে রংযুক্ত ভেজাল ও ক্ষতিকর খাদ্য ও পানীয় ক্রয় করতেই বেশি উৎসাহী। এতে করে তারা আর্থিকভাবে এবং স্বাস্থ্যগতভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে কোনো কৃত্রিমতা নেই।
২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইফতারীসহ বিভিন্ন খাদ্য ও পানীয়কে লোভনীয় করতে মেশানো হয় বিভিন্ন আকর্ষণীয় রং। সাধারণ মানুষ রংবিহীন বিশুদ্ধ খাবারের পরিবর্তে রংযুক্ত ভেজাল ও ক্ষতিকর খাদ্য ও পানীয় ক্রয় করতেই বেশি উৎসাহী। এতে করে তারা আর্থিকভাবে এবং স্বাস্থ্যগতভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে কোনো কৃত্রিমতা নেই। এই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার আমল থাকলে সাধারণ মুসলমান এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতো না।
২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
এক সন্তান নীতি থেকে সরে এলো চীন। বিধর্মী দেশগুলোতে অধিক সন্তান গ্রহণে দেয়া হচ্ছে পুরস্কার। বিপরীতে ইহুদীবাদীদের ভ্রান্ত ম্যালথাসবাদের প্রসার হচ্ছে মুসলিম দেশগুলোতে; বিশেষ করে বাংলাদেশে। বাংলাদেশ সরকারকে এই আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র থেকে বের হওয়ার পাশাপাশি জনগনকেও সচেতন হতে হবে।
১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
গ্যাস জালানীখাতে জালেমশাহী তথা দুর্নীতির মা- হাসিনা সরকারের মতই আমদানীর ব্যাপকতায় ভাসছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার করছে আরো বেশী দুর্নীতি।
১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












