প্রত্যেকের হাতের লেখা কেন আলাদা?
, ০১ আগস্ট, ২০২৫ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) স্থাপত্য নিদর্শন
প্রত্যেকের হাতের লেখার মধ্যে সূক্ষ¥ পার্থক্য হলেও আছে। হয়তো কারও লেখা সরু, কারও লেখা মোটা, কারও লেখা একটু বাঁকা। অক্ষরও কোনোটা বড়, আবার কোনো অক্ষর দেখতে ছোট।
কিন্তু কেন? সবাই একই অক্ষর লেখলেও হাতের লেখা কেন আলাদা হয়?
এর পেছনে রয়েছে কিছু মজার বৈজ্ঞানিক কারণ এবং কিছু অভ্যাসগত ব্যাপার। সেগুলোই এখানে আলোকপাত করা হলো-
মস্তিষ্কের কাজ:
হাতের লেখার পেছনে মস্তিষ্কের একটা বড় ভূমিকা আছে। আপনি যখন কিছু লিখেন, তখন আপনার মস্তিষ্ক অনেক নির্দেশ একসঙ্গে দেয়। যেমন কলমটা কিভাবে ধরবে, কতটা চাপ দেবে, অক্ষরগুলো কিভাবে আঁকবে, শব্দগুলোর মধ্যে কতটা ফাঁকা রাখবে- এসব মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণ করে। যেহেতু প্রত্যেকটা মানুষের মস্তিষ্ক আলাদাভাবে কাজ করে, তাই হাতের লেখাও আলাদা হয়। এটা অনেকটা গলার স্বরের মতো। প্রত্যেক মানুষের গলার স্বর যেরকম আলাদা; ঠিক সেরকম।
কলম ধরার কায়দা:
একেকজন একেকভাবে কলম ধরে। কেউ খুব শক্ত করে ধরে, আবার কেউ আলতোভাবে। কলম ধরার এই কায়দা হাতের লেখার ওপর অনেক প্রভাব ফেলে। কলম ধরার ভিন্নতার কারণেও কারো হাতের লেখা কারোটার সঙ্গে মেলে না।
ছোটবেলার অভ্যাস:
আমরা যখন নিজেরা লিখতে শুরু করি, তখন নিজের মতো করে অক্ষরগুলোকে চিনতে ও লিখতে শিখি। কে কিভাবে কলম ধরে, কোন অক্ষরটা কিভাবে বাঁকায়, তা তার অভ্যাসের ওপর নির্ভর করে। ছোটবেলার এই অভ্যাসগুলোই ধীরে ধীরে হাতের লেখাকে একটা নির্দিষ্ট রূপ দেয়।
পেশি ও স্নায়ুর সমন্বয়:
আমাদের হাতে ছোট ছোট অনেক পেশি আর স্নায়ু আছে। এই পেশি আর স্নায়ুগুলো একসঙ্গে কাজ করে হাতের লেখাকে নিয়ন্ত্রণ করে। লেখার সময় মস্তিষ্ক থেকে নির্দেশ আসে। মস্তিষ্কের সেই নির্দেশ অনুসারে পেশিগুলো নড়াচড়া করে। যেহেতু প্রত্যেক মানুষের পেশির গঠন এবং মস্তিষ্কের কাজ করার ধরণ একটু হলেও আলাদা, তাই হাতের লেখাতেও এই পার্থক্যটা ফুটে ওঠে।
মনের প্রভাব:
হাতের লেখা শুধু কলম ধরার ওপর নির্ভর করে না, মানসিক অবস্থাও এর সঙ্গে জড়িত। যেমন, খুশি-আনন্দ বা স্বাভাবিক অবস্থায় থাকলে লেখা সুন্দর ও মসৃণ হয় আর রেগে থাকলে বা খুব তাড়াহুড়ো করলে লেখা এলোমেলো বা অগোছালো হয়ে যায়।
পরিবেশের প্রভাব:
পরিবেশও কিন্তু হাতের লেখার ওপর কিছুটা প্রভাব ফেলে, যেমন- শৈশবকালে শিক্ষক বা বন্ধুরা যে ধরনের লেখার স্টাইল অনুসরণ করতো, সেটার একটা প্রভাব পড়তে পারে। আবার কেউ কেউ শখ করে ক্যালিগ্রাফি শেখে। তাদের হাতের লেখা অন্যদের থেকে আলাদা হয়। কারণ, তারা বিশেষ নিয়ম মেনে লেখে। কিন্তু এই শেখা হয়তো তাদের স্বাভাবিক লেখার ধরনের সঙ্গে মিলে একটা নতুন ধরন তৈরি করে।
সময়ের সঙ্গে বদলে যায়:
হাতের লেখা সব সময় এক রকম থাকে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একটু একটু করে বদলাতে পারে। শৈশবে হাতের লেখা যেমন থাকে, সময়ের পরিবর্তনে তেমন থাকে না। নতুন অভ্যাস, কাজের ধরন বা শারীরিক পরিবর্তনের কারণে এই বদল হয়।
সবমিলিয়ে বলতে হয়- হাতের লেখা একটা অসম্ভব জটিল কাজ। কিন্তু প্রতিদিন মানুষ লেখা-লেখি করে বলে তা আর কঠিন মনে হয় না। কিন্তু ভেবে দেখুন- একটা অক্ষর লেখার সময় কত কিছু একসঙ্গে ঘটে! প্রথমে মস্তিষ্ক সেই অক্ষরের ছবি কল্পনা করে। তারপর স্নায়ু সেই নির্দেশ পৌঁছে দেয় হাত আর বাহুর পেশিগুলোতে। একই সময় চোখ দুটি দেখছে যে লেখাটা কেমন হচ্ছে। কোনো ভুল হলে তৎক্ষণাৎ মস্তিষ্ককে খবর দিচ্ছে সংশোধনের জন্য।
এখানেই শেষ নয়, আশপাশের পরিবেশও হাতের লেখার ওপর প্রভাব ফেলে। সঙ্গে ঘরের তাপমাত্রা, মানসিক চাপ, তাড়াহুড়ো, মেজাজ-মোটামুটি সবকিছু মিলিয়ে এটা একটা জটিল প্রক্রিয়া।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (৪র্থ পর্ব)
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (৩য় পর্ব)
০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান”
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (১ম পর্ব)
২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইস্তাম্বুলে হযরত আবু আইয়ূব আল আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মসজিদ (৩)
১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইস্তাম্বুলে হযরত আবু আইয়ূব আল আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মসজিদ (২)
১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইস্তাম্বুলে হযরত আবু আইয়ূব আল আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মসজিদ (১)
০৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খেজুরের পাতায় লিখা পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ
২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মোঘল আমলের ইদ্রাকপুর দুর্গ
২১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের উজ্জ্বল সাক্ষী সাতৈর শাহী মসজিদ (১)
০৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
অস্থায়ী হাসপাতাল নির্মাণে মুসলমানদের অবদান
২৩ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মালয়েশিয়ার ঐতিহাসিক মসজিদ “মসজিদ নেগারা”
১৬ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












