পাগড়ীর উপর অথবা শুধু টুপির উপর সাদা রুমাল পরিধান করা খাছ সুন্নত মুবারক (১)
, ১১ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ৩০ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ১৭ বৈশাখ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ الثَّالِثَةِ الصِّدِّيقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ مَا أَتَى رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحَدًا مِنْ نِسَائِهٖ إِلَّا مُتَقَنِّعًا، يُرْخِي الثَّوْبَ عَلٰى رَأْسِهٖ حَيَاءً.
অর্থঃ “সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখনই হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের কারো নিকট মহাসম্মানিত তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করতেন, তখন তিনি (সম্মানিত রুমাল মুবারক দিয়ে) মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল হুদা মুবারক (মহাসম্মানিত মাথা মুবারক) ঢেকে আসতেন। তিনি মহাসম্মানিত ‘হায়া মুবারক উনার কারণে স্বীয় মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল হুদা মুবারক (মহাসম্মানিত মাথা মুবারক) উনার উপর কাপড় (সম্মানিত রুমাল মুবারক) পরিধান করতেন।” (মুসনাদে আয়িশা, হাশীয়ায়ে আবূ দাঊদ শরীফ/২০৯)
উল্লেখ্য যে, উপরোক্ত মহাসম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যেمتقنعا শব্দটি تقنع শব্দ থেকে এসেছে। আরتقنع শব্দের অর্থ হলো-
وَضْعُ شَيْءٍ زَائِدٍ عَلَى الرَّأْسِ فَوْقَ الْعِمَامَةِ
অর্থঃ تقنع হলো মাথায় পাগড়ীর উপরে অতিরিক্ত একটি কাপড় তথা রুমাল পরিধান করা।” (বুখারী শরীফ ২/৮৬৪, ফতহুল বারী ১০/২২৪, উমদাতুল কারী ২১/৩০৯)
تقنع শব্দের ব্যাখ্যায় অন্যত্র বলা হয়েছে,
تَغْطِيَةُ الرَّأْسِ وَأَكْثَرِ الْوَجْهِ بِرِدَاءٍ أَوْ غَيْرِهِ
অর্থঃ “মাথা এবং চেহারার অধিকাংশে চাদর অথবা কোন কাপড় তথা রুমাল দিয়ে ঢেকে রাখা।” (বুখারী শরীফ ২/৮৬৪, ফতহুল বারী ১০/২২৪, উমদাতুল কারী ২১/৩০৮)
এছাড়া অনেক মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের রুমাল মুবারক ব্যবহারের কথাও বর্ণনা করা হয়েছে।
(বুখারী শরীফ, মুসনাদে আহমদ শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ, ইবনে মাযাহ শরীফ, মিশকাত শরীফ, ফতহুল বারী, উমদাতুল ক্বারী, ফতহুর রব্বানী, আউনুল মা’বুদ, মিরকাত শরীফ, লুময়াত, ত্বীবী, মুসনাদে আয়েশা শরীফ, নেহায়া, লুগাতুল হাদীছ, লিসানুল আরব, লুগাতে হিরা, মিছবাহুল লুগাত, মু’জামুল ওয়াসীত, কামুছ ইত্যাদি।)
আরো উল্লেখ্য, টুপি এবং পাগড়ীর ন্যায় রুমাল পরিধান করাও দায়িমী সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। নামাযের সময় এবং নামাযের বাইরের সময় উভয় অবস্থাতেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র রুমাল মুবারক পরিধান করেছেন।
সুতরাং, রুমাল মাথায় দিয়ে চলাচল করা কিংবা নামায আদায় কালে রুমাল ব্যবহার করা খাছ সুন্নত মুবারক। (অসমাপ্ত)
-মুহম্মদ হুসাইন নাফে’
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (১)
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (৯)
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কিছ্ছা
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ফলমূল খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক পালন করা ফরয
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ফলমূল খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার পরিচয় ও প্রকারভেদ (২)
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার পরিচয় ও প্রকারভেদ (১)
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কোনো ব্যক্তির উপর সূর্য উদিত হয়নি, যে ব্যক্তি সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার থেকে উত্তম
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পুরুষের জন্য দাড়ি ও গোঁফ রাখার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নতী তারতীব মুবারক
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
“পেট পূর্ণ করে নয়, বরং পেটের এক-তৃতীয়াংশ আহার করাই মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক।”
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পানি পান করার সময় তিন ঢোকে পান করা ও পাত্রে নিঃশ্বাস না ফেলা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক
১১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












