ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে বাংলাদেশে বিস্তার লাভ করছে বিদেশি মাফিয়ারা। অনলাইনের মাধ্যমে দেশে প্রসার ঘটানো হচ্ছে মাদক ও চাইল্ড পর্ণোগ্রাফির মতো সভ্যতাবিবর্জিত কুকর্ম। দেশের যুবসমাজকে এসব থেকে রক্ষার্থে সরকারকে উন্নত সাইবার নিরাপত্তা ও নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।
, ২৫ ছফর শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ১৩ রবি’ ১৩৯১ শামসী সন , ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ খ্রি:, ২৮ ভাদ্র, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) মন্তব্য কলাম
জানা গেছে, ইন্টারনেটের অন্ধকার জগৎ বা ডার্ক ওয়েবে অর্ডার করা মাদকের চালান আসছে দেশে। মাদকের বড় চালানে ট্রানজিট হিসেবেও বাংলাদেশকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, পুরো ইন্টারনেট দুনিয়ার মাত্র ১০% সাধারণ মানুষ ব্যবহার করছে। আর ৯০ শতাংশই অন্ধকার জগৎ যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের সীমার বাইরে। আর এটিকে ডার্ক ওয়েব বলা হয়ে থাকে।
অস্ত্র কেনাবেচায় আন্তর্জাতিক মাফিয়া চক্র ডার্ক ওয়েবে সংযুক্ত করছে দেশীয় অপরাধী চক্রকে। চাইল্ড পর্নোগ্রাফির একাধিক চক্রও এতে সক্রিয় হয়ে দেশি-বিদেশি শিশুদের অশ্লীল ছবি ছড়িয়ে দিচ্ছে তারা। এমনকি দেশীয় সন্ত্রাসীরা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যোগসূত্রও স্থাপন করতে ডার্ক ওয়েব বেছে নিচ্ছে। তবে দেশে কতজন মাদক কারবারি ডার্ক ওয়েবে সক্রিয় রয়েছে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ বিষয়ে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা না থাকায় এসব চক্রকে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।
ডার্ক ওয়েবে সক্রিয় মাদক কারবারিদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মাফিয়া চক্রের যোগাযোগ আছে। এসব কারবারি মাদক কেনাবেচায় অবৈধ ক্রিপ্টোকারেন্সি বা বিট কয়েন ব্যবহার করছে। পরিচয় গোপন করে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ ও নিষিদ্ধ পণ্য কেনা যায় বলে সারাবিশ্বেই ডার্ক ওয়েব অপরাধীদের কাছে জনপ্রিয়। মাফিয়া চক্র তাই সহজেই দেশীয় অপরাধীদের তাদের নেটওয়ার্কে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। সংশ্লিষ্টরা বলছে, ডার্ক ওয়েব ডিটেকশনের জন্য উন্নত এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োজন। বিশ্বের উন্নত দেশগুলো এজন্য কোন ধরনের হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার ব্যবহার করছে সেগুলো নিয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। দ.কোরিয়া ডার্ক ওয়েব ডিটেকশনের ক্ষেত্রে খুবই শক্তিশালী অবস্থানে আছে। তাদের প্রযুক্তির বিষয়েও খোঁজ নেয়া হচ্ছে। অনলাইনে নজরদারি এবং ডার্ক ওয়েব ডিটেকশনে আলাদা একটি সাইবার ইউনিট করার পরিকল্পনাও নেয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় বর্তমানে ইন্টারনেটকে কেন্দ্র করে নিত্যনতুন অপরাধের সূচনা হয়েছে। আর এই অপরাধগুলোকে প্রতিরোধ করতে বিশ্বের অধিকাংশ দেশই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উন্নত হলেও সেই হার অতি ধীরস্থির। যার কারণে এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ভারত, থাইল্যান্ড, আমেরিকা এবং নাইজেরিয়ার অপরাধীরা বাংলাদেশের অপরাধীদের সহযোগীতায় দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে। এক্ষেত্রে যদি এখনই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অত্যাধুনিক ও স্ব-সক্ষম করে তোলা না যায় তাহলে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি অপরাধীদের সক্রিয় প্রভাব ছড়িয়ে পড়বে বাংলাদেশে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ইতোমধ্যে ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা হয়েছে যথাক্রমে ২৩২, ২০৬, ২৮০, ৩৭৩ ও ৫৪০টি।
প্রসঙ্গত, সরকার বর্তমানে উচ্চাভিলাষী বড় বড় প্রকল্প গ্রহণ করছে। যাতে থাবা বসাচ্ছে দুর্নীতিবাজরা। কোটি কোটি টাকা লোপাট করে তারা নিজেদের পকেটস্থ করছে। হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করে পিকে হালদারের মতো কুখ্যাত দেশবিরোধী বিদেশে পাচার করছে। অথচ দেশের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে যথাযথো গুরুত্ব প্রদান করা হচ্ছে না এতে করে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাত ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাচ্ছে। অনলাইনে যেন পসরা বসেছে মাদক ও পর্ণোগ্রাফির। ফাঁদে পড়ে জীবন ধ্বংস হচ্ছে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের।
আমরা মনে করি সরকারের উচিত হবে অনতিবিলম্বে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ বাদ দিয়ে সেই অর্থ দিয়ে দেশের সাইবার জগৎকে নিরাপদ করা। দেশের সাইবার জগতের অপরাধীদের নজরদারির আওতায় নিয়ে আসা। সাইবার অপরাধীদের ধরতে আইনের সঠিক প্রয়োগের পাশাপাশি গ্রাহক পর্যায়ে আইন সম্পর্কে অবগত করতে হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশকে সুরক্ষিত রাখতে পাঠ্যবইয়ে সাইবার পাঠ অন্তর্ভুক্তি, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, সাইবার নিরাপত্তার কাজে দেশি প্রতিষ্ঠানকে প্রাধান্য দেয়া এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বৃদ্ধি করতে হবে।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সস্তা জনপ্রিয়তার বিপরীতে সস্তা জনরোষের পথেই কী হাটতে চায় সরকার? মাত্র ১০/১৫ হাজার কোটি টাকার জন্য ওয়াদা খেলাফ করে বিদ্যুতের দাম আবার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির আগুনে আরো ঘি ঢালছে সরকার। জনভোগান্তির জুলুম থেকে সরে আসতে হবে সরকারকে।
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (৮)
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
১৯৯০ সালে কাঁচা চামড়া রফতানীর নিষিদ্ধ করণের প্রেক্ষাপট বর্তমানে নেই। এ মুহুর্তে কাঁচা চামড়া রফতানীর অনুমোদন বর্তমান সংকটকে অনেকটাই কমাতে পারে।
০৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কুরবানী আসে-যায় মৌসুমী কসাইরা অরক্ষা আর অবহেলাতেই থেকে যায়। তাদের অনেকে আহত হয়, পঙ্গু হয়, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়- মৌসুমী কসাইদের প্রশিক্ষণ ও পৃষ্টপোষকতার পাশাপাশি ঈদুল আদ্বহায় বিশেষ স্বাস্থসেবা চালু করা দরকার।
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
‘দ্যা গ্রেট রিসেট’ ও নমরুদী মশার প্রতিশোধের এক চরম ইহুদী-নাসারায়ী নীলনকশা!
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বিদ্যুতের বিল বার বার বাড়ানো শোষক জমিদারি কায়দায় চক্র বৃদ্ধি হারে খাজনার চাবুক মারা অথচ বিদ্যুতে শুধু চুরি নয়, সব দিক থেকে সাগর চুরি হচ্ছে। সে চুরির ক্ষত পোষাতে জনগণের উপর খাজনা বৃদ্ধি করে চোরদের উৎসাহ ও প্রনোদনা এবং নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে।
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সে যুগেও হুসাইন আহমদকে ইহুদীদের দালাল, হিন্দুদের কংগ্রেসের পা চাটা- গোলাম প্রচারণা করা হলেও থানভী গংরা তা বুঝতে পারলো কৈ? আজকে পশ্চিমবঙ্গে হাজার হাজার মসজিদ ভাঙ্গা ও লাখ লাখ মুসলমানদের বাড়ী-ঘর ধ্বংস, হিন্দুত্ববাদ গ্রহণে বাধ্য করার মত মহা জুলুমের মূলে হোসেন আহমদের সর্ব ভারতীয় জাতীয়বাদ।
২৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
আকাশের অতন্দ্র প্রহরী: বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ও আবহাওয়া রাডার অবকাঠামোর মহাপরিকল্পনা কেন জরুরি? (১ম পর্ব)
২৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর ২০২৫) ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসীম উদ্দিনের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
২২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
কিন্তু গতকাল গুগল, ফেইসবুকে অসংখ্য আইডি থেকে প্রচারিত- ‘তারেক রমমান নারিকেল দ্বীপ (সেন্টমার্টিন দ্বীপ) আমেরিকাকে দিয়ে দিয়েছেন নারিকেল দ্বীপ এখন মার্কিন ঘাটি হবে’- ইত্যকার প্রচারণা দেশবাসীকে হতভম্ব করছে। সর্বপোরি সরকারের দলীয় বা প্রশাসনের তরফ থেকে এটাকে গুজব না বলায়- হতাশা চরম আকার ধারণ করেছে।
২২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বর্বর আম্রিকা আর সন্ত্রাসী ইসরাইলের সাথে সু-সম্পর্ক বজায় রাখছে সংযুক্ত আরব আমিরাত কিন্তু মুসলিম দেশ ইয়েমেন থেকে শুরু করে সোমালিয়া-লিবিয়া হতে সুদানে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ চালিয়ে রাখছে আরব-আমিরাত ভয়াবহ মানবেতর সংকটে সুদান, সহিংসতা-রোগ-দুর্ভিক্ষে দিশাহারা মানুষ সুদানের রক্তপাত বন্ধে মুসলিম বিশ্বকে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসতে হবে এক্ষুনি
২১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সার্বভৌমত্বের বিনিময়ে এক শতাংশ ছাড়! এ কেমন কালোচুক্তি? প্রকৃতপক্ষে গোলামীর চুক্তি
২০ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












