মন্তব্য কলাম
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবির মর্মান্তিক ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি
, ০৯ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৯ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৯ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ১৫ চৈত্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) মন্তব্য কলাম
দেশ আবারও এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সাক্ষী হলো। গত ০৫ শাওওয়াল ১৪৪৭ হিজরী দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেরির পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যায়। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যমতে ২৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এই ঘটনা কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়; এটি আমাদের সামগ্রিক অবহেলা, অসচেতনতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার নির্মম প্রতিফলন।
মৃত্যু মহান আল্লাহ পাক উনার নির্ধারিত-এ কথা সত্য। তবে একই সঙ্গে এটাও অনস্বীকার্য যে, মানুষের অসচেতনতা ও অবহেলা অনেক সময় মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে নৌপথ, সড়কপথ এবং ফেরিঘাটে চলাচলের ক্ষেত্রে সামান্য সতর্কতা অবলম্বন করলেই বহু প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব।
দৌলতদিয়ার এই দুর্ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে-যাত্রী, চালক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ-সবার মধ্যেই নিরাপত্তা সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। ফেরিতে ওঠা-নামার সময় অধিকাংশ যাত্রী বাসের ভেতরে অবস্থান করেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সামান্য ভুল বা নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঘটনাই মুহূর্তে ভয়াবহ বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কিছু মৌলিক সচেতনতা মেনে চলা জরুরি-
১. ফেরি ঘাটে ভিড়লে বা ফেরিতে ওঠার সময় অবশ্যই বাস থেকে নেমে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করা উচিত। যানবাহন সঠিকভাবে নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান নেয়ার পর প্রয়োজনে পুনরায় ওঠা যেতে পারে।
২. পাম্পে গ্যাস নেওয়ার সময় গাড়ির ভেতরে বসে থাকা সম্পূর্ণ অনিরাপদ-এ সময় অবশ্যই বাইরে অবস্থান করতে হবে।
৩. রেলগেট বন্ধ থাকার পরও তাড়াহুড়া করে লেভেল ক্রসিং অতিক্রম করার প্রবণতা অত্যন্ত বিপজ্জনক-এটি সম্পূর্ণরূপে পরিহার করা উচিত।
৪. লেভেল ক্রসিং বা রেললাইনের ওপর কোনো কারণে গাড়ি বন্ধ হয়ে গেলে দ্রুত নেমে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়া জরুরি।
৫. ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ কিংবা লাফ দিয়ে লঞ্চ বা ফেরি ধরার মতো ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ সম্পূর্ণভাবে বর্জন করতে হবে।
৬. অতিরিক্ত গতিতে মোটরসাইকেল বা অন্য কোনো যানবাহন চালানো থেকে বিরত থাকতে হবে।
৭. গাড়ি চালানোর সময় কিংবা রাস্তা পারাপারের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার না করে প্রয়োজন হলে নিরাপদ স্থানে থেমে কথা বলা উচিত।
৮. বেখেয়ালভাবে রাস্তা পারাপার করা থেকে বিরত থাকতে হবে; বিশেষ করে মহাসড়কে চলাচলের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
মূলত, সড়ক ও নৌপথে দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হলো তাড়াহুড়া ও দায়িত্বহীনতা। আমরা দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর তাড়নায় নিজের জীবনকেই ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিই। অথচ সামান্য ধৈর্য, সচেতনতা এবং নিয়ম মেনে চললেই এই ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফেরিঘাটে যানবাহন ওঠা-নামার ক্ষেত্রে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রদান এবং নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কার্যকর শাস্তি প্রয়োগ অপরিহার্য। দুর্ঘটনার পর তদন্তের চেয়ে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে অগ্রাধিকার দেওয়া সময়ের দাবি।
আমাদের মনে রাখতে হবে- একটি দুর্ঘটনা শুধু একটি প্রাণই কেড়ে নেয় না; এটি একটি পরিবারকে বিপর্যস্ত করে, অসংখ্য স্বপ্নকে নিঃশেষ করে দেয়। তাই ব্যক্তিগত সচেতনতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ববোধ -এই দুইয়ের সমন্বয়েই নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা সম্ভব।
-মুহম্মদ আমীমুল ইহসান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ঋণ নির্ভর বাজেট প্রণয়ন না করে রফতানী বহুর্মুখীকরণের দ্বারা সমৃদ্ধ বাজেট প্রণয়ন খুব সহজেই সম্ভব। কাঁঠাল উৎপাদনে বাংলাদেশ প্রথম হলেও রফতানীতে তলানীতে। কাঁঠাল রফতানী করেও বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় সম্ভব।
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় ৫০ লক্ষ সেনাবাহিনীর অপ্রতিরোধ্যকরণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির বিবরণ (পর্ব ৬)
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় ৫০ লক্ষ সেনাবাহিনীর অপ্রতিরোধ্যকরণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির বিবরণ (পর্ব- ৫)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
“বাংলাদেশের ওষুধ রফতানি হচ্ছে ১৪০টির বেশি দেশে”- গত পরশু (৮ই জুন) এই বিবৃতি দেয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী কী ভেবে দেখবেন মার্কিনীদের সাথে করা গোলামী চুক্তিতে তার এই উচ্ছাস পুরোটাই গভীর এবং চরম-পরম উৎকণ্ঠায় পর্যবসিত হয়েছে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের জন্যও মহা ধ্বংস প্রক্রিয়া বাংলাদেশের ৫১ কোটি নাগরিকের নিরাপত্তা নির্মূলীকরণ প্রক্রিয়া। মহা আত্মঘাতী, সর্বনাশী, দেশের সার্বভৌমত্ব বিক্রিকারী এ চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে (২য় পর্ব)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বাংলাদেশের মহাকাশ প্রতিরক্ষা কৌশল: ৫০ লক্ষাধিক বহরের সমন্বিত বাহিনীর জন্য কৃত্রিম উপগ্রহ প্রযুক্তির রূপরেখা (পর্ব-৪)
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১১)
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বর্তমান জ্বালানী সংকটে অনেক দেশই এখন কয়লার দিকে ঝুকছে। কয়লার উপর নির্ভরতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। দেশে বিপুল পরিমাণ কয়লার মজুদ থাকার পরও রহস্যজনকভাবে তা উত্তোলনে আগ্রহ নেই সরকারের। ৭ হাজার ৮০০ মিলিয়ন টন কয়লা মজুদের দেশে কয়লার ঘাটতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ কেন?
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা: ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১০)
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (৯)
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম মিয়াজাকি, পুষ্টিগুণেও ভরপুর
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
“বাংলাদেশের ওষুধ রফতানি হচ্ছে ১৪০টির বেশি দেশে”- গত পরশু (৮ই জুন) এই বিবৃতি দেয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী কী ভেবে দেখবেন মার্কিনীদের সাথে করা গোলামী চুক্তিতে তার এই উচ্ছাস পুরোটাই গভীর এবং চরম-পরম উৎকণ্ঠায় পর্যবসিত হয়েছে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের জন্যও মহা ধ্বংস প্রক্রিয়া বাংলাদেশের ৫১ কোটি নাগরিকের নিরাপত্তা নির্মূলীকরণ প্রক্রিয়া। মহা আত্মঘাতী, সর্বনাশী, দেশের সার্বভৌমত্ব বিক্রিকারী এ চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে (১ম পর্ব)
১১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
শুধু একটি মৃত্যুর খবর, নাকি একটি সমাজের ভবিষ্যৎ?
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












