কুতুব মিনার চত্বরের লৌহস্তম্ভে ১৬০০ বছরেও মরিচা ধরেনি, কী কারণে এমন অক্ষত?
, ০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) পাঁচ মিশালী
লোহার তৈরি কোনো বস্তু খোলা আকাশের নিচে বছরের পর বছর থাকলে তাতে মরিচা ধরবে- এটাই স্বাভাবিক। বৃষ্টি, বাতাসের আর্দ্রতা ও অক্সিজেনের সংস্পর্শে এসে ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে থাকে লোহা। কিন্তু ভারতের রাজধানী দিল্লির কুতুব মিনার চত্বরে মিনারের পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা একটি লৌহস্তম্ভ যেন প্রকৃতির এই চিরচেনা নিয়মকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এসেছে শতাব্দীর পর শতাব্দী।
ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত কুতুব মিনার কমপ্লেক্সে অবস্থিত প্রায় ৭ দশমিক ২ মিটার উঁচু এই লৌহস্তম্ভ প্রায় ১ হাজার ৬০০ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, এত দীর্ঘ সময় ধরে খোলা পরিবেশে থাকার পরও এতে কোনো মরিচা ধরেনি। আজও এটি দেখতে অনেকটাই নতুন ও মজবুত।
সাধারণত বাতাসের অক্সিজেন ও আর্দ্রতার প্রভাবে লোহায় মরিচা ধরে। ধীরে ধীরে লোহার গায়ে লালচে-বাদামি রঙের একটি স্তর জমতে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ক্ষয় বাড়ে এবং ধাতব কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। বৃষ্টি ও আর্দ্র পরিবেশে থাকলে এই প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ঘটে।
কিন্তু দিল্লির এই লৌহস্তম্ভ কীভাবে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মরিচামুক্ত রইলো?
সিএনএনের এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩ সালে ভারতের আইআইটি কানপুরের একদল গবেষক এই রহস্যের সমাধান করেন।
তাদের গবেষণায় দেখা যায়, স্তম্ভটি তৈরি করা হয়েছিলো বিশেষ ধরনের পেটানো লোহা দিয়ে। আধুনিক লোহার তুলনায় এতে ফসফরাসের পরিমাণ অনেক বেশি ছিলো। অন্যদিকে সালফার ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো উপাদান ছিলো খুবই কম।
গবেষকেরা আরও বলেন, প্রাচীন ভারতীয় কারিগরেরা স্তম্ভটি তৈরিতে ‘ফোর্জ ওয়েল্ডিং’ নামে একটি বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করেছিলেন। এই পদ্ধতিতে লোহাকে বারবার আগুনে গরম করে হাতুড়ি দিয়ে পেটানো হয়। এর ফলে লোহার মধ্যে ফসফরাসের মাত্রা উচ্চ অবস্থায় বজায় থাকে।
এ ছাড়া স্তম্ভটির গায়ে ‘মিসাওয়াইট’ নামে পরিচিত একটি বিশেষ যৌগের স্তর তৈরি হয়েছে বলে গবেষণায় দেখা যায়। লোহা, অক্সিজেন ও হাইড্রোজেনের সমন্বয়ে গঠিত এই যৌগ ধাতুর ওপর একটি সুরক্ষাবলয় তৈরি করে।
উচ্চ মাত্রার ফসফরাস এবং চুনের অনুপস্থিতিতে এই স্তর তৈরি হয়। দীর্ঘ সময় ধরে এটি স্তম্ভটিকে বৃষ্টি, রোদ ও আবহাওয়ার নানা প্রতিকূল প্রভাব থেকে রক্ষা করেছে।
গবেষকদের মতে, লৌহস্তম্ভটির মরিচা প্রতিরোধের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে এতে থাকা উচ্চ মাত্রার ফসফরাস। ধাতুর অন্যান্য গঠনগত বৈশিষ্ট্য বা উপাদানের তুলনায় এটিই স্তম্ভটিকে ক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছে।
কুতুব মিনারে লৌহস্তম্ভ এলো কীভাবে?
বর্তমানে লৌহস্তম্ভটি কুতুব মিনার কমপ্লেক্সের অংশ হলেও এটি মূলত সেখানে নির্মিত হয়েছিলো কি না, তা নিয়ে এখনো বিতর্ক রয়েছে।
ইতিহাসবিদদের মতে, ত্রয়োদশ শতকের শুরুর দিকে দিল্লি সালতানাতের শাসক শামসুদ্দিন ইলতুতমিশের আমলে স্তম্ভটি কুওয়াত-উল-ইসলাম মসজিদ এবং বৃহত্তর কুতুব কমপ্লেক্সের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ধারণা করা হয়, বিজয় ও ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে এটি সেখানে স্থাপন করা হয়েছিলো।
প্রায় ১ হাজার ৬০০ বছর ধরে রোদ, বৃষ্টি ও প্রকৃতির নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও টিকে থাকা এই লৌহস্তম্ভ প্রাচীন ভারতীয় ধাতুবিদ্যার এক অনন্য নিদর্শন। আর এ কারণেই শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এটি বিজ্ঞানী, ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের বিস্মিত করে আসছে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
প্রায় ৮ বছর পর বুধ গ্রহে পৌঁছাতে শুরু করেছে মহাকাশ মিশন
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
‘সাদা সোনা’ কি সত্যিই সোনা, এর দাম এত বেশি কেন?
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কডিনি সুস্থ রাখতে করণীয়
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
গৃহসম্পদের উপযোগিতা বৃদ্ধির উপায়
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
ওজন কতটুকু কমানো উচিত
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
জবিতে নাইট্রোজেন সার ব্যবহারে ২২ শতাংশ সাশ্রয়ের সম্ভাবনাময় প্রযুক্তির উদ্ভাবন
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
শুধু বরফই নয়, ঠান্ডায় পানি জমে যেভাবে কাচও হতে পারে
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পাখিরা কি উড়ে আনন্দ পায়-কাকাতুয়াদের নিয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণা
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
কোন ডিম বেশি পুষ্টিকর, বাদামি নাকি সাদা?
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
একটি ভেড়ার দাম কোটি টাকা!
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পৃথিবীর যে ছয় পবিত্র মসজিদে সবচেয়ে বেশী জনসমাগম হয়
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পাট শিল্পের স্বর্ণযুগ ফেরাতে দুই শিক্ষার্থীর অ্যাপ
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












