ক্ষতিকর প্রাণীর ন্যায়, সরকারিভাবে কুকুর নিধন করা জরুরী
, ২৫ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১০ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৯ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ২৫ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) বিশেষ প্রতিবেদন
নগর জীবনের আলো যতই উজ্জ্বল হোক, তার আড়ালে অদৃশ্য কিছু ঝুঁকি প্রতিদিনই নীরবে বেড়ে চলেছে। কখনো ডেঙ্গুবাহী মশা, কখনো বিষধর প্রাণী, বর্তমানে শহরের রাস্তায় মালিক বিহীন ক্ষতিকর কুকুরের আক্রমণ সব মিলিয়ে জননিরাপত্তার প্রশ্ন ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে
বেওয়ারিশ কুকুরের জন্য কোটি কোটি মানুষ ভুক্তভোগী পানিতঙ্ক এবং বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মারা যাচ্ছে ভয়ংকর ব্যাপার হলো ভ্যাকসিন নিয়েও জীবন বাঁচাতে পারছে না যার উদাহরণ কিছুদিন আগেই গাইবান্ধায় একসাথে ৪ জনের মৃত্যুর খবর।
পৃথিবীর উন্নত দেশের দিকে তাকালেও বেওয়ারিশ কুকুর খুজে পাবেন না বেওয়ারিশ কুকুর কোন সভ্য দেশে থাকতে পারে না, কিছুদিন আগেই তুরস্ক থেকে রাতারাতি কয়েক লক্ষ কুকুর নিধন করা হয়েছে এটাই সভ্য দেশের নিয়ম কুকুর সমস্যা সমাধানের একমাত্র সমাধান। নিধন করা। কারন শুধু মানুষ নয়, হাস মুরগী গবাদি পশু ও ভুক্তভোগী।
গ্রামে-গঞ্জে ক্ষেত-খামারে ঢ়ুকে এরা মানুষের ফসল ও হাঁস মুরগি হত্যা করে।
প্রশ্ন একটাই, মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা কি এখনো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে দৃশ্যমানভাবে প্রতিষ্ঠিত? নাকি কুকুরের অবাধ বিচরণ। এই ক্ষতিকর বেওয়ারিশ কুকুর, শিশু, বৃদ্ধ, তরুণ সকলের উপর আক্রমণ করে।
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বলছে, ঝুঁকিপূর্ণ প্রাণী ব্যবস্থাপনায় রাষ্ট্রগুলো কখনো আপস করে না। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বার্মিজ অজগর অপসারণ অভিযান, অস্ট্রেলিয়ায় বন্য বিড়াল নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি এবং স্কটল্যান্ডে আমেরিকান মিংক নির্মূল প্রকল্প প্রমাণ করে, পরিবেশ ও জননিরাপত্তা রক্ষায় কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ একটি স্বাভাবিক রাষ্ট্রীয় কৌশল।
একই ধারায় বাংলাদেশও ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া মোকাবিলায় মশা নিধনে ব্যাপক কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি প্রশাসনিক পর্যায়ে কুমির অপসারণের ঘটনাও দেখিয়েছে, ঝুঁকি তৈরি হলে রাষ্ট্র হস্তক্ষেপে পিছপা হয় না।
তবে বাংলাদেশের নিরাপত্তায় সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ও উপেক্ষিত ইস্যু হিসেবে সামনে এসেছে ক্ষতিকর কুকুর ব্যবস্থাপনা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পানিতঙ্কে মৃত্যুর প্রায় ৯৯ শতাংশই কুকুরের মাধ্যমে ঘটে এবং রোগটি একবার প্রকাশ পেলে প্রায় শতভাগ ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী। এই বৈশ্বিক বাস্তবতা সত্ত্বেও বাংলাদেশে কুকুর নিয়ন্ত্রণে এখনো একটি কার্যকর, সমন্বিত জাতীয় নীতি অনুপস্থিত।
পানিতঙ্ক হলে, একজন মানুষকে কমপক্ষে ৫ টি ভ্যাকসিন নিতে হয় যার মুল্য ১২০০ থেকে ১৫০০। গরীব কিংবা নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে কি এই ব্যয় সম্ভব?
ভারতে আদালত একাধিকবার স্থানীয় প্রশাসনকে কুকুর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে। অন্যদিকে জর্জিয়া ও মরক্কো বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে বড় পরিসরের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে, যেখানে জননিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে রাস্তার কুকুর ব্যবস্থাপনাকে কঠোরভাবে পুনর্গঠন করা হচ্ছে।
এসব উদাহরণ দেখায়, জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়লে রাষ্ট্রগুলো নীতিগতভাবে কঠোর অবস্থান নিতে দ্বিধা করে না।ইসলামও এই নীতিকে সমর্থন করে। পবিত্র কোরআনে পৃথিবীর সবকিছুকে মানুষের কল্যাণের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে।
দ্বীন ইসলামের শরীয়তে বলা হয়েছে জীবন, সম্পদ ও নিরাপত্তার ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ বৈধ। পবিত্র হাদীছ শরীফে শিকারি ও পাহারাদার কুকুর ব্যতীত অন্যান্য কুকুর নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে নির্দেশনার বর্ণনা পাওয়া যায়।
একইসঙ্গে পূর্বে ক্ষতিকর প্রাণী থেকে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি স্বীকৃত নীতিও ছিল। তবে প্রাণীর প্রতি দয়ার নীতিও দ্বীন ইসলামে বিদ্যমান, যা ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থাপনার দিক নির্দেশ করে।
ফলে নীতিগতভাবে জীবন সুরক্ষা ও প্রাণী ব্যবস্থাপনার মধ্যে ভারসাম্যই মূল বিষয়।
বাংলাদেশে সিটি কর্পোরেশন আইন ২০০৯-এর ১০৫ ধারায় বিপজ্জনক প্রাণী নিয়ন্ত্রণের আইনি ক্ষমতা থাকলেও বাস্তবে বিশেষ করে বেওয়ারিশ কুকুরের ক্ষেত্রে তা কার্যকরভাবে প্রয়োগ হচ্ছে না। কিন্তু কুকুরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে এনজিও ও কথিত কুকুর প্রেমীদের বাধার সম্মুখীন হতে হয়।
এরফলে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত শিশু, বৃদ্ধ ও সাধারণ মানুষ নিয়মিত ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আক্রমণাত্মক ও রোগবাহী প্রাণী নিয়ন্ত্রণে কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা থাকলেও বাংলাদেশে বিশেষ করে মালিকবিহীন কুকুর নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ব্যবস্থার ঘাটতি জননিরাপত্তা প্রশ্নকে আরও গভীর করছে
এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্নটি এখন আর কেবল প্রাণী ব্যবস্থাপনার নয়; বরং নগর নিরাপত্তার মৌলিক কাঠামোর প্রশ্ন।
জনস্বাস্থ্য ও ক্ষতিকর প্রাণী সম্পর্কিত ক্ষমতা অনুযায়ীসিটি কর্পোরেশন জনসাধারণের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও বিপজ্জনক উৎপাত নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিতে পারে।
অর্থাৎ আক্রমণাত্মক, পানিতঙ্ক আক্রান্ত বা জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ বেওয়ারিশ কুকুরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া আইনগতভাবে বৈধ সুতরাং সরকারের উচিত দ্রুত কুকুর সমস্যার সমাধান করা।
-ইব্রাহীম খলিল, ঢাকা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম কে স্থায়ী করা হোক
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
নেপালসহ বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মুসলিম সংকট ও আত্মোপলব্ধির তাগিদ
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক নিরাপত্তা রক্ষায় স্মার্ট সীমান্ত ব্যবস্থার অপরিহার্যতা ও সীমান্তের বিবরণ
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ করতে এত উৎসাহ কিন্তু- বিবাহপূর্ব প্রেম-ভালোবাসার নামে অনৈতিক সম্পর্ক নিষিদ্ধ করতে সরকারী কর্মকর্তাদের কেন কষ্ট লাগে?
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বিশ্বের ১৩০টি দেশ বাংলাদেশী পোলাওর চালের স্বাদ নিতে পারলেও বঞ্চিত হলো এবং হচ্ছে বাংলাদেশের গরীব জনসাধারণ।
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৯৮ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত দেশে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় সব নাগরিকের জন্য সামরিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে হবে।
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নতুন সেনানিবাস ও গ্যারিসন পরিকল্পনার অপরিহার্য রূপরেখা (পর্ব-১৮)
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
দ্বীন ইসলাম উনার কথা বলা দ্বীনি এবং সাংবিধানিক অধিকার।
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গোল্ডেন রাইস বহুজাতিক কোম্পানির এগ্রিবিজনেসের নতুন হাতিয়ার
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
৫০ লক্ষাধিক সেনাসদস্যের প্রস্তাবিত স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ এবং ক্লোজ কোয়ার্টার কমব্যাট প্রশিক্ষণ (পর্ব১৫)
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “যার সাথে মহব্বত, পরকালে তার হাশর-নশর তার সাথেই হবে।” (সহীহ বুখারী, হাদীছ নং- ৬১৬৯)
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
চিকিৎসা সক্ষমতা এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের সমীকরণ (পর্ব ১৪)
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












