স্বভাবজাত মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক
, ০৯ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৫ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৪ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ০৯ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
স্বভাবজাত মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক হলো এমন কতগুলো মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক যা মানুষের স্বভাবের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যা নিয়মিত কাজের অন্তর্ভুক্ত এবং নিয়মিত করাই মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক। এরকম স্বভাবজাত মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক হলো সাধারণত দশটি। এসব মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক পূর্ববর্তী হযরত নবী রসুল আলাইহিমুস সালাম উনাদের থেকে শুরু করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মতের জন্যও মহাসম্মানিত মহপবিত্র সুন্নত মুবারক হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْفِطْرَةُ خَمْسٌ الِاخْتِتَانُ وَالِاسْتِحْدَادُ وَقَصُّ الشَّارِبِ وَتَقْلِيمُ الْأَظْفَارِ وَنَتْفُ الْإِبْطِ.
অর্থ: হযরত আবূ হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, স্বভাবজাত বিষয় ৫ টি। ১. খৎনা করা, ২. নাভীর নীচের লোম পরিষ্কার করা, ৩. গোঁফ খাটো করা, ৪. নখ কাটা, ৫. বগলের পশম উপড়িয়ে ফেলা। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, নাসায়ী শরীফ)
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ الصِّدِّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَشْرٌ مِنَ الْفِطْرَةِ قَصُّ الشَّارِبِ، وَإِعْفَاءُ اللِّحْيَةِ، وَالسِّوَاكُ، وَاسْتِنْشَاقُ الْمَاءِ، وَقَصُّ الْأَظْفَارِ، وَغَسْلُ الْبَرَاجِمِ، وَنَتْفُ الْإِبِطِ، وَحَلْقُ الْعَانَةِ، وَانْتِقَاصُ الْمَاءِ قَالَ حَضْرَتْ زَكَرِيَّا رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ حَضْرَتْ مُصْعَبٌ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ وَنَسِيتُ الْعَاشِرَةَ إِلَّا أَنْ تَكُونَ الْمَضْمَضَةَ.
অর্থ: সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন- ১০ টি বিষয় ফিতরাত বা স্বভাবের অন্তর্ভুক্ত। ১. গোঁফ খাটো করা, ২. দাড়ি লম্বা করা, ৩. মিসওয়াক করা, ৪. নাকে পানি দেয়া, ৫. নখ কাটা, ৬. অঙ্গের গিরাসমূহ ঘষে মেজে ধৌত করা, ৭. বগলের পশম উপড়িয়ে ফেলা, ৮. নাভীর নীচের পশম পরিষ্কার করা, ৯. ইস্তিঞ্জার পর পানি ব্যবহার করা। হযরত যাকারিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, হযরত মাসআব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেছেন: আমি দশ নম্বরটি ভুলে গেছি। সম্ভবতঃ ১০. তা হলো কুলি করা। (মুসলিম শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ, তিরমিযী শরীফ)
উক্ত মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফদ্বয় উনাদের আলোকে স্বভাবজাত মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নত মুবারকসমূহ হলো-
১) খৎনা করা বা মুসলমানী দেয়া।
২) ইস্তিঞ্জার পর পানি ব্যবহার করা।
৩) মিসওয়াক করা।
৪) নখ কাটা।
৫) গোঁফ খাটো করা
৬) দাড়ি লম্বা করা।
৭) নাভীর নীচের পশম পরিস্কার করা।
৮) বগলের পশম উপড়িয়ে ফেলা বা পরিস্কার করা।
৯) বিভিন্ন অঙ্গের গিরাসমূহ ঘষে মেজে ধৌত করা। এর দ্বারা উদ্দেশ্য ঐ সমস্ত গিরা, যেগুলোতে ময়লা জমা হয়। যেমন: আঙ্গুলের গিরাসমূহ, কানের গোড়াসমূহ ইত্যাদি।
১০) কুলি করা ও
১১) নাকে পানি দেয়া।
বগলের ও নাভীর নিচের পশম মুন্ডানো:
বগলের পশম ও নাভীর নিচের পশম পরিস্কার করা অর্থাৎ মুন্ডানো মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত।
বগলের পশম ও নাভীর নিচের পশম পরিস্কার করা অর্থাৎ মুন্ডানোর সর্বোচ্চ সময় সীমা হলো ৪০দিন। যেমন মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে।
عَنْ حَضْرَتْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ وُقِّتَ لَنَا فِي قَصِّ الشَّارِبِ وَتَقْلِيمِ الأَظْفَارِ وَنَتْفِ الإِبْطِ وَحَلْقِ الْعَانَةِ أَنْ لاَ نَتْرُكَ أَكْثَرَ مِنْ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً
অর্থ: হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের জন্য গোঁফ ছাটা, নখ কাটা, বগলের পশম উপড়ে ফেলা এবং নাভির নীচের পশম কাটার সময় নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে যে, চল্লিশ দিনের অধিক যেন না রাখি। (মুসলিম শরীফ, নাসায়ী শরীফ)
উল্লেখিত প্রত্যেকটি বিষয়ই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। যা ত্বহারাত বা পবিত্রতার সাথে সম্পৃক্ত।
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র দ্বীনি মজলিসে বা মাহফিলে বসার মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ
১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
আপদ-বিপদ ও অনিষ্টতা থেকে মুক্তির জন্য ঘুমানোর পূর্বে আগুন/বাতি নিভিয়ে রাখতে হবে; যা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফের গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (২)
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফের গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (১)
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
অনিষ্টতা থেকে হিফাযতের জন্য খাবারের পাত্র ঢেকে রাখতে হবে; যা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলার জন্য আবশ্যক হচ্ছে, সর্বক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুযায়ী আমল করা
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করার গুরুত্ব-ফযীলত ও খাছ সুন্নতী তারতীব
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার অন্যতম সুমহান তাজদীদ মুবারক “সুন্নতী সামা শরীফ মাহফিল”
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রতিক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অনুসরণ করা যেমন ফরয; অনুরূপভাবে প্রতিক্ষেত্রেই কাফির- মুশরিকদের খিলাফ করাও ফরয (২)
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রতিক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অনুসরণ করা যেমন ফরয; অনুরূপভাবে প্রতিক্ষেত্রেই কাফির- মুশরিকদের খিলাফ করাও ফরয (১)
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হাত ও পায়ের নখ কাটার মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা, আত্মীয়দের হক্ব আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক। যা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত (৪)
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












