মন্তব্য কলাম
“বাংলাদেশের ওষুধ রফতানি হচ্ছে ১৪০টির বেশি দেশে”- গত পরশু (৮ই জুন) এই বিবৃতি দেয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী কী ভেবে দেখবেন মার্কিনীদের সাথে করা গোলামী চুক্তিতে তার এই উচ্ছাস পুরোটাই গভীর এবং চরম-পরম উৎকণ্ঠায় পর্যবসিত হয়েছে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের জন্যও মহা ধ্বংস প্রক্রিয়া বাংলাদেশের ৫১ কোটি নাগরিকের নিরাপত্তা নির্মূলীকরণ প্রক্রিয়া। মহা আত্মঘাতী, সর্বনাশী, দেশের সার্বভৌমত্ব বিক্রিকারী এ চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে (২য় পর্ব)
, ১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) মন্তব্য কলাম
বাংলাদেশ এখনো স্বল্পোন্নত দেশ হওয়ায় জেনেরিক ওষুধ উৎপাদনে পেটেন্ট ফি দিতে হয় না। এ সুবিধার ফলে দেশের ওষুধশিল্প দ্রুত বিকশিত হয়েছে। জেনেরিক ওষুধ মূলত সেই ওষুধ, যার পেটেন্ট মেয়াদ শেষ হয়েছে বা যার ওপর পেটেন্ট আর প্রযোজ্য নয়। গঠনগতভাবে এটি ব্র্যান্ডেড ওষুধের সমান কার্যকর। এই সুবিধার ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ আজ প্রায় ৯৭ শতাংশ ওষুধ দেশেই উৎপাদন করছে এবং ১০০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি করছে। এই শিল্প কাঠামো গড়ে উঠেছে মূলত ‘হাই ভলিউম, লো মার্জিন’ মডেলের ওপর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ যদি পেটেন্ট ফি প্রদানে বাধ্য হয় বা এলডিসি সুবিধা সীমিত হয়ে যায়, তবে ওষুধ উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, ইনসুলিনের দাম প্রায় ১১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। পাশাপাশি ক্যানসার, কিডনি এবং হেপাটাইটিস সি চিকিৎসার ওষুধেও মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি রয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান বাজার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে দাম কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
ভারতে ‘নাটকো বনাম রোশ’ মামলায় আদালত স্থানীয় কোম্পানিকে জেনেরিক ওষুধ উৎপাদনের অনুমতি দেয়। এর ফলে একটি জীবনরক্ষাকারী ওষুধের দাম প্রায় ৯৭ শতাংশ কমে যায়। এই ঘটনা দেখিয়েছে-পেটেন্ট আইনের ক্ষেত্রে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিলে সাধারণ মানুষের জন্য চিকিৎসা সহজলভ্য হয়।
বাংলাদেশের প্রায় ১৮২টি ওষুধ কোম্পানির বেশিরভাগই ছোট ও মাঝারি। কঠোর পেটেন্ট নীতি কার্যকর হলে তাদের পক্ষে টিকে থাকা কঠিন হবে। এতে বাজার কিছু বড় কোম্পানি ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের হাতে কেন্দ্রীভূত হবে। ফলে শেষ পর্যন্ত ওষুধের দাম, প্রাপ্যতা এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করবে।
এখানে মূল বিতর্ক শুধু আইনি নয়, এটি নীতিগত। একদিকে রয়েছে বৈশ্বিক বাণিজ্য চুক্তি ও মেধাস্বত্ব রক্ষা, অন্যদিকে রয়েছে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবায় সহজ প্রবেশাধিকার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করেছে। ব্রাজিল, মিসর বা ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলো পেটেন্ট নীতিকে জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালনা করছে।
বাংলাদেশের সামনে প্রশ্নটি এখন আর শুধু একটি বাণিজ্য চুক্তির নয়। এটি শিল্পনীতি, জনস্বাস্থ্য এবং অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন। চুক্তির শর্তগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের ওষুধশিল্পের কাঠামো, মূল্যনীতি এবং বাজার ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।
মার্কিন চুক্তির মেধাস্বত্ব আইন-সংক্রান্ত ২.৬ ধারাটা দিয়ে শুরু করি: ‘বাংলাদেশ শ্যাল প্রোভাইড আ রোবাস্ট স্ট্যান্ডার্ড অব প্রটেকশন ফর ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি। বাংলাদেশ শ্যাল প্রোভাইড ইফেকটিভ সিস্টেমস ফর সিভিল, ক্রিমিনাল অ্যান্ড বর্ডার এনফোর্সমেন্ট অব ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস অ্যান্ড শ্যাল এনশিওর দ্যাট সাচ সিস্টেমস কমব্যাট অ্যান্ড ডেটার দ্য ইনফ্রিংমেন্ট অর মিসঅ্যাপ্রোপ্রিয়েশন ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি...’
অর্থাৎ মার্কিন চুক্তিটি ‘ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি রাইট (আইপি)’ বা মেধাস্বত্ব আইনের ‘রোবাস্ট ইমপ্লিমেন্টেশন’ চাইছে, চাইছে বাংলাদেশ ‘পেটেন্ট’ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করুক।
*. আমাদের ওষুধশিল্পের বড় শক্তি হলো, এটি একটা ‘হাই ভলিউম-লো মার্জিন’ উৎপাদন শিল্প। এ ছাড়া ওষুধের দাম কয়েক দশক ধরে জনগণের আওতায় থাকাটা আমাদের ওষুধনীতির (১৯৮২) একটা অনন্য অর্জন। আমরা পাড়ার দোকান থেকে ৫০ টাকায় জেনেরিক ড্রাগস কিনছি, এদিকে আমেরিকা বা ইউরোপে এই দাম হয়তো শতগুণ বেশি। আমাদের ওষুধশিল্প দেশের প্রায় সম্পূর্ণ চাহিদা মেটাচ্ছে (৯৭ শতাংশ), আবার ১০০টি দেশে রপ্তানিও করছে। ওষুধশিল্পের এই জরুরি বিকাশটা সম্ভব হয়েছে এলডিসি হিসেবে পেটেন্ট আইনের শিথিলতা বা ছাড়ের কারণেই।
এখন বাংলাদেশকে যদি এলডিসি থেকে বের করা যায়, অথবা আলাদাভাবে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে আইপি ফি পরিশোধ করতে বাধ্য করা যায়, তাহলে বাংলাদেশের শত শত কোম্পানির পক্ষে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করে সস্তায় ওষুধ উৎপাদন করা সম্ভব হবে না। আমেরিকা সেটাই চায়। চুক্তিতে সেটা স্পষ্ট।
এদিকে দেশের ১৮২টি ওষুধ কোম্পানির বেশির ভাগই ছোট কোম্পানি। আমেরিকার শর্ত অনুযায়ী কঠোর মেধাস্বত্ব আইন কার্যকর হলে ছোট কোম্পানিগুলোর পক্ষে পেটেন্ট ফি দিয়ে টিকে থাকা সম্ভব হবে না। সে ক্ষেত্রে, ৫১ কোটি মানুষের ওষুধের নিরাপত্তা চলে যাবে হাতে গোনা কয়েকটি বড় কোম্পানি এবং বিশেষ করে বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানিগুলোর হাতে।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বাংলাদেশের মহাকাশ প্রতিরক্ষা কৌশল: ৫০ লক্ষাধিক বহরের সমন্বিত বাহিনীর জন্য কৃত্রিম উপগ্রহ প্রযুক্তির রূপরেখা (পর্ব-৪)
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১১)
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বর্তমান জ্বালানী সংকটে অনেক দেশই এখন কয়লার দিকে ঝুকছে। কয়লার উপর নির্ভরতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। দেশে বিপুল পরিমাণ কয়লার মজুদ থাকার পরও রহস্যজনকভাবে তা উত্তোলনে আগ্রহ নেই সরকারের। ৭ হাজার ৮০০ মিলিয়ন টন কয়লা মজুদের দেশে কয়লার ঘাটতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ কেন?
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা: ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১০)
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (৯)
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম মিয়াজাকি, পুষ্টিগুণেও ভরপুর
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
“বাংলাদেশের ওষুধ রফতানি হচ্ছে ১৪০টির বেশি দেশে”- গত পরশু (৮ই জুন) এই বিবৃতি দেয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী কী ভেবে দেখবেন মার্কিনীদের সাথে করা গোলামী চুক্তিতে তার এই উচ্ছাস পুরোটাই গভীর এবং চরম-পরম উৎকণ্ঠায় পর্যবসিত হয়েছে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের জন্যও মহা ধ্বংস প্রক্রিয়া বাংলাদেশের ৫১ কোটি নাগরিকের নিরাপত্তা নির্মূলীকরণ প্রক্রিয়া। মহা আত্মঘাতী, সর্বনাশী, দেশের সার্বভৌমত্ব বিক্রিকারী এ চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে (১ম পর্ব)
১১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
শুধু একটি মৃত্যুর খবর, নাকি একটি সমাজের ভবিষ্যৎ?
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সস্তা জনপ্রিয়তার বিপরীতে সস্তা জনরোষের পথেই কী হাটতে চায় সরকার? মাত্র ১০/১৫ হাজার কোটি টাকার জন্য ওয়াদা খেলাফ করে বিদ্যুতের দাম আবার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির আগুনে আরো ঘি ঢালছে সরকার। জনভোগান্তির জুলুম থেকে সরে আসতে হবে সরকারকে।
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (৮)
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
১৯৯০ সালে কাঁচা চামড়া রফতানীর নিষিদ্ধ করণের প্রেক্ষাপট বর্তমানে নেই। এ মুহুর্তে কাঁচা চামড়া রফতানীর অনুমোদন বর্তমান সংকটকে অনেকটাই কমাতে পারে।
০৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কুরবানী আসে-যায় মৌসুমী কসাইরা অরক্ষা আর অবহেলাতেই থেকে যায়। তাদের অনেকে আহত হয়, পঙ্গু হয়, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়- মৌসুমী কসাইদের প্রশিক্ষণ ও পৃষ্টপোষকতার পাশাপাশি ঈদুল আদ্বহায় বিশেষ স্বাস্থসেবা চালু করা দরকার।
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












