মন্তব্য কলাম
ঈমান ও ইজ্জত হরণে হিন্দুত্ববাদী নীল নকশা ‘ভগওয়া লাভ ট্র্যাপ’-সরকার ও জনতাকে সতর্ক হওয়া এখন সময়ের দাবি ও ফরয
, ১১ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ৩১ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ৩১ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ১৭ চৈত্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) মন্তব্য কলাম
দেশের সিংহভাগ মুসলিম জনতা আজ ইহুদিবাদী ফিতনার শিকার। যখন বিশে^র বিভিন্ন প্রান্তে মুসলিম নিধনের চক্রান্ত চলছে, তখন এদেশের মুসলিমি সমাজ এক অদৃশ্য কিন্তু ভয়াবহ যুদ্ধের সম্মুখীন- যার নাম ‘ভগওয়া লাভ ট্র্যাপ’। এটি কেবল কোনো সাধারণ প্রণয় নয়, বরং এটি হলো মুসলিম তরুণীদের ঈমান, আমল ও ইজ্জত হরণ করে হিন্দুত্ববাদের বিষাক্ত গহ্বরে নিক্ষেপ করার এক দীর্ঘমেয়াদী ‘মরণফাঁদ’। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও তথাকথিত প্রগতিশীলতার আড়ালে এই ফাঁদ আজ বাংলার ঘরে ঘরে বিষ ছড়াচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা ও সচেতন মহল বলছেন, দেশে প্রায় লক্ষাধিক মুসলিম তরুণী এই মরণফাঁদের শিকার হয়ে নিজের দ্বীন ও দুনিয়া হারাচ্ছে। প্রতি বছর হাজার হাজার মুসলিম মেয়ে এই তথাকথিত প্রেমের টানে ঘর ছেড়ে হিন্দুত্ববাদীদের হাতে লাঞ্ছিত হচ্ছে। ঈমানী সুরক্ষার এই অভাব মেটাতে গিয়ে মুসলিম পরিবারগুলো কেবল অর্থনৈতিকভাবেই নয়, বরং রূহানী ও সামাজিকভাবেও চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছে এবং এক গভীর অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে।
পারিবারিক ও দ্বীনি মূল্যবোধের বিষয়ে সচেতনতা নিশ্চিতের জন্য ইসলামী শিক্ষা ও পর্দা প্রথার সঠিক আমল দরকার। তা না হওয়ায় দেশে সাধারণ মুসলিম ঘরের মেয়েরা বিজাতীয় সংস্কৃতির মোহে পড়ে নিজেদের অমূল্য সম্পদ ঈমান বিসর্জন দিতে বাধ্য হচ্ছে। আর এই নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে দেশের এক বিশাল অংশ তাদের দ্বীনি পরিচয় হারিয়ে ফেলছে। এর মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়- শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামী আদর্শের অনুপস্থিতি, অবাধ মেলামেশা, বিজাতীয় নাটক-সিনেমার কুপ্রভাব, স্মার্টফোনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং অভিভাবকদের উদাসীনতা। তথাকথিত আধুনিকতার নামে বিজাতীয়দের অনুসরণ আমাদের তরুণ সমাজকে আদর্শিক ও মানসিকভাবে পঙ্গু করে দিচ্ছে।
দ্বীনী শিক্ষার প্রসারে এবং ঈমান রক্ষায় সরকারিভাবে বা সামাজিকভাবে যে পরিমাণ নজর দেওয়া দরকার, তার সঠিক প্রতিফলন আজ সমাজে অনুপস্থিত। তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষার আড়ালে আমাদের কোমলমতি সন্তানদের মন থেকে ইসলামের তেজস্বিতা মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে। অথচ প্রয়োজন ছিল ছোটবেলা থেকেই তাদের হৃদয়ে বিধর্মী ও বিজাতীয়দের চক্রান্ত সম্পর্কে সচেতন করে তোলা। তাই আজ বাধ্য হয়েই প্রতিটি মুসলিম পরিবারকে নিজ উদ্যোগে ঈমান রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করতে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের মানুষের নৈতিক ও দ্বীনি সুরক্ষা দেওয়ার মতো যে পরিমাণ সামাজিক ও দ্বীনি কাঠামো থাকা উচিত, সরকারের পক্ষ থেকে বা সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে তা সঠিকভাবে গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। সেই সুযোগে বিজাতীয় মদদপুষ্ট বিভিন্ন সংগঠন ও গোষ্ঠী হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডা বাস্তবায়নে ‘ভগওয়া লাভ ট্র্যাপ’কে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তবে এসব কৌশলের মূল লক্ষ্যই হলো মুসলিম জনসংখ্যা হ্রাস করা এবং মুসলিম ভূখ-ে বিজাতীয় সংস্কৃতির আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা।
পবিত্র কুরআন শরীফ এবং সুন্নাহ শরীফ উনাদের মাঝে বারবার কাফের-মুশরিকদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে নিষেধ করা হয়েছে। অথচ তথাকথিত প্রগতির নামে মুসলমানরা তাদের সন্তানদের সেই অগ্নিকু-ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, অভিভাবকরা যখন বিষয়টি টের পান, তখন আর কিছু করার থাকে না। আইনি জটিলতা এবং একপেশে প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গির কারণে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো বিচার পাওয়া তো দূরে থাক, উল্টো সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়।
সরকারের তরফ থেকে নিরাপত্তার কথা বলা হলেও, মুসলিম মেয়েদের ঈমান ও ইজ্জত রক্ষার এই স্পর্শকাতর বিষয়ে কার্যকর কোনো প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা আইনি কঠোরতা নেই। বিজাতীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের পথে কোনো বাধা না থাকায় তারা নির্ভয়ে তাদের মরণফাঁদ বিস্তার করে চলেছে। আবার জানলেও সমাজ ও রাষ্ট্র অনেক সময় নির্বিকার থাকছে।
এ থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হচ্ছে- পারিবারিক পর্যায়ে দৃঢ়ভাবে পর্দা প্রথা ও ইসলামী অনুশাসন মেনে চলা, পাঠ্যপুস্তকে দ্বীনি শিক্ষার গুরুত্ব বৃদ্ধি এবং বিজাতীয় অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশ বন্ধ করা। এটা তেমন কোনো কঠিন কাজ নয়, সমাজ ও সরকার যদি নিজ অস্তিত্ব রক্ষায় সচেষ্ট হয়, তবেই এটি করা সম্ভব।
-মুহম্মদ শামসিৎ তাবরীজ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা: ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১০)
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (৯)
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম মিয়াজাকি, পুষ্টিগুণেও ভরপুর
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
“বাংলাদেশের ওষুধ রফতানি হচ্ছে ১৪০টির বেশি দেশে”- গত পরশু (৮ই জুন) এই বিবৃতি দেয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী কী ভেবে দেখবেন মার্কিনীদের সাথে করা গোলামী চুক্তিতে তার এই উচ্ছাস পুরোটাই গভীর এবং চরম-পরম উৎকণ্ঠায় পর্যবসিত হয়েছে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের জন্যও মহা ধ্বংস প্রক্রিয়া বাংলাদেশের ৫১ কোটি নাগরিকের নিরাপত্তা নির্মূলীকরণ প্রক্রিয়া। মহা আত্মঘাতী, সর্বনাশী, দেশের সার্বভৌমত্ব বিক্রিকারী এ চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে (১ম পর্ব)
১১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
শুধু একটি মৃত্যুর খবর, নাকি একটি সমাজের ভবিষ্যৎ?
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সস্তা জনপ্রিয়তার বিপরীতে সস্তা জনরোষের পথেই কী হাটতে চায় সরকার? মাত্র ১০/১৫ হাজার কোটি টাকার জন্য ওয়াদা খেলাফ করে বিদ্যুতের দাম আবার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির আগুনে আরো ঘি ঢালছে সরকার। জনভোগান্তির জুলুম থেকে সরে আসতে হবে সরকারকে।
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (৮)
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
১৯৯০ সালে কাঁচা চামড়া রফতানীর নিষিদ্ধ করণের প্রেক্ষাপট বর্তমানে নেই। এ মুহুর্তে কাঁচা চামড়া রফতানীর অনুমোদন বর্তমান সংকটকে অনেকটাই কমাতে পারে।
০৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কুরবানী আসে-যায় মৌসুমী কসাইরা অরক্ষা আর অবহেলাতেই থেকে যায়। তাদের অনেকে আহত হয়, পঙ্গু হয়, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়- মৌসুমী কসাইদের প্রশিক্ষণ ও পৃষ্টপোষকতার পাশাপাশি ঈদুল আদ্বহায় বিশেষ স্বাস্থসেবা চালু করা দরকার।
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
‘দ্যা গ্রেট রিসেট’ ও নমরুদী মশার প্রতিশোধের এক চরম ইহুদী-নাসারায়ী নীলনকশা!
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বিদ্যুতের বিল বার বার বাড়ানো শোষক জমিদারি কায়দায় চক্র বৃদ্ধি হারে খাজনার চাবুক মারা অথচ বিদ্যুতে শুধু চুরি নয়, সব দিক থেকে সাগর চুরি হচ্ছে। সে চুরির ক্ষত পোষাতে জনগণের উপর খাজনা বৃদ্ধি করে চোরদের উৎসাহ ও প্রনোদনা এবং নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে।
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সে যুগেও হুসাইন আহমদকে ইহুদীদের দালাল, হিন্দুদের কংগ্রেসের পা চাটা- গোলাম প্রচারণা করা হলেও থানভী গংরা তা বুঝতে পারলো কৈ? আজকে পশ্চিমবঙ্গে হাজার হাজার মসজিদ ভাঙ্গা ও লাখ লাখ মুসলমানদের বাড়ী-ঘর ধ্বংস, হিন্দুত্ববাদ গ্রহণে বাধ্য করার মত মহা জুলুমের মূলে হোসেন আহমদের সর্ব ভারতীয় জাতীয়বাদ।
২৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












