মন্তব্য কলাম
ডানে সেলফি বামে সেলফি, সেলফি সেলফি সেলফি উন্মাদনায় সমাজে ব্যাপকভাবে বেড়েছে হত্যা, আত্মহত্যা, সম্ভ্রমহরণ, সড়ক দুর্ঘটনাসহ নানা অপরাধ। বিভিন্ন দেশে সেলফি’র উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করলেও বাংলাদেশে কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
সরকারের উচিত অপসংস্কৃতি এবং আত্মহত্যার মতো অপরাধ বন্ধ করতে অবিলম্বে সেলফি নিষিদ্ধ করা।
, ২৪ শাবান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৫ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ৩০ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) মন্তব্য কলাম
বিভিন্ন জরিপ অনুযায়ী, সারা পৃথিবীতে এক দিনে প্রায় ৯ কোটি ৩০ লাখ সেলফি তোলা হয়। এ ক্ষেত্রে পুরুষের চেয়ে বেশ এগিয়ে নারীরা। পুরুষের চেয়ে একজন নারীর সেলফি তোলার হার দেড়গুণ বেশি। গবেষণা বলছে, একজন ব্যক্তি সেলফি তোলার পেছনে বছরে ৫৪ ঘণ্টা সময় ব্যয় করে। অর্থাৎ দিনে সাত মিনিট। আবার নির্দিষ্ট সেলফিটি পছন্দসই হলো কি না, সে সিদ্ধান্ত নিতে একজন মানুষ সময় নিয়ে থাকে ১১ সেকেন্ড। তবে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করবে কি না, তা স্থির করতে সময় নেয় ২৬ মিনিট।
বর্তমানে যদি বহুল ব্যবহৃত শব্দের কোনো তালিকা হয়, তাহলে সেলফি শব্দটি খুব সম্ভবত প্রথম সারিতে থাকবে। এর জনপ্রিয়তা এখন এতই যে, শহর থেকে পল্লী, ছেলে থেকে বৃদ্ধ সবাই সেলফি তুলতে ব্যস্ত। হাত-পা বাঁকিয়ে নিজের মুখ এদিক সেদিক করে রীতিমতো কসরত করে হাত দিয়ে অথবা সেলফি স্টিক দিয়ে সেলফি তুলতে দেখা যায়। তারপর সঙ্গে সঙ্গেই তার পেছনের ইতিহাস লিখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়া হয়। বলা যায়, সেলফি রীতিমতো ভাইরাসের মতো মাথার ভেতর ঢুকে গেছে। সেই ভাইরাস আরো ভাইরাস জন্ম দিচ্ছে। এক সময় তা অস্থি মজ্জায় ছড়িয়ে গিয়ে নেশায় পরিণত হয়েছে। আমাদের দেশসহ সারা বিশ্বে ক্রমেই এই প্রবণতা বেড়ে চলেছে।
তবে সেলফি শব্দটা প্রথম ব্যবহৃত হয় ২০০২ সালে। ন্যাথান হোপ নামে এক অস্ট্রেলীয় যুবক তার ২১ তম জন্মদিনে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নিজের ছবি নিজেই তুলে ওয়েবসাইটে পোস্ট করে। ক্যাপশনেই সেই প্রথম ংবষভরব শব্দটা ব্যবহার করে।
এরপর ইন্টারনেট তথা সামাজিক মাধ্যমের প্রসার যত হয়েছে তত সেলফি শব্দটার ব্যবহারও বেড়েছে বহু গুণ। ঝবষভ থেকেই এসেছে ংবষভরব শব্দ। আমরা অনেকেই জানি না, ংবষভরব শব্দের একটা বাংলাও আছে। সেই বাংলা হল ‘নিজস্বী’। নিজস্ব থেকে নিজস্বী শব্দের জন্ম।
গুগলের এক জরিপে জানা গেছে, সোস্যাল মিডিয়া পোস্ট করা সেলফির মধ্যে ৩৭% আপলোড করে থাকে ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সের ছেলেমেয়েরা। গুগলের পর্যালোচনায় দেখা যায়, উঠতি বয়সী ছেলেমেয়েদের মধ্যে মোবাইল ফোনের অ্যাপসে যারা বিভিন্ন সোসাল মিডিয়ায় ৮ থেকে ১০ ঘন্টা কাটায় তারা গড়ে ১৪টি সেলফি পোস্ট করে থাকে। স্মার্টফোন এবং ক্যামেরা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান স্যামসাংয়ের জরিপ অনুযায়ী ১৮-২৪ বছর বয়সি মানুষের তোলা ছবির ৩০% ই সেলফি।
নির্বাচন কেন্দ্রিক প্রচার-প্রচারণায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে সেলফি মাধ্যম। লাশ পাশে, উঁকি দিয়ে কবরখোদকদের সেলফি, রোগী দেখা হোক অথবা কোনো দুর্ঘটনা কিংবা অফিসে মিটিং চলাকালীন, কোরবানির পশুর সাথে, মাছ ধরে, কোথাও কিছু দান করতে গেলে সবচেয়ে আগে দরকার একটা সেলফি, পরে জিনিস দান হোক বা না হোক সেলফিটা আগে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে দিয়ে নিজের ফায়দা আদায় করতে কার্পণ্য করে না অনেকেই। চলন্ত বাইকে, ট্রেনের ছাদে, পাহাড়ের চূড়ায়, ঝরনার পানিতে, হাঁটতে, চলতে এখন সেলফি তোলার নেশা। আর কোনো পিকনিক, ঐতিহাসিক স্থান, জনসভা, প্রাচীন স্থাপনার কাছে গেলে তো কথাই নেই, শত শত সেলফির বাহারি মেলা বসে যায়। সেলফি নেশা কখনো কখনো ডেকে আনছে ভয়াবহ বিপদ। অনেকের কাছে তাই সেলফি এখন আতঙ্ক।
বিশ্বের বেশির ভাগ মানুষ আজকাল স্মার্টফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেটের সোস্যাল মিডিয়া বিশেষ করে ফেসবুকে ব্যস্ত সময় কাটায় এবং এটি দিয়ে ছবি তোলায় ব্যস্ত থাকে। প্রতিদিন দুই-চারটা সেলফি তোলা এখন আর ফ্যাশন নয়, রুটিন। নতুন চাকরি থেকে শুরু করে বিয়ে বাড়ি, মন খারাপ থেকে শুরু করে মন ভালো, নতুন জামা কেনা থেকে শুরু করে স্কুবা ডাইভিং সবখানেই সেলফি! শুরুতে সেলফি ব্যাপারটা মেয়েদের থাকলেও এখন ছেলেরাও পিছিয়ে নেই। কিন্তু মূলত এক ধরনের অবসেসিভ ডিসঅর্ডারের জেরেই এই সেলফি তোলে মানুষ। এবং তা এমন পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে যে, বিপজ্জনক সেলফি তোলা থেকেও বিরত হচ্ছে না মানুষ। তাতে প্রাণও যাচ্ছে, তবু হুঁশ ফেরে না। এই সেলফি তোলার প্রবণতাকে অসুস্থতা হিসেবেই চিহ্নিত করেছে বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশনের একদল গবেষক তাদের গবেষণা শেষে প্রকাশ করেছেন, সেলফি তোলা একটি মানসিক রোগ। এ গবেষক দল সেলফিতে আক্রান্ত হওয়া রোগের নাম দিয়েছেন সেলফাইটিস।
দেশের বড় বড় রাজনীতিবিদ, আমলা ও প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের সাথে সেলফি তোলা যেন দিন দিন নিয়মে পরিণত হচ্ছে। অসাধু ব্যক্তিরা। নেতাদের সাথে সেলফি হলে পরে সেই ছবি দেয়ালে সাঁটিয়ে নিজেকে ঘনিষ্ঠজন পরিচয় দিয়ে হরহামেশাই নানাবিধ অপকর্ম ও দুর্নীতি করে যাচ্ছে। আর এ নিয়ে অস্বস্তিতে পড়তে হয় সেই সব নামকরা রাজনীতিবিদ, আমলা ও প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের। বিশেষ করে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাসিনো অভিযান, স্বাস্থ্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে পরিচালিত অভিযানে এমনটি লক্ষ করা গেছে। এসবের দায় নেবে কে?
সেলফি’র কারণে কেউ গাড়ি চালানোর সময়, কেউ এগিয়ে আসা ট্রেনের সামনে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলতে গিয়ে মারা যাচ্ছে। পাইলট বিমান চালানোর সময় নিজের সেলফি তুলে যাত্রীসহ মারা যাচ্ছে, নিজেকে দুঃসাহসী প্রমাণ করতে কেউ উন্মত্ত ষাঁড়ের সাথে, কেউ ভাল্লুকের সাথে, কেউ সিংহের সাথে নিজের ছবি তুলতে গিয়ে হিংস্র প্রাণীর হাতে জীবন দিচ্ছে। কেউ পিস্তল হাতে সেলফি তুলতে গিয়ে নিজের মাথায় গুলি চালিয়ে দিচ্ছে, কেউ ব্রিজের উপর দাঁড়িয়ে সেলফি তুলতে গিয়ে নদীতে পড়ে মারা যাচ্ছে। শুধু তাই নয় পবিত্র হজ্জ এবং ওমরাহ করতে গিয়েও অনেকে পবিত্র ক্বাবা শরীফ, পবিত্র মদীনা শরীফ উনাদেরকে পেছনে রেখে সেলফি তুলছে। আবার তা ফেসবুকের মতো সামাজিক মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে দিচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ!
শুধু তাই নয়, বাংলাদেশেও সেলফি তুলতে গিয়ে নিহত হচ্ছে অনেকে। কিছুদিন আগে চাচার সাথে যমুনা নদীর তীরে হাটার সময় সেলফি তুলতে গিয়ে নদীতে পড়ে তলিয়ে যায় এক যুবক। সম্প্রতি হাতিরঝিলে রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলতে গিয়ে এক যুবক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়। বাসর ঘরে সেলফি তোলার কারণে সিদ্বেশ্বরী কলেজের ছাত্রীর সাথে বিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে এলাকার তরুণ ব্যবসায়ী। সেলফি’র মরণ থাবা এখন বাংলাদেশে দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। কিন্তু দেশের তরুণ-তরুণীদের রক্ষায় কোন পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
উল্লেখ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সেলফি’র উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করলেও বাংলাদেশে কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সরকারের উচিত অপসংস্কৃতি এবং আত্মহত্যার মতো অপরাধ বন্ধ করতে অবিলম্বে সেলফি নিষিদ্ধ করা।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সুদী মহাজন ও বড় চোর, সমকামীমনা, ১৬৮ মামলার আসামী, দেশ বিক্রিকারী মার্কিন চুক্তিকারী, ক্ষমতার মসনদে বসে অর্থ লুটকারী, অন্যায় সুবিধা গ্রহণকারী, পাহাড় সম অপরাধ মব-সন্ত্রাসের জনক কুখ্যাত ইউনুসের প্রতি ভীষণ বীতশ্রদ্ধ।
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সুদী মহাজন ও বড় চোর, সমকামীমনা, ১৬৮ মামলার আসামী, দেশ বিক্রিকারী মার্কিন চুক্তিকারী, ক্ষমতার মসনদে বসে অর্থ লুটকারী, অন্যায় সুবিধা গ্রহণকারী, পাহাড় সম অপরাধ মব-সন্ত্রাসের জনক কুখ্যাত ইউনুসের প্রতি ভীষণ বীতশ্রদ্ধ। এই কুলাঙ্গার আবারো ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে, রাষ্টের শীর্ষ পদে তথা প্রেসিডেন্ট পদে আলোচনায় আসে কি করে? নেপথ্যে কি মার্কিন দূত গর? অথচ “ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়”- বিএনপির শ্লোগান
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাংলাদেশের সামরিক কৌশল বাড়ানো উচিত
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিএনপির নেতা কর্মী বর্তমান উপদেষ্টা মন্ত্রীরা-এমপিরাও, সুদী মহাজন ও বড় চোর, সমকামীমনা, ১২৬ মামলার আসামী, দেশ বিক্রিকারী মার্কিন চুক্তিকারী, ক্ষমতার মসনদে বসে অর্থ লুটকারী, অন্যায় সুবিধা গ্রহণকারী, পাহাড় সম অপরাধ মব-সন্ত্রাসের জনক কুখ্যাত ইউনুসের প্রতি ভীষণ বীতশ্রদ্ধ।
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
এই কুলাঙ্গার আবারো ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে, রাষ্টের শীর্ষ পদে তথা প্রেসিডেন্ট পদে আলোচনায় আসে কি করে? নেপথ্যে কি মার্কিন দূত গর? অথচ “ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়”- বিএনপির শ্লোগান
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আম্রিকা, চীন, ভারত, রাশিয়া সবার নজর বাংলাদেশের দিকে।
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নতুন নতুন উন্নয়ন প্রকল্পের অজুহাতে চলছে শোষণ প্রকল্প।
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর দ্বীনদার ব্যক্তির জন্য দ্বীন ইসলামই সবচেয়ে বড়
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইহুদীরাই আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট বানায়, নামায় তথা আমেরিকা চালায়।
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
‘ছবি’ ও ‘বেপর্দা’- বর্তমানে সমস্ত পাপ কাজের মূল উৎস
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
তেল আমদানিতে আমাদের যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়, এতে আমাদের রিজার্ভে চাপ পড়ে। সমস্যা কৃষকের সক্ষমতায় নয়, বরং নীতিগত অগ্রাধিকার ও বিনিয়োগের ঘাটতিতে।
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে ভারতীয় খপ্পরে বাংলাদেশ!
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












