মন্তব্য কলাম
বাংলাদেশকে সুদী ইউনুস কতটা ঘৃণা করে এবং বাংলাদেশের চূড়ান্ত ক্ষতি ও সার্বভৌমত্ব বিক্রী কত বেশী পছন্দ করে; তার সাক্ষাত প্রমাণ আমেরিকার সাথে তার সরকারের বাণিজ্য চুক্তি এই তথাকথিত বাণিজ্যচুক্তির মাধ্যমে কার্যত বাংলাদেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য, এমনকি পররাষ্ট্রনীতির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিরঙ্কুশ আধিপত্য প্রতিষ্ঠার আয়োজন করা হয়েছে।
, ০৮ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৮ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ১৩ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) মন্তব্য কলাম
শিল্প, কৃষি, জ্বালানি থেকে শুরু করে দেশের সব খাতকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক স্বার্থের অধীন করে ফেলা হয়েছে;
বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক প্রকল্পে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে, তৃতীয় কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের হাত-পা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
ফলে এককথায় এটি জাতীয় স্বার্থবিরোধী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনকারী একটি চুক্তি।
চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার আগে আসন্ন সংসদ অধিবেশনের মাধ্যমে এর পুরোই সংশোধন করতে হবে ইনশাআল্লাহ।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সম্পাদিত ‘বাণিজ্য চুক্তি’ পুনর্বিবেচনার জন্য নতুন সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। একইসঙ্গে অসহনীয় চাঁদাবাজি স্থানীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং ব্যবসা-বাণিজ্য কার্যক্রম পরিচালনায় আস্থাহীনতা তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেছে ব্যবসায়ীদের এ সংগঠনটি।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অডিটরিয়ামে আয়োজিত ‘বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় নবগঠিত সরকারের নিকট প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি ও মন্তব্য করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চুক্তির বিষয়টি একটি নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়াই ছিলো যুক্তিযুক্ত। তড়িঘড়ি করে নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট (এনডিএ) করে চুক্তি স্বাক্ষরের কারণে অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তড়িঘড়ি করে আমেরিকার সঙ্গে করে যাওয়া এ বাণিজ্যিক চুক্তিকে বাংলাদেশ প্রথমে ‘গোপনীয় ও প্রকাশযোগ্য নয়’ বললেও, সাক্ষরের পরের দিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে চুক্তির চূড়ান্ত কপি প্রকাশ করে দেয়। পড়া শুরু করার পর প্রথমে দুই দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য করা একটা মামুলি চুক্তি মনে হলেও ধীরে ধীরে এটা অনুধাবন হতে থাকবে যে, কেউ তার দেশকে কতটা ঘৃণা করলে, কতটা স্বার্থান্বেষী হলে-নিজ দেশের বিরুদ্ধে গিয়ে এরকম একটা চুক্তি সম্পাদন করতে পারে!
চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত পাল্টা শুল্কহার ১ শতাংশ কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্য প্রবেশে বিদ্যমান সাধারণ গড় শুল্কহার সাড়ে ১৫ শতাংশ। এর ওপর বাড়তি পাল্টা শুল্ক আরোপ হবে ১৯ শতাংশ। অর্থাৎ দেশটির বাজারে বাংলাদেশি পণ্যে মোট শুল্কের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে সাড়ে ৩৪ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের তুলা বা সুতা ব্যবহার করে তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে যে ‘পাল্টা শুল্ক’ অব্যাহতি পাবে বলে প্রচার করা হচ্ছে, তা নানা শর্তযুক্ত। এসব শর্ত মেনে বাংলাদেশ ঠিক কতটা সুবিধা আদায় করতে পারবে, তা নিয়ে ব্যবসায়ীরাই প্রশ্ন তুলেছে। অথচ বিনিময়ে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় বাণিজ্য, অর্থনীতি ও ভূরাজনৈতিক ক্ষেত্রে নানা শর্ত মেনে চলার অঙ্গীকার করতে হয়েছে। এই লেখায় চুক্তিতে থাকা শর্তগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা হবে চুক্তিটিতে দেশের স্বার্থ কতটা ক্ষুণœ হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিপুল শুল্কছাড়
এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের ৬ হাজার ৭১০টি পণ্যে শুল্কছাড় দেবে, বিনিময়ে বাংলাদেশ পাবে ১ হাজার ৬৩৮ পণ্যে পাল্টা শুল্কছাড়ের সুবিধা। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি কার্যকর হওয়ার দিন থেকেই ৪ হাজার ৫০০টি পণ্য বাংলাদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। এগুলোকে ইআইএফ (এন্টার ইনটু ফোর্স) শ্রেণিতে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গবাদিপশু, গোশত, মাছ, রাসায়নিক দ্রব্য, বস্ত্র, যন্ত্রপাতি ও নানা শিল্পপণ্য।
এ ছাড়া বি-৫ শ্রেণিতে থাকা ১ হাজার ৫৩৯টি পণ্যের শুল্ক চুক্তি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অর্ধেক কমানো হবে। বাকি অর্ধেক পরবর্তী চার বছরে সমানভাবে কমবে। পঞ্চম বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এসব পণ্য পুরোপুরি শুল্কমুক্ত হবে। বি-১০ শ্রেণির ৬৭২টি পণ্যের ক্ষেত্রেও শুরুতে শুল্ক অর্ধেক কমবে। বাকি অর্ধেক পরবর্তী ৯ বছরে সমান ধাপে কমিয়ে দশম বছরের ১ জানুয়ারি থেকে সম্পূর্ণ শূন্যে নামানো হবে। এই বিপুল শুল্কছাড়ের কারণে স্থানীয় কৃষি ও শিল্পপণ্য যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে পারে এবং শুল্ক বাবদ রাজস্ব আয় কমতে পারে (শিডিউল ১, অ্যানেক্স ১)।
মার্কিন শিল্পপণ্য রপ্তানিতে অশুল্ক বাধা অপসারণ
চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য রপ্তানিতে অশুল্ক বাধা কমানোর ব্যাপারে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এমনভাবে আমদানি লাইসেন্সিং নীতির প্রয়োগ করতে পারবে না, যাতে সেসব পণ্যের আমদানি বাধাগ্রস্ত হয় (আর্টিকেল ২.২)। মার্কিন শিল্প ও চিকিৎসাপণ্য সে দেশে অনুমোদিত হলেও বাংলাদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে আবার পরীক্ষা ও বিপণন অনুমোদন নিতে হতো। যুক্তরাষ্ট্র এটাকে অশুল্ক বাধা হিসেবে চিহ্নিত করে দূর করার প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশের কাছ থেকে আদায় করেছে (অ্যানেক্স ৩, সেকশন ১)।
এর ফলে বাংলাদেশকে যেসব ছাড় দিতে হবে, তার মধ্যে রয়েছে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধের ক্ষেত্রে এফডিএ সনদ ও পূর্ববর্তী বিপণন অনুমোদন গ্রহণ করা (আর্টিকেল ১.১, অ্যানেক্স ৩); মার্কিন ফেডারেল মোটরযান নিরাপত্তা ও নির্গমন মান অনুযায়ী নির্মিত যানবাহন গ্রহণ করা (আর্টিকেল ১.২, অ্যানেক্স ৩) এবং মার্কিন পুনঃউৎপাদিত পণ্য বা যন্ত্রাংশের ওপর যেকোনো আমদানি নিষেধাজ্ঞা বা লাইসেন্সিং শর্ত তুলে নেওয়া (আর্টিকেল ১.৩, অ্যানেক্স ৩)।
কৃষি ও জৈব প্রযুক্তি পণ্যের অশুল্ক বাধা অপসারণ
অশুল্ক বাধা দূর করার নামে মার্কিন কৃষি ও জৈব প্রযুক্তি পণ্যের প্রবেশের ক্ষেত্রেও পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ। (অ্যানেক্স ৩, সেকশন ১) প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে রয়েছে মার্কিন খাদ্য ও কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে মার্কিন স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি ব্যবস্থা এবং অন্যান্য মানদ-কে বাংলাদেশের মানদ-ের বিকল্প হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া (আর্টিকেল ১.৪, অ্যানেক্স ৩); গোশত-পোলট্রি-ডিম ইত্যাদির ক্ষেত্রে ইউএসডিএ ফুড সেফটি অ্যান্ড ইন্সপেকশন সার্ভিসের মানদ-কে স্বীকৃতি দেওয়া (আর্টিকেল ১.৫, অ্যানেক্স ৩); চুক্তি স্বাক্ষরের ২৪ মাসের মধ্যে এমন নীতিমালা তৈরি করা যেন যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপদ বলে স্বীকৃত বায়োটেকনোলজি বা জৈব প্রযুক্তি পণ্য বিনা পরীক্ষা ও বাড়তি কোনো লেবেলিং ছাড়াই বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে (আর্টিকেল ১.৬, অ্যানেক্স ৩); যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঞ্চলের পোলট্রি খাত এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে আক্রান্ত অঞ্চলের ১০ কিলোমিটার বেশি দূরত্বের পোলট্রি পণ্যের ওপর আমদানি নিষেধাজ্ঞা না দেওয়া (আর্টিকেল ১.৮, অ্যানেক্স ৩) ইত্যাদি।
এসব কথিত অশুল্ক বাধা দূর করার অর্থ হলো খাদ্য ও কৃষিপণ্য আমদানিতে জৈব নিরাপত্তা নিশ্চিতের ক্ষমতা হারানো। আগে মার্কিন তুলা দেশে আসার পর পোকা মারার রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হতো। এখন সেটা সম্ভব হবে না। বিতর্কিত জেনিটিক্যালি মোডিফায়েড পণ্য আমদানিতে বাধা দেওয়া যাবে না, এমনকি লেবেল দিয়ে চিহ্নিতও করতে বাধ্য করা যাবে না, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাড়তি খরচে বাধ্যতামূলক পণ্য আমদানি
চুক্তি অনুসারে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কিনতে হবে। আগামী ১৫ বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলার বা ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার মার্কিন জ্বালানি, বিশেষ করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কিনতে হবে। সেই সঙ্গে ৩৫০ কোটি ডলার বা ৪২ হাজার কোটি টাকার মার্কিন কৃষি পণ্য কিনতে হবে। এর মধ্যে গম কিনতে হবে প্রতিবছর ৭ লাখ টন হারে পাঁচ বছর ধরে। সয়াবিন কিনতে হবে এক বছরের মধ্যে ১২৫ কোটি ডলার বা ২৬ লাখ টন পরিমাণ। এ ছাড়া বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনাকাটা বাড়াতে হবে এবং অন্য দেশ থেকে কেনা কমাতে হবে (সেকশন ৬, অ্যানেক্স ৩)।
বাংলাদেশ প্রতিবছর বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ কৃষি ও জ্বালানি পণ্য আমদানি করলেও খরচ ও সময় বেশি লাগায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলনামূলক কম আমদানি করা হতো। এখন চুক্তি অনুসারে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে পণ্য আমদানি বাড়াতে হলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে তুলনামূলক কম দরে ও কম সময়ে পণ্য আমদানি থেকে বঞ্চিত হতে হবে। এর ফলে দেশ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, পাশাপাশি বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়াতে হলে ভর্তুকি বা বিশেষ সুবিধা দিতে হতে পারে। সামরিক সরঞ্জাম আমদানি বাড়াতে হলে বাড়তি খরচের পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিও বাড়বে।
যুক্তরাষ্ট্রকে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের মতো সুবিধা প্রদান
চুক্তি অনুসারে বাংলাদেশকে খনিজ সম্পদ উত্তোলন ও রপ্তানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের সহযোগিতা করতে হবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন, টেলিকমিউনিকেশন, পরিবহন ও অবকাঠামো খাতে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোকে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের সমান সুযোগ-সুবিধা প্রদান করতে হবে। (আর্টিকেল ৫.১) এ ছাড়া তেল-গ্যাস, বিমা ও টেলিযোগাযোগ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজি বিনিয়োগে কোনো সীমা আরোপ করা যাবে না (আর্টিকেল ১.১৬, অ্যানেক্স ৩)। বর্তমানে দেশি-বিদেশি বেসরকারি কোম্পানি কর্তৃক রাষ্ট্রায়ত্ত সাধারণ বীমা কর্পোরেশনে ৫০ শতাংশ পুনর্বিমা করার যে বাধ্যবাধকতা আছে, তা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমা কোম্পানিকে ছাড় দিতে হবে (আর্টিকেল ১.১৫, অ্যানেক্স ৩)।
যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা দেশীয় প্রতিষ্ঠানের চেয়ে অনেক বেশি। এসব বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানকে যদি দেশীয় প্রতিষ্ঠানের সমান সুযোগ-সুবিধা দিতে হয়, তাহলে দেশীয় খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া এসব খাতের ওপর দেশের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ খর্ব হবে। যেমন দেশে গ্যাস-সংকট থাকার পরও যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিকে গ্যাস রপ্তানির অনুমোদন দিতে হবে।
দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে ভর্তুকি ও সুরক্ষা দিতে বাধা
আর্থিক ও প্রযুক্তিগত ঘাটতি মোকাবিলার জন্য উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে অনেক দেশীয় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তুকি ও প্রণোদনা দিতে হয়। নতুবা কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কৌশলগত খাতে বিদেশনির্ভরতা বাড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি অনুসারে বাংলাদেশকে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবাণিজ্যিক সহায়তা বা অন্য কোনো ধরনের ভর্তুকি প্রদান থেকে বিরত থাকতে হবে। শুধু তা-ই নয়, দেশের ভেতরের সব ম্যানুফ্যাকচারিং প্রতিষ্ঠানে ভর্তুকি ও প্রণোদনার তথ্য যুক্তরাষ্ট্রকে জানাতে হবে এবং বাজারের প্রতিযোগিতাকে প্রভাবিত করে এমন ভর্তুকি বন্ধ করতে হবে (আর্টিকেল ৫.২)।
শুধু তা-ই নয়, বাংলাদেশকে যত দ্রুত সম্ভব মৎস্য খাতে ভর্তুকি বিষয়ে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার চুক্তি মেনে চলতে হবে এবং মৎস্য খাতে ‘ক্ষতিকর’ ভর্তুকি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে ও ভর্তুকি ব্যবস্থার সংস্কার করতে হবে (আর্টিকেল ১.২৩, অ্যানেক্স ৩)। চুক্তি কার্যকর হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় সব ধরনের ভর্তুকির তথ্য জমা দিতে হবে (সেকশন ৬, অ্যানেক্স ৩)।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা-জালে জড়ানো
চুক্তির নামে পারস্পরিক বাণিজ্যের কথা বলা হলেও এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তাব্যবস্থার সঙ্গে জড়িয়ে ফেলা হয়েছে। চুক্তি অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্র যদি জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় সীমান্ত বা বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নেয়, তাহলে বাংলাদেশকেও তাদের সঙ্গে মিল রেখে ‘পরিপূরক বিধিনিষেধ’ গ্রহণ করতে হবে (আর্টিকেল ৪.১)।
বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘন ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। এর ফলে বৃহৎ শক্তিগুলোর দ্বন্দ্বে বাংলাদেশ নিরপেক্ষ থাকতে পারবে না, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বা ‘বাণিজ্যযুদ্ধে’ বাংলাদেশকে কার্যত একই অবস্থানে দাঁড়াতে হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশের বন্দর, টার্মিনাল, লজিস্টিক নেটওয়ার্কে এমনপ্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে, যেন তৃতীয় দেশের কাছে তথ্য পাচার না হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর এমন সফটওয়্যার ব্যবহার সীমিত করতে হবে (আর্টিকেল ১-৫, সেকশন ৩)।
তৃতীয় দেশের সঙ্গে চুক্তি ও বাণিজ্যে বাধা
যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে চুক্তিতে এমন সব শর্ত রাখা হয়েছে, যা বাংলাদেশের স্বাধীন সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করবে। চুক্তি অনুসারে, বাংলাদেশ তৃতীয় কোনো দেশের সঙ্গে এমন কোনো চুক্তি বা সমঝোতায় যেতে পারবে না, যেখানে বৈজ্ঞানিক ভিত্তিহীন, বৈষম্যমূলক বা পক্ষপাতমূলক কারিগরি মানদ- থাকবে এবং যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হয় (আর্টিকেল ২.৩), বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ক্ষুণœ হয়-এমন কোনো ডিজিটাল বাণিজ্যচুক্তি অন্য কোনো দেশের সঙ্গে স্বাক্ষর করতে পারবে না (আর্টিকেল ৩.২)।
শুধু তা-ই নয়, বাংলাদেশ যদি অবাজারভিত্তিক কোনো দেশের (যুক্তরাষ্ট্রের বিবেচনায় চীন ও রাশিয়া) সঙ্গে এমন কোনো মুক্তবাণিজ্য বা অগ্রাধিকারমূলক অর্থনৈতিক চুক্তি করে, যা এই চুক্তিকে অবমূল্যায়ন করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি বাতিল করে আবার শাস্তিমূলক উচ্চ শুল্ক আরোপ করতে পারবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ এমন কোনো দেশ থেকে পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর, জ্বালানি রড বা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ক্রয় করতে পারবে না, যে দেশ যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত। তবে এমন যেসব পণ্যের কোনো বিকল্প সরবরাহকারী বা প্রযুক্তি নেই, অথবা এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার আগেই যেসব পণ্যের চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে ছাড় পাওয়া যাবে (আর্টিকেল ৪.৩)।
এদিকে ট্রাম্পের বিশ্বব্যাপী ঢালাওভাবে আরোপ করা শুল্কনীতিকে অবৈধ ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিমকোর্ট। পাল্টা ব্যবস্থা হিসাবে ট্রাম্প অস্থায়ীভাবে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করেছে, যা বিশ্বের সবদেশের ওপর কার্যকর হবে। ১৯৭৪ সালে প্রণীত যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আইনের ১২২ ধারা অনুযায়ী, এই ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কোনো আইন বলে বা আইনের ধারা বলে আগের শুল্ক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা যায় কিনা, সে বিষয়ে অনুসন্ধান করতে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সে নির্দেশও দিয়েছে। উল্লেখ করা যেতে পারে, ১৯৭৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রণীত জরুরি অর্থনীতি আইনের আওতায় ২০২৫ সালে ২ এপ্রিল নতুন শুল্কনীতি ঘোষণা করে ট্রাম্প। সেই নীতি অনুসারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আছে, এমন সব দেশের ওপর ১৯ শতাংশ ‘বেসলাইন শুল্ক’ আরোপের পাশাপাশি ‘রেসিপ্রোকাল শুল্ক’ আরোপ করে সে। এই শুল্ক নীতির ফলে এক বছরে শুধু শুল্ক থেকে অতিরিক্ত ১৩ দশমিক ৩৫ হাজার কোটি ডলার উপার্জন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সুপ্রিমকোর্ট তার রায়ে বলেছে, ১৯৭৭ সালের আইনটি বিধিবহির্ভূতভাবে ব্যবহার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ফলে এই আইনের আওতায় যেসব শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, তা অবৈধ, তবে এই অবৈধ শুল্ক থেকে উপার্জিত অর্থ কী হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেয়নি সুপ্রিমকোর্ট। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামীতে নিম্ন আদালতগুলো এই সিদ্ধান্ত দেবে। বলার অপেক্ষা রাখে না, ট্রাম্পের একতরফা শুল্কনীতি ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আছে, বিশ্বের এমন সব দেশেই ব্যাপক বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়। কিছু দেশ বিশেষত চীন এই শুল্কনীতির পাল্টা ব্যবস্থা নিতে তৎপর হয়। অনেক দেশ সমঝোতা বা চুক্তি করে শুল্কচাপ কমাতে সচেষ্ট হয়। এমত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিমকোর্টের ট্রাম্পের শুল্কনীতি অবৈধ ঘোষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। সঙ্গতকারণেই ট্রাম্প এই রায় দেয়ায় বিচারপতিদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছে। রায়ের জন্য বিচারপতিদের লজ্জিত উচিত বলে সে মন্তব্য করেছে। তাদের দেশপ্রেমের অভাব আছে বলেও উল্লেখ করেছে। প্রায় এক বছরে ১৩ দশমিক ৩৫ হাজার কোটি ডলার উপার্জনের পথ বন্ধ হওয়ায় তার ক্ষুদ্ধ হওয়ারই কথা। সে এর পাল্টা ব্যবস্থাও সঙ্গে সঙ্গে নিয়েছে। অবশেষে পরিস্থিতি কোথাও গিয়ে দাঁড়ায় এখন সেটাই দেখার বিষয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিমকোর্টের রেসিপ্রোকাল শুল্ক অবৈধ ঘোষণার পর ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় এবং আরো ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার সুবিধা থাকায় বিশ্বের বাণিজ্য ব্যবস্থার হিসাব-নিকাশ পাল্টানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের শুল্কনীতির আওতায় বাংলাদেশও পড়েছিল। বাংলাদেশের রফতানি খাত বিশেষ করে গার্মেন্ট রফতানি ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছিল। বাস্তবতার এই প্রেক্ষাপটে গত ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে দেশের মানুষ বলতে গেলে কিছুই জানে না। জাতীয় নির্বাচনের দুই দিন আগে অন্তর্বর্তী সরকার তড়িঘড়ি করে চুক্তিটি স্বাক্ষর করেছে। চুক্তি নিয়ে ইতোমধ্যেই নানা কথা উঠেছে। দেশের স্বার্থ ওই চুক্তিতে যথাযথভাবে রক্ষিত হয়নি বলে সাধারণ একটি অভিমত গড়ে উঠেছে।
এই তথাকথিত বাণিজ্যচুক্তির মাধ্যমে কার্যত বাংলাদেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য, এমনকি পররাষ্ট্রনীতির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিরঙ্কুশ আধিপত্য প্রতিষ্ঠার আয়োজন করা হয়েছে।
শিল্প, কৃষি, জ্বালানি থেকে শুরু করে দেশের সব খাতকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক স্বার্থের অধীন করে ফেলা হয়েছে;
বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক প্রকল্পে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে, তৃতীয় কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের হাত-পা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
ফলে এককথায় এটি জাতীয় স্বার্থবিরোধী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনকারী একটি চুক্তি।
চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার আগে আসন্ন সংসদ অধিবেশনের মাধ্যমে এর পুরোই সংশোধন করতে হবে ইনশাআল্লাহ।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
কথিত স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা রোযার উপর গবেষনা করে রোযার মাহাত্ম স্বীকার করে তথাকথিত নোবেল পুরষ্কার পায়! কিন্তু মুসলমান দ্বীন ইসলাম উনার আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় লজ্জাকরভাবে ব্যার্থ হয়। কথিত বিজ্ঞান ও কথিত স্বাস্থ্যবিজ্ঞানী এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে রোযার উপকারিতা অপরিসীম।
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
কথিত স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা রোযার উপর গবেষনা করে রোযার মাহাত্ম স্বীকার করে তথাকথিত নোবেল পুরষ্কার পায়! কিন্তু মুসলমান দ্বীন ইসলাম উনার আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় লজ্জাকরভাবে ব্যার্থ হয়। কথিত বিজ্ঞান ও কথিত স্বাস্থ্যবিজ্ঞানী এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে রোযার উপকারিতা অপরিসীম। (পর্ব-১)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
দেশে কয়েক বছরে ধনী-গরীব বৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করেছে পুঁজিবাদী অর্থ ব্যবস্থায় জাতীয় সম্পদ কুক্ষিগত হচ্ছে গুটিকয়েক ব্যক্তির হাতে ধনী গরীব বৈষম্য দূরীকরণে যাকাত ব্যবস্থাই একমাত্র সমাধান মার্কিন অধ্যাপকের গবেষণা- “বছরে এক লাখ কোটি টাকা যাকাত আদায় সম্ভব” এ বক্তব্য সঠিক নয় বরং দৈনিক আল ইহসান শরীফের গবেষণা অনুযায়ী বছরে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা যাকাত আদায় সম্ভব ইনশাআল্লাহ
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইফতারীসহ বিভিন্ন খাদ্য ও পানীয়কে লোভনীয় করতে মেশানো হয় বিভিন্ন আকর্ষণীয় রং। সাধারণ মানুষ রংবিহীন বিশুদ্ধ খাবারের পরিবর্তে রংযুক্ত ভেজাল ও ক্ষতিকর খাদ্য ও পানীয় ক্রয় করতেই বেশি উৎসাহী। এতে করে তারা আর্থিকভাবে এবং স্বাস্থ্যগতভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে কোনো কৃত্রিমতা নেই।
২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইফতারীসহ বিভিন্ন খাদ্য ও পানীয়কে লোভনীয় করতে মেশানো হয় বিভিন্ন আকর্ষণীয় রং। সাধারণ মানুষ রংবিহীন বিশুদ্ধ খাবারের পরিবর্তে রংযুক্ত ভেজাল ও ক্ষতিকর খাদ্য ও পানীয় ক্রয় করতেই বেশি উৎসাহী। এতে করে তারা আর্থিকভাবে এবং স্বাস্থ্যগতভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে কোনো কৃত্রিমতা নেই। এই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার আমল থাকলে সাধারণ মুসলমান এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতো না।
২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
এক সন্তান নীতি থেকে সরে এলো চীন। বিধর্মী দেশগুলোতে অধিক সন্তান গ্রহণে দেয়া হচ্ছে পুরস্কার। বিপরীতে ইহুদীবাদীদের ভ্রান্ত ম্যালথাসবাদের প্রসার হচ্ছে মুসলিম দেশগুলোতে; বিশেষ করে বাংলাদেশে। বাংলাদেশ সরকারকে এই আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র থেকে বের হওয়ার পাশাপাশি জনগনকেও সচেতন হতে হবে।
১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
গ্যাস জালানীখাতে জালেমশাহী তথা দুর্নীতির মা- হাসিনা সরকারের মতই আমদানীর ব্যাপকতায় ভাসছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার করছে আরো বেশী দুর্নীতি।
১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গতকাল ১৪ই ফেব্রুয়ারি বিশালভাবে অনুষ্ঠিত হলো সুন্দরবন সম্মেলন সুন্দরবন ধ্বংসে আন্তর্জাতিক চক্রান্ত চলছে ক্রমেই ছোট হচ্ছে সুন্দরবন, হুমকির মুখে জীববৈচিত্র্য আমাদের পরম প্রয়োজনীয় সুন্দরবন, এই সুন্দরবন বাঁচলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের ফুসফুস সুন্দরবনকে বাঁচাতে হবে ইনশাআল্লাহ
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
প্রায় ৩ কোটি নাগরিকের বসবাসের কারণে ঢাকা শহর এখন সূর্যালোকের তীব্র অভাব ঢাকাবাসীর ভিটামিন ডির চরম অভাব ভিটামিন ডির অভাবে চলছে নীরব মহামারি শারীরিক ও মানসিকভাবে ভীষণ ক্ষতিগ্রস্থ নাগরিক সুস্থভাবে বাঁচতে ঢাকায় বিকেন্দ্রীকরণ জরুরী
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সঠিক পরিসংখ্যান ও জরিপের অভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না সরকার সঠিক পরিসংখ্যান ছাড়া শুধু অর্থনীতিই নয় কোনো খাতেরই সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনা সম্ভব নয় বাজার নিয়ন্ত্রণে চাই সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত জরিপ তথা পরিসংখ্যা
১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
ডানে সেলফি বামে সেলফি, সেলফি সেলফি সেলফি উন্মাদনায় সমাজে ব্যাপকভাবে বেড়েছে হত্যা, আত্মহত্যা, সম্ভ্রমহরণ, সড়ক দুর্ঘটনাসহ নানা অপরাধ। বিভিন্ন দেশে সেলফি’র উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করলেও বাংলাদেশে কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ৬৮ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা ‘আইএমএফের চাপে’ নতুন করের বোঝা বাড়ছে ৫৫ হাজার কোটি টাকা আইএমএফের শর্ত মানতে গিয়ে সরকারকে জ্বালানি, সার, বিদ্যুৎ এবং সামাজিক খাতে ভর্তুকি কমাতে হয়। এতে সমাজের নিচের স্তরের মানুষের ওপর চাপ বাড়ে।
১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












