পারস্যের কার্পেট কীভাবে সময়ের গল্পকে শিল্পের বুননে ধারণ করে
, ২৩ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১১ আউওয়াল, ১৩৯৪ শামসী সন , ১০ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ২৭ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পাঁচ মিশালী
পারস্যের কার্পেটকে সাধারণত ঐতিহ্য, কারুশিল্প, সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার এবং পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। যদিও এসব বৈশিষ্ট্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবুও এগুলো পুরোপুরি ব্যাখ্যা করতে পারে না কেন এই কার্পেটগুলো আজও মানুষের হৃদয়ে সাড়া জাগায়, বিশেষ করে এমন এক বৈশ্বিক সমসাময়িক দর্শকের কাছে, যারা কালজয়ী শিল্পের প্রতি ক্রমেই বেশি আকৃষ্ট হচ্ছে।
হাতে বোনা পারস্যের কার্পেটকে বিশেষ করে তোলে শুধু এটি তৈরিতে দীর্ঘ সময় লাগার কারণে নয়; বরং সময় নিজেই এর গঠনপ্রক্রিয়ার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। শিল্পোৎপাদিত পণ্যের বিপরীতে, কার্পেটের প্রতিটি গিঁট একেকটি মনোযোগের মুহূর্তকে ধারণ করে। যেন এই কার্পেটগুলো সময়কে বন্দি করে রাখে।
অবশ্য এই বৈশিষ্ট্য কেবল ইরানের জন্য অনন্য নয়। উসমানীয় দরবারের কার্পেট, চীনা রেশম বয়ন কিংবা ইউরোপীয় ট্যাপেস্ট্রির মতো বিশ্বের বিভিন্ন বস্ত্রশিল্পেও দীর্ঘ সময়ের সৃজনশীল শ্রমের ছাপ দেখা যায়। তবে পারস্যের কার্পেট সময়কে দৃশ্যমানভাবে বিন্যস্ত করার এমন কিছু বিশেষ পদ্ধতি উপস্থাপন করে, যা সহজেই অনুধাবন করা যায়।
পারস্যের কার্পেট সময়ের বাইরে অবস্থান করে না। এটি কোনো একক ‘কালজয়ীতা’র ধারণা নয়; বরং সময়কে উপলব্ধি করার নানা অভিজ্ঞতার সমষ্টি-ঘূর্ণায়মান, ধারাবাহিক ও ছন্দময়। বিভিন্ন নকশা ও বিন্যাসের মাধ্যমে এগুলো সময়ের সঙ্গে একাধিক উপায়ে সংলাপ রচনা করে।
প্রতিটি কার্পেট যেন ভিন্ন এক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। উদাহরণ হিসেবে ১৬শ শতকের আরদাবিল কার্পেট (ইরানের আরদাবিল শহরের নামানুসারে পরিচিত একটি বিখ্যাত পারস্যের কার্পেট) -এর কথা ধরা যায়। এর কেন্দ্রীয় মেডেলিয়ন দর্শকের দৃষ্টি ভেতরের দিকে টেনে নিয়ে যায় এবং এক ধরনের দৃশ্যগত স্থিরতার মুহূর্ত সৃষ্টি করে। এর বিন্যাস সুসংহত ও মনোসংযোগী, অনেকটা ইউরোপের Gobelins Manufactory -তে নির্মিত বৃহৎ ট্যাপেস্ট্রিগুলোর মতো, যেখানে দর্শকের মনোযোগ নির্দিষ্টভাবে পরিচালিত হয়। এখানে সময় যেন স্থির হয়ে আছে।
অন্যদিকে, আরাবেস্ক নকশাগুলোতে কোনো নির্দিষ্ট শুরু বা শেষ নেই। রেখাগুলো এগিয়ে যায়, ফিরে আসে এবং আবার চলতে থাকে। ফলে চোখ কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্য ছাড়াই নকশার ভেতর ঘুরে বেড়ায়। এটি অনেকটা পূর্ব এশিয়ার মেঘ বা ঢেউয়ের নকশার মতো, যেখানে পৃষ্ঠতল সরলরৈখিক পাঠকে প্রতিরোধ করে।
প্রসিদ্ধ “পোলোনেইজ কার্পেট (সাফাভি যুগের রেশম ও ধাতব সুতা দিয়ে বোনা পারস্যের কার্পেট)”, যা প্রকৃতপক্ষে সাফাভি যুগের সৃষ্টি, রেশম ও ধাতব সুতা দিয়ে বোনা হয়েছিলো। দিনের বিভিন্ন সময়ে আলো পড়ার সঙ্গে সঙ্গে এগুলোর রূপও বদলে যায়। ভিন্ন উপাদান, ভিন্ন সময়গত অভিজ্ঞতা। ইতালীয় রেনেসাঁ যুগের কিছু বস্ত্রশিল্পেও অনুরূপ প্রভাব দেখা যায়।
অন্যদিকে, জ্যামিতিক ও উপজাতীয় (Tribal) কার্পেটগুলো আরও পরিমিত ছন্দ উপস্থাপন করে। পুনরাবৃত্ত নকশা শৃঙ্খলার অনুভূতি সৃষ্টি করে, তবে সূক্ষ¥ বৈচিত্র্য সম্পূর্ণ একরূপতাকে ভেঙে দেয়।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাকাশ থেকে নীল নদের শ্বাসরুদ্ধকর ছবি শেয়ার
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ফল ফলাদির বৈচিত্রতা!
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কদুর যত পুষ্টিগুণ
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
আরও ৪ নক্ষত্রের সন্ধান
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ধনেপাতার পুষ্টিগুণ
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
যেভাবে মানুষের মস্তিষ্কে প্লাস্টিক জমা হচ্ছে
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মেক্সিকোতে ইসলামের আগমনের ইতিহাস
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রতারিত বাংলাদেশি শ্রমিকরাই আজ মিশরে সফল শিল্পোদ্যোক্তা
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পৃথিবীর বয়স নিয়ে বিজ্ঞানীদের ধারণার আমূল পরিবর্তন
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মাত্র দু’জনের মুখে টিকে আছে যে ভাষা
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
তিস্তায় মাছ ধরার জালে আটকা ৭ ফুটের অজগর
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
আম খেলে কি ওজন বাড়বে?
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












